অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
বৈশ্বিক জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে ভ্রমণকারী পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে এ খাত থেকে আসা আয়ের পরিমাণও। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো এশিয়াও এগিয়ে যাচ্ছে পর্যটন খাতে। আর এশিয়ায় এ খাতে সব দেশকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে আছে থাইল্যান্ড। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যটকরা এশিয়ার যেকোনো স্থানের তুলনায় থাইল্যান্ডে বেশি অর্থ ব্যয় করে থাকেন। খবর ব্লুমবার্গ।
এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে নাম রেস্টুরেন্টে তাদের একটি বিখ্যাত ডিশ খেতে ৬০ ডলার খরচ করতে হতো। নাম বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ৫০ রেস্টুরেন্টের তালিকায় ৪৯তম র্যাংকিংয়ে অবস্থান করছে। ওই সময় থাইল্যান্ডের পাঁঁচতারকা হোটেল আনানতারা সিমামে সকালের বুফে নাশতাসহ এক রাত অবস্থানের জন্য ব্যয় করতে হতো ১৫০ ডলার। এমনকি শহরের সবচেয়ে দামি স্যুভেনির মুক্তা বসানো মেহগনি কাঠের হাতির ভাস্কর্য কেনার ব্যয় নিউইয়র্কের ম্যাকডোনাল্ড’সে এক বেলা খাওয়ার চেয়ে কম।
এতসব সুবিধা লাখ লাখ পর্যটককে থাইল্যান্ডে টেনে আনতে ভূমিকা রেখেছে। গত বছর দেশটি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছ থেকে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলার আয় করেছে। থাইল্যান্ডের পর আয়ের দিক দিয়ে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে আছে যথাক্রমে ম্যাকাও ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, জাপান ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ও হংকং ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। আগামী বছর দেশটিতে চার কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটকের সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা কিনা থাইল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক।
এশিয়ার প্রিমিয়াম ট্র্যাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটর এটিজের কর্মকর্তা রেবেকা মাজ্জারো বলেন, থাইল্যান্ডে আপনি সবার জন্যই কিছু না কিছু পাবেন। ব্যক্তিগত দ্বীপ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ভিলা, মাত্র কয়েক ডলার খরচে অসাধারণ পথখাবার। এখানে রয়েছে বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা, যা খুব কমসংখ্যক দেশেই রয়েছে। আর এসব কারণে প্রচুর লোক এখানে আসে এবং অর্থ ব্যয় করে, যাতে বিস্মিত হওয়া কিছু নেই।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাছে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় এশিয়ার দেশগুলোয় পর্যটকরা মাথাপিছু কত ব্যয় করেন, তা জানা না গেলেও এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় তা বাড়ছে।
মাস্টারকার্ডের বার্ষিক গ্লোবাল ডেসটিনেশন সিটিজ ইনডেক্সে ২০১৭ সালে তৃতীয়বারের মতো ব্যাংকককে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করা শহর বলে উল্লেখ করা হয়। ওই জরিপটি করা হয়েছে মাস্টারকার্ড ব্যবহারকারীদের অপ্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাই রাজধানীতে একজন পর্যটক প্রতিদিন গড়ে ১৭৩ ডলার ব্যয় করেন। অন্যদিকে দুবাই ও সিঙ্গাপুরে ব্যয় করেন যথাক্রমে ৫৩৭ ও ২৮৬ ডলার। কোম্পানিটি ধারণা করছে, চলতি বছর থাইল্যান্ডে পর্যটকরা অতিরিক্ত ১৪ শতাংশ বেশি ব্যয় করবেন।
জনপ্রিয়তার মূল্য অবশ্য থাইল্যান্ডের সৈকত ও দ্বীপগুলোকে চুকাতে হচ্ছে। বাণিজ্যিক ইয়টের অতিরিক্ত আসা-যাওয়ার কারণে বিখ্যাত মায়া বে’র সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের অনেক ক্ষতি হয়েছে এরই মধ্যেই। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া লিওনার্দো ডিক্যাপ্রির ‘দ্য বিচ’ সিনেমায় ওই দ্বীপকে ব্যবহার করা হয়েছে। চলতি বছর শুরুর দিকে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য চার মাস ওই দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে তাতে কোনো ইতিবাচক ফলাফল না আসায় এখন দ্বীপটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অতিরিক্ত পর্যটকের কারণে মায়া বে দ্বীপের কাছের অন্য দুই দ্বীপ কোহ কাই ও কোহ তাচাইয়ের কোরালও এখন আশঙ্কাজনক হারে ধ্বংসের মুখে।












