(“দুষ্টি কলম” টা আমাকে ছাড় দেয় না, কেন যে আমার সারাদিন লিখতে ইচ্ছে হয়, সেটা আমি নিজেও বুঝিনা, যখন দেখি পেটে বোমা মারলেও একিট শব্ধ বেরিয়ে আসার কোন যোগ্যতা নাই আমার , তখন বুঝি, আসলে আমাকে দিয়ে কিছুই হবেনা শুধু অন্ন ধ্বংস করা ছাড়া …..) …………………….খোন্দকার জিল্লুর রহমান।

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :- ১৮/০৯/২০২১ইং (দুষ্টি কলম…)
স্বামীর বায়নাটা অনেকদিন থেকেই , একটা কিছু করনা কেন, ঘরে বসে বসে অন্ন ধ্বংষ করা ছাড়া আর কি করতে পার আর পারছ? পাশের বাড়ীর মল্লিকের স্ত্রী সুসমাকে দেখ,(এখানে সবগুলি ছদ্দনাম ব্যাবহার করা হয়েছে) দিব্বি কত ভালো একটা চাকরী করে সুন্দরভাবে সংসার চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। লেখাপড়া করেছ শুধু বলার মধ্যেই যেন বাহাদুরি ছাড়া আর কি আছে তোমার…? নির্বোধ মাতাল জ্ঞানহীন অবস্থায় দরজার কলিং বেলটা চেপে ধরে রাখাতে স্কুলের পিতলের ঘন্টাধ্বনির শব্দের মত কান ফাঠানো আওয়াজটা যেন মাথায় একটা বোমার আওয়াজ লাগার পরেও নিরবে ড্রইং রুমটা পার হয়ে দরজা খোলার সময়টাও যেন তর সয়না শাহেদের। দরজা খোলার পর বেমালুম কথাগুলি শুনতে শুনতে এবং মুখের ভিতর হতে বেরিয়ে আসা গন্ধে নিজেকে সামলিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ে। একেতো বিকট গন্ধ, তার উপর অকথ্যভাবে বগবগ করা কথাগুলি যেন মনিকার কানে ও শরীরে বুলেটের মত বিদীর্ণ করে অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে যেন রক্তক্ষরন হচ্ছিল। নিজেকে সংবরন করতে গিয়ে আঁচল দিয়ে নাক ও মুখটাকে চেপে ধরে ভিতরে ডুকে ড্রেসিং টেবিলের সোবক্স থেকে রুম স্প্রেটা বের করে রুমটাতে একটু স্প্রে করে নিল মনিকা, হালকা বৃষ্টিতে টিনের চালের মত অঝোরে পানি গড়িয়ে পড়ার মত করে মনিকার দু চোখে যেন নিবিড় শ্রোত বয়ে চলেছে। হাড় কাঁপানো শীত না হলেও যেন হালকা ঠান্ডায়ও মনিকার সমস্থ শরীর ভিজে একাকার হয়ে যায়। উত্তর দেওয়ার অনেক কিছু থাকলেও ধৈর্য্যশীলা মনিকা রাগের মাথায় আগুনে ঘি না ডেলে কোন কিছু না বলে নিজেকে সামলে নেয়, ধৈর্যের পরীক্ষায় মনিকা কখনো সেকেন্ড না হলেও কোন কিছুই সীমাছেড়ে যাওয়া উচিত নয়, এটা মনিকা হাড়ে হাড়ে উপলব্দি করে শুধু সময়ের প্রহর গুনে যাচ্ছে। হয়তো এর প্রতিফল একদিন আসবেই…।
বিয়ের সময় উচ্ছশিক্ষা ও সৌদর্য্যরে প্রাধাণ্য রেখে নিজের অক্ষমতাকে লুকিয়ে রেখে বাবা-মায়ের সম্পদের প্রাচুর্যতায় নিজেকে রম রমা দেখিয়ে মনিকাকে ঘরে তোলে শাহেদ। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই শাহেদের আসল রূপ ভেসে উঠে। ছোট বয়সে ভালো স্কুলে লেখাপড়া করে এসএসসি ওএইসএসিতে রেজাল্ট ভাল করলেও পরবর্তিতে কোন রকম চেপে চুপে বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্ব শেষ করে। বেশ কবছর বেকার থেকে নিজেকে অনেকটা বিপথগামি করে তোলে। বাবা-মায়ের আদর্শস্তুতি ঘটিয়ে নিজেকে ভালো অবস্থানে রাখতে পারে নাই। বেহায়াপনা বখাটেপনা সকল কিছুতেই অংশীদারিত্তও বাদ দেয়নাই। ছেলের বেপরোয়া অবস্থায় বাবা মায়ের অনুরোধে এক নিকটাত্মিয়ের মাধ্যমে নিজের শহর ছাড়ায়ে অন্য শহরে একটা চাকুরির ব্যাবস্থা করা হয়। নতুন জায়গায় চাকুরিতে এসে নিজেকে অনেকটা গুছিয়ে নিলেও মাঝে মাঝে নিজেকে সামাল দেওয়া কঠিন হতো। নিজস্ব আয়ে আড়াই রুমের ছোট্ট একটি বাসায় প্রায় আট/নয় বছরের বাচ্চা মুনিয়াকে নিয়ে মোটামোটি ভালো চলতে পারলেও স্বভাবগত অবস্থাটা মাঝে মাঝে একটু নাড়াচাড়া দিতে গেলে একজন আদর্শগত সাংসারিক নারীর কারনে এপর্যন্ত বেশ ভালই কাটছিল। বাচ্চাকেও একটা ভাল ইংলিশ স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়ে স্বামীর উপর নির্ভর না করে ওর লেখাপড়া, পরিচর্চা এবং স্কুলে নিজেই আনা নেওয়া করে। কোন চাকুরি না করলেও সংসারের সকল কিছু সামলাতে সামলাতে মাঝে মাঝে হাঁপিয়ে উঠলেও নিজের সাজানো সংসার মনে করে নিজেকে খুবই স্থিতিশীল ভাবে মানিয়ে নেয়ার অসীম ক্ষমতার অধীকারি ধৈর্য্যশীলা নারী হিসাবে মনিকাকে বাদ দেওয়া যায় না।মনিকার বাবা একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আর মাও একটা সরকারী কলেজের লেকচারার, আদর্শগতভাবে তাদের একমাত্র কন্যা মনিকাও স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় গন্ডি খুব ভালভাবেই পেরিয়ে এসে নিজেকে একজন পরাক্রমশালী প্রস্ফুটিত নারী হিসাবে গড়ে তোলেন।
ভবিষ্যত চিন্তা ভাবনা করে মনিকা তার এক সহপাঠি বান্ধবীসহ কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ফাকে
ফাকে বিভিন্ন রকম হাতের কাজ, সৌখিন জিনিসপত্র তৈরি এবং নানা রকম সাংঘঠনিক কাজে নিজেকে পারদর্ষী করে রাখে। নিজেকে একটা কিছুতে প্রতিষ্ঠিত করার চিন্তা ভাবনা করতে করতে মেয়ের বয়স, পারিপার্শ্বিকতা এবং সামাজিকতার কারনে মেয়ের বিয়ের জন্য রাজী হয়ে যান এবং বিয়ের কাজটাও মোটামোটি তাড়াতাড়িই সম্পন্ন করে নেন। দেখতে দেখতে প্রায় বছর দেড়েকের ভিতরেই তাদের ঘর আলো করে আসে ফুটফুটে সুন্দর এক কন্যা সন্তান। এতে উভয় পরিবারই আনন্দিত, সময়টাও বেশ স্বচ্ছল নাহলেও মোটামোটি একরকম সামাজিক তাল মিলিয়ে কেটে চলে যাচ্ছে।
মনিকার স্বামী শাহেদ এখনও ঘরে ফেরার কোন খবরই নাই। অথচ আজ অফিস যাবার আগে মনিকা বহু অনুনয় বিনয় করে শাহেদকে বলে দিয়েছিল আজকে যেন একটু তাড়াতাড়ি করে বাসায় ফিরে, সাথে মুনিয়াও বাবার গলায় ধরে বাবার দুগালে দুটা পাপ্পি দিয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার কথা বলে দেয়। স্ত্রী-কন্যার দিকে ইদানিং শাহেদের যেন কেমন কেমন একটা উড়ো উড়ো ভাব লক্ষ করা যায়। মনিকার জন্মদিনের কথা শাহেদের মনে না থাকলেও মুনিয়া আবদার করে বাবাকে বলেছিল, বাবা আজ আমার জন্মদিন, তুমি রাতে ফিরলে একসাথে আমরা তিনজন বসে মায়ের হাতে রাঁধা স্পেশাল চিকেন ফ্রাই, ফ্রাইড রাইস আর চিংড়ি মাছের স্যুপ খাব। গত বেশ কিছুদিন থেকে শাহেদকে কেমন যেন উদাসিন উদাসিন মনে হয়, নিজের কথা নাহয় বাদই দিলাম, তার পরও বোধহয় সংসারের প্রতি, নিজের একমাত্র আদরের কণ্যার কথাও যেন কানে ঢোকেনি ওর। প্রায়ই ঘরে এসে কোথাকার কোন মহিলার প্রসংসা করে বিড়বিড় করে বকাবকি করে, যেন কো কিছুই তার মনমত হয় না।
নিজের বছর আটেকের মেয়ে মুনিয়ার বায়না সামলে কোনমতে ওকে রাতের খাবার খাইয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে এসে টেবিল থেকে রিমোট হাতে নিয়ে সোফায় বসে টিভিটা অন করে মনিকা। ঘড়িতে এখন রাত প্রায় সোয়া এগারটা বাজতে চললো। নভেম্বর শেষ হয়ে ডিসেম্বর মাসের একেবারে প্রথম দিক। পুরুপুরি শীতের তিব্র অবস্থা না হলেও শহর জুড়ে একটা হালকা হিমেল পরশ লাগছে,সন্ধ্যার পর থেকেই কেমন একটা গায়ে শিরশিরে অনুভুতি হয়।
অফিসের ব্যস্ততার নাম করে আজকাল প্রায়ই দেরি করে ফেরে শাহেদ, মুখ থেকে ভেসে আসে মদের গন্ধ। মনিকা তেমন কিছু জিজ্ঞাসা করলেই ভালোভাবে উত্তর না দিয়ে অদ্ভুত ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকিয়ে ঝাঁঝালোভাবে জবাব দেয়, সবকিছু তোমাকে বলতে হবে নাকি? রোজ রোজ এসব বেদরকারী কথা জিজ্ঞাসা করো না, ডিসগাস্টিং লাগে, যত্ত সব। অফিস শেষের পর বিদেশী ক্লায়েন্টদের নিয়ে একটা পার্টি ছিল তাই অফিস ফরমাল রক্ষা করতে গিয়ে একটু মানে দু-এক পেগ খেতেই হলো।
কর্পোরেট জগতের হালচাল তোমার মাথায় ঢুকবেনা। তুমি খেয়েদেয়ে পাশের ঘরে মুনিয়ার কাছে গিয়ে শুয়ে পড়। আমাকে এখন আবার অফিসের বেশকিছু কাজ নিয়ে বসতে হবে, এমনিতেই অফিসে সারাদিন খাটাখাটনি করে এলাম, এরপর এখন আমাকে আর বিরক্ত করোনা। আমাকে আমার মত থাকতে দাও। যেন দায়সারা ভাব দেখিয়ে এককভাবে কথাগুলো বলা শেষ করে পাশের ঘরে চলে যায় শাহেদ। মনিকা ভালভাবেই বুঝতে পেরেছে আজকাল এসব হলো দায় এড়িয়ে যাবার যতসব কৌশল। প্রায় শেষরাত পর্যন্ত পাশের ঘর থেকে হালকা হালকা স্বরে কথা বলার আওয়াজ, খুনসুটি, হাসাহাসি এবং নানারকম আশা ভরসার উৎফুল্য ভাষা মনিকার কান এড়ায়না।
নিজের বিয়ের প্রথম দিনগুলির কথা এবং বর্তমান সময়ের অবস্থা এবং ভবিষ্যতের কথা মনে করে চিন্তায় যেন মনিকার রাতের ঘুম হারাম হওয়ার পথে, এত সুন্দর মুখায়ভয়বের ভিতর ইদানিং চোখের নিচেও কালোদাগ দেখা দিয়েছে। প্রেম করে বিয়ে না হলেও শাহেদের হ্যান্ডসাম চেহারাটাকে পছন্দ করেই মনিকা শাহেদের সাথে বিয়ের ব্যাপারে কোনরকম আপত্তি না করেই একেবারেই মতামত দিয়ে দেয়, অপর দিকে শাহেদও মনিকাকে এক দেখাতেই পছন্দ করে মা’র কানেকানে বলে দেয় সে মনিকাকেই বিয়ে করবে, ছেলের সম্মতি এবং আগ্রহ দেখে শাহেদের মা-বাবাও ছেলের জন্য এমন একটা শিক্ষীতা ও সুন্দরি মেয়ে পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে নাই, উভয় পরিবারের সম্মতিতেই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে।
অথচ ওদের বিয়ের প্রথমদিকে একে অপরকে অমৃত্ত স্বাধের আলিঙ্গনে জড়িয়ে রাখত, একজন অন্যজনের চোখের আড়াল হওয়ার কথা কল্পনাও করতে পারতনা। প্রায়ই শাহেদ-মনিকা দুজন মিলে সপ্তাহজুড়ে কাছেপিঠে এদিক সেদিক ঘুরতে যাওয়া, বাসার রান্না বাদ দিয়ে শহরের ভাল ভাল রেস্তোরায় খেতে যাওয়াসহ একজন অন্যজনকে সারপ্রাইজ দেওয়া ইত্যাদি রকম খুনসুটি চলতো। বাড়ীতেও প্রায় প্রতিদিনই শাহেদ বাড়ীর লোকেদের হালকা চোখের অগোচরে মনিকার অনন্ত যৌবনা রুপের সুঢৌল শরীরটাতে হাতের আঙ্গুলের নরম পরশ বুলিয়ে দিয়ে যেন নৈসর্গীক আলপনা এঁকে দিত। মনিকাও লজ্জান¤্রভাবে শাহেদের উষœ আদরের আকৃষ্টতাকে পুলকে গ্রহন করে নিজেকে পরম আয়েশে শাহেদের বুকে মাথা রেখে নিজেকে জড়িয়ে নিত, কোন অস্বাভাবিকতা ছাড়াই সুস্থ ও স্বাভাবিক পথেই চলছিল ওদের দাম্পত্য জীবন, যেন একজন আরেকজনের চোখের মনি।
প্রকৃতপক্ষে মুল সমস্যার উৎঘাটনের সুত্রপাতটা একদিনেই শুরু নয়, এটা অনেকের পক্ষে বুঝে উঠা মুসকিল হয়, মনিকা কিভাবে এসব ব্যাক্তিগত ব্যাপারটা শাহেদকে বুঝাবে, ছোট একটা শহরে এক কথায় বলতে গেলে একটা মফস্বল শহরের জীবন যাপন যতটা সহজ ও ব্যায়েরও স্বল্পতায় নিজেদেরকে মোটামোটি চাকচিক্য রাখাটাও খুব সহজ। এভাবে কয়েক বছর কেটে যাওয়ার পর শাহেদের বেতন কিছুটা বাড়ে এবং তার চাকুরির একধাপ প্রমশন হয়। প্রমশন হওয়ার সাথে সাথে রাজধানী শহরে বদলি হয়ে আসে, রাজধানী শহরের চাকচিক্য অফিস কলিগদের জৌলুস বিশেষ করে নিজের সাথের নারী কলিগদের সাথে শাহেদের পুরুনো অভ্যাসটাকে একটু একটু করে নাড়া দিয়ে বসে। আর এদিকে সাংসারিক কাজকর্ম, রান্নাবান্না. মেহমানদারি, বাচ্চার লেখাপড়া, সময়মত স্কুলে যাওয়া আসা সবমিলিয়ে রেষ্টবিহীন নিজেকে এডজাষ্ট করে আসতে আসতে মনিকার ত্রাহি অবস্থা হয়ে দাড়ায়, চেহারার জৌলুস সহ শরিরের অবস্থাও অনেকটা খারাপ হয়ে যায়। অফিসের নারী কলিগদের মোহে পড়ে পড়ে বাহিরে বেশিরভাগ সময় কাটিয়ে বাসায় দেরি করে আসা স্ত্রীর প্রতি দুর্ব্যবহার নিত্য নৈমিত্যিক হয়ে দাড়িয়েছে। তোমাকে নিয়ে কোনো পার্টিতে সেভাবে যাওয়া যায় না। ওই ডিলেঢোলা সালওয়ার কামিজ বা কুর্তিতে তোমাকে পুরো বাইজী মার্কা লাগে। ইটস সো ইরিটেটিং। অথচ মিরা, সারিকা, শর্মিলাদেরকে দেখো এতো কাজের চাপের পরও কেমন করে নিজেদেরকে কত স্মার্ট ও ফিগারটাকে কত সুন্দর করে ধরে রেখেছে। শিফন শাড়ি থেকে জিন্স সবেতেই কেমন রঙিন ও টিপটপ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ওরা, আর তুমি দিন কে দিন মুটিয়ে যাচ্ছ। কখনো কোনোদিন আয়নায় নিজেকে দেখেছ একবারও ? চোখের নীচে কালো ছোপ,পেটে চর্বি, মানসিক অবসাদ, হাত পায়ের অবস্থা… যেন কোনটা ছেড়ে কোনটা বলব… ।
বাড়ির পরিবেশ যে সবসময় একরকম হয়না সেটা কী করে শাহেদকে বোঝাবে মনিকা। রাজধানিতে দুই কামরার একটা ফ্ল্যাটে ওদের দিনযাপন। একান্ত নিজের লোক বলতে যারা তারা সবাই রাজধানির বাইরে থাকে। বাজার করা থেকে শুরুকরে ইলেকট্রিক বিল জমা দেওয়া, মেয়েটা একটু বড় হবার পর থেকে ওর স্কুল,হোমওয়র্ক, গার্ডিয়ান মিটিং, ড্রয়িং ক্লাসে নিয়ে যাওয়া সবই মনিকা একহাতেই সামলাতে হয় বলে নিজের দিকে ভালভাবে তাকাবার সময় হয়ে উঠেনা ? এসব কি শাহেদের মত পুরুষ মানুষেরা বোঝে! যার কারনে তার অতিত বেপরোয়া আর নষ্টা মনমানষিকতার বৈশিষ্টটা ফুটে উঠতনা।
মেয়েরা বর্তমানে অধিকার সচেতন সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ‘বনিবনা না হওয়া, স্বামীর সন্দেহ মনোভাব, পরনারীর সাথে সম্পর্ক, যৌতুক, স্ত্রীর আয়ের উপর নির্ভর করা, মাদকাসক্তি, ব্যক্তিত্বের সংঙ্গাত, নৈতিক স্মৃঙ্খলন সহ বিভিন্ন কারণ স্বামীদের। আমরা নারী উন্নয়নের কথা বললেও এখনো বেশির ভাগ নারী গৃহকাজে থাকেন এবং অধিক হারে নির্যাতিতও হচ্ছেন। একজন পুরুষ কম সময় ঘরে থাকেন বলে তিনি সংসারের অনেক ঝামেলাকে আড়াল করতে পারেন আর নারী সব অবহেলা নির্যাতন সয়ে সংসারেই কাজকর্ম করে সময় কাটিয়েও নিজের প্রতি বিশ্বাস হারাতে বসেন, ভাবেন নিজেকে দুর্বল, মনিকা বিশেষ করে এটা না ভাবলেও নিজেকে কখনো দুর্বল বা অসহায় ভাবেন না। নারীরা সহজে যেকোন সিদ্ধান্ত নেন না, ক্ষেত্র বিশেষ মেয়েদের মতামত ছাড়া বিয়ে দেয়া, সন্তান জন্মদান ইত্যাদি। আট নয় বছরের হলেও অনেক প্রত্যুৎপন্নমতি মুনিয়া চায়, মা-বাবার সাথে একসাথে একটি স্বাভাবিক ও সুখী পরিবার হয়ে থাকতে। কিন্তুু মা মনিকার প্রতি বাবার অবহেলা, প্রতিনিয়ত অসধাচরন, শারিরীক নির্যাতনসহ মায়ের অসম্মান অনেকটাই বুঝতে পারে। মনিকা বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনাকে কিছু মনে না করলেও সন্তানের ওপর এর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে কোন কঠিন সিদ্ধান্তে না গিয়ে নিজে নিজে সুদুর প্রসারি পরিকল্পনায় নিজেকে তৈরি করতে থাকে।
সেদিনের ঘটনাই মনিকা নিজেকে পুর্ণ আত্ম বিশ্বাসি হওয়ার পরিকল্পনা খুঝে পায়।—– আবার পারিবারিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি চিন্তা করলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়ার অধিকার মা-বাবা কারোই নেই তাই সন্তান জন্ম দেওয়ার আগেই আমাদের প্রতিটা দম্পতির ভাবতে হবে বিয়ের পর অন্তত দুই-চার বছর অপেক্ষা করে সন্তান নেয়া, নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস-বন্ধন অটুট হলে বা দুজন দুজনকে বুঝে উঠতে পারলেই তারপর সংসারে সন্তানের কথা চিন্তা করা উচিত, একটা কথায় আছে আদর এবং ¯েœহের পরশেই মাতৃত্ব জেগে উঠে। তাই একটি সন্তানকে পৃথিবীর আলোর মুখ দেখাতে যেমন বাবা-মা দুজনের প্রয়োজন, তেমনি ওই সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে এই দুজনকেই সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রাখতে হবে।
পরিবেশ পরিস্থিতি মনিকা ভালই সামলাতে পারলেও বিয়ের প্রথম অবস্থায় শাহেদের এবং নতুন পরিবারের সবকিছু বুঝে উঠার আগেই প্রায় বছর দেড়েকের মাথায় মুনিয়া চলে আসে। এর পর থেকেই দুজনের একটু গ্যাপে শাহেদ বদলাতে শুরুকরে যা রাজধানিতে আসার পর অফিসের ওভার স্মার্ট মহিলা কলিগদের সান্নিধ্যে নিজে নিজেই বেসামাল হয়ে যায়। প্রায় প্রতিদিনই দেরি করে বাসায় ফেরে, কিছু বললেই মারামারি ও অশান্তির চরম পর্যায়ে চলে যায়। এভাবে মুখ বুঝো মনিকা আর কত দিন সহ্য করবে। মেয়ে বাচ্চা, ছোট হলেও আজকালকার বাচ্চারা অনেক কিছুই বুঝে, এঅবস্থায় মেয়েটার এবং নিজের অনিশ্চিত সামনের দিনগুৃলির কথা বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে।
সেদিনের ঘটনাটাই মনিকার জীবনের একটা স্মরনীয় ঘটনা হয়ে আছে। মনিকা কোন অবস্থাতেই সেটা ভুলতে পারেনা। মুনিয়ার জন্মদিন সকালে বাবার গলায় ধরে দুগালে দুটু পাপ্পি দিয়ে বলেছিল যেন সন্ধার ভিতরেই বাসায় চলেআসে, মনিকাও শাহেদকে মুনিয়ার জন্মদিনের কথাটা স্বরন করিয়ে দেয়। একটু উড়োউড়োভাবে যেন দায়সারাভাবে ‘আচ্ছা দেখা যাক’ বলে তড়িগড়ি অফিসপথে বেরিয়ে যায়। এদিকে মনিকা মেয়ের বায়না অনুযায়ী সারাদিনে সবকিছু এরেজমেন্ট করে নিজহাতে স্পেশাল চিকেন ফ্রাই, ফ্রাইড রাইস আর চিংড়ি মাছের স্যুপ রান্না করে ঘরের সবকিছু সাজিয়ে শাহেদের অপেক্ষার প্রহর গুনছে। তিনচার বার বাবাকে ফোন করলেও অফিস থেকে বাবার কোনো উত্তর পায়নি। কিন্তু আজও বাবাকে না পেয়ে খাবার টেবিলে অনেক কান্নাকাটি করলো ও অল্প একটু খেয়েই মন খারাপ করে কোনমতে নিজেরমত করে বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ল। ছোট্ট ছোট্ট ভাবনাগুলি মাথায় ঘুরপাক খেতেখেতে রিমোট হাতে নিয়ে টিভিটা মিউট করে এভাবে কতক্ষণ সোফায় বসে ছিল নিজেও খেয়াল করেনি মনিকা। হুঁশ ফেরে কলিংবেলের শব্দে। দরজা খুলে দিতেই মনিকার নাকে ঝাপটা মারে মদের গন্ধ। আর নিজেকে সামলাতে না পেরে আঁচল দিয়ে নাকটা চেপেধরে একটু রাগতস্বরে বলে ‘আজও তুমি মদ খেয়ে বাড়ী ফিরলে? আমার কথা নাইবা ভাবলে তোমার মেয়েটার কথাটা তো ভাববে। কান্নাকাটি করতে করতে ঘুমিয়ে গেল আমাদের মেয়েটা। তোমার মত দায়িত্বজ্ঞানহীন একজন বাবা সত্যি আর ভাবা যাচ্ছেনা। আবার কি নতুন কাউকে জুটিয়েছ… 
বাকি আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তোপের মুখে শাহেদ মনিকার চুলের মুঠি ধরে দেয়ালের দিকে
একটা ধাক্কা মারে। আর চেঁছিয়ে বলতে থাকে একদম চুপ, আমাকে জ্ঞান দেবে না। যাদের নাম বললে ওদের নখের যোগ্য তুমি নও। ওরা আয় রোজগার করে, যা কিছু করে নিজের টাকায় করে। আর তুমি যে দিনের পর দিন আমার ঘাড়ে বসে বসে অন্ন ধ্বংস করছ। অত বুলি না ঝেড়ে একটু আয় করে স্বনির্ভর হয়ে দেখাও তখন বুঝব দম আছে। আর আমি আগামীকাল ভোরে এক সপ্তাহের একটা অফিস টুরে রাজধানীর বাইরে যেতে হবে, ভাল চাওতো সব রেডি করে রাখবে। কোনরকমে শাহেদের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় মনিকা। হোঁচট খেয়ে সেন্টার টেবিলের কোনায় পড়ে কপালের বাম পাসটা অনেকদুর কেটে যায়, একরাশ নিস্তব্ধতা আর গরম জলের বাষ্পরা মনিকার আঁখিপল্লব বেয়ে নরম গাল বরাবর গড়িয়ে টুপটুপ পড়তে থাকে। আর কেটে যাওয়া জায়গাটায় হাতে চেপে ধরলেও কপাল বেয়ে পিনকি দিয়ে পড়া রক্তটা যেন মনিকার জীবনটাকেই রাঙ্গিয়ে দিল। রাতের খাওয়াটাতো এমনিতেই হয়নাই তার উপর সমস্থ আয়োজনটা যেন মনিকার কপালের রক্তে জ্বলসে রইল। নির্ঘুম রাতে বারবার মনিকার মাথায় একটাই শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে থাকে; আয় করে দেখাও নইলে গতি নেই। সব বুঝি এখানেই শেষ হয়ে গেল, সংসারটা কি এখানেই তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে গেল ?
নির্ঘুম রাত কেটে ভোরের আজানে নামাজ ও কোরান তিলাওয়াত সেরে শাহেদের ট্রেভেল ব্যাগটা রেডি করে ড্রইংরুমের দরজার পাশে রেখে দিয়ে ক্লান্ত শরিরে কখনযে সোফায় বসে ঘুমিয়ে পড়ে নিজেও জানে না। রাতের ব্যাপারটায় শাহেদ নিজেনিজে একটু অনুতপ্ত হয়ে ভোরের অন্ধকার কেটে যাওয়ার সাথেসাথে রেডি হয়ে সোফায় ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে থাকা মনিকাকে না ডেকে এবং কোনরকন ঝামেলা না করে নিশ্বব্ধে দরজার অটোলকটাকে ভিতরে থেকে টিপ দিয়ে মনিকার রেডিকরে দেওয়া ট্রেভেল ব্যাগটা নিয়ে খুব সাবধানে বাহির থেকে দরজাটা টেনে আটকিয়ে দিয়ে নিজের সাতদিনের অফিস গন্তব্যে চলে যায়।
দেয়াল ঘড়িতে আটটা বাজার ঢং ঢং এ্যলার্ম বাজার শব্ধে মনিকার ক্লন্তির ঘুমভেঙ্গে কোনমতে নিজের শরীরটাকে টেনে তুলে মুনিয়াকেও ডেকে তুলতে গেলে কোন কিছু বলার আগেই মুনিয়া অনেকটা আদরে মায়ের গলা জডিয়েধরে মাকে বলে, গতকাল রাতে বাবার দেরিতে বাড়ী ফেরা ও তোমাকে বাবার বাজে ব্যাবহার ও তোমার গায়ে হাত তোলাসহ আমি তোমাদের সব কথা শুনেছি। আচ্ছা মা স্বাবলম্বী মানে তো
নিজের আয়ে নিজে চলা তাই না মা?। স্কুলে ম্যামরাতো তাই করে, ম্যামরাতো আরো বলেছে, ওম্যান ইন্টার্প্রেনার তারাই হয় যারা কারো উপর ভরসা না করে স্বামীর টাকার উপর নির্ভর না করে নিজের হাতে রোজগার করে নিজের জীবন নিজেই চালায়। তুমি এমন কিছু করতে পারোনা যাতে তোমার আর আমার মোটামুটি চলে যায়। তুমিতো বলেছ তুমি অনেক বড় শিক্ষীত এবং বিভিন্নরকম কারুশৈলী কাজ যান। চল আমরা একটা ভিন্ন জায়গায় গিয়ে তোমার ঐযে এনজিও করা বান্ধুবীর সাথে যোগাযোগ করে তোমার হাতে বানানো জিনিসপত্র তার নিকট বিক্রি করে মোটামোটি আমাদের দুজনের চলে যাবে। আর আমার লেখাপড়ার ফাকে ফাকে আমিও তোমাকে সাহায্য করবো।
রাজধানীতে আসার এক দুই দিন পর সাংসারিক কিছু কেনাকেটা করতে গিয়ে হঠাৎ করেই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে একসাথে পডুয়া ক্লোজ বান্ধবী সামিরা সাকিবের সাথে দেখা হয়ে যায়,দুজনে অনেক গল্প করে ও সময় কাটায়, নিজেদের কুশল বিনিময় করে । সামিরা একটা এনজিও চালায় বেশ কবছর ধরে। এরি মাঝে নিজেও সাত/আটবার বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে নানারকম কারুপণ্য ও নান্দনিক আসবাব সামগ্রী বিদেশে পাঠিয়ে কলেজ লেকচারার স্বামী সাকিবকে নিয়ে বেশ ভাল অবস্থাতেই আছে, কোন রকম ঝামেলা অভাব অভিযোগ কিছুই নাই, বরং নিজস্ব এলকার সাধারন গরিব দুঃখিদেরকেও ভাল সাহায্য সহায়তা করে থাকে। নিজের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে খুব করে বলে একদিন অফিসে ও বাসায় যাবার জন্য। অনেক দিন কোন যোগাযোগ করতে না পারলেও তুখোর প্রত্যুতপন্নমতি মেয়ের উপদেশমুলক কথায় মুহূর্তের মধ্যে মনিকা চোখের সামনে একটা নতুন রাস্তা খুঁজে পায়।
আজ সেই কার্ডটা ব্যাগ থেকে বের করে মনিকা। টাচস্ক্রিনে নম্বর ডায়াল করে। অপর প্রান্ত থেকে ভেসে
আসে, আরে মনিকা, তুই ফোন করতে পারলি, এ তো আমার সৌভাগ্য। আমি কিন্তু তোর নম্বর সেভ করেই রেখেছি সেদিন থেকে। হ্যালো সামিরা, একটা খুব দরকারী কথা আছে। তুই কি আজ ফ্রি আছিস? তাহলে আমি আজ একবার যাব তোর ওখানে… মনিকার অবহেলিত কন্ঠ সামিরা সহজেই বুঝে নেয়, যেন কোথাও একটা গড়বড় হয়েগেছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সময় সামিরা খুব জিনিয়াস ছাত্রি হিসাবে মনিকার সহযোগিতায় দুজনেই ভাল রেজাল্ট করেছে, সে কথাটা সামিরা ভুলে যায় নাই। সামিরা বলে, মুনিয়া কোথায়, আমি আজ দুপুরেই আসছি তোর বাসায়, তুই মুনিয়াকে নিয়ে ততক্ষন বাসায় থাকবি…। মনিকাও শৈশবের বান্ধবীকে আশ্বস্ত করে। ঠিক পড়ন্ত দুপুরে মনিকার বাসায় এসে পৌচায় সামিরা, গাড়ির হর্ণে সামিরার ইপস্থিতি বুঝে যায় মনিকা,হাতে বানানো প্রায় শেষকরা ভেনেটি ব্যাগটা সেন্টার টেবিলের উপর রেখে সামিরাকে গেট থেকে এগিয়ে নিয়ে আসে। বাসায় ডুকেই ছোটখাট বাসার চাকচিক্য সামিয়ার চোখ আটকে যায়, সেন্টার টেবিলের উপর মনিকার হাতে বানানো ব্যানেটি ব্যাগটা সামিরার দৃষ্টি কেড়ে নেয় এবং ব্যাগটা আর হাতছাড়া করেনাই সামিরা। পুরনো কাজগুলি আজও ভুলিস নাই, তোর হাতটা যেন আরো পাকা হয়েছে। মুনিরার সবকথা শুনে ভাষাহীন হয়ে চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে সামিরা বলে, এসব অমানুষের জীবনে না থেকে এবার চল আমার সাথে, মুনিয়াকে নিয়ে স্বনির্বর হয়ে চলতে তোর আর কোন চিন্তা করতে হবেনা , অমি তোর সফলতা ও স্বনির্ভরতার সকল ব্যাবস্থা করে দেব। ড্রেসিং টেবিলের পাশ দিয়ে যেতেই কপালের কাটা অংশটা নজরে আসে, আত্মসম্মানবোধ চিন্তা করেই সাজানো সংসারকে ঝেড়েফেলে মুনিয়াকে নিয়ে রাজপথে বেরিয়ে আসে। এখান থেকেই মনিকার জীবনের রূপকথা শুরু হয় তার যাদুকরি হাতের কাজের মধ্য দিয়ে। কয়েকদিনের মধ্যেই মনিকার হাতের কারুপণ্য সামিরার মাধ্যমে বিদেশের বিভিন্ন সেলিব্রেটিদের আকর্ষনীয় চাহিদায় স্থান করে নেয়। মুনিয়াকে নিয়ে মনিকার আর পেছন ফিরে তাকাতে হয় নাই…..
এক সপ্তাহ পর অফিস ট্যুর শেষে শাহেদ বাসায় ফিরে নিজের কাছে থাকা চাবিটা দিয়ে ইন্ডোর লকটা খুলে বাসায় কাউকে না দেখে সন্দেহ হয় কোথায় গেল মনিকা আর মুনিয়া? টেবিলে সাদা খামে রাখা একখানা চিরকুট। তাতে মনিকার হাতে মুক্তোর মত অক্ষরে লেখা ‘শাহেদ, আমার জন্য তোমাকে আর পরিশ্রম করতে হবেনা, মুনিয়াকে নিয়ে নিজের আয়ে নিজেই স্বনির্ভর হবার একটা পথ খুঁজে পেয়েছি। তুমি এখন মুক্ত বিহঙ্গে ঘুরে বেড়াও, তোমার সাথে ওই পরিবেশে আর মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। ঠিক সময়ে বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজটা পেয়ে যাবে। আর আমার স্বনির্ভরতার প্রথম রোজগারটা তোমাকেই মানি অর্ডার করে দেব। ওটা এতদিন ধরে তোমার অন্ন ধ্বংস করার মূল্যের চেয়েও বেশি হবে আশাকরি।
নির্বিকার শাহেদ, মনিকার স্বনির্ভরতায় অতিরিক্ত প্রত্যাশার ঊর্ধ্বমুখী পিপাশায় শাহেদের একুল-ওকুল দুটুই ধুলোয় মিশিয়ে গেল। এত বড় পৃথিবীতে শাহেদ আজ একা, সম্পূর্ণ একা। নেপেথ্য সুরে শাহেদের কানে যেন সুর বাজতেছিল,
“আজ দুজনার দুটি পথ শুধু দুটি দিকে গেছে বেঁকে….আমার এ পথ আঁধা রে গেছে যে ঢেকে………।”
লেখক :- সম্পাদক প্রকাশক, অর্থনীতির ৩০ দিন ।
www.arthoniter30dinbd.com












