“বিসিআই এর বাজেট (২০২১-২০২২) প্রতিক্রিয়া”

‌‍’সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) এর সভাপতি জনাব আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ এর বাজেট প্রতক্রিয়াটি হুবহু তুলে ধরা হল —‘
খেন্দকার জিল্লুর রহমান :-
বিসিআই দেশের শিল্প খাত প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র জাতীয় সংগঠণ বিধায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়নের প্রসার, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা এবং বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র বিমোচন এবং জাতীয় উন্নয়ন লক্ষমাত্রা, সরকারের ভিশন ২০২১ ও ২০৪১, ঝউএ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়া ইত্যাদি কার্যক্রম সফল বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার উদাত্ত আহব্বান জানাচ্ছি:

১/ আমরা এবছর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী পালন করছি। আর এরই মধ্যে সরকার ৫০তম বাজেট মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করলেন। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের জন্য বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের টানা ১৩তম জাতীয় বাজেট দেয়ার বিরল কৃতিত্বের জন্য এবং বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা ও শত প্রতিকূলতার মধ্যেও জনগণের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কল্যাণমূখী বাজেট দেয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ৩য় বারের মত এবার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল, এম.পি-কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। জীবন ও জীবিকাকে প্রাধান্য দিয়ে চলমান করোনাকালের দ্বিতীয় বাজেট এটি।
বিশ্ব অর্থনীতি এখন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত, ঠিক এই কঠিন সময়ে আজকের জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে ঘোষিত জাতীয় বাজেট ২০২১-২২ এ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.২% মূল্যস্ফীতি ৫.৩ শতাংশ নির্ধারণ করে আগামী ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের জন্য ৬ লক্ষ
৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে এরূপ উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ঘোষিত বাজেট আশাব্যঞ্জক হলেও বাস্তবায়নে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখমুখি হতে হবে সরকারকে। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যে বিপুল পরিমান বিনিয়োগ প্রয়োজন তার দিকনির্দেশনা চায় বিসিআই কারণ
বিগত কয়েক বছরে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৩ শতাংশের কাছাকাছি আছে। প্রস্তাবিত বাজেটে কোন করদাতা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ১০% তৃতীয় লিঙ্গের শ্রমিক অথবা ১০০ (একশত) অধিক কর্মচারী নিয়োগ সাপেক্ষে ৫ শতাংশ কর রেয়াতের প্রস্তাব করা হয়েছে এছাড়া দেশীয় পণ্য উৎপাদনকারী বৃৃহত শিল্পে অটোমোবাইল খাত) ২০বছর, হোম অ্যাপ্লায়েন্স শিল্পে ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে ১০ বছর কর অব্যাহতি এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে যন্ত্রাংশ উৎপাদনে ১০ বছর কর অব্যাহতি প্রদান করায় বাংলাদেশের একমাত্র জাতীয় শিল্প চেম্বার হিসেবে বিসিআই মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছে যা বিসিআই এর বাজেট প্রস্তাবের প্রতিফলন। বিসিআই মনে করে প্রস্তাবিত বাজেট দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি খাত সহায়ক বাজেট যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
২/ প্রস্তাবিত বাজেটে, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও করোনা ভাইরাস মোকাবেলার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখার জন্য এবং দেশের সকল মানুষের সুলভে মানসম্পন্ন চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর এবং চট্রগ্রাম জেলার বাইরে স্থাপিত হাসপাতালে ১০ বছর কর অব্যাহতি, প্রদান করায় মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। করপোরেট কর ২.৫% কমানো হয়েছে যা বিসিআই স্বাগত জানায় এই কমানোর ধারাবাহিকতা নূন্যতম আগামী ৩ বাজেটে অব্যাহত রাখার সুপারিশ করছে। ৩ কোটি টাকার টার্নওভারে নূন্যতম কর হার ০.৫০% থেকে কমিয়ে ০.২৫% করায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি তবে টার্নওভারের নূণ্যতম হার ৪ কোটিতে উন্নীত করার প্রস্তাব করছি। এছাড়াও হোম এপ্লায়েন্স সামগ্রী ও তথ্য প্রযুক্তি পণ্যকে ভ্যাট অব্যাহতি, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য করমূক্ত সিমা ৭০লক্ষ টাকায় উন্নিত করা, সিমেন্ট উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে করহার ২%, সিমেন্ট লৌহ এবং লৌহ জাতীয় পণ্য সরবরাহে উৎসে কর কর্তন ২% করা, এলইডি লাইট শিল্পের যন্তাংশ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কহ্রাস করায় মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
৩/ বিসিআই বর্তমান পরিষদ মূলত দেশে নতুন উদ্যোক্তা, মাইক্রো ও স্মল শিল্প উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং উন্নয়নে একত্রে কাজ করে চলেছে। এছাড়াও, স্থানীয় সকল শিল্পের সর্বপ্রকার প্রতিবন্ধকতা নিরসনে বিসিআই কাজ করে চলেছে। একটি দক্ষ ও কর্মঠ যুবসমাজ তৈরি করতে প্রতি উপজেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে স্বল্প ও অদক্ষ তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ড ত্বরান্বিত করার স্বার্থে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে মাইক্রো ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতে তরুণ শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার
ধারাবাহিকতায় নিম্নলিখিত সুপারিশ করা হল-
* echnical & Vocational Course কে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রেInvestment &Income কর অবকাশ প্রদান করা
* Professional, Technician trainer এর ক্ষেত্রে যদি Institution এমনকি Industry-তে ও নিয়োগ দেওয়া হয় তাদের মজুরী করমুক্ত রাখা।
* মাইক্রো ও ক্ষুদ্র শিল্প এবং তরুণ শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য নূন্যতম ১০ বছর কর অবকাশ প্রদান করা পরবর্তিতে বিশেষ কর সুবিধা প্রদান করা এবং Dividend এর উপর কর অবকাশ করা হোক।
* গবেষণা ও স্কিল ডেভল্পমেন্টের জন্য সব ধরনের বিনিয়োগ করমুক্ত রাখা;
* ক্ষুদ্র শিল্প এবং নারী উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে খাত ভিত্তিক যৌথ প্রতিষ্ঠানগুলিকে Export Oriented এর ক্ষেত্রে বন্ডেড-ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রদান করা;
* Eco friendly environment-এর জন্য ঞধী Tax rebate দেওয়ার সুপারিশ করছি।
* শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ০% উৎস কর প্রস্তাব করছি।
* সব ধরনের utility-র উপর ভ্যাট অব্যাহতির সুপারিশ করছি।
* প্রতিটি Industry র ক্ষেত্রে TIN No এবং যে কোন Association অথবা Chamber অথবা SME Foundation BSIC এর নিবন্ধন জুরুরী।
* প্রতিযোগীতা আইন, ২০১২ কার্যকর করার জন্য সুপারিশ করছি।

Light Engineering

লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে উৎপাদিত যন্ত্রাংশ ও কেবল শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত হবে এমন যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছরের কর অব্যাহতি প্রদান করায় মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমরা এই খাতের সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানকে কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব পূণর্ব্যৃক্ত করছি।
৪/ * Light Engineering industryএর ক্ষেত্রে machineries প্রস্তুত করে বিক্রয় করলে
ভ্যাট অবকাশ সুপারিশ করছি।
* আমদানিকৃত Aluminum thick sheet duty অব্যাহতির সুপারিশ করছি।
* আমদানিকৃত কাঁচামালে ভ্যাট অবকাশের সুপারিশ করছি।
* রপ্তানির ক্ষেত্রে TT- এর মাধ্যমে Payment আসলে তার উপর নগদ প্রণোদনা দেওয়ার বিধান রাখার সুপারিশ করছি।
স্বাস্থ্য সেবা খাত:
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কিছুটা বৃদ্ধি করা হলেও তা বরাদ্দ জিডিপির সেই ১ শতাংশের মধ্যেই আছে। এই বরাদ্দ দিয়ে একদিকে স্বাস্থ্য খাতের চাহিদা মিটানো কঠিন অন্য দিকে বরাদ্দ বাস্তয়নের ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্য খাত অনেক পিছিয়ে আছে। এই বাস্তবতায় স্বাস্থ্য খাত বড় ধাক্কা সামলাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের উপর ১৫% কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেহেতু উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সেহেতু বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের উপর প্রস্তাবিত কর হার পূন:বিবেচনার প্রস্তাব করছি। কর
আরোপ হলে দেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। রাজস্ব আহরন: মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লক্ষ ৮৯ হাজার কোটি টাকা যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ১০.৬৫% বেশি । যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা যা বিগত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৯.৬৩% বেশি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনেকটা চ্যালেঞ্জিং হবে আমরা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ করেছি। করনেট বৃদ্ধির জন্য উপজেলা পর্যায়ে কর অফিস স্থাপনের প্রস্তাব পূনব্যাক্ত করছে বিসিআই, যার ফলে করের আওতা ও রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব। সুশাসন, যথাযথ মনিটরিং, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে শিল্প- বাণিজ্যবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাঙ্খিত রাজস্ব আদায় সম্ভব। বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদীহিতা এবং তদারকের মান ক্রমাগতভাবে উন্নয়য়নের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা নিশ্চিত করা জরুরী।
আয়কর:
শিল্প ক্ষেত্রে মূসক ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশী। শিল্প খাত রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মূদ্রা আয় এবং আমদানি হ্রাসের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে দেশের অর্থনীতিতে অধিক ভূমিকা রাখে বিধায় তাদের প্রণোদনা প্রদান এবং ট্রেডিং কোম্পানীর তুলনায় নিম্নহারে কর্পোরেট কর আরোপ করার প্রস্তাব করছি। সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য শুধু ঢাকা বা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীক না করে দেশের উত্তরাঞ্চল সহ প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন উৎসাহিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বিশেষ রেয়াতি সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করছি । আমরা ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লক্ষ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করছি (ভারতে ৫ লক্ষ রুপি)। ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা ও বিদ্যমান আয়করের হার পুণঃনির্ধারণ:
মূল্যস্ফীতি ও জীবন যাত্রার ব্যয় বিবেচনায় আগামী ২০২১-২০২২ কর বৎসরের জন্য বর্তমান ব্যক্তিগত করমূক্ত সীমা ও বিদ্যমান আয়করের হার পুনঃনির্ধারনের প্রস্তাব করছি- অগ্রিম আয়কর (এআইটি) প্রস্তাবিত বাজেটে ৫% অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ব্যবসায়িক খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা অগ্রিম আয়কর (এআইটি) বিলুপ্ত করার জন্য প্রস্তাব করেছিলাম কিন্তু এ বিষয়ে বাজেটে কোন প্রতিফলন দেখা যায়নি। অথচ বাজেটে ২০% পর্যন্ত সর্বোচ্চ আয়কর আরোপ করা হয়েছে। অগ্রীম আয়কর যথাযথ সমন্বয়/রিফান্ড না হওয়ায় পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি পায়। পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসনপূর্বক অগ্রীম আয়কর বাতিল করার প্রস্তাব করছি।
মূসক:
ভ্যাট ফাকির ক্ষেত্রে ভ্যাটের দ্বিগুণ জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে আগামী বাজেটে এটি কমিয়ে ভ্যাট ফাকির সমপরিমাণ জরিমানার বিধান করা হয়েছে। সেসাথে সময়মত ভ্যাট না দিলে মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদের পরিবর্তে ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে যা ইতিবাচক। আমদানি পর্যায়ে ভ্যাটের আগাম কর (এটি) ৪% থেকে কমিয়ে ৩% করা হয়েছে। এ আগাম কর সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার জন্য প্রস্তাব করছি।
শিল্প খাতের বার্ষিক টার্নওভারের ঊর্দ্ধসীমা বর্তমানে ৩ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১০ কোটি টাকায় উন্নীত করে শিল্প খাতে টার্ন-ওভার কর ৪% থেকে ৩% নির্ধারণ করা; শুল্ক বাজেট সম্পর্কিত: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারীকৃত মূলধনি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ সংক্রান্ত এস.আর.ও. (১১৩ আইন/২০২১/ কাস্টমস তারিখ ০৩-০৬-২০২১) অধিনে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ ১% আমদানি শুল্ক প্রদান করে আমদানিরসুযোগ থাকলেও প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত/তালিকাভুক্ত না থাকায় সকল শিল্প খাতে আবশ্যক মূলধনি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ বর্ণিত রেয়াতি সুবিধা পাচ্ছে না। সে কারণে “প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত মূলধনি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশের পাশাপাশি মূসক নিবন্ধিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের মুসক-৭ ফরমে ঘোষিত অন্যান্য মূলধনি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশও উক্ত রেয়াতি সুবিধা প্রাপ্য হইবে” প্রজ্ঞাপনে সংযোজন করার অনুরোধ করছি। দক্ষতা উন্নয়ন দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নজর দেয়া হয়েছে। মানব সম্পদকে সার্বিকভাবে উন্নয়ন করা হলে স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে নীতিমালা সহজিকরন করে সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতের অংশগ্রহণ নশ্চিত করার প্রস্তাব করছি। গবেষণা ও স্কিল ডেভল্পমেন্টের জন্য সব ধরনের বিনিয়োগ করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করছি।
দেশীয় বস্ত্র শিল্প বিকাশে, নগদ সহায়তা ৪ % হতে বাড়িয়ে কমপক্ষে ৭% করা, নগদ সহায়তার উপর উৎসে কর ১০% হতে কমিয়ে ৩% করা এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে বস্ত্রখাতের সংঙ্গায় প্রচ্ছন্ন রপ্তানীকারককে সংযুক্ত করার প্রস্তাব করছি।
ইলেকট্রিসিটি ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণে আন্তর্জাতিক দরপত্রে ঠিকাদার কর্তৃক ষ্টিল টাওয়ার ও অন্যান্য পণ্য/সামগ্রী বিদেশ থেকে আমদানী করলে উৎসে কর কর্তন করা হয় না। অথচ দেশে স্থাপিত শিল্প কারখানা থেকে উৎপাদিত স্টীল টাওয়ার এবং অণ্যান্য পণ্য/সামগ্রির সরবরাহের ক্ষেত্রে ৭.৫% উৎসে আয়কর কর্তন করা হয়ে থাকে। বৈষম্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য
সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন রহিত করা আবশ্যক। কোভিড-১৯ জনিত কারনে কর্মহীনতা ও আয়- হ্রাস কমাতে সামাজিক নরাপত্তা বলয়ের আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বয়স্ক ভাতা কর্মসূচী, প্রতিবন্ধী
ভাতা কর্মসূচী, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা কর্মসূচী প্রভৃতির আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে যা ইতিবাচক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে বাজেটে যে
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান রপ্রক্রিয়াকে গতিশীল করবে বলে বিসিআই মনে করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক চেষ্টা ও অধ্যবসায় এবং মেধার বলে আজ বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে শুধু স্বীকৃতিই অর্জন করেনি বরং এক গরৎধপষব ঘধঃরড়হ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও শিল্প বিকাশের কোন বিকল্প নেই। সমাজকে আজ শিল্প উদ্যোক্তাদেরকে সম্মান শুধু নয় পাশে থেকে উৎসাহিত করা অত্যান্ত জরুরী মনে করেন বিসিআই সভাপতি।