বীমাখাতের সুদূরপ্রসারী অবদানে আইডিআরএ বড়বাধা, যোগ্য এমডি/সিইও নিয়োগ অনুমোদন কেন নয়?? (৪ পর্ব)

খোন্দকার জিল্লুর রহমান
দেশের জিডিপিতে অংশীদারিত্বের দাবীদার বীমা শিল্প। আর সম্প্রতি পলাতক সরকারের সুবাদে নামগোত্রহীন অক্ষ্যাত কুক্ষ্যাত অনেকেই হাসিনা পরিবারকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে বীমা কোম্পানীর মালিক হয়েছেন। আসলে এদের অনেকেই সুবিধা ভোগ করতে এসেছেন। ব্যবসায়ীরা সর্বত্রই ব্যবসা খুঁজে তাদের কাছে নীতি নৈতিকতা মূল্যহীন। বীমা কোম্পানীর মালিকগণ যদি সত্যিকারভাবেই ভাব-আদর্শের অনুসারী হতেন তবে বীমা শিল্পের এই বেহাল দশা হতো না। শুধু মালিকপক্ষই নয় এই পেশার যথেচ্ছা ব্যবহারে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ও পিছিয়ে নেই আর থাকবেই বা কেন? আইডিআরএ এখন জ্ঞান বর্জিত নখদন্তহীন কাগুজে বাঘ শুধু তর্জন গর্জনে আছে। যারা নীতি আদর্শ নিয়ে কাজ করেন তাদের জন্য নয়, আর যারা ভিতরে ভিতরে অনিয়মের জন্ম দেন তাদের সাথে সখ্যতায় তৈরিতে ব্যস্ত।
বীমা শিল্পের বিকাশে আইডিআরএ এখন বড় বাধা বা সমস্যা বলে প্রায় আশিভাগ সিইও প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও সত্য এবং খাত সংশ্লিষ্টরা এমনটিই মনে করছেন। আইডিআরএ’র অফিসে বর্তমানে প্রশাসনিক কোন শৃংখলা নেই। সদস্যদের বদলে নির্বাহীরাই অফিস নিয়ন্ত্রণ করেন। কোন কোন সদস্য আবার নিজেরাই বিতর্কিত। আর তাই নির্বাহীরা দাপটের সাথে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে চেষ্টা করেন। নিকট অতীতে কলঙ্কেও বোঝা মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারি। তিনি নিজের অযোগ্যতার কারণে নির্বাহীদের অসত্য ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারনে বেশ বিতর্কিত হয়েছেন। চেয়ারম্যান কারো চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারতেন না, কারণ তার বীমা বিষয় জ্ঞানের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে, এটা গত ১৪/০৬/২০২২শে তার চেয়ারম্যান হিসাবে আইডিআরএ যোগ দেওয়ার কদিন পর থেকেই সবার জানা হয়ে যায়। তার কথা ও কাজে কোন মিল ছিল না। তিনি অবসরকালীন সময়ে যাদের কৃপায় আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান হয়েছেন, তাদের তুষ্ট করতে সত্যটাকে তলিয়ে না দেখে তাদের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। তাই তিনি তার নির্বাহী পরিচালকের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছেন। তারা লোভী, আর্থিক লেনদেনে অভ্যস্ত এটা ওপেন সিক্রেট ছিল। যার কারনে অসৎ, অনবিজ্ঞ জাল সার্টিফিকেটধারী, জুয়াচারী হতে শুরু করে, স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে জড়িত চোর বাটপাররাও অর্থের বিনিময়ে বীমা কোম্পানীর সিইও হিসাবে আইডিআরএ’র অনুমোদন পেয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া ও জাল সার্টিফিকেট নিয়ে অনেক বির্তকিত ব্যক্তি সিইওর দায়িত্ব পালন করছেন। এককথায় নিকট অতিত চেয়ারম্যান বীমা শিল্পকে জাহান্নামের দোড়গোড়ায় নিয়ে যাচ্ছেন এবং তার অসৎ কর্মকর্তাদের বিতকির্ত কর্মকান্ডই বীমা খাত ধ্বংসের দারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল বলে ইতিহাসের পাতায় লিখা থাকবে।
বীমাখাত সংশ্লিষ্ট অনেকে মন্তব্য করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এখন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ না হয়ে নিজেদের স্বার্থ উন্নয়ন ও হাসিলের কর্তৃপক্ষে পরিনত হয়েছে। তাঁরা আইডিআরএ কে ডুবিয়ে নিজেদেরকে ভাসাচ্ছেন, তাঁরা আইডিআরএ’র ভিতর সুকৌশলে আরেক অদৃশ্য সিন্ডিকেট তৈরি করে নিজেদের দৌরাত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন। তাঁদের দুএকজন আবার এনএসআই এবং সরকারের উচ্চমহলের কারোর নাম ব্যবহার করে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে কর্তৃত্বের মাধ্যমে দাপিয়ে বেড়ান, বীমা উন্নয়নে তাদের জ্ঞান সীমিত থাকলেও কিছু কোম্পানির প্রভাবশালী মালিকদের সন্তানদের এমডি/সিইও বানানোর স্বার্থে আইডিআরএ’র জুতসই আইন পরিবর্তনে বীমাখাত ধ্বংসে তাঁরা পাকা খেলোয়াড় হিসাবে কাজ করছেন।
মালিক পক্ষগণ কোম্পানীর সিইওদের নিয়োগ দিয়ে আইডিআরএ’র নিকট অনুমোদনের জন্য পাঠান। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইডিআরএ তাদের অনুমোদন না দিয়ে ভাগড়া বসান, তার কারণ ঐ সকল সিইও আইডিআরএ’র কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা দেন না বা তাদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ প্রদান করেন না। পুরোনোদের না লাগলেও নতুন সিইওদের সার্টিফিকেট, ব্যাংক ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদির জন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে কিন্তু তা কতদিন বা কতমাস এমনকি কত বছর পর্যন্ত?? আমরা এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে চলেছি, যে কাজটা একদিনে হতে পারে তার জন্য কতটা সময় লাগতে পারে, এক দিন বা সাত দিন কিন্তু পনেরো দিনতো নয়ই তা হলে তা আইডিআরএ’র অনুমোদন সময় মতো হয় না কেন? যদিও আইনে আছে প্রজতন্ত্রের কর্মকর্তার নিকট কোন ফাইল ৪৫ থেকে ৬০ দিনের বেশি আটকিয়ে রাখতে পারবেন না। আইডিআরএ প্রতিনিয়ত সিইওদের নিয়োগ ও অপসারণ এবং ঘন ঘন চেক লিষ্ট পরিবর্তনে আগ্রহী হবার কারণ কি, তা এখন অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। নিজেদের এবং বীমা মালিকদের সন্তানদের অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার একটা রাস্তা তৈরীর মতলবছাড়া আর কি? তবে, এর ফলে কি হতে পারে, তা আমরা দেখতেই পাচ্ছি। গ্রীন ডেল্টা, রূপালী জেনারেল, সোনালী লাইফ, ডেলটা লাইফসহ অদূর ভবিষ্যতে সোনার বাংলা ও ইউনিয়ণ ইন্স্যুরেন্সের মতো হয়তো আরো অনেকের নাম প্রকাশিত হয়ে আসবে এবং আমাদের দেখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন মেনে যেমন ট্রাষ্ট ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, আনসার বিডিবি ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংকসহ দেশের সব ব্যাংক পরিচালিত হয়, কিন্তু দেশের সকল বীমা প্রতিষ্ঠানে বীমা আইন মেনেই এমডি/সিইওদের নিয়োগ দেয়া হয় না কেন? আইনতো সকলের জন্যই সমান প্রযোজ্য।
বদরুল আমিন সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স ও মোঃ মোকলেছুর রহমান খান ইষ্টার্ণ ইন্স্যুরেন্সের সিইও এর ফাইল নিয়োগ অনুমোদনের জন্য আইডিআরএ পাঠানো হলেও দীর্ঘদিন পর তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় অনুমোদন দেয়া হয়নি, অথচ ইসলামি ইন্স্যুরেন্স এর বর্তমান সিইও ট্রিপল থার্ড ক্লাশ নিয়ে দিব্যি অনুমোদন পেয়েছেন- আসলে এর অর্থ কি, এটা দেশের বীমাখাত সংশ্লিষ্ট কারোরই জানার বাকি নাই যে, “ডাল মে কুচ কালা হে।” আবার স্রেফ আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের সাথে ‘ভালো সম্পর্ক’ এই বিশেষ যোগ্যতায় আইডিআরএ থেকে সিইও হিসেবে স্বদেশ লাইফে জাহাঙ্গীর মোল্লার কাছেও চিঠি পাঠানো হয়। কি তাজ্জব ব্যাপার আইডিআরএ’র! প্রগ্রেসিভ লাইফের জহির আইডিআরএ’র লাইফ সদস্যর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে অর্থনীতির৩০দিনবিডিডটকম অনলাইন এবং অর্থনীতির ৩০ দিন পত্রিকাসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর আজও কি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা জানা যায় নি। এদিকে, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্বারা কোম্পানী পরিচালনা করাতে আইডিআরএ খুব বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করে। যদিও বীমা আইনে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে ৩ মাস, সর্বোচ্চ ৬ মাসের সীমাবদ্ধতার নিয়ম রয়েছে।
ডেল্টা লাইফ, গার্ডিয়ান লাইফ, আকিজ তাকাফুল লাইফ, বর্তমানে প্রায় দেউলিয়াত্মেও পথে থাকা সোনালী লাইফ (যার জন্য আইডিআরএ’র কলঙ্কিত পদত্যাগী সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী ও পলাতক সরকারের নিকটাত্মীয় পরিচয়ধারী বিআইএ-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন গর্ববোধ করতেন) মার্কেন্টাইল লাইফ, বেষ্ট লাইফ, বায়রা লাইফ, স্বদেশ লাইফ, হোমল্যান্ড লাইফ ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সও নিয়মিত আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে চালিয়েছেন ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে, অনেকের কাছে তা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল?
অন্যদিকে অনেক যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পূর্বের দায়িত্ব পালনকারী অনেক সিইও বর্তমানে বেকার রয়েছেন, আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইডিআরএ’র বিনিময় স্বার্থ পুরন না হলে এবং সেচ্ছাচারিতায় ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে বেকার রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বেশকিছুক্ষেত্রে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়কেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যাচ্ছে আইডিআরএ, যার প্রমান সংস্থাটির আইন বিষয়ক পরিচালক, যিনি নাকি বিশেষ করে বীমা আইন নিজের মত করে নেয়া বীমা খাতের নামগোত্রহীন বটতলার উকিল নামে পরিচিত, সেই আব্দুল মজিদ সাক্ষরিত স্বদেশ লাইফ ও সোনালী লাইফকে দেওয়া চিঠির মাধ্যমে প্রমানিত হয়। আবার হোমল্যান্ড লাইফের সিইওকে সরিয়ে শেয়ার কেলেঙ্কারী পরিচালকদের মদদ দিয়ে যাচ্ছে আইডিআরএ, যারা ব্যাংকে রক্ষিত অন্যের শেয়ার নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। এখানে যে কথাটি উল্লেখ না করলেই নয় যে, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্যদ অতিতে বিভিন্ন কোম্পানীতে এমডি হিসেবে চাকুরি করে আসা শহিদুল ইসলামকে নিয়োগ অনুমোদনের জন্য আইডিআরএ’এ পাঠানো হলে দীর্ঘ সময়ক্ষেপন করে নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ তাঁর ডিগ্রী এবং মাস্টার্সের সার্টিফিকেট সঠিক নয় বলে ফেরত পাঠানো হলে নিয়োগ বঞ্চিত শহিদুল ইসলাম তাঁর শিক্ষাসনদের সত্যতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন, উচ্চ আদালত শহিদুল ইসলামের শিক্ষাসনদের সত্যতা যাচাইকরে তার পক্ষে রায় প্রদান করে। এতে শহিদুল ইসলামের ডেল্টা লাইফের এমডি/সিইও পদে বহাল হওয়ার কোন বাধা না থাকলেও কর্তৃপক্ষ আইন বহির্ভুতভাবে বিনিময়ে উত্তম কুমার সাধুকে এমডি/সিইও হিসেবে নিয়োগ অনুমোদন করেন। যদিও আমাদের সংবিধানিক আইনে উল্লেখ যে, কোন বিষয়ে উচ্চ আদালতে কোন মামলা চলাকালীন সময়ে উক্ত মামলার বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত কোন পক্ষ একক কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রাখতে পারেন কি না তা প্রশ্নবিদ্ধ। নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের পরিচালক, আইন এর এ বিষয়ে প্রচুর জ্ঞান থাকলেও মামলা চলাকালীন সময়ে ডেল্টা লাইফে উত্তম কুমার সাধুকে এমডি/সিইও হিসেবে নিয়োগ অনুমোদন দেয়া উচ্চ আদালতকে অবমাননা করার সামিল বলে দেশের প্রক্ষাত আইন বিশেষজ্ঞ অনেকেই মত প্রকাশ করেন। আইডিআর’র বিতর্কিত কর্মকান্ড আইডিআরকে যোগ্য লোকবল তৈরিতে বিতর্কিত ও কাগুজে বাঘের ভূমিকায় এনে দাঁড় করিয়েছে। এসব ব্যপারে বিভিন্নসময় আইডিআরএ’র সাবেক এবং বর্তমান চেয়ারম্যান এর সাথে দেখা করতে চাইলে মিটিং এবং কাজে ব্যস্ত আছেন, দরখাস্থ দিয়ে পরে আসতে বলে এড়িয়ে যান। ইতিপুর্বে এমডি/সিইও নিয়োগ অপসারন প্রোবিধিমালার ব্যপারে অর্থনীতির ৩০ দিনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে আইডিআরএ’র সাবেক চেয়ারম্যান বলেন “চাপের মুখে আমরা অনেক সময় অনেক কিছু করতে বাধ্য হই।” আবার কারো কারো ব্যপারে তার জানা নেই, পরে দেখবেন বলেও এড়িয়ে যান। বীমা আইনের ১০ এর ৪ এর উপ ধারারয় উল্লেখ, কোন ব্যক্তি পুর্বে কোন কোম্পানীতে এক অথবা দুই যেকোন মেয়াদে এমডি/সিইও হিসেবে চাকুরি করার পর অন্যকোন কোম্পানীতে চাকুরির জন্য উক্ত ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলযোগ্য। নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ কি হবুচন্দ্র রাজা গবুচন্দ্র মন্ত্রীর ভুমিকায় কিনা অনেকে জানতে চায়।

৭১ টিভির সাংবাদিক প্রশ্ন করেছেন ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর সিইও’র সকল কাগজপত্র বৎসরখানেক আগে দেয়া সত্বেও কেন অনুমোদন দেয়া হয়নি? জবাবে চেয়ারম্যান মহোদয় বলেছেন তার জানা নেই তিনি বিষয়টি দেখবেন। ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৩ এক চিঠির মাধ্যমে আইডিআরএ থেকে জানানো হয় যে, “তদন্তে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ও তথ্যের ঘাটতির কারণে” আইডিআরএ তদন্ত টিম ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীতে পুন:তদন্ত করবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত টিমকে প্রতিবেদন দাখিলের সময় সীমা বেধে দেয়া হয়। অথচ তার একদিন পর ১৩ই সেপ্টেম্বর ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর সিইও মীর নাজিম উদ্দিন আহমেদকে অপসারণ করে নতুন সিইও নিয়োগের পরামর্শ দেন ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর চেয়ারম্যানকে। তদন্তের আগেই অপসারণ? এমন অবস্থায় একজন সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির কি করা উচিত?
যারা এই অবস্থা থেকে উত্তীর্ণ হয়ে কাজ করছেন এবং নবায়নের জন্য তাদের কর্মক্ষেত্র চলমান তারা কাজ করতে করতে নবায়নের জন্য পাঠাবেন এইটাতো নিয়ম। এদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন পর নানা অজুহাতে নবায়ন প্রক্রিয়া ব্যাহত করা হচ্ছে। আইডিআরএ’র নবায়ন অনুমোদন না হওয়ার জন্য ঐ সকল সিইও বা কোম্পানী দায়ী নহে বরং আইডিআরএ’র অব্যবস্থাপনা দায়ী নয় কি। দীর্ঘদিন পর আইডিআরএ কর্তৃক কোন সিইওকে নবায়ন না দিয়ে বিনা অযুহাতে সময় ক্ষেপন করে, তাইলে উল্লেখিত সময়ে কোম্পানীর আর্থিক ক্ষতির জন্য দায়ী কে ?
একজন সিইও’র অবর্তমানে কোম্পানীর সকল কার্যক্রম প্রায় স্থবির থাকে এবং স্টেকহোল্ডারগণ ক্ষতিগ্রস্ত হন, মালিক ও কর্মচারীদের কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়। একজন সিইও-এর অবর্তমানে কোম্পানীগুলোতে একরকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং সে সাথে ব্যবসায়ও ধ্বংস নামে, এগুলো আইডিআরএ’র কর্তা ব্যক্তিপক্ষ কি বোঝেন না? তারা কি কেবল চলমান কোম্পানীকে অচল করার কাজে কর্তৃত্ব খাটাতেই সাচ্ছন্দ বোধ করেন। তাঁদের চিন্তা করা উচিৎ যে, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলো বেঁচে থাকলেই আমরা আইডিআরএ। কিন্তু আইডিআরএ‘র বর্তমান অবস্থা দেখলে তার উল্টোটাই মনে হয়, তারা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার পরিবর্তে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার দিকেই অধিক মনযোগী থাকেন সবসময় যেনো আপনি বাঁচলে বাবার নাম। আইডিআরএ‘র দুর্নীতির খবর এখন দেশের সতের কোটি লোকের মুখে মুখে,তাদের দুর্নীতি নাকি দেশের পুলিশ বাহিনীকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। তারা যেকোন উৎস থেকে অসত্য তথ্য নিয়ে কোম্পানীগুলোতে আতংক বিস্তারে ঘন ঘন তদন্ত টিম পাঠিয়ে নিজেদের বিতর্কিত করছেন কিন্তু ভালো কাজগুলো করে নিজেদের সম্মানিত করছেন না। যদি কারো কোন দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমান পেয়ে থাকেন বা না পেয়ে থাকেন তা কোম্পানীকে বা যাদের ব্যাপারে অভিযোগ তাদেরকে না জানিয়ে এবং ব্যক্তি বিশেষের উপর শাস্তি আরোপ না করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লাইসেন্স স্থগিত করে স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ বা স্থগিত রাখা হয়, (যেমন স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী) তাইলে উল্লেখিত কোম্পানীর প্রতি সাধারন মানুষের ধারনা কোথায় যায়, তার কোন হিসেব সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারীসহ মজিদ কামরুলদের ছিল কি ছিলনা, খাতসংশ্লিষ্ট অনেকেই গোলক ধাঁধায় ছিলেন। তারা বলেন, বীমা বিষয়ে অভিজ্ঞতাহীন অবসরপ্রাপ্ত একজন লোক (মোহাম্মদ জয়নুল বারী) আইডিআরএ’র চেয়াম্যানের চেয়ারকে অলঙ্কিত না করে কলঙ্কিত করেছেন। আবার যে কেউ কোন ব্যাপারে অভিযোগ করলেই তা আমলে নিয়ে অভিযোগকারীর নাম, ঠিকানা, মোবাইল ও ল্যান্ডফোন নাম্বার না থাকলে তার সত্যতা যাচাই না করে কাউকে হেনস্তা করার জন্য আইডিআরএ যেন সর্বদাই প্রস্তুত এটা ব্যক্তি বা কোম্পানীর স্বাভাবিক কাজকর্মে হস্তক্ষেপের সামিল।
বিভিন্ন কোম্পানীতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে চাকুরীচ্যুত কিছু কর্মকর্তা বিভিন্ন কোম্পানী ও ব্যক্তির নামে কুৎসা রটিয়ে আইডিআরএ’র কিছু সংখ্যক অসৎ কর্মকর্তার যোগসাজসে চিঠি-পত্রের মাধ্যমে বিভ্রান্তি করছে। আর আইডিআরএ ঐ সকল লোকেদের সোর্স বানিয়ে বিভিন্ন বেআইনী পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্ত দেওয়া উচিত, তা হলো যোগ্য এমডি/সিইও তৈরি এবং এমডি/সিইওদের চাকুরির নিরাপত্তা বিধান করা। কিন্তু আইডিআরএ এমডি/সিইও তৈরি এবং তাদের চাকুরির নিরাপত্তা বিধানে সম্পুর্ণ বিপুরীতমুখী ও বিনিময়ে ব্যতিব্যস্ত। প্রথমত একজন ডিএমডি এবং এএমডি পর্যন্ত চাকুরি পদ স্থায়ী অপরদিকে পরবর্তি এমডি/সিইও পদ অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক, যদিও পূর্ববর্তী পদের সাথে এমডি/সিইও পদে বেতন বৈষম্য অনেক বেশি, আর কোম্পানীর পরিচালনা পর্যদ তাদের ব্যবসা দেখেই এমডি/সিইও’র বেতন-ভাতা নির্ধারন করে থাকেন। কিন্তু আইডিআরএ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন কোন সিইও’র অনুমোদনের সময় কোম্পানী কর্তৃক নির্ধারিত বেতন ভাতা কমিয়ে দিচ্ছে। মনে হয় সিইওদের বেতন ভাতাদি আইডিআরএ কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করেন। একজন সিইওতো আর একদিনে তৈরী হয় না। দীর্ঘদিন কাজ করার পর তার কর্মদক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম, দক্ষ বীমা কর্মী নিয়োগ ও সংযোজন এবং কোম্পানীকে লাভবান করেই বেতন ভাতা নিয়ে থাকেন। আইডিআরএ’র যদি স্বদিচ্ছা থাকে তবে প্রতিটি বীমা কোম্পানীর জন্য এক ও অভিন্ন বেতন অবকাঠামোর নজির তৈরী করে দেখানো ক্ষমতার অপব্যবহার নয় সেইসাথে এমডি/সিইওদেও সরকারী চাকুরির মত নিশ্চয়তা বিধান বা স্থায়ীপদ তৈরি করে দেখানোই মুল ব্যাপার, আর এটা করে দেখানোই প্রকৃত প্রশাসনিক যোগ্যতা ও দুরদর্শিতা, যা বীমাখাতকে সুদুর প্রসারি অবকাঠামো তৈরি এবং জিডিপিতে অবদান রাখতে সহায়তা করবে। আসলে আইডিআরএ‘র অযোগ্যদের কারনে বহুপুর্বেই এ ক্ষমতা হারিয়ে এখন কাগুজে বাঘের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
একজন সিইও’র উপর নির্ভর করে একটা কোম্পানী চলে তাই তাদের বেতন ভাতাদি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্যদের ভূমিকাই প্রাধান্য হওয়া উচিত। পরিচালনা পর্যদ কি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে অধিক বেতন দেয়? যদি আইডিআরএ’র কর্মকর্তাগন নিজেদের সাথে তুলনা করে তাদের বেতন-ভাতা নির্ধরন করে, এটা ভুল, কারন তারা জানে না তাদের চেয়ে অনেক অনেক বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন লোক বীমা কোম্পানীতে চাকরি করেন।
আইডিআরএ গঠনের সময়ে প্রবীন বীমা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি “এডভাইজরী বোর্ড” গঠনের কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা পরিলক্ষিত হয় নাই। এখন এই দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশে বীমা জ্ঞানে সমৃদ্ধ বীমা পেশাজীবিদের নিয়ে অতিসত্ত্বর বীমা “এডভাইজারী বোর্ড” গঠন করা উচিত। তাহলে আইডিআরএ’র অনৈতিক ও আইন অমান্যকারী সিদ্ধান্ত থেকে বীমা শিল্প কিছুটা রক্ষা পাবে এবং আইডিআরএ কিছুটা হলেও নিয়মতান্ত্রিকতায় আসবে, সেই সাথে কোম্পানীগুলো সঠিকপথে চলতে পারবে বলে খাত সংশ্লিষ্ট সকলের ধারনা।
চলবে….