ড. এম এ মাননান
আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবসে আজ মনে পড়ে অনেক শ্রদ্ধাসিক্ত পূজনীয় শিক্ষকদের স্মৃতিকথা, যাদের দেখেছি জীবনের প্রথম অংশে প্রাথমিক স্কুলে, কাউকে মধ্যম অংশে হাইস্কুলে/কলেজে আর কাউকে শিক্ষাজীবনের শেষাংশে যখন পড়েছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কয়েকজনকে পেয়েছি ভিন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে দিল্লিতে, ম্যানচেস্টারে আর কেন্টাকিতে— স্মরণযোগ্য যারা চিরকাল। কেউ কেউ তো হারিয়ে গেছেন স্মৃতির অতলান্তে তাদের কর্মফলের কারণে। পূজনীয় শিক্ষকদের চরণ ধুয়ে দিয়ে প্রশান্তি লাভের সুযোগ হয় তো পাইনি দিল্লির বাদশাহী দরবারের রাজপুত্রদের মতো। তবে তাদের স্নেহসিক্ত আচরণ তাদের চরণ ছুঁয়ে সেবা করার আকুতি তৈরি করত মুগ্ধ হূদয়ে সেই শৈশবে। তাদের বেশির ভাগই নেই এখন এ নশ্বর ধরায়। দু-একজন বেঁচে আছেন এখনো। এই তো মাত্র কয়েক দিন আগে একজন অশীতিপর হাইস্কুল-শিক্ষকের দেখা ভাগ্যগুণে পেয়ে গেলাম আমার কর্মস্থলের কাছেই। নিয়ে এলাম বাড়িতে। নবম-দশম শ্রেণীতে আমাদের ইংরেজি পড়াতেন। এতো চমত্কার পড়ানোর ভঙ্গি আর উদ্দীপনা তৈরির কৌশল জানা ছিল তার, যা না দেখলে কাউকে বোঝানো মুশকিল। তার স্নেহমাখা নির্দেশনার ফলে ছিল সেই ষাটের দশকে সমাপনী পরীক্ষায় ইংরেজির মতো ‘ভয়ঙ্কর কঠিন’ বিষয়ে লেটার মার্ক পাওয়া। সেই ইংরেজি বিদ্যায় ভর করেই ইংরেজির সূতিকাগার ইংল্যান্ডসহ সারা দুনিয়ার অনেক বাঘা বাঘা শিক্ষকের সঙ্গে কাজ করেছি অনায়াসে। ইংরেজির ব্যবহার নিয়ে বিব্রত হতে হয়নি কখনো। এরাই হলেন নিবেদিত শিক্ষক, সম্মানীয়, পূজনীয়, স্মরণীয় এবং চিরকাল হূদয়-সিংহাসনে বসিয়ে রাখার মতো গ্রহণীয়। এ ধরনের শিক্ষকদের কথা মাথায় রেখেই তাদের স্মরণ-বরণ করার জন্য ইউনেস্কোর উদ্যোগে প্রতি বছরের ৫ অক্টোবরকে নির্ধারণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস হিসেবে।
আজ সেই ৫ অক্টোবর। পৃথিবীর সব দেশের সব সমাজের কাছে এ দিনটি অত্যন্ত গৌরব ও মর্যাদার। শিক্ষক দিবস পালনের ইতিহাস খুব বেশিদিন আগের নয়। ১৯৯৩ সালে গঠিত হয় ‘এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল’ নামে আন্তর্জাতিক শিক্ষক সংগঠন। ১৬৭টি দেশের ২১০টি জাতীয় সংগঠনের প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ সদস্যের প্রতিনিধিত্বকারী এ আন্তর্জাতিক সংগঠন আহ্বান জানায় শিক্ষক দিবস পালনের। এ আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম অধিবেশনের গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ড. ফ্রেডারিক এম মেয়রের যুগান্তকারী ঘোষণার মাধ্যমে ৫ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস’ (কেউ কেউ বলেন বিশ্ব শিক্ষক দিবস) পালনের শুভ সূচনা করা হয়। ১৯৯৪ সালের পর থেকে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে। শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কিত সাফল্যকে সমুন্নত রাখাসহ আরো সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালের ৫ অক্টোবর থেকে বিশ্বের ১০০টি দেশে দিবসটি পালিত হয়ে থাকে।
এ দিবসটি পালনে এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল ও তার সহযোগী ৪০১টি সদস্য সংগঠন মূল ভূমিকা রাখছে। দিবসটি উপলক্ষে এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল প্রতি বছর একটি প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করে থাকে, যা জনসচেতনতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকতা পেশার অবদানকেও স্মরণ করিয়ে দেয়। সবাইকে আরো স্মরণ করিয়ে দেয় যে শিক্ষা যদি হয় জাতির মেরুদণ্ড, তবে শিক্ষকরা সে মেরুদণ্ডের স্রষ্টা। বুঝিয়ে দেয়, গোটা মনুষ্য সমাজের মধ্যে নৈতিক বিচারে শিক্ষকদের চেয়ে সম্মানিত এবং শিক্ষকতার চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পেশা আর কোথাও খুঁজে পাবে নাকো কেউ।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছর বেশ অস্বস্তির মধ্যে কেটেছিল দিনটি। কারণ সে সময় সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পৃথক বেতন কাঠামোসহ বেশকিছু দাবিতে আন্দোলনরত ছিলেন। আন্দোলনে ছিলেন প্রাথমিক-মাধ্যমিক-কলেজের শিক্ষকরা নানা সুযোগ-সুবিধার দাবিতে। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সম্মানীয় শিক্ষকরা নিজেদের সুযোগ-সুবিধা আর মর্যাদার জন্য আন্দোলন করেছেন, এটা দুঃখজনক। শিক্ষকরা এ সমাজের প্রাণ। পৃথিবীতে যে যত মহৎ হোক না কেন, সে কোনো না কোনো শিক্ষকের অধীনে জ্ঞান অর্জন করেছে। এখানেই শেষ নয়, দেশ, জাতি, সমাজ, রাষ্ট্রের দুঃসময়ে সবার চেতনার উন্মেষ ঘটিয়ে জাতিমুক্তির কাণ্ডারি হিসেবে শিক্ষকসমাজ গুরুদায়িত্ব পালন করে আসছে। তাই পৃথিবীতে যতগুলো সম্মানজনক পেশা আছে তার মধ্যে শিক্ষকতা সর্বোচ্চ সম্মানিত। মানুষের মধ্যে যারা কৃতজ্ঞ শ্রেণীর, তারা সার্বিকভাবে না হলেও ব্যক্তিগতভাবে কোনো না কোনো শিক্ষকের কাছে ঋণী এবং বিভিন্ন সভা-সেমিনারে তাদের সে অভিব্যক্তিও ফুটে ওঠে। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও শিক্ষকতা একটি মহান পেশা হিসেবে স্বীকৃত। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানসম্মত শিক্ষা। বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলে পাসের আধিক্য বাড়লেও গুণগত মান নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাই মানসম্মত শিক্ষাদানের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষক দ্বারা সব শিক্ষার্থীর শিক্ষাদান নিশ্চিত করতে হবে। এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল মানসম্মত শিক্ষার মূল উপাদান হিসেবে ১. মানসম্মত শিক্ষক, ২. মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ ও ৩. মানসম্মত পরিবেশ নির্ধারণ করেছে। তবে এটাও ঠিক, নানা প্রতিকূলতার মধ্যে আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন পিছু ছাড়ছে না। বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্কুলগুলো। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অসংখ্য স্কুল, পাঠশালা, মক্তব-মাদ্রাসা। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ও শিক্ষামন্ত্রীর শ্রমে সে দুরবস্থা থেকে অনেকটাই বেরিয়ে এসেছি আমরা।
এ বছর আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়টি খুবই তাৎপর্যমণ্ডিত— শিক্ষার অধিকার মানে যোগ্য শিক্ষকদের অধিকার। ১৯৪৮ সালে গৃহীত সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ৭০তম বার্ষিকী উদযাপনের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে ২০১৮ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের আয়োজন করা হচ্ছে সর্বত্র। দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয়টিকে স্লোগান হিসেবে নিয়ে বিশ্বব্যাপী সর্বজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হচ্ছে যে শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতের জন্যই শিক্ষকের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যতীত দক্ষ কাঠমিস্ত্রি দিয়ে যেমন একটি ঘর তৈরি করা যায় না, তেমনি দক্ষ শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ব্যতীত শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষাদান সম্ভব নয়। মানসম্মত শিক্ষা শিশুসহ সবার মৌলিক ও মানবিক অধিকার। তাই শিক্ষক, ছাত্র, অভিভাবক, বিভিন্ন পেশার মানুষ ও সরকারের মধ্যে ঐক্য গড়ার মধ্য দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকরা সমাজ, রাষ্ট্রের আলোকবর্তিকার মতো কাজ করবেন। তবে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম, পর্যাপ্তসংখ্যক যোগ্য শিক্ষক, প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষাদান সামগ্রী ও ভৌত অবকাঠামো, যথার্থ শিক্ষণ-শিখন পদ্ধতি, কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান এবং গবেষণা ও উন্নয়নের স্বীকৃতি, সম্মানজনক বেতন, পেনশন, সামাজিক প্রাপ্তি ও চমত্কার কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অভীষ্ট সফলতার জন্য সব স্তরে শিক্ষক সংকট দূর করতে হবে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে আনতে হবে। অতীতের যেকোনো অবস্থার চেয়ে বর্তমান সরকার সবচেয়ে অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ এবং এ বিষয়ে আন্তরিক। তাই সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। উল্লিখিত নানা সমস্যা নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের কারণে এরই মধ্যে গুণগত শিক্ষা প্রসারে এর প্রভাবও পড়েছে। সব বাধা-বিপত্তি পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবসে বলতে চাই, বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছেন এবং তারই সুযোগ্য কন্যা যেভাবে শিক্ষাকে সবার কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিয়েছেন, তার সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষকসমাজ কার্যকর প্রচেষ্টা চালাবে। আর তখন মানসম্মত, প্রযুক্তিগত, গুণগত, আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সফলতা আসবেই আসবে। আমরা দারুণভাবে আশাবাদী। অনেক শিক্ষাবিদও শিক্ষা-শিক্ষকের মান উন্নয়নে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন।
আজ এ দিবসে শিশু-কিশোরদের স্বপ্ন বোনার কারিগরদের সবাই স্মরণ করবে বিনম্র শ্রদ্ধায়। আসুন, আমাদের হূদয়ের মণিকোঠায় ঠাঁই করে নেয়া শিক্ষকদের এ দিনে একটি শুভেচ্ছা বাণী পাঠাই; দেখা করে আশীর্বাদ নিই; একগুচ্ছ ফুল হাতে দিয়ে আসি; যারা দূরে তাদের কাছে টোকেন গিফট পাঠাই; আগের স্মৃতি রোমন্থন করে একটা লেটার অব অ্যাপ্রিশিয়েশন পৌঁছে দিই কিংবা অন্য কোনো সৃজনশীল উপায়ে সম্মান দেখাই। এসব করার মাধ্যমে তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে জানিয়ে দিই যে, আমি আপনার একজন পুরনো ছাত্র বা ছাত্রী, আপনাকে স্মরণে রেখেছি, আমার হূদয়ে আপনি প্রোথিত হয়ে আছেন সসম্মানে একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে। তিনি বুঝবেন, তার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীর স্মৃতির অতলান্তে তিনি হারিয়ে যাননি, তার এক সময়ের স্নেহভাজন শিক্ষার্থীর স্মৃতিতে আছেন অমলিন এবং থাকবেন তাদের হূদয়ের মণিকোঠায় যুগ যুগ ধরে।
একই সঙ্গে আমরা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষকদের কাছেও আশা করি অনেক কিছু। প্রথমত. আপনার চেয়ে আর কে ভালো জানে আপনি শিক্ষক হওয়ার যোগ্য কিনা। যদি মনে হয় যোগ্য নন আপনি, ভুলেও যাবেন না এ পেশায়। গিয়ে ধ্বংস করবেন না এ সুন্দর দেশটার ভবিষ্যেক। ভাষায় দখল না থাকলে কিংবা বিষয়বস্তু হূদয়গ্রাহী করে উপস্থাপন করতে না পারলে, শেখানোর পদ্ধতি সম্পর্কে উত্তম জ্ঞান না থাকলে শিক্ষকতা পেশা আপনার জন্য নয়। দ্বিতীয়ত. পেশায় থেকে পেশার সঙ্গে বেইমানি করবেন না। নিয়মিত ক্লাসে যাবেন, শিক্ষার্থীদের মনে মনে গালি দেয়ার সুযোগ দেবেন না, শ্রদ্ধার ভাণ্ডে অশ্রদ্ধার অনুপ্রবেশ ঘটাবেন না। তৃতীয়ত. শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলুন, পিছিয়ে পড়াদের ধমক দিয়ে অন্যদের কাছে হেয় করবেন না। তাদের কাছে টেনে একান্তে সমস্যা ডিঙানোর রাস্তা দেখিয়ে দিন। দুষ্টুমিভরা শিশুদের সঙ্গে নিজেও দুষ্টুমিতে যোগ দিন। দেখবেন তারা ধীরে ধীরে অতি দুষ্টুমি ছেড়ে দিয়েছে। কারণ তারা আপনাকে আপনজন হিসেবে ভেবে নিয়েছে। গড়ে তুলুন তাদের সঙ্গে সম্পর্কের একটি চমত্কার সেতুবন্ধ। চতুর্থত. তাদের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক রসিকতা করুন। উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়বস্তু বুঝিয়ে দিন। শুধুই শব্দমালার ফুলঝুরি বন্ধ করে উপকরণ ব্যবহার করে শিখনে সহায়তা করুন। দেখবেন, তারা মনের আনন্দে শিখবে। সে শিক্ষক শিক্ষকই নন, যিনি শুধু অন্যকে শিক্ষা গিলিয়ে দিতে চান। তাদের শিখতে সহায়তা করা সফল শিক্ষকের মুখ্য কাজ। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, অনবরত কথা বললে কথার একটা বড় অংশ শ্রোতাদের এক কান দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে ফুড়ুত করে বেরিয়ে যায়, পড়ে থাকে শুধু কথার ছোবলা। পঞ্চমত. প্রযুক্তির যুগে প্রয়োজন মতো ক্লাসে প্রযুক্তি ব্যবহার করুন, বিষয়বস্তুকে মজাদার করে তুলুন। আর সেজন্য প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন করুন। প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জনের জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। ষষ্ঠত. শিশুদের মনে স্বপ্নের ছোঁয়া লাগা কল্পনার জাল বুনে দিন। তবে তারা স্বাপ্নিক হবে, সৃজনশীল হবে, উদ্ভাবনী শক্তিসম্পন্ন হবে। আর সে কারণেই তারা আপনাকে চিরকাল মনে রাখবে। আমার এক ‘গ্রাম্য’ শিক্ষক বলতেন: তুমি পারবে না এমন কোনো কিছুই পৃথিবীতে নেই। যেকোনো বাধা-বিপত্তিতে নির্ভয়ে এগিয়ে যাওয়ার সাহস থাকলে একসময় দেখবে তুমি সাবানে ম্যাচের কাঠি ঘষে আগুন জ্বালিয়ে ফেলেছ। তাকে এখনো স্মরণে রেখেছি কেন? তার সেই কথাটির জন্য।
আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবসটি আমার কাছে প্রতিদিনের মতো একটি দিন নয়, অত্যন্ত শ্রদ্ধা ভালোবাসা আর কষ্টমাখা আবেগের একটি দিন। এ দিনে আমি শিরদাঁড়া উঁচু করে কবি কাজী কাদের নেওয়াজের সঙ্গে সুর মিলিয়ে দৃঢ়চিত্তে বলতে চাই: ‘শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার, দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার। ভয় করি না’কো, ধারি না’কো ধার, মনে আছে মোর বল। বাদশাহ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল। যায় যাবে প্রাণ তাহে, প্রাণের চেয়ে মান বড়, আমি বোঝাব শাহেনশাহে।’
লেখক: শিক্ষাবিদ
উপাচার্য, বাংলাদেশ উন্মুুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়












