
মোঃ বশির আহমেদ(মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) জনতা ইনসিওরেন্স কোম্পানী লিঃ
খোন্দকার জিল্লুর রহমান:-
শেয়ার বাজার তালিকাক্তুক্ত বীমা খাতের কোম্পানী “জনতা ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ” এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বশির আহমেদের নিয়োগে আইডিআরএ (বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ)এর প্রোবিধিমালা ২০১২ এর ৩ (খ) মানা হয় নাই বলে প্রমানিত হয়। কার স্বার্থে এবং কি ভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে মোঃ বশির আহমেদের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক প্রশ্ন উঠছে। মোঃ বশির আহমেদ এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে আইডিআরএ এর সব রকম যোগ্যতা ও শর্ত পুরণ না করেও তিনি বহাল তবিয়তে দীর্ঘ সময় ধরে জনতা ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ চলতি দায়িত্ব পালন করিয়া আসিতেছেন, এটা এক হিসাবে ইন্সুরেন্স কোম্পানী আইনকে এবং আইডিআরএ কে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেই জনতা ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃএর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে প্রভাব খাটিয়ে চলেছেন।
বীমা কোম্পানীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারন প্রবিধানমালা ২০১২ এর ৩ (খ) অনুযায়ী, “ইতিপূর্বে কোন বীমা কোম্পানীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে উক্ত পদের অব্যবহিত নিম্নপদে ৩ (তিন) বৎসর কর্ম অভিজ্ঞতাসহ যে শ্রেনীর বীমার জন্য কোন ব্যক্তিকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগের প্রস্তাব করা হবে অনুরূপ শ্রেণীর বীমাব্যবসায় সে ব্যক্তির অনুন্য ১৫ (পনের) বৎসরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে বলে উল্ল্যেখ থাকলেও জনাব মোঃ বশির আহমেদ এই দুইটি শর্ত পুরনের সমান অভিজ্ঞতা না থাকলেও জনতা ইন্সুরেন্স কোম্পানীর লিঃ এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে চলতি দায়িত্ব পালন করিয়া আসিতেছেন। মোঃ বশির আহমেদ জনতা ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার মেয়াদ ২৪/১২/২০১৯ইং থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত (দেড় বছরেরও বেশী সময়) চলতে থাকাকে আই ডিআরএ এর নিরবতা ও প্রশাসনিক অক্ষমতাকেই তুলে ধরেছেন।
এক দিকে মোঃ বশির আহমেদ এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার অব্যবহিত নিম্নপদে ৩ (তিন) বছরের কাজের অভিজ্ঞতা নেই দ্বিতীয়ত অনুরূপ বীমা শ্রেণীর ব্যবসায় অনুরূপ কাজের ১৫ (পনের) বৎসরের কাজের অভিজ্ঞতাও নেই। বিভিন্ন শর্ত ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এবং আইডিআরএ এর উল্ল্যেখিত ৩ এর (খ) শর্তসমূহ পূরনের জন্য জনাব মোঃ বশির আহমেদ যে সব জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন তার ধারাবাহিকতা নিম্নরূপঃ
তিনি প্রভাব খাটিয়ে তার অধঃস্তন কর্মকর্তা সাম্মী রেজা, এইচ.আর. বিভাগের প্রধানকে দিয়ে একটি প্রত্যয়ন পত্র প্রদানে বাধ্য করেন। উক্ত পত্যয়ন পত্রে উল্লেখ যে ১লা জুলাই ১৯৮৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৬ইং পর্যন্ত জনতা ইনসিওরেন্স কোম্পানীতে অফিসার গ্রেড-২ এ উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত ছিলেন, প্রকৃত পক্ষে জনাব মোঃ বশির আহমেদের জনতা ইনসিওরেন্স কোম্পানীতে ইতিপূর্বে কখনও কর্মরত ছিলেন বলে প্রমান পাওয়া যায়নাই। এ ব্যপারে এইচআরডি প্রধান শাম্মি রেজার সার্টিফাই করা প্রত্যয়ন পত্রের উল্ল্যেককরে তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ইতিপূর্বে জনতা ইনসিওরেন্স কোম্পানীতে কর্মরত ছিলেন এর স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র যেমন নিয়োগপত্র, অব্যহতি পত্র বা অন্য কোন রেকর্ড দেখাতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি সুস্পষ্ট কিছু না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান, চাকুরির অভিজ্ঞতায় তিনি ২০০৭ থেকে ২০১০ পর্যন্ত (তারিখ বিহীন) সিএফও, সোনারবাংলা ইন্সুরেন্স লিঃ উল্যেখ থাকলেও তিনি ০১/১১/২০০৭ থেকে ৩১/০৫/২০১০ পর্যন্ত সহকারী মহা ব্যবস্থাপক,অর্থ ও হিসাব বিভাগে কর্মরতছাড়া আর কখনো সোনারবাংলা ইন্সুরেন্সে কর্মরত ছিলেন না যোগাযোগে প্রমানিত)। সম্পুর্ণ ব্যপারটি উক্ত কোম্পানীর চেয়ারম্যান বেলাল আহদে অবগত আছেন বিধায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আইনের প্রতি শ্রদ্ধ্যা রেখে কোম্পনীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের অনুমোদনের জন্য আবেদন পত্রে স্বাক্ষর করেননি বলে জানা যায়, সত্যতা প্রমানের জন্য চেয়ারম্যান বেলাল আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। যার পরিবর্তে ভাইস চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করেছেন। অসম্পুর্ণ প্রত্যয়ন পত্রে স্বাক্ষর প্রমাণের ব্যপারে কোম্পানীর ভাইস চেয়ারম্যান এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা হলে তিনি সব ঠিক আছে বলে ফোন কেটে দেন। বিশেষ ভাবে উল্যেখ যে গত ২৭ জুন ২০২১ চেয়াম্যান বেলাল আহমেদ মোঃ বশির আহমেদকে সাসপেন্ড করার পরদিন ২৮ জুন ২০২১ তিনি লোকজন নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে চেয়াম্যান বেলাল আহমেদকে সাসপেন্ড লেটার উইথড্র করতে বাধ্য করান বলেও জানা যায়।
কোম্পনীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগে মোঃ বশির আহমেদের দাখিলকৃত বায়োডাটায় দেখানো হয়েছে তিনি ২১/০৪/২০১৯ থেকে ডি.এম.ডি. হিসাবে কর্মরত ছিলেন যদিও ২৩/০১/২০২০ তারিখে কোম্পানীর ১৮১ তম বোর্ড সভায় ডি.এম.ডি. হিসাবে পদোন্নতি দেয়া হয় যাহা গত এবং ০১/০১/২০২০ তারিখ থেকে কার্যকরি করা হয়। অপরদিকে মোঃ বশির আহমেদের দাখিলকৃত বায়োডাটায় দেখানো হয়েছে ০১/০৬/২০১৯ থেকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ জনতা ইন্সুরেন্স কোম্পনীর চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা ডকমেন্ট অনুযায়ী মোঃ বশির আহমেদ ডি.এম.ডি. হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছে ০১/০১/২০২০ থেকে। তাহলে তিনি কিভাবে ০১/০৬/২০১৯ থেকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করলেন তা প্রশ্নবিদ্ধ। আবার ৫ জুন ২০২০এ জনতা ইন্সুরেন্স কোম্পানীর প্রজ্ঞাপনে দেখা যায় ০১/০৬/২০২০ইং এ তিনি প্রজ্ঞাপনে উল্যেখিত সুযোগ সুবিধাসহ অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পান।
২০১৮ বার্ষীক প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, জনাব বশির আহমেদ জনতা ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে সিনিয়ন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কোম্পানী সেক্রেটারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২রা জুলাই ২০১৯ সালে সে কোম্পানীর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কোম্পানীর সেক্রেটারী হিসাবে বার্ষীক প্রতিবেদনে এ স্বাক্ষর করেছেন সেভাবে ব্যাবস্থাপনা পরিচালক এবং নির্বাহী পরিচালকের পরবর্তিতে ২০১৮ সালের বার্ষীক প্রতিবেদনের পৃষ্টা নং ২০ অনুযায়ী মোঃ বসির আহমেদের অবস্থান তৃতিয়তেদেখানো হয়েছে।
“জনতা ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ” এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে মোঃ বশির আহমেদ, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) কে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে যোগ্য কিনা তার আইনগত দিক বিবেচনার জন্য কোম্পানীর লিগেল আইন উপদেষ্ঠা এ বি এম আলতাপ হোসেনের (ব্যারিষ্টার এট ল) নিকট যোগযোগ করা হলে এই আইন উপদেষ্টার মতামত অনুযাযী যে বায়োডাটা পাঠানো হয়েছে তাতে ১লা জুলাই ১৯৮৯ থেকে ৩১ আগষ্ট ১৯৯৬ পর্যন্ত জনতা ইনসিওরেন্স কোম্পানীতে কর্মরত ছিলেন এমন কোন তথ্য দেওয়া হয়নি এবং মোঃ বশির আহমেদ জনতা ইনসিওরেন্স কোম্পানীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে যোগ্য নন বলে মতামত দাখিল করেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মোঃ বশির আহমেদ বিগত ২৪/১২/২০১৯ থেকে জনতা ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চলতি দায়িত্ব (এমডি সিসি) পালন করে আসছেন। অথচ বীমা আইনের ধারা ৮০ অনুযায়ী কোন কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ একাধারে তিন মাসের অধিক শূন্য রাখা যাবে না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে শর্ত থাকে যে কর্তৃপক্ষ অপরিহার্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে উক্ত সময়সীমা আরও তিন মাস বর্ধিত করতে পারেন। সে দিক বিবেচনায় আনলেও উক্ত আইন অনুযায়ী গত ২৪/০৬ /২০২০ তারিখে মোঃ বশির আহমেদের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চলতি দায়িত্ব পালন শেষ হওয়ার কথা। অথচ মোঃ বশির আহমেদ অবৈধভাবে এখনও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং কোম্পানী থেকে বিরাট অঙ্কের বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন, যা একটা বীমা কোম্পানীর জন্য অশনি শঙ্কেত।












