
অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
সাংবাদিকরা সংবাদের সোর্স (উৎস) প্রকাশে বাধ্য নন। সংবিধান ও আইন তাদের সে সুযোগ দিয়েছে। স্বপ্রণোদিত হয়ে জারি করা এক রুলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে এ মতামত দিয়েছেন বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো: ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
রায়ে আদালত বলেন, এটা বলতে দ্বিধা নেই যে, সাংবাদিকদের তথ্যের উৎস (সোর্স) প্রকাশ না করার ক্ষেত্রে আইন সুরক্ষা দিয়েছে। আদালত বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে দেয়া আছে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এটা গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আদালত বলেন, আধুনিক বিশ্বে জানার অধিকার সবারই আছে। রায়ে আদালত আরো বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
গণমাধ্যমের কাজ হলো জগণকে সজাগ করা। বর্তমান সময়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ছে। আর এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে হলুদ সাংবাদিকতা গ্রহণযোগ্য ও সমর্থনযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেন, সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে গণমাধ্যমের মনোযোগী হওয়া উচিত।
গত বছরের ২ মার্চ ২০ কোটিতে প্রকৌশলী আশরাফুলের দায়মুক্তি! দুর্নীতি দমনে দুদক স্টাইল’ শিরোনামে দৈনিক ইনকিলাবে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনা হলে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নথিপত্র তলব করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি প্রতিবেদককে তার তথ্য উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দেন।
এ রুলের শুনানিতে চলতি বছরের ২১ জুন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ইনকিলাবের প্রতিবেদনকে ‘মাফিয়া জার্নালিজম’ বলে প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চান। আর ইনকিলাবের প্রতিবেদকের পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির সংবিধানে থাকা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতার বিষয় এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সোর্স প্রকাশ না করার নীতির কথা তুলে ধরেন।
শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছিলেন, এটি আদালত অবমাননার মামলা নয়। আর সাংবাদিকের কোনো সংবাদের বিষয়ে অভিযোগ থাকলে আগে প্রেস কাউন্সিলের শরণাপন্ন হতে পারেন। সাংবাদিকের সংবাদের সোর্স আমরা জানতে চাইনি।
শুনানি শেষে উচ্চ আদালত রুল নিষ্পত্তি করে দেন। একই সাথে গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলম ও তার স্ত্রীর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন বিষয় অনুসন্ধানে আগের কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে নতুন কর্মকর্তার মাধ্যমে আবার অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ২৩ অক্টোবর রোববার প্রকাশিত হয়। ৫১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে ভারতের উচ্চ আদালতের রায়ের উদাহরণ তুলে ধরে আদালত বলেছে, আমাদের বলতে দ্বিধা নেই যে, সাংবাদিকরা তাদের সংবাদের সোর্স প্রকাশে বাধ্য নন। সংবিধান ও আইন তাদের সুরক্ষা দিয়েছে।












