

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
উন্নয়নের ডামাডোলে বীমাখাত রশাতলে। ঘুষ, দূনীতি, সজনপ্রীতি, ক্ষমতার প্রতিফলন, তথ্য প্রদানে অপারগতা এবং বীমা পেশায় ন্যূনতম জ্ঞানহীন অযোগ্যদের পদায়নে ডুবতে বসেছে দেশের জিডিপিতে অবদান রাখার মত উন্নয়নমুখি বীমা খাত। আর এর জন্য বীমা উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ’র (আইডিআরএ) কে দায়ি করেছে খাত সংশ্লিষ্ট বেশিরভাগ লোকসহ দেশের সুশিল সমাজের অনেকে। কেহ কেহ নাম না বলার সার্থে এমন মন্তব্যও করেন যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ এর দুর্নীতি নাকি দেশের পুলিশ বাহিনিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। এ খাতে আশার আলোর চেয়ে হতাশার খবরই বেশি। এই খাত নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ’র (আইডিআরএ) ফলপ্রসু কোন কার্যক্রম নিয়ে স্বয়ং সরকারের নীতি নির্ধারকরাও কোন আশার আলো দেখতে পারছে না। বীমা খাতের উন্নয়নে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এর সুফলের পরিবর্তে কুফলই পাচ্ছে দেশের (লাইফ-ননলাইফ) বীমা গ্রাহকরা। কেন এ অবস্থা তৈরি হচ্ছে, প্রতি বছরের মত এবারও ১লা মার্চ জাতীয় বীমা দিবসেএ প্রশ্ন এখন দেশের সকল বীমা গ্রাহক থেকে শুরু করে খোদ বীমা কোম্পানীগুলির (লাইফ-ননলাইফ) কর্মকর্তা কর্মচারীদের মনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বীমা ব্যবসা প্রসারে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে প্রতি বছর পালিত হচ্ছে জাতীয় বীমা দিবস। বর্তমান সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে এবং গত চার বছর ধরে এ দিবস পালিত হচ্ছে। বিগত বছরগুলোর ন্যায় এ বছরও জাতীয় বীমা দিবস পালিত হতে যাচ্ছে। প্রতি বছর ১লা মার্চ জাতীয় বীমা দিবস পালিত হবে। ১৯৬০ সালের ১ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালিন আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি নিয়েছিলেন। বীমা কোম্পানিতে বঙ্গবন্ধুর চাকরি করার সেই মুহূর্তটিকে স্মরনীয় করে রাখতে প্রতি বছর বীমা দিবস পালন করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য বীমা খাতে কর্মরতদের আরও আত্মপ্রত্যয়ী ও উৎসাহিত করা। দিবসটিকে সুন্দর ভাবে পালন করতে অর্থমন্ত্রনালয়ের আর্থিক বিভাগ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ নানা আয়োজন করেছে। এ দিন সকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় বীমা দিবসের উদ্বোধন ঘোষনা করবেন। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে জাতীয় বীমা দিবসের কর্মসূচী পালিত হবে। দিবসটি সামনে রেখে বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অপরদিকে দিবসটিকে নিয়ে বীমা নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের নাবিস্বাস হলেও বীমা খাতের আস্থার সংকটের ঘাটতি দুর হচ্ছে না।
সার্বিক বিবেচনায় এবং জনসংখ্যার সাথে ভারসাম্য রেখে ৫৬হাজার বর্গমাইলের দেশে বীমা বাজারের তুলনায় কোম্পানির সংখ্যা অধিক হওয়ায় ব্যবসা আনতে কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলে তীব্র প্রতিযোগিতা যা বিভিন্ন সময়ে বীমা কোম্পানীগুলির চেয়ারম্যান এবং মুখ্যনির্বহি কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারে বেরিয়ে আসে। যার জন্য একদিকে যেমন কোম্পীগুলোর মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা বেড়েই চলছে অপরদিকে ব্যবসায়ে টিকে থাকতে কোম্পানীগুলো অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। এর ভিতর নন লাইফ বীমা কোম্পানীগুলোর বড় সমস্যা অতিরিক্ত কমিশন। কোম্পানিগুলোকে যে কোন ব্যবসা আনতে বীমা উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ)’র বেদে দেওয়া নির্ধারিত এজেন্ট কমিশনের চেয়ে অনেক বেশি কমিশন দিতে হচ্ছে । কাগজপত্রে কমিশনের হার ঠিক দেখানো হলেও বাস্তবতা ভিন্ন যা কারো অজানা নয়। কোম্পানীগুলি বাহ্নিকভাবে এসব অবৈধ কমিশন বন্ধ করতে চাইলেও ব্যবসার খাতিরে নিজেরাই অবৈধ কমিশনে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন।
বীমাখাত নিয়ে (লাইফ-ননলাইফ) দীর্ঘ দিন থেকে বেহাল অবস্থা চলে আসলেও এ ব্যপারে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ(আইডিআরএ)’র নামেমাত্র দুএকটা ব্যবস্থা ছাড়া কোনরকম কার্যকরি ভুমিকা আছে বলে তেমন কোনো লক্ষন পরিলক্ষিত হয় বা হয়েছে বলে এতদ সংশ্লিষ্ট কেউ মনে করার কোনো প্রমান পাওয়া যায় নাই। আবার অন্যদিকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়েও প্রকাশ্যে সাহস করে কোন বক্তব্য বা কোনো কিছু না বললেও তিনি অনেকের সমালোচনার উর্ধে থেকে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন বলেও অশুদ্ধ বলা যায় না, অনেকেই তাঁকে এপদের জন্য যোগ্য বলে মনে করেন না। নাম না বলার শর্তে কেহ কেহ বলেন, তিনি নাকি কোনো এক নিয়ন্ত্রক শক্তির হাতের ক্রীড়ানক হিসাবে কর্মদক্ষতা পালন করে যাচ্ছেন, সেই সাথে উর্ধতন কর্মকর্তা ও মেম্বারদের কারো কারো দূর্নীতির নিকট অতিত ইতিহাসকেও কোনো অবস্থায় বাদ দেওয়া যায় না যা বিভিন্ন সোসাল মিডিয়া, পত্র পত্রিকা ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ সকল গনমাধ্যমের বদৌলতে সাধারন জনগনের মুখেমুখে উঠে এসেছে। উদাহরন স্বরুপ, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বহিষ্কিৃত সিইও জহিরুদ্দিনের নিকট বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র লাইফ মেম্বার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের অনৈতিক ভাবে একক ও মাসিক নিয়মিত ঘুষ চাওয়ার ব্যাপারটি ফলাও ভাবে প্রকাশিত হয়, আসলে যতবড় পদ ততবড় দূর্নীতি। এর প্রতিফল কোন কিছু না হওয়ায় আবার কেহ কেহ মতামত দেন যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র এহেনো অপরাধ বীমা খাতের দূর্নীতিকে আরো উৎসাহিত করে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাও বীমা কোম্পানিগুলোকে বার বার সতর্ক করে দিয়েছে। বীমা কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ বীমা এসোসিয়েশন (বিআইএ) অবৈধ কমিশন ব্যবসা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এই অবৈধ কমিশন ব্যবসা বন্ধ হয়নি। কোম্পানিগুলো এ ধরনের অবৈধ কমিশন বন্ধ করার প্রয়োজন অনুভব করে নিজেদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক করে একাধিকবার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে, কিন্তু তা কাগজে কলমে সীমাবদ্ধতা ছাড়া আসল কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
বীমা ব্যবসায়িদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ) এবং বীমা কোম্পানিগুলোর মুখ্য নির্বাহীদের সংগঠন ইন্স্যুরেন্স ফোরামের আরও উদ্বেগী হওয়া উচিৎ। নন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবসায়ে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার জন্য ছোট বীমা কোম্পানিগুলো বড় বীমা কোম্পানিকে দায়ি করছে, আবার বড় কোম্পানিগুলো ছোট কোম্পানিগুলোকেই দায়ি করছে, এটা আসলে কোম্পানীগুলোর নিজেদের দায় এড়ানোর জন্য কাদা ছোড়াছোড়ি ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মনে করেন অনেকেই। তবে আবার বাহ্যিকভাবে কোম্পানিগুলো দাবি করছে, এ ভাবে অবৈধ কমিশন দেয়া বন্ধ করতে না পরলে এ ব্যবসায়ে টিকে থাকা যাবে না। সবাই অতিরিক্ত কমিশন দেয়া বন্ধ করতে চায়। কিন্তু কেউ বন্ধ করে না, তারা স্বীকার করছে এতে কোম্পানির আর্থিক ভিত দুর্বল হচ্ছে।

লাইফ কোম্পানিগুলোর চিত্র আরও খারাপ। বীমা দাবি পরিশোধ না করার প্রবনতা বেশির ভাগ কোম্পানির। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বীমা দাবি পরিশোধ করার বিধান থাকলেও মাসের পর মাস বছরের পর বছর গ্রাহকদের ঘুরতে হচ্ছে দাবি আদায়ের জন্য, কিন্তু অনেকে দাবি পাচ্ছেন না। নানা অজুহাতে তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অনেক কোম্পানির দাবি পরিশোধ করার সক্ষমতাও নেই। লাইফ ফান্ড নেই। এমনকি পরিশোধিত মূলধন তুলেও খেয়ে ফেলছে। কোম্পানী মালিকদের এধরনের লোভ এবং অযাচিত হস্তক্ষেপের কারনই আজকের এই বেহাল অবস্থা যা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির সিইওদের সাক্ষাৎকারে প্রমানিত হয়েছে। এ ধরনের কোম্পানিতে বীমা করে গ্রাহকরা প্রতারিত হচ্ছেন। এটা উল্লেখ না করলেই নয় যে সাধারণ জনগন কোম্পানি সম্পর্কে তেমন ভাল কিছু জানে না, সেক্ষেত্রে উন্নয়ন কর্মীরা তাদেরকে নানা ভাবে বুঝিয়ে সত্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি বীমা করাচ্ছে। কিছুদিন পর সেই উন্নয়ন কর্মী কোন দায়দায়িত্ব নিচ্ছে না। এ ব্যপারে যখন মিডিয়াতে বীমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ফলাও করে খবর আসে বা আসছে তখন জনমনে বীমা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা সৃষ্টি হচ্ছে। আসলে বীমা ব্যবসা প্রসারে বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজন। কিন্তু বীমা কোম্পানিগুলো প্রচারে না গিয়ে ১লা মার্চ ঘটা করে একদিনের জন্য বীমা দিবস ফালন করে যেনো এভারেষ্ট বিজয় করে থাকেন, আর সারা বছর এর প্রতি কোন খেয়াল থাকে না। অপরদিকে বীমা দিবস পালন করতে গিয়ে কোম্পানির কর্মীদের নিয়ে ফাইভ স্টার থ্রিস্টার হোটেলে বিলাসী সম্মেলন করে ম্যানেজমেন্ট ব্যয় বাড়াচ্ছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাও এ ক্ষেত্রে কিছুটা অসহায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার বর্তমান জনবল দিয়ে এতো অধিক সংখ্যক বীমা কোম্পানির কর্মকান্ড তদারকি করাও দুরহ ব্যাপার। দেশে বর্তমানে লাইফ ও নন-লাইফ নিয়ে ৮৪ টি বীমা কোম্পানি রয়েছে এবং আরো কিছু কোম্পানি অনুমোদনের অপেক্ষায় পাইপলাইনে আছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের তুলনায় বীমা কোম্পানির সংখ্যা অধিক হওয়ায় অসুস্থ প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় আরও নতুন বীমা কোম্পানি অনুমোদন দেয়া হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। ইতোমধ্যে কিছু কিছু কোম্পানির দেউলিয়া ঘোষণার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ সকল কোম্পানির কর্মকর্তা কর্মচারিরা ঠিক মতো বেতন ভাতা না পেয়ে মাঠ পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মীরা যা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেন, তা বেতন ভাতা হিসাবে নিজেদের মধ্যে বন্টন করে নেন, এতে দেখাযায় লাইফ ফান্ডে কোন অর্থ জমা পড়ে না। গ্রাহক নিজেও জানেন না তার পলিসির কি অবস্থা। যার কারনে মেয়াদ শেষে এসব গ্রাহকের টাকা ফেরত পাবার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কোন কোন কোম্পানির চেয়ারম্যান পরিচালক এমডির বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও উঠছে। একটি লাইফ কোম্পানির সাবেক দুই চেয়ারম্যান অর্থ আত্মসাৎ মামলায় জেলে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। শত চেষ্টা করেও কোম্পানির টাকা আদায় করা সম্ভব হয়নি। কোম্পানির লাখ লাখ গ্রাহক বীমা দাবির টাকা পাচ্ছেন না। কোম্পানিটির পরিচালনা বোর্ড ও ম্যানেজমেন্ট বদলে ফেলা হলো, কোম্পানিটির পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। নতুন কোন ব্যবসা আসছে না। কোম্পানির বীমা গ্রাহকরা তাদের কোন দাবিই পাচ্ছে না। এ কোম্পানিতে বীমা করে লাখ লাখ গ্রাহক প্রতারিত হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, সবকিছু শেষ হবার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যবস্থা নিয়েছে। সময় মতো আগে ভাগে কেন এমন ব্যবস্থা নেয়া হলো না। কোম্পানিটির এ ঘটনায় অন্য কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়েও ভাটা পড়েছে। এখন কেউ বীমা করতে চায় না। পলিসি বিক্রি করতে যেয়ে বীমা কর্মীদেরকে তোপের মুখে পড়তে হয়। বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে বলা চলে তালা ঝুলছে। অফিসে লোক নেই। এমডি নেই দীর্ঘদিন। এটি এখন সাইনবোর্ড সবর্স্ব একটি বীমা কোম্পানি হয়েছে। জানা যায় তৃণমূল পযার্য়ে এখনো এ কোম্পানির নামে কিছু পলিসি বিক্রি হচ্ছে। এই টাকা কোম্পানির হিসাবে জমা হয় না। এ ভাবে জনগন প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে। স্বদেশ লাইফের প্রধান কার্যালয় জনশূন্য। ব্যবসা বন্ধ। শুধু শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক জন কর্মকর্তা অফিসে আসেন। প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ কোম্পানির নিবন্ধন ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বিগত দিনের পরিচালনা বোর্ড ও ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুনীতির অভিযোগ উঠেছে।
হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানসহ ৬০ জনকে দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে তলব করা হয়। কিছু কিছু কোম্পানিতে পরিবার তন্ত্র গড়ে তোলা হয়েছে। বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য পরিবারের হওয়ায় সব কিছু নিজেদের মতো করে করা হয়। দুর্বল বীমা কোম্পানিগুলোকে মার্জ করার কথা অনেক দিন ধরে শুনা যাচ্ছিল। ব্যাংক সেক্টরে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বীমা সেক্টরেও এটি কার্যকর হওয়া উচিৎ।
সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সদ্য অপসারিত সিইও’র নিয়োগ প্রস্তাব বিগত দিনে অনুমোদন দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।এখানে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি সোনালী লাইফের এক অনুষ্ঠানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারি প্রকাশ্যে সোনালী লাইফ রেকাম্পানিটি ভালো করতেছে বলে ঘোষনা দেন, যার বিভিন্ন ভিডিও এবং স্থির চিত্র বিভিন্ন মিডিয়াতে ফলাও করে প্রচার হয়, এবং এতেকরে খাত সংশ্লিষ্ট অনেকেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারির পদের যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানের এহেন কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশ্যে কেহ কিছু না বললেও বুঝা যায় ‘ডাল মে কুছ কালা হে…’ একই ভাবে যমুনা লাইফ, ফারইস্ট লাইফ, হোমল্যান্ড লাইফ, স্বদেশ লাইফ এবং বায়রা লাইফের মতো বীমা কোম্পানিগুলোর গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও কঠোর অবস্থান নেয়া উচিৎ থাকলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ ব্যপারে নিরব। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোম্পানীগুলির বড় বড় অনিয়মের ক্ষেত্রে শুধু জরিমানা করেই নিজেদের খাতে আয় বাড়িয়ে দায় এড়িয়ে যান। আসলে জরিমানা কোন কঠোর শাস্তির বিধান নয়। এতেকরে কোম্পানিগুলি কোন রকমে জরিমানা পরিশোধ করে পরবর্তিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অগোচরে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। সব কোম্পানিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে এ খাতে একটি শৃঙ্খলা ফিরে আসত।
এখানে যেটা বলতে হয় ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথরিটির (আইডিআরএ) ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলির উন্নয়নের জন্য কি কোন ভুমিকা পালন করেছেন নাকি বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিশেন (বিআইএ) কর্তৃপক্ষ হিসাবে কাজ করেন তা প্রশ্নবিদ্ধ? আইডিআরএ‘এ কর্তৃপক্ষ/ হিসেবে কাজ করেন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলির এবং ব্যাংকগুলির কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করেন বাংলাদেশ ব্যাংক। এখানে একটা বিষয় পরিলক্ষিত হয় যে, দেশের ব্যাংকগুলির অ্যাসোসিশেন থাকা স্বত্তেও কেহই বাংলাদেশ ব্যাংকের উপর কোন কর্তৃত্ত খাটানোর সাহস করতে পারেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশক্রমেই দেশের সবকটি ব্যাংক খুব সুন্দর ভাবেই চলছে, কিন্তু ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলির অভিভাবক হিসেবে আইডিআরএ কাজ করতে কর্তৃপক্ষ হিসাবে যুক্তিযুক্ত কাজ করেন কিনা, না কি তারা কারো কাছে নতি স্বীকার করে বা মাথা নিচু হইয়ে কারো স্বার্থ উদ্ধারে কোন ব্যক্তিবিশেষ বা কারো তাবেদারির কাজ হিসেবে আইডিআরএ কাজ করে যান, এটাই দেখার বিষয়।
কোন অ্যাসোসিশেন অনৈতিক বা অসমর্থিত কোন তাবেদার গোষ্টির প্রভাবের নিকট মাথানত করে দেশের ইন্স্যুরেন্স খাতকে শক্তিশালী করার জন্য আইডিআরএ’র বর্তমান চেয়ারম্যান জয়নুল বারী একটা শক্ত নিয়ন্ত্রন সংস্থার প্রধান হিসাবে চেয়ারকে অলঙ্কিত করতে পেরেছেন বলে অনেকে মনে করেন না। যেখানে বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম, অদক্ষতা এবং সরকারি পদে থেকে অবৈধভাবে ব্যবসা করার দ্বায়ে সাবেক চেয়ারম্যান ডক্টর মোশারফ হোসেনকে পদত্যাগ করে বিদায় নিতে হল।
একজন সরকারি কর্মকর্তা সাধারনত নিদৃষ্ট বয়স এবং তার কোন কর্ম যোগ্যতা হারান বলেই নিয়মানুযায়ী তখনই তাকে অবসরে পাঠানো হয় বা সরকারি চাকরি থেকে তিনি অবসর গ্রহন অর্থাৎ সেই ক্ষেত্রে তিনি কাজের অযোগ্য হন, উল্লেখ্য যে তিনি যদি যোগ্য থাকতেন তাহলে সরকার তাকে স্বস্বক্ষেত্রে মেয়াদ না বাড়িয়ে দুই বছর অবসর থাকার পর আবার অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে ডেপুটি হিসাবে নিয়োগ দেন, এ অবসর কি ঐ ব্যক্তির পুনরায় কর্মযোগ্যতা ফিরে পাবার মাপকাঠি কি না দেখার বিষয়, যেহেতু এসব পদের যোগ্য অনেক লোকই দেশে আছেন।
একটি দেশের উন্নয়নে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সবসময় দেশের আর্থিক ভূমিকা পালন করে আসছে, সে দেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলি কারো দায় বা কারো তাবেদার হিসেবে কাজ করতে গিয়ে যদি কোন ঝামেলা শিকার হয় তার জন্য দ্বায়ী কে? যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন ইন্স্যুরেন্স বান্ধব লোক ছিলেন এবং তিনি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলির উন্নয়নে একজন সহযোগী হিসেবে নিজেকেও ইন্স্যুরেন্স জগতে সংযুক্ত করেছিলেন। বর্তমানে ইন্স্যুরেন্সের মালিক পক্ষের বেশকিছু লোক জাতির পিতার এবং শেখ পরিবারের নামপরিচয়ে নিজেদের ভিতরে কর্তৃত্ব খাটানোর জন্য দেশে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলির থেকে চাঁদাবাজি এবং নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থা করে যাচ্ছেন, যার কারনে জাতির পিতার স্বপ্নের বীমাখাত দেশের অর্থনীতিতে সুন্দর ভূমিকা রাখার পরিবর্তে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনেকেই মন্তব্য করেন, সাবেক চেয়ারম্যান ডক্টর মোশারফ হোসেনকে তাড়ানোর পরে আমরা শিয়ালের মুখ থেকে বিভিন্ন কোম্পানিগুলোকে বাঘের মুখে ঠেলে দিয়েছি। আসলে কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে দেখবেন দেশের বীমা কোম্পানির স্বার্থ এবং উন্নয়নের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বীমা বান্ধব লোক হিসেবে বীমা খাতকে সঠিক নিয়মে চালানোর জন্য কঠোর হাতে এই এসব দুর্নীতিবাজদেরকে দমন করবেন, যারা নিজেদেরকে প্রধানমন্ত্রী বা তাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে স্বার্থ আদায়ের জন্য দেশের প্রশাসনের ভিতর আরেকটা অদৃশ্য প্রশাসন তৈরি করে সুযোগ আদায় চিন্তা করতেছেন, এসব দুষ্ট চক্রকে দমন করে দেশের জিডিপির অংশীদার হিসেবে সফল ভূমিকা রাখবেন বলে প্রতি বছর ১লা মার্চ জাতীয় বীমা দিবসে সকলের প্রত্যাশা।
ধারাবাহিক চলবে….












