অর্থনীতিতে বৃহত্তর নিয়ন্ত্রণ রাখার পরিকল্পনা এরদোগানের

অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক
আগামী মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দেশের অর্থনীতিতে জোরালো নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরিকল্পনা করছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ আমলে নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। খবর রয়টার্স।
মঙ্গলবার ব্লুমবার্গ টেলিভিশনে প্রচারিত এক সাক্ষাত্কারে নির্বাচন নিয়ে এসব কথা বলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। তার এ মন্তব্য প্রচারিত হওয়ার পর নিম্নমুখী থাকা স্থানীয় মুদ্রা লিরার মান ডলারের বিপরীতে আরো কমে ৪ দশমিক ৩৯তে দাঁড়ায়। এ নিয়ে চলতি বছর সব মিলিয়ে লিরার মান ১৩ শতাংশ কমে গেল। এরদোগান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পরিবর্তিত সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর ব্যাংকটি সর্বোচ্চ নির্বাহীর দেয়া নির্দেশ উপেক্ষা করতে পারবে না।
প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ক্ষমতা আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত বছরের ১৬ এপ্রিল সংবিধান সংশোধনে তুরস্কে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর পক্ষে ভোট পড়ে ৫১ দশমিক ৪১ শতাংশ। অনুমোদিত হওয়া সংশোধিত সংবিধান কার্যকর হলে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত হবে এছাড়া পার্লামেন্টে আসন সংখ্যা ৫৫০ থেকে বেড়ে ৬০০তে উন্নীত হবে। বিচারক এবং আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট আরো বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে উঠবেন।
আগামী ২৪ জুন আগাম প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর তুরস্কে নতুন সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হবে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হতে যাচ্ছেন এরদোগান। এরদোগান বলেছেন, মুদ্রানীতিমালাগত যেকোনো সমস্যার দায়ভার চূড়ান্তভাবে জনগণ প্রেসিডেন্টের ওপরই চাপিয়ে দেয়।
তিনি আরো বলেন, ‘যখন থেকে তারা এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করবে, তখন থেকেই আমাদের প্রেসিডেন্টের ইমেজ ঝেড়ে ফেলতে হবে। বিষয়টি কিছুটা অস্বস্তির সৃষ্টি করবে। কিন্তু আমাদের তা করতে হবে। কারণ এটি হচ্ছে সে’ যাকে দেশ শাসন করতে হয় এবং জনগণের কাছে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য থাকতে হয়।’
উচ্চ সুদহারের কড়া সমালোচক প্রেসিডেন্ট এরদোগান। অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সুদের হার কমিয়ে আনার পক্ষে তিনি। গত শুক্রবার উচ্চ সুদহারকে তিনি ‘সব শয়তানের পিতা-মাতা’ বলে উল্লেখ করেন। ব্লুমবার্গকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানান, সুদের হার বেশি থাকার কারণেই মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, ‘সুদের হার হচ্ছে কারণ এবং মূল্যস্ফীতি তার ফলাফল। সুদের হার কম হলে মূল্যস্ফীতিও কমে যাবে।’
হালকব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেমেত হাকান আতিলার প্রসঙ্গেও কথা বলেন এরদোগান। এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানকে সাহায্যের অভিযোগ ওঠার পর মার্কিন আদালতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে এরদোগান আতিলাকে নির্দোষ দাবি করে তুরস্ক তার বেকসুর খালাস প্রত্যাশা করছে বলে জানান। এরদোগান আরো বলেন, ‘হাকান আতিলাকে অপরাধী ঘোষণা করা হলে তা তুরস্ক প্রজাতন্ত্রকে অপরাধী ঘোষণার শামিল হবে।’