অর্থনীতির ৩০ দিন সংবাদ :
১৪শ’ কোটি টাকা (প্রায়) প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে তৃতীয় বচারের মত দেশের লাইফ বীমা খাতে ২য় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। তবে দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল লাইফের অবস্থান শীর্ষে। এ নিয়ে গত ৩ বছর ধরেই প্রিমিয়াম সংগ্রহে ২য় অবস্থান ধরে রেখেছে কোম্পানিটি। ব্যবসা সমাপনী হিসাব প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
২০১৯ সালে সর্বমোট ১ হাজার ৭৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ২য় শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসে ন্যাশনাল লাইফ। এর আগে ২০১৮ সালে ২য় শীর্ষ অবস্থানে ছিল ফারইস্ট ইসলামী লাইফ। সে বছর ফারইস্ট ইসলামী লাইফের মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ ছিল ১ হাজার ৫৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। বরাবরের মতো এবারও ২ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে মেটলাইফ।
তথ্য অনুসারে, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০২১ সালে সর্বমোট ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে। এর মধ্যে নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ ৪০৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ ৯৬৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর আগে ২০২০ সালে কোম্পানিটির মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ ছিল ১ হাজার ২০১ কোটি টাকা।
ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০২০ সালে নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ৩৪০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এবং নবায়ন সংগ্রহ ছিল ৮৬০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে কোম্পানিটি ৩১৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা নতুন প্রিমিয়াম এবং ৭৬০ কোটি ৯০ লাখ টাকা নবায়ন প্রিমিয়ামসহ সর্বমোট ১ হাজার ৭৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে।
বীমা কোম্পানিটি ২০২১ সালে সর্বমোট ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করতে ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে ৩৮৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তবে এই ব্যয়ের অনুমোদন ছিল ৪৯৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটি ১০৬ কোটি ৩ লাখ টাকা কম ব্যয় করেছে। এর আগে ২০২০ সালে কোম্পানিটি মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয় ছিল ৩৪৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
২০২১ সালে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ বেড়েছে ৪১৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আলোচ্য বছরে কোম্পানিটির মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর আগে ২০২০ সালে কোম্পানিটির বিনিয়োগ ছিল ৪ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা। আর ২০১৯ সালে কোম্পানিটির বিনিয়োগ ছিল ৩ হাজার ৮৫৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
লাইফ ইন্স্যুরেন্সের টালমাটাল অবস্থার মাঝেও সর্বশেষ হিসাব সমাপনী বছরে ৩৭৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মোট লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৮৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ২০২০ সালে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড ছিল ৪ হাজার ৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং ২০১৯ সালে এই লাইফ ফান্ড ছিল ৩ হাজার ৬৯৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
২০২১ সালে ন্যাশনাল লাইফ দুই লাখ গ্রাহকের ৮৭২ কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করে। যা আগের বছর ২০২০ সালে ছিল ৭৯৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে গেলো বছর কোম্পানিটি ৭৩ কোটি টাকা বেশি বীমা দাবি পরিশোধ করেছে। এর আগে ২০১৯ সালে কোম্পানিটি ৭৩৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার দাবি পরিশোধ করেছে।
বীমা কোম্পানিটির তথ্য অনুসারে, ২০২০ সালে ১৭ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ করে এবং ২০২১ সালে ২০ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৫৭ লাখ। এ ছাড়াও ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ ৫ হাজার ৯০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল লাইফ কর্তৃপক্ষ।
ন্যাশনাল লাইফ কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজিম উদ্দিন বলেন, ন্যাশনাল লাইফ শুরু থেকেই গ্রাহকদের বীমা দাবি সময়মত পরিশোধ করে আসছে। করোনাকালেও ন্যাশনাল লাইফ ২০২০ সালে ১ লাখ ৮৮ হাজার গ্রাহককে ৭৯৯ কোটি টাকা এবং ২০২১ সালে ২ লাখ গ্রাহককে ৮৭২ কোটি টাকা দাবি পরিশোধ করে গ্রাহকদের আস্তা অর্জন করতে পেরেছে।
তিনি আরো বলেন, সংকটকালে গ্রাহকদের পাশে দাঁড়ানোর ফলে ২০২০ সালে ন্যাশনাল লাইফ ১ হাজার ২০১ কোটি টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে। এরপর ২০২১ সালে প্রায় ৩ লাখ গ্রাহকের মাধ্যমে প্রায় ১৪শ’ কোটি টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে ন্যাশনাল লাইফ।
কাজিম উদ্দিন আরো বলেন, শুরু থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত ন্যাশনাল লাইফের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৫৭ লাখ। এই বিপুল পরিমাণ বীমা গ্রাহককে সময়মত বীমা সেবা প্রদান, সময়মত বীমা দাবি প্রদান এবং সর্বোচ্চ পলিসি বোনাস প্রদান করার কারণেই ন্যাশনাল লাইফ ব্যবসা অর্জনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হচ্ছে।












