এক দশকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক :
এক দশক পেরিয়ে একাদশে পা রাখতে যাচ্ছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এরইমধ্যে অঞ্চল, সংস্কৃতি, জাতি, ধর্মকে উপেক্ষা করে জ্ঞান আহরণ ও বিতরণে ভূমিকা রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়। মানসম্পন্ন শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে পরিবর্তন আনছে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে। পড়াশোনার পাশাপাশি সুস্থ সংস্কৃতি চর্চায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ অঞ্চলের তারুণ্যের প্রতিনিধিত্ব করে চলেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে। এ অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে চলছে নানামুখি গবেষণাও।
শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রে নয়, অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্ন ও মনোরম ক্যাম্পাস সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের ছিমছাম পরিবেশে আড্ডা, খুনসুটি, গল্প আর গান যেকোনো মানুষেরই মন ভরিয়ে দেয়।
জানা গেছে, ক্যাম্পাসের অন্যতম মূল সমস্যা ছিল আগাছা। মাটি উর্বর হওয়ায় প্রায় সারাবছরই পাঁচ থেকে ছয় ফুট পর্যন্ত আগাছায় পরিপূর্ণ থাকতো প্রায় পুরো ক্যাম্পাস। ২০১৬ সালে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে আগাছা পরিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অল্প কদিনের মধ্যেই আবারো পুরো ক্যাম্পাস ছেয়ে যায় আগাছাতে। শেষমেশ বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেয়ার পরপরই এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেন। আগাছা পরিষ্কারে যান্ত্রিক প্রযুক্তির প্রয়োগসহ ছয় জন কর্মচারির সমন্বয়ে গড়ে তোলেন নতুন একটি টিম।
বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা দফতর সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের থেকে এখন অনেক ভালো। বর্তমান প্রশাসন প্রায় ১৬ জন আনসারের একটি স্থায়ী টিমকে ক্যাম্পাসে মোতায়েন করেছে। ক্যাম্পাসের গুরত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে দশটির বেশি শক্তিশালী নাইট ভিশন সিসি ক্যমেরা স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের প্রবেশ গেটে স্থাপন করা হয়েছে স্থায়ী আনসার চেকপোস্ট। শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে বিএনএনসিসি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতর, বহিরাঙ্গন দফতর, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগ প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনালগ্ন থেকেই প্রায় অকার্যকর অবস্থায় ছিল। বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েই সেগুলো অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেগুলো সচল ও কার্যকরী করে তোলেন।
দীর্ঘদিনের সেশনজট নিরসনে পরীক্ষা দফতরের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অথচ সেই পরীক্ষা দফতরেরই প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পদ ছিল ফাঁকা। বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েই সেই পদে নিয়োগ দেন।
একাল-সেকাল
২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর, দীর্ঘদিনের আন্দোলন শেষে রংপুরবাসী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছ থেকে পেয়েছিলেন রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার কয়েক মাস পরই ৮ এপ্রিল ২০০৯ গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে। তার নতুন নাম হয় ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর’।
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক এম লুৎফর রহমান। শিক্ষক নিয়োগের আগেই ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। কারমাইকেল কলেজকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর।
২০০৯ সালের ৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ে চলে কার্যক্রম। রংপুর শহরের প্রবেশদ্বার মডার্ন মোড়ের সন্নিকটে ৭৫ একর জায়গার ওপর দাঁড়িয়ে আছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এই দশ বছর ক্যাম্পাসে চারটি অ্যাকাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, তিনটি হল, লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে দশতলা একটি ছাত্রী হল এবং দশতলা ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজ চলছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে আছেন অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ।
দশক পূর্তি
গত ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি এক দশক পূর্তি উদযাপন করে। দিনটি ঘিরে নেয়া হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ নানা সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি।
আয়োজক কমিটি সূত্র জানায়, সকাল সোয়া ৯টায় জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যাল, ছয়টি অনুষদ ও ২১টি বিভাগের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে পায়রা, বেলুন ও কেক কাটার মাধ্যমে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। এরপরই রয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
এছাড়া অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে রয়েছে বিকেল সাড়ে ৪টায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কনসার্ট।