
খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
একটা দেশের আর্থিক মেরুদন্ড বা চালিকা শক্তি সেদেশের ব্যাংক বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকগুলির অভিভাবক হিসাবে কাজ করে বাংলাদেশ ব্যাংক, ঠিক একইভাবে বীমা কোম্পানীগুলির অভিভাবক হিসাবে কাজ করে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ)। আর এই বীমা খাতের অভিভাবক হিসাবে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ) কতটুকু দায়িত্বশীল তা প্রশ্নবিদ্ব? এটাকে ধরে রাখতে হলে তার জন্য দরকার আইনের সুুষ্ঠ প্রয়োগ এবং সঠিক প্রশাসনিক অবকাঠামো। এই অবকাঠামো যখন দুর্বল হয়ে যায় তখন প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এর সবটুকুর জন্য দায়ী প্রশাসনিক পদে যারা যারা আছেন তাদের কর্ম কৌশল, দক্ষতা, যোগ্যতা ও প্রশাসনিক দূরদর্শিতা। এর কোনটার ব্যত্যয় ঘটলে এসব প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা খুবই কষ্টকর হয়ে যবে।
সরকারি বেসরকারি ৫৬টি ব্যাংক নিয়ে বহু ঘাত প্রতিঘাত এবং আইনী প্রচেষ্টার মাঝেও অর্থ পাচার, লুটপাট. আত্মস্বাৎ, ঋন সমন্ময় করতে না পেরে খেলাফি হওয়া, ব্যাংকের মালিক ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের অনৈতিক মনোভাব থেকে অভিভাবক ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর আইন কানুন এমপ্লয়ীদের বেতন কাঠামো নির্ধারন ও গভর্ণরের সুযোগ্য পরিচালনার কারনে ব্যাংকিং অবকঠামো অনেকটাই একটা সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে আসলেও ৮৩ কোম্পনির (লাইফ-ননলাইফ মিলিয়ে) বীমাখাতের অভিবাবক ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ)‘র অযোগ্য, অদক্ষ এবং নৈতিকতাহীন চেয়ারম্যানের কারনে লুটপাট, অর্থপাচার,অনিয়ম নীতিহীন ব্যবসা, দালালের ধৌরাত্ব, নিজস্ব অবকাঠামোতে কোম্পানি পরিচালনা, বেতন ভাতার বৈসম্য, দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য ব্যাবস্থাপনা পরিচালকদের প্রথম শ্রেনির বীমা কোম্পানিগুলিতে নিয়োগ প্রদানে উৎসাহি হওয়ার সাথে সাথে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ)‘র অনুমোদন দেওয়ার কারনসহ অর্থ মন্ত্রনালয়ের বিনা তদারকির কারনে দেশের অপার সম্ভাবনাময়ী বীমাখাতের টালমাটাল অবস্থা। ভাষাগতভাবে বলতে গেলে বলা যায়…
চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট একটা দেশে ৮৩টি কোমপানির বীমা খাত,
অর্থ মন্ত্রনালয়ের নেই মাথা ব্যাথা, বেসামাল আইডিআরএ, গ্রহক ও কর্মচারিদের মাথায় হাত….।
কর্মসংস্থানের দিক থেকে লাইফ-ননলাইফ মিলিয়ে দেশের ৮৩টি বীমা কোম্পানীতে প্রচুর কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা হয়ে থাকলেও বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে এমডি, এএমডি, ডিএমডি থেকে কোম্পানী সেক্রেটারি এবং তার পরবর্তী এক দুই পদ ব্যাতিত চাকুরিরত সকল বীমা কর্মীরাই অবহেলিত ও বঞ্চিত। বর্তমান দুর্মুল্যের বাজারে জীবনযাত্রা ব্যায় সীমাহীন ভাবে বেড়ে যাওয়ায় এসকল বীমা কর্মচারিদের বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধাদি নুণ্যতম ভাবেও না বাড়ায় পরিবার ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। তাদের এই দুঃখ্য কষ্ট এবং অন্তরের চাপাকান্না দেখার বা অনুভব করার কেহ নাই, যদিও এসব বীমা কোম্পানীগুলির মালিকপক্ষ নিয়মিত সুবিধা ভোগ করা ব্যাতিত বিভিন্ন ছুতা দরে হলেও বড় বড় সুযোগ সুবিধা গ্রহন করেন, এবং অনেকে কর্মচারিদের পরিশ্রমের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে এবং সাধারনের সঞ্চিত অর্থ অবৈধপথে বিদেশে পাচার করে থাকেন নিজেদের পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে বসবাস করার জন্য। এদিকে বাংলাদেশব্যাংক ব্যাংকগুলির অভিভাবক কর্তৃপক্ষ হিসাবে সকল ব্যাংক কর্মচারিদের সুযোগ সুবিদা সহ নুন্যতম বেতন ভাতা ২৮,০০০/- নির্ধারন করে দিলেও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলির অবিভাবক হিসাবে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ)‘র এ বিষয়ে কোন মাথাব্যাথা নাই এবং নিজেরা কোম্পানীগুলি থেকে নিজেদের বৈধ-অবৈধ সুযোগ আদায়ে মত্য রয়েছে। এ যেন ‘মাছের মার পুত্রের শোক’ যেখানে মাছ নিজের বাচ্চাকে খেয়ে ফেলে।
প্রতি বছরের ১ মার্চ জাতীয় বীমা দিবস পালিত হয় সারা বাংলাদেশে। অবশ্য দিবসটি পেয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অবদানের কারণে। তিনি বীমা পেশায় চাকরি করার সুবাদে। এবারের শ্লোগান ছিল “বীমায় সুরক্ষিত থাকলে, এগিয়ে যাব সবাই মিলে।” একমাত্র বীমাই সুরক্ষা দিতে আপনার এবং আপনার সম্পদের। অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা থেকে বীমাই আপনাকে সহযোগিতা করতে পারে আর্থিকভাবে। বীমার বিকল্প এখনো অন্য কোন পন্থা দ্বিতীয়টি নেই। তাই সবার উচিত বীমা পলিসি গ্রহণ করা। এদিকে সকল পলিসি হোল্ডারদের পলিসি সুরক্ষা এবং জীবনের নিরাপওার জন্য যারা রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন তাদের এবং তাদের পরিবার পরিজনের জীবনপলিসি সুরক্ষা করার, দেখার এবং আর্তনাদ-আহাজারি শোনার কেউ নেই। এসব বীমা কোম্পানীর কর্মচারিদের আর্তনাদ-আহাজারি শুনে কবি কাজী নজুরুল ইসলামের কবিতার কটি আইন মনে পড়ে গেল, “আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর, আপন করেতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর…।” 
আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেকে বীমা পরিবারের একজন মনে করেন। বীমা পেশার কর্মী হয়ে কথাটি শুনে সবার বেশ ভালো লাগলেও যারা বীমা কোম্পানীগুলিতে চাকুরিরত আছেন তাদের এতটুকু খবর কি কেউ রাখেন? এবং যারা বীমা পেশায় আছে তারা এত অবহেলিত ও বেতন বৈষম্যের স্বীকার কেন ? বাংলাদেশব্যাংক যদি সকল ব্যাংকের কর্মচারিদের সুনিদিষ্ট বেতন ভাতা নির্ধারন করে দিতে পারে তাইলে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ) কেন সকল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলির কর্মচারিদের সুনিদিষ্ট বেতন ভাতা নির্ধারন করে দিতে পারবে না। তাইলে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ) কি ঠুটো জগন্নাথ ?
ইন্স্যুরেন্স কোম্পনির অনেকের মতে, বর্তমানে ছোট খাট একটি প্রাইভেট কোম্পানির নন-মেট্টিক পিয়নও দশ থেকে পনের হাজার টাকা মাসিক বেতন পান। অথচ বীমা পেশার একজন কর্মী স্নাতক/স্নাতকোত্তর পাশ করে এসে এখানে পিয়নের সমপরিমাণ বেতন পান না। কি যে লজ্জা আর অপমানবোধ হয় নিজের কাছে। বর্তমান ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ) মাঝে-মধ্যে দু-একটি সার্কুলার জারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন এবং বাকী যেসব সংস্থা আছে তাদেরও বীমা পেশার কর্মচারিদের জন্য মাথাব্যাথা নাই এবং কোন চিন্তাও করে না।
আশাকরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রনালয় এবং ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ) বীমা পেশার চাকুরিরতদের বেতন বৈষম্য দূর করে তাদের জন্য নুন্যতম বেতন ভাতা নির্ধারন করার অতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করিবেন।












