“গেল অর্থবছর কর সংগ্রহ ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ’এনবিআর”

অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :-
প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি রেখে বিদায়ী অর্থবছরে (২০২০-২১) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক-কর আদায়ে আরো একটি বছর পার করল। শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট এবং আয়কর—এই বিভাগে সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। গেল বছরে এনবিআরের সংশোধিত কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা। আর মূল লক্ষ্য ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
এনবিআরে রাজস্ব আদায় পর্যালোচনা সভায় ২৯ জুলাই বৃহস্পতিবার বিদায়ী অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের চিত্র তুলে ধরা হয়। অনলাইনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। গেল অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী বছরে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে ভ্যাট খাত থেকে। এই খাত থেকে ৯৭ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) সবচেয়ে বেশি ৪৯ হাজার ২৫১ কোটি টাকা ভ্যাট আদায় করেছে। ভ্যাটের পর আয়কর থেকে আদায় হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। আয়করের এলটিইউ সর্বোচ্চ ২৪ হাজার কোটি টাকার বেশি আদায় করেছে। আদায় হওয়া রাজস্বের বাকি প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকা শুল্ক খাত থেকে এসেছে।
বৈঠকে আগামী রাজস্ব আদায়ে উৎসে কর কাটার চেয়ে তদারকিভিত্তিক রাজস্ব আদায়ে মনোযোগী হওয়ার নির্দেশ দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। তিনি সবাইকে শুল্ক-কর ফাঁকি ঠেকাতে আরও বেশি কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন ।
ঢাকা পূর্ব, ঢাকা পশ্চিম, সিলেট ও রংপুর অঞ্চলকে প্রধান্য দিয়ে এনবিআরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে কয়েকটি ভ্যাট কমিশনারেটের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।
আলোচনায় বলা হয়, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ সিলেট অঞ্চলে এখন শিল্পকারখানা অনেক বেশি হচ্ছে। বিদায়ী অর্থবছরে সিলেট অঞ্চল থেকে ভ্যাট প্রবৃদ্ধি সাড়ে ১৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে লক্ষ্য ঠিক ধরা হয়েছে। তা ছাড়া আলাপ আলোচনায় ঢাকা পশ্চিম ও পূর্ব এবং রংপুর ভ্যাট কমিশনারেটের রাজস্ব লক্ষ্য বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।