মুসলিম ও ভূখন্ডগত জাতিসত্তার সমন্বয়ই জাতীয় ঐক্যের একমাত্র ফর্মুলা” -মুসলিম লীগ

“নবাব সলিমুল্লাহর ১৫১তম জন্মবার্ষিকিতে মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ”
নিজস্ব সংবাদ দাতা :
নবাব সলিমুল্লাহ যদি তৎকালীন সময়ে মুসলমানদের রাজনৈতিক আশ্রয়স্থল মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা না করতেন তবে বর্তমান পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মুসলমানদের দিল্লীর শাসনাধীন হয়ে ভারত ও কাশ্মীরের মুসলমানদের ভাগ্য বরণ করতে হত। এ অঞ্চলের মুসলিম ছাত্রদের উচ্চ শিক্ষার জন্য যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ না করতেন তবে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সক্ষম জনবল দেশে তৈরি হতো না। জমিদারী বন্ধক রেখে-ঋণ নিয়ে মুসলিম জাতিসত্তার বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠার জন্য- মুসলমানদের শিক্ষা বিস্তারের জন্য লাগাতার কাজ করে নবাব সলিমুল্লাহ, কার্যত দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিলেন অথচ জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সর্বস্ব ত্যাগী ইতিহাসের এই মহানায়ককে আমরা তার যোগ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছি যা পুরো জাতির জন্য লজ্জাস্কর।
উপমহাদেশে মুসলিম জাতিসত্তার জনক, নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্যোক্তা নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বাহাদুরের ১৫১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ (০৭ জুন, ২০২২) বেলা ৩.০০টায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগের উদ্যোগে দলীয় সভাপতি এ্যাড. বদরুদ্দোজা সুজার সভাপতিত্বে, জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ বলেন, নবাব সলিমুল্লাহ ভবিষ্যত দেখতে পেয়েছিলেন, বলেই মুসলিম জাগরণের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছিলেন। আগ্রাসনবাদীদের রুখতে হলে মুসলিম লীগকে আবারও জেগে উঠতে হবে। তিনি অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কড়া সমালোচনা করেন।
আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ঠ রাজনীতিবিদ ব্যারিষ্টার সরোয়ার হোসেন , ফেডারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক ড. এ.আর খান, বাংলাদেশ জাতীয় লীগের চেয়ারম্যান ড. শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ, দেশপ্রেমিক নাগরিক পার্টির চেয়ারম্যান আহছানউল্ল্যাহ শামীম, ডিএসপির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন খান মজলিশ, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মজুমদার, সমাজসেবক কর্ণেল (অবঃ) ফরিদুল আকবর, বিশিষ্ঠ ইতিহাসবিদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এবং দলীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে দলীয় মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদার, স্থায়ী কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন আবুড়ী, অতিঃ মহাসচিব আকবর হোসেন পাঠান, কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, এড. আফতাব হোসেন মোল্লা, ইঞ্জিনিয়ার ওসমান গনী, খান আসাদ, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ অবাক হয়ে দেখেছে কিভাবে বিনা ভোটে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আর মধ্য রাতে ভোট করেও নির্বাচিত হওয়া যায়! ২০১৪ ও ২০১৮ সালের দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে এ কথা প্রমাণ হয়ে গেছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। শুধু আলোচ্য দুটি ভোটই নয়, দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত কোন নির্বাচনই সম্পূর্ণ বিতর্ক মুক্ত ছিল না। গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। একটি ইস্পাত কঠিন জাতীয় ঐক্যই পারে জনগণকে আবারও তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে। রাজনৈতিক দলগুলোর আসন ভাগাভাগি চুক্তির নাম জাতীয় ঐক্য নয়। জন সম্পৃক্ততা ছাড়া এ ধরণের ঐক্যবদ্ধতা মূল্যহীন। ব্যক্তি বা দল নয় বরং জনসাধারণের স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম এরকম বিশ্বাসযোগ্য দর্শনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক জোটই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। মুসলিম জাতিসত্তা একটি পরীক্ষিত ও প্রমাণিত রাজনৈতিক দর্শন যা তৎকালীন সময়ে বাহ্ম্রণ্যবাদীদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত কংগ্রেসের মত সর্বভারতীয় দলকে পরাজিত এবং ভারত বিভক্ত করে দুটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ অর্জন করতে পেরেছে। ৯০ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে ইসলামী ভাবধারা ও মুসলিম সংস্কৃতি অনুপস্থিত রেখে ভিন্ন কোন রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতে জনগণকে পূর্ণ আস্থাশীল করা অসম্ভব, যে কারণে ২০১৮ সালে ঐক্যফ্রন্ট ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নবাব সলিমুল্লাহর রাজনৈতিক দর্শন মুসলিম জাতিসত্তা আর ভূখণ্ডগত জাতীয়তাবাদের সমন্বয়ই একমাত্র, জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি কার্যকরী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম।