শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের বিজয়

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
৮ জানুয়ারি ২০২১, শুক্রবার লজ্জাজনক একটি দিনের শেষ হলো মার্কিন সম্্রাজ্য তথা বিশ্ব মোড়লের দেশ আমেরিকাতে। জোসেফ আর বাইডেন জুনিয়রকেই স্বীকৃতি জানালো মার্কিন কংগ্রেস। গণতন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলেন ডনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন ইতিহাসে এটি অভিনব ঘটনা-তবুও অনেকেরই আশঙ্কা ছিল ট্রাম্প হার মানতে চাইবেন না। কিš‘ তিনি কতদূর যেতে পারেন সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন না কেউই। সত্যকে সবসময় জোর গলায় অস্বীকার করে গেছেন এবং ক্রমশ উস্কানি দিয়ে গেছেন। ক্যাপিটল ভবনে হামলার মাধ্যমে হলো তার চূড়ান্ত পরিণতি দেখল সারা বিশ্ব ।
এতকিছুর পরেও শেষ রক্ষা হলো না।
বর্তমান সময়ে প্রায় সারা বিশ্বেই গনতন্ত্র একরকম হুমকির মুখে। তবুও গণতন্ত্রে জনগনের রায়ই শেষ কথা। কিš‘ কথিত গণতান্ত্রিক বহু নেতা তা মানতে চান না। তাদের চারিত্রিক ধারায় পরাজয় বলতে কোনো শব্দ নেই। ক্ষমতাই তাদের রাজনীতির শেষ কথা তারা মনে করেন। ঠিক তাদেরই একজন হলেন ডনাল্ড ট্রাম্প, যিনি শুর“ থেকেই জনরায় মানতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি দাবি করেন, ভোটে কারচুপি হ”েছ। সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেয় ফোর্থ স্টেট। মিডিয়া সাফ জানিয়ে দেয়, ট্রাম্পের এই দাবির কোনো ভিত্তি নেই। এমনকি আগে তার পক্ষে থাকা গণমাধ্যমও বাস্তবতার নিরিক্ষে অব¯’ান নেয়। সব ভোট গণনা করা যাবে না-ট্রাম্প হাজির করেন এমন উদ্ভট আর্জি। নির্বাচনী কর্মকর্তারা নাকচ করেন তা। নিজ দলের বহু নেতাও অব¯’ান নেন তার বিপক্ষে। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখি, প্রাদেশিক পর্যায়ের নির্বাচনী কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্টের মুখের ওপর কীভাবে না বলে দেন। সর্বো”চ পর্যায়ের অন্যায় চাপকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। আদালত ঘিরে আশায় বুক বেঁধে ছিলেন ট্রাম্প। ভেবেছিলেন তার নিযুক্ত বিচারকরা তার পক্ষে থাকবেন বাস্তবে আমেরিকার জনগন তার মুল্যহীন আবদারে সাড়া দেয়নি। পড়ে তার সে আশায় গুড়েবালি হয় এবং আইনি লড়াইয়েও হেরে যান তিনি। তার নিয়োগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার, যাকে তার বিশ্বস্ত লোক বলে মনে করা হতো তিনিও প্রমাণহীন অভিযোগ আমলে নেননি। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও সাড়া দেননি ট্রাম্পের আহ্বানে। ক্যাপিটল ভবনে হামলার বির“দ্ধেও দ্ব্যর্থহীন অব¯’ান নেন মার্কিন আইন প্রণেতারা। চার সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন, জিমি কার্টার ও বারাক ওবামা হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের তাগিদ দেন। এমনকি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোও ট্রাম্পের ক্ষমতার দিকে না তাকিয়ে রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রকে বেছে নেয়।
আবার এটাও সত্য যে বিশ্ব মোড়ল আমেরিকার গনতন্ত্রের ২০৪ বছরের ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্যাম্পের মত এমন উস্কানিমুলক প্রেসিডেন্ট এবং গনতন্ত্রের এমন সঙ্কটাপন্ন অব¯’া আর তৈরি হয় নাই। বিশ্ববাসি এটাও উপভোগ করেছে যে, অধিবেষন কক্ষের ভিতরে ডুকে ভিক্ষোভকারীদের একজন স্পিকারের চেয়ারে বসে পা ও হাত উঁচিয়ে উল্লাস করছে, যা আমেরিকার গনতন্ত্রের ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায় হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
একথা বাদ দেওয়া যায়না যে আমেরিকার গনতন্ত্রে এবং নিজের ক্যারিয়ারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কালিমা লেপন করেছেন তার খেসারত হিসাবে হয়তো সময়ের আগেই তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া অথবা ক্ষমতা থেকে সরিয়ে না দিলেও নিয়ম অনুযায়ী ২০ জানুয়ারী ক্ষমতা হস্তান্তরের পর ইউএস সংবিধানের ২৫নং ধারা অনুযায়ী তাকে কারা বরনসহ সামনের দিনে দ্বীতিয়বার ক্ষমতায় আরোহনের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
গত কিছুদিনে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা মার্কিন গণতন্ত্রের ইতিহাসে বাজে দৃষ্টান্ত হিসেবেই থেকে
যাবে। তবে গণতন্ত্রকে সবসময়ই পরীক্ষার মধ্য দিয়েই উত্তির্ণ হতে হয় সত্য আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগন সে পরীক্ষায় গণতন্ত্র ইত্তীর্ণ হয়েছে।