এন্টিবায়োটিকের কথকতা

অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে খাবারদাবারের পাশাপাশি ওষুধের অবস্থান পাশাপাশিই প্রায়। ওষুধ এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, একবেলা ভাত না খেয়েও মানুষ দিব্যি ভালো থাকে। কিন্তু ডোজ চলাকালে একটা ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল বাদ পড়ে গেলে ফের শুরু থেকেই শুরু করতে হয়। সিরিয়াস ওষুধের মধ্যে এন্টিবায়োটিককেই ধরতে হয় প্রথমে। রোগজীবাণুর সংক্রমণ থেকে মানুষকে বাঁচাতে আবিষ্কার হয় এন্টিবায়োটিকের। এর আবিষ্কার না হলে মানবসভ্যতা হয়তো আরও আগে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যেতো এতোদিনে। মানুষের জীবনরক্ষার জন্য যারা এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেছেন তাদের অবদান তাই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বৈকি।
মানুষকে নিরোগ, সুস্থ-সবল রাখতে অবশ্য এন্টিবায়োটিক ছাড়াও আরও অনেক ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে। তবে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে দ্রুত জীবনরক্ষার জন্য এন্টিবায়োটিকের জুড়ি নেই। কিন্তু মানুষের অপরিণামদর্শিতার জন্য জীবনরক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক এখন ভয়াবহভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। জীবাণুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রায় সব এন্টিবায়োটিকই। তাই বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, আগামী ২০৫০ সাল আসতে আসতে কোটি কোটি মানুষ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়তে বাধ্য হবেআমাদের দেশে মুড়ি-মুড়কির মতো অনেকেই ওষুধ খেয়ে ফেলেন। ওষুধের দোকানদাররাও ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধ দিয়ে দেন। এমনকি অনেক ডাক্তারও প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ দেন রোগীকে। কারণ ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুসারে ওষুধ বেশি বিক্রি হলে ওই ডাক্তার বেশি কমিশন পাবেন কোম্পানির কাছে থেকে। এ ছাড়া যেরোগ প্যারাসিটামল দিলেই সারে সে রোগের জন্য প্রেসক্রাইব করা হয় অধিক মূল্যের হাইপাওয়ার এন্টিবায়োটিক বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাও আবার একাধিক প্রকার। এছাড়া অনেকে নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে এন্টিবায়োটিক কিনে খেয়ে ফেলেন। এটা যে কতবড় আত্মঘাতী তা অনেকেই জানেন না। উল্লেখ্য, এন্টিবায়োটিক সেবনের নিয়ম আছে। কোর্স আছে। কোর্স শেষ না করে খেতে খেতে বন্ধ করলে হিতে বিপরীত হয়। অসুখটি আবার হলে একই ওষুধে কাজ নাও করতে পারে। তখন অন্য গ্রুপের এন্টিবায়োটিক দিতে হয়। এভাবে ক্রমান্বয়ে এন্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন অনেক দিন যাবৎ যেমন নতুন এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার হচ্ছে না, তেমনই এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত এন্টিবায়োটিকগুলো প্রায়ই কার্যকারিতা হারাতে বসেছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগে যেখানে ওষুধ এক কোর্স দিলে অসুখ সেরে যেতো, সেখানে তিন কোর্স দিলেও সারছে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগামী ৫/৭ বছরের জন্য মাত্র ৩ টা এন্টিবায়োটিক পাইপলাইনে রয়েছে। এ তিনটি কার্যকারিতা হারালে সামান্য সর্দিকাশি বা হাতপা কেটে গেলে ও সংক্রমণ ঘটলে মানুষ মারা পড়বে। কী ভয়ানক দুঃসংবাদ ভেবেছেন কেউ? পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনাবেচা নিষিদ্ধ। আর আমাদের মতো দেশে প্রায় মুদি দোকানের মতো ফার্মের্সিতেও ওষুধ কেনাবেচা হয়। ওষুধ সংরক্ষণের নিয়মকানুনও মানা হয় না অনেক ক্ষেত্রে। তবে কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
ওষুধ জীবনরক্ষাকারী পণ্য। বিশেষত এন্টিবায়োটিক। এর অপরিমিত ও বাহুল্য ব্যবহার যেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, তেমনই অপরিণামদর্শী ব্যবহারকারীর জন্য ওষুধটি রেজিস্টেন্স বা অকার্যকর হয়ে পড়ে। তাই এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে এখনই সবরকম সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তবে আশাহত হবার দরকার নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরাও বসে নেই। অদূরভবিষ্যতে নিশ্চয়ই তারা প্রয়োজনীয় নেক্সট জেনারেশন এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার করে ফেলবেন ইনশাআল্লাহ। এছাড়া প্রকৃতিতেও অনেক এন্টিবায়োটিক ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে। যেমন : তুলসীপাতা, নিমপাতা, আদা, রসুন, করলা, চিরতা নিশিন্দা ইত্যাদি। এসবের মধ্যেও অনেক রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতা বিদ্যমান। শুধু আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহারপদ্ধতি জানা দরকার। ওষুধবিজ্ঞানীরা এদিকে অনায়াসে নজর দিতে পারেন।
তথ্য : ইন্টারনেট