
অর্থনীতির ৩০ দিন সংবাদ :
বিআইএ’র নির্বাচনের পথ একটু কন্টকাকীর্ণ মনে করে লাইফে সেক্রিফাইজ করলেও শেষ পর্যন্ত নন-লাইফে “আমি আছি থাকব, নির্বাচন করেই মরব” পদ্দতির দিকেই অগ্রসর হতে চলেছে। সামনে নন-লাইফে আর কেহ যদি নির্বাচন থেকে সরে না দাড়ায়, তাহলে কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে দাড়ায়, তা অননুমেয় বললেও মিথ্যা হবে না।
মুলত বিআইএ’র নির্বাচনে লাইফ বীমার ১৪ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় লাইফে বাকিরা সকলেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জীবন ফিরে পেয়েছেন (নির্বচিত হয়েছেন) বলে ধরে নেয়া যায়।
অর্থ্যাৎ বীমা মালিকদের বনাম মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের সংগঠন বিআইএ’র নির্বাহী কমিটির নির্বাচন থেকে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে লাইফ বীমায় ৫ জন এবং নন-লাইফে ১ জন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার মধ্যেই তারা নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। নিশ্চিত করেছে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবরে ।
সূত্রের খবরে জানা যায়, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা লাইফ বীমার ৫জন প্রার্থী হলেন- প্রোগ্রেসিভ লাইফের ভাইস চেয়ারম্যান বজলুর রশীদ, বেস্ট লাইফের পরিচালক সৈয়দ বদরুল আলম, চার্টার্ড লাইফের মুখ্য নির্বাহী এসএম জিয়াউল হক, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং রূপালী লাইফের মুখ্য নির্বাহী মো. গোলাম কিবরিয়া।
অন্যদিকে নন-লাইফ বীমা খাত থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন মাত্র একজন প্রার্থী, তিনি রূপালী ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক মোস্তফা কামরুস সোবহান।
লাইফ বীমায় মোট ১৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় বাকী ৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। নন-লাইফে ১ জনের মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় এ খাতে মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২০ জন। ফলে নন-লাইফের নির্বাহী সদস্য নির্বাচনে হবে ভোট।
আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি বিআইএ’র ২০২৫-২০২৬ সালের নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আজ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।
যে ৯জন লাইফ বীমায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন :
লাইফ বীমার নির্বাহী সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা নির্বাচিত হচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- মালিক পক্ষে, সন্ধানী লাইফের চেয়ারম্যান মুজিবুল ইসলাম, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, বেঙ্গল ইসলামি লাইফের ভাইস চেয়ারম্যান আমিন হেলালী, ডেল্টা লাইফের পরিচালক আদিবা রহমান; এনআরবি ইসলামিক লাইফের পরিচালক আরিফ সিকদার, এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের পক্ষে, পপুলার লাইফের মুখ্য নির্বাহী বি এম ইউসুফ আলী, প্রগতি লাইফের মুখ্য নির্বাহী জালালুল আজিম, জেনিথ ইসলামি লাইফের মুখ্য নির্বাহী এস এম নুরুজ্জামান এবং ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. কাজীম উদ্দিন।
নন-লাইফ বীমার ১০ সদস্য পদে ২০ প্রার্থী
নন-লাইফ বীমার টু ইষ্টু ওয়ান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মালিক পক্ষের প্রার্থীরা হলেন– অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান কাজী শাখাওয়াত হোসেইন লিন্টু, সিটি ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হোসেইন আখতার, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান সাঈয়্যেদ আহমেদ, প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেইন; প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মো. মফিজুর রহমান, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান কে এম আলমগীর, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের ইনভেস্টমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন জামাল, বাংলাদেশ ন্যাশনালের পরিচালক তায়েফ বিন ইউসুফ, জনতা ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক বেলাল আহমেদ।
টু ইষ্টু ওয়ান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের পক্ষের প্রার্থীরা হলেন, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ইমাম শাহীন, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী আহমেদ সাইফুদ্দীন চৌধুরী, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ফারজানা চৌধুরী, বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী এএনএম ফজলুল করিম মুন্সি, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ড. এ কে এম সরোয়ার জাহান জামিল, ইসলামি কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কাজী মোকাররম দস্তগীর, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী হাসান তারেক, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মোহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী এবং স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. আব্দুল মতিন সরকার।
এখন বীমা মালিকদের বনাম মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের সংগঠন বিআইএ’র নির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সামনে আরো কি চমক আছে বা আসে, এ অপেক্ষায় দিন-ক্ষণ গণনার শুরু…।












