ধুতুরা বিষাক্ত কিন্তু ধুতুরা উপকারিও বটে

অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
বিষাক্ত গাছ হিসেবে ধুতুরা গাছ খুব এগিয়ে। এতে আছে বিপজ্জনক মাত্রার ট্রোপেইন নামক বিষ। এই গাছের বিষক্রিয়ায় মানুষ বা পশুপাখির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে অনেক দেশেই ধুতুরার উৎপাদন, বিপনন ও বহন আইনত নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে প্রতি বছর বহু লোক ধুতুরা বিষে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। ঝোপ-ঝাড়ে বা রাস্তার ধারে অযতেœ এই গাছ বেড়ে ওঠে। তবে ধুতুরার বীজ থেকে চেতনানাশক পদার্থ তৈরি করা হয়। ভেষজ চিকিৎসায় এর ব্যবহার আছে। চৈনিক ভেষজ চিকিৎসা শাস্ত্রে বর্ণিত পঞ্চাশটি প্রধান উদ্ভিদের একটি এই ধুতুরা।
ধুতুরার রস খেলে মানুষের মস্তিষ্কের বিকার না ঘটলেও এর বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাব ফেলে। ফলে অল্প পরিমাণ ধুতুরার রস খেলেও চোখে আবছা দেখে। ভেদ-বুদ্ধি লোপ পায়। আর বেশি পরিমাণে খেলে যে কোনো মানুষ অন্ধ এবং পাগল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এর নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার স্নায়বিক, মানসিক, চর্মরোগ এবং বাতের ব্যথায় বেশ কার্যকর।
কাউকে যদি পাগলা কুকুরে কামড়ায় তাহলে এ গাছের এক থেকে আধা গ্রাম মূল ও পূর্ননবা নামের আরেকটি ভেষজ গাছের পাঁচ গ্রাম কাচা মূলের সাথে বেটে ঠান্ডা পানি বা ঠান্ডা দুধের সাথে খাওয়ালে জলাতঙ্ক রোগ হবে না।
ধুতরা পাতার রসের সাথে সামান্য একটু গাওয়া ঘি মিশিয়ে ফোঁড়ার স্থানে প্রলেপ দিলে ফোঁড়া পেকে যায়। কোন কারণে মাথার চুল উঠে গিয়ে টাক পড়লে, ধুতরা পাতার রস মাথায় লাগালে টাকে চুল গজাতে সহায়ক।
প্রচন্ড বাতের ব্যথায় ধুতরার পাতার রসের সাথে সরিষার তেল মিশিয়ে কুসুম গরম করে ব্যথা স্থানে মালিশ করলে ব্যথা কমে যায়। কৃষ্ণ ধুতরার শুকনো পাতা, ফুলের সাথে বাসক পাতা জডিয়ে সিগারেটের মতো টানলে হাঁপানির কষ্ট কমবে।
এছাড়া ধুতরা গাছের পাতা, মূল, ও ফল সিদ্ধ করে বুকে সেক দিলে শ্বাস কষ্ট কমে। আর পাতার রস দুই থেকে তিন ফোটা প্রতিদিন দুধের সাথে খেলে ক্রিমি কমে যায়। সতর্ক থাকা ভালো, এই গাছটি খুবই বিষাক্ত। তাই এ ধুতরা গাছের যেকোন অংশ ব্যবহার করতে হবে সর্তকতার সাথে। খুব অভিজ্ঞ না হলে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।