সম্ভাবনা অনুযায়ী অগ্রসর হচ্ছে না অর্থনীতি

অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের পর্যালোচনায় এমসিসিআই
অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনীতি এগোলেও অগ্রসরতার হার প্রকৃত সম্ভাবনার চেয়ে কম। অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, জ্বালানির ঘাটতিসহ বেশকিছু কারণে অর্থনীতির অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছতে পারছে না। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাবে দেশে নতুন বিনিয়োগ আসছে না। এসব কিছুই দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির পথে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পর্যালোচনায় এমনটি জানিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)।
সংগঠনটির মতে, ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে গেলে বাংলাদেশের সামনে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। এছাড়া রফতানি বৃদ্ধিসহ বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করা হয়েছে এমসিসিআইয়ের পর্যালোচনায়। সংগঠনটি বলছে, প্রবৃদ্ধি গতিশীল করতে সড়ক, রেল, বন্দর, গ্যাস ও বিদ্যুতের বিকল্প নেই। এছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে এমসিসিআই।
সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বার্ষিক ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে উল্লেখ করে এমসিসিআই বলেছে, এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য চলতি অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ ও সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হতে হবে। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত অর্থবছর বিনিয়োগ-জিডিপির অনুপাত ছিল ৩১ শতাংশ, যা পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রত্যাশিত ৩০ দশমিক ২৭ শতাংশের কাছাকাছি।
পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের কৃষি, নির্মাণ, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছর কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৯০ শতাংশ। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৯৬ শতাংশ। নির্মাণ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে বিবিএসের তথ্য অনুসারে, শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমেছে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ।
এমসিসিআই জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় উন্নতি হয়েছে। অবশ্য একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে গেছে। গ্যাস সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কয়েকটি বিদ্যুেকন্দ্র বন্ধ রাখায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের রফতানি আয় বছরওয়ারি বেড়েছে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অন্যদিকে জুলাই-ফেব্রুয়ারি মেয়াদে ইম্পোর্ট পেমেন্ট বছরওয়ারি বেড়েছে ২৬ দশমিক ২১ শতাংশ। মূলত জ্বালানি, খাদ্যসামগ্রী ও মূলধনি যন্ত্রাংশের আমদানি বেড়ে যাওয়াই এ প্রবৃদ্ধির কারণ।
চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশে বৈদেশিক রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে ২৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৮২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩০২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
এমসিসিআইয়ের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শিল্প-নিরাপত্তার মান উন্নয়ন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তৃতীয় প্রান্তিকে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। আগামীতে এ আয় আরো বাড়বে বলে সংগঠনটি আশা করছে। তবে এক্ষেত্রে শুধু পোশাক শিল্পের ওপর রফতানি খাতের নির্ভরতা কাটিয়ে ওঠার তাগিদ দিয়েছে এমসিসিআই।
এমসিসিআই তাদের পর্যালোচনায় গত প্রান্তিকে দেশের কৃষি, শিল্প, নির্মাণ, বিদ্যুৎ, সেবা, পুঁজিবাজার, সরকারি অর্থায়ন, আমদানি-রফতানি, রেমিট্যান্স, বিদেশী অনুদান ও বিনিয়োগ, ব্যালান্স অব পেমেন্ট, মুদ্রা বিনিময় হার ও রিজার্ভ, মূল্যস্ফীতিসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছে।