
মেধা, দক্ষতা, দূরদর্শিতা এবং প্রগতিশীল চিন্তা-ভাবনায় বীমা শিল্পে সুপ্রতিষ্ঠিত করা দেশের অন্যতম জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোঃ জালালুল আজিম। বিসিএস ক্যাডার সহ দীর্ঘ ৩৫ বছরের বহুমূখী পেশাদারিত্বের অধিকারী মোঃ জালালুল আজিম তাঁর বর্ণিল কর্মজীবনের ২৫ বছর কাটিয়েছেন বীমা শিল্পে। এই প্রতিভাবান বীমা ব্যক্তিত্ব ২০১৩ সালে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রগতি লাইফে যোগদানের পূর্বে তিনি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও প্রগতি ইন্স্যুরেন্স লিঃ (সাধারণ) এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানের প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড কে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর গুনগত মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহন করেন মোঃ জালালুল আজিম।
মোঃ জালালুল আজিম ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড
মোঃ জালালুল আজিম ঢাকা বিভাগ থেকে এসএসসি ও ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি ১ম বিভাগে পাস করেন এবং ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি প্রকৌশল বিষয়ে ১ম শ্রেণীতে ১ম স্থান অধিকার করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৮৯-৯১ শিক্ষা বর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি আমেরিকার ‘লাইফ ম্যানেজমেন্ট ইনষ্টিটিউটের একজন ফেলো’ (FLMI) ও একই দেশের কাষ্টমার সার্ভিসেস ইনষ্টিটিউট থেকে “Professional, Customer Services” (PCS) ডিপ্লোমা লাভ করেন। বীমা শিল্পে যোগদানের পূর্বে মোঃ জালালুল আজিম ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১০ম বিসিএস উত্তীর্ণ হওয়া বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন ক্যাডার অফিসার ছিলেন। আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (অ্যালিকো, বর্তমান মেটলাইফ) তে যোগদানের মাধ্যমে বীমা শিল্পে কর্মজীবন শুরু করে বিভিন্ন দায়ীত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন এবং ২০০২-২০০৬ সাল পর্যন্ত Agency Director এর দায়িত্ব পালনসহ নিজ কর্মদক্ষতার জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি অ্যালিকো মিডেল ইস্ট, আফ্রিকা এবং সাউথ এশিয়া অঞ্চলের সেরা কর্মকর্তার সম্মানে ভূষিত হন। এছাড়া Agency Director এর দায়িত্ব পালন কালে ২০০২ ও ২০০৩ সালে টানা দুই বছর ALICO World এ সেরা Agency Director হিসেবে পুরস্কৃত হন।
পেশাগত প্রয়োজনে মোঃ জালালুল আজিম যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মেক্সিকো, বেলিজ, কেইমেন আইল্যান্ড, মিশর, তুরস্ক, পর্তূগাল, হাঙ্গেরী, ফ্রান্স, জার্মানী, গ্রীস, সুইজারল্যান্ড, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল ও ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি আইবিএ এলামনাই এসোসিয়েশন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচারিষ্ট, রোটারী ক্লাব অব ঢাকা এবং আর্মি গলফ ক্লাবের সদস্য এবং কে এন্ড কিউ (বিডি) লিমিটেড এর মনোনীত পরিচালক।

পারিবারিক জীবনে মোঃ জালালুল আজিম দুই কন্যা সন্তানের জনক এবং তার সহধর্মিনী একজন সুযোগ্য গৃহিনী। বহু প্রতিভার অধিকারী এই সফল বীমা ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশের বীমা পেশাজীবীদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তার স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মাঝে বীমা সুবিধা পৌঁছে দেয়া। এ লক্ষ্যে তিনি ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জন্য জীবন বীমা এবং দেশের সাধারণ জনগনের জন্য পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যবীমাসহ অনেক উদ্ভাবনী জীবন ঘনিষ্ঠ বীমা পরিকল্প চালু করেছেন। সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি যতগুলো বীমা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন, তার প্রতিটিতে মেধা ও দক্ষতার সমন্বয়ে বীমা শিল্পকে তথা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার চেষ্টা করেন।
দীর্ঘ কাজের ফাঁকে জীবনবীমা খাতের এই গুনি-ব্যক্তির সাথে দেশের জীবনবীমা শিল্পের সম্ভাবনা ও প্রতিকুলতা নিয়ে একান্ত আলাপচারিতায় আমি খোন্দকার জিল্লুর রহমান, সম্পাদক প্রকাশক, “অর্থনীতির ৩০ দিন” …

বীমা শিল্পে আসার পর আপনার প্রথম জীবনের অভিজ্ঞতা বা প্রথম জীবনের দিনগুলি কেমন ?

বীমা শিল্পে আমার কর্মজীবন শুরু হয় আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (অ্যালিকো)তে যোগদানের মাধ্যমে তবুও প্রথম অভিজ্ঞতা ছিল উত্তেজনা এবং কিছুটা অনিশ্চয়তার মিশ্রণ। একটি প্রতিষ্ঠিত বীমা কোম্পানিতে যোগদানের অর্থ হল আর্থিক পরিষেবা,ঝুঁকি এবং জটিলতার জগতে পা রাখা। আমি শিখতে এবং প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে অবদান রাখতে আগ্রহী ছিলাম, কিন্তু আমি এটাও জানতাম যে আমার অনেক কিছুর সাথে মানিয়ে নিতে হবে। অ্যালিকোয় যোগদানের পূর্বে আমি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিতে কর্মরত ছিলাম, ফলে বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজের অভিঙ্গতা আমার পূর্ব থেকেই ছিল। শুরুর দিনগুলিতে, কোম্পানির বীমা পরিকল্প, কাজের প্রক্রিয়া এবং সিস্টেমগুলির সাথে আমাকে পরিচিত করার জন্য প্রচুর ওরিয়েন্টেশন এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। আমি বীমার মৌলিক বিষয়গুলি, বিভিন্ন ধরনের পলিসি আন্ডাররাইটিং এবং দাবী প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা বোঝার জন্য অনেক কর্মশালা এবং সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছি। কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে আমি সবসময় আমার অবদান রাখতে চেয়েছি, সেই সাথে নিজের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করাও সেই সময় আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি দ্রুত উপলব্ধি করেছিলাম যে বীমা শিল্পে গ্রাহক সেবা এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জন খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিকভাবে, আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং থাকলেও আমি আমার কর্ম দক্ষতা দিয়ে সবার আস্থা অর্জন করেছি।

আপনার মতে বীমা শিল্পের প্রতি সাধারন মানুষের নেতিবাচক ধারনার এবং বীমা শিল্পের চাকুরিতে আসতে না চাওয়ার বা অনিহার কারন কি এবং কেন?

বীমা শিল্পের প্রতি আমাদের দেশের সাধারন মানুষের নেতিবাচক ধারনার অন্যতম কারন হলো আস্থার সংকট। এজেন্ট কর্তৃক গ্রাহকের প্রিমিয়াম আত্মসাৎ, সময়মত বীমা দাবি না পাওয়া, বীমা দাবি নিয়ে ভোগান্তি এবং বর্তমানে কিছু কোম্পানির অনিয়ম ও জালিয়াতি এই আস্থা সংকটের অন্যতম কারন। নানাবিধ নেতিবাচক ধারনা ও ইমেজ সংকটের কারনে বীমা শিল্পের চাকুরীতে আসতে অনীহা রয়েছে মানুষের।এই অনীহার আরও একটি অন্যতম কারন বীমা শিল্পের স্বল্প বেতন ও স্বল্প সুযোগ সুবিধা। অন্যান্য সেক্টরের তুলনায় বীমা শিল্পের বেতন কাঠামো, চাকুরীর ভবিষ্যত ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা তুলনামুলকভাবে কম হওয়ায় মানুষ এই সেক্টরে আসতে আগ্রহী হয় না।

চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইলের একটা দেশ হিসাবে কতগুলি বীমা কোম্পানি থাকা উচিতবলে আপনি মনে করেন ? এতগুলি কোম্পানি থাকার পরও শোনা যাচ্ছে আরো কয়েকটা কোম্পানি অনুমোদনের অপেক্ষায় পাইপ লাইনে, প্রকৃতভাবে এতগুলি কোম্পানির প্রয়োজনীয়তা আছে কি?

কোন দেশের আয়তনের উপর সে দেশে বীমা কোম্পানির সংখ্যা নির্ধারন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি যা বিশ্বের ৮ম বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ। বর্তমানে দেশে ৩৫টি লাইফ এবং ৪৬টি নন-লাইফসহ মোট ৮১টি কোম্পানি কাজ করছে। যদিও পাশ্ববর্তী দেশের জনসংখ্যা আমাদের তুলনায় সাড়ে ৮ গুন বেশী হওয়ার পরও সেখানে ২৪টি লাইফ এবং ৩১টি নন-লাইফসহ মোট ৫৫টি কোম্পানি কাজ করছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের বাজারের আকৃতি অনুযায়ী নিবন্ধিত বীমা কোম্পানির এ সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। তারপরও ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ১৪টি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে বীমা ব্যবসা পরিচালনার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে দুইটি বা তিনটি কোম্পানী আশানুরূপ ব্যবসা অর্জন ব্যতিত অন্যান্য কোম্পানির লাইফ ফান্ড হতাশাজনক, বীমা গ্রাহকদের দাবীর টাকা পরিশোধে গড়িমসি করে সময় মত দাবি পরিশোধ না করা, ইত্যাদি বীমা শিল্পের ইমেজ নষ্ট করছে। এছাড়া বীমাশিল্পে দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে, বর্তমানে অধিকাংশ কোম্পানিতে দক্ষ জনবল সঙ্কট যথাযথ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন কোনো লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি অনুমোদনের কোন যুক্তিক কারন আছে বলে আমি মনে করি না।

বর্তমানে প্রায় ৯/১০টা জীবন বীমা কোম্পানির নাজুক অবস্থা, এ সময়ে আমাদের দেশের জীবন বীমা এবং এর অবস্থা-অবস্থান ও সম্ভাবনা সম্পর্কে আপনার মতামত কি? নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে আইডিআরএ’র ভুমিকা সঠিক বলে মনে করেন কিনা?

দেশের জীবন বীমা খাত বর্তমানে বেশ অস্বস্থি রয়েছে, ৯/১০টি কোম্পানি বেশ নাজুক অবস্থার সম্মুখীন। মূলত বীমাখাতে শৃঙ্খলার অভাব এবং সঠিক পর্যবেক্ষণ ও তদারকির অভাব এর অন্যতম কারন, এছাড়া মালিকপক্ষের অনাকাঙ্খিত হস্তক্ষেপ অধিকাংশ কোম্পানির বিপর্যয়ের মূল কারন। সৌভাগ্যক্রমে, বীমা উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করছে এবং এই সকল কোম্পানি সমূহকে একটি সিস্টেমের মধ্যে আনার চেষ্টা করছে। তারা দূর্দশাগ্রস্থ কোম্পানি সমূহকে জরিমানা করছে এবং সেইসাথে তাদের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ করছে। এ সবই সঠিক পদক্ষেপ, তবে এই বিষয়ে আরও অনেক কাজ করতে হবে। জীবন বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে পর্যবেক্ষন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কঠোর ও কার্যকরী প্রবিধান প্রনয়ন ও প্রয়োগ করা প্রয়োজন, যাতে নাজুক অবস্থার সম্মুখীন কোম্পানিসমূহ এবং তাদের দূর্নীতিগ্রস্থ মালিকদের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ থেকে সাধারন গ্রাহকদের আমানতের হেফাজত করা যায়। প্রয়োজন হলে দুই/তিনটি কোম্পানিকে একত্রিকরন বা মার্জ করা যেতে পারে। আমি মনে করি, বীমা খাতের বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দ্রুত সুচিন্তিত ও বলিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

প্রায় শতভাগ কোম্পানিই ডিজিটাল হওয়ার পথে, এতেকরে জনগনকে শতভাগ তথ্য আদান-প্রদানের ও লেনদেন নিশ্চিত করতে পারতেছে কি না এবং কোম্পানিগুলি কতটুকু উপকৃত হয়েছে বলে মনে করেন।

ডিজিটালাইজেশন বীমা শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে, যা আমাদের তথ্য আদান-প্রদানকে সহজ ও দ্রুততর করেছে এবং জনসাধারণকে আরও ভালোভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। যদিও ১০০% পরিপূর্ণতা অর্জন করা এখনও সম্ভব হয়নি। তার পরেও আমরা ওয়েবসাইট, অ্যাপস, ই-মেইল, সোশ্যাল মিডিয়া, চ্যাটবট এবং টেক্সট মেসেজ ব্যবহার করে গ্রাহকদের সাথে কার্যকরভাবে সংযুক্ত হতে পারছি। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল লেনদেন মাধ্যমগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, প্রিমিয়াম প্রদান সহজ করার পাশাপাশি, গ্রাহকের প্রিমিয়াম আত্মসাৎ হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সেই সাথে গ্রাহকের বীমা দাবী দ্রুততার সাথে প্রেরণ করা সম্ভব হচ্ছে, এছাড়া শীঘ্রই বীমা শিল্পে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি সিঙ্গাপুর জেনারেল ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক অ্যান্টি-ফ্রড ইন্স্যুরেন্স সলিউশন- শিফট ক্লেইমস ফ্রড ডিটেকশন (এসসিএফডি) এর ব্যবহার শুরু করেছে। ভ্রমণ বীমায় প্রতারণা সনাক্তকরণকে সহযোগিতা করার জন্য এই কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই ভাবে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজন বীমা দাবি, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং বীমা পরিকল্পের মূল্য নির্ধারণের মতো জটিল প্রক্রিয়াগুলিকে দ্রুততর ও নির্ভূল করতে পারে। এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতিগুলি আমাদের দক্ষতার সাথে ব্যবহারে আনতে হবে, এতে বীমা কোম্পানিসমূহের কাজের সুবিধার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে গ্রাহকদেরকে উন্নত সেবা প্রধান সম্ভব হবে।

লাইফ ফান্ড নিয়ে বীমা কোম্পানিগুলির যে বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, এ থেকে পরিত্রানের উপায় কি? লাইফ ফান্ডের ক্ষেত্রে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানিগুলি অনেক পিছিয়ে পড়ে আছে, কি কারনে তাদের এই অবস্থা বলে মনে করেন?

জীবন বীমা কোম্পানির জন্য লাইফ ফান্ড একটি অপরিহার্য বিষয়। লাইফ ফান্ড বৃদ্ধি জন্য দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়, সেই সাথে ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা, টেকসই ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন করার পাশাপাশি এর অপব্যবহার রোধ প্রয়োজন। প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর সাথে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানিগুলোর লাইফ ফান্ডের তুলনা করাটা কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক। কারণ প্রথম ও দ্বিতীয়
প্রজন্মের কোম্পানিগুলো যখন ব্যবসা শুরু করেছে তখন ব্যবসা পরিচালনা কিছুটা সাশ্রয়ী ছিল, এর ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের অধিকাংশ কোম্পানির বিশাল লাইফ ফান্ড তৈরী হয়েছে। অপরদিকে তৃতীয় চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানিগুলো যখন থেকে ব্যবসা শুরু করেছে তখন থেকে ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং এই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে বিশাল অংকের লাইফ ফান্ড সংগ্রহ করা তৃতীয় চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানিগুলোর জন্য বেশ কঠিন। এছাড়াও তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যবসায়ীক পরিকল্পনার অভাবের পাশাপাশি
লাইফ ফান্ডের অপব্যবহার এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্র সীমিত হওয়ায় তাদের লাইফ ফান্ড এর উপর বিরুপ প্রভাব ফেলেছে।

জীবন বীমার ক্ষেত্রে শিক্ষিত সমাজের অনিহার কারন কি কি এবং এই শিক্ষিত সমাজকে বীমার আওতায় আনতে হলে কোম্পানিগুলির কি কি ভুমিকা অবলম্বনের প্রয়োজন বলে মনে করেন?

বীমা শিল্পের প্রতি আমাদের দেশের সাধারন মানুষের অনিহার অন্যতম কারন হলো আস্থার সংকট । এজেন্ট কর্তৃক গ্রাহকের প্রিমিয়াম আত্মসাৎ, সময়মত বীমা দাবি না পাওয়া, বীমা দাবি নিয়ে ভোগান্তি এবং বর্তমানে কিছু কোম্পানির অনিয়ম ও জালিয়াতি এই আস্থা সংকটকে প্রকট করেছে। একটি শিক্ষিত সমাজকে বীমার আওতায় আনার জন্য কোম্পানিগুলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বীমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি জীবন এবং স্বাস্থ্য বীমা সহ বীমার গুরুত্ব এবং এর বিভিন্ন ইতিবাচক দিক সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। প্রতিটি কোম্পানির উচিত জীবন ঘনিষ্ঠ বীমা পণ্য ডিজাইন করা যা শিক্ষিত সমাজের নির্দিষ্ট চাহিদা পূরণ করতে সমর্থ হয়। জীবন বীমার সঞ্চয়ী পরিকল্প গুলোর পাশাপাশি ঝুকিঁ নির্ভর বীমা পরিকল্প প্রচলন করতে হবে। কোম্পানিগুলিকে তাদের বীমা পরিকল্প, কভারেজ, প্রিমিয়াম এবং শর্তাবলী সম্পর্কে স্পষ্ট এবং সহজে বোধগম্য তথ্য প্রদান করা উচিত। ডিজিটাল প্লাটফর্ম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষিত ব্যক্তিদের জন্য বীমা অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা যেতে পারে। সর্বোপরি, শিক্ষিত গ্রাহকদের ধরে রাখার জন্য চমৎকার গ্রাহক সেবা প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ সামগ্রীক ভাবে, বীমা শিল্পে একটি সুন্দর ইমেজ তৈরী করার জন্য দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা-কর্মচারি নিয়োগ দিতে হবে এর পাশাপাশি কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে কোম্পানির মেধাবী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রদান করতে হবে এবং বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম জমার পরবর্তিতে ক্রমান্ময়ে ২য়/৩য়… প্রিমিয়াম সংগ্রহে কি কি সমষ্যাগুলি তৈরি হয় ? পরবর্তিতে মেয়াদপুর্তিতে দাবি আদায়ে কোম্পানিগুলির গ্রাহক হয়রানির কারন কি?

প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম জমার পরবর্তীতে দ্বিতীয়, তৃতীয় বছরে প্রিমিয়াম বা রিনিউয়াল প্রিমিয়াম সংগ্রহের ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো হল রিনিউয়াল প্রিমিয়াম সংগ্রহে বীমাকর্মী কম কমিশন প্রাপ্তিতে প্রিমিয়াম সংগ্রহে আগ্রহের অভাব পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া গ্রাহকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা বিবেচনা না করে পলিসি গ্রহন। কোম্পানির কর্তৃক বীমা গ্রাহকপর্যায়ে পর্যাপ্ত যোগাযোগের অভাব, গ্রাহকদের অনেকক্ষেত্রে প্রিমিয়াম পরিশোধের সঠিক পদ্ধতি বা নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে উদাসীন থাকা ইত্যাদি। এছাড়া মেয়াদপুর্তিতে দাবি আদায়ে কোম্পানিগুলির গ্রাহক হয়রানির মূল কারন কিছু কোম্পানির লাইফ ফান্ড নেতিবাচক, তাই বীমা গ্রাহকদের দাবির টাকা পরিশোধে নানা ধরনের গড়িমসি করাসহ সময় মত দাবি পরিশোধ করতে পারেনা। এই জন্য প্রিমিয়াম সংগ্রহ এবং দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াগুলিতে গ্রাহক সেবা, এবং স্বচ্ছতা অগ্রাধিকার দেওয়া বীমা কোম্পানিগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সময়মত গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ এবং ন্যায্য ভাবে সময়মত দাবি নিষ্পত্তির অনুশীলন গ্রাহকের মধ্যে বিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। একইভাবে, গ্রাহক তাদের বীমা পলিসি পরিচালনার ক্ষেত্রে সক্রিয় থাকা উচিত ও সময় মত তাদের প্রিমিয়াম প্রদান করা উচিত। গ্রাহককে মনে রাখতে হবে বীমাদাবি পাওয়ার একটি অন্যতম প্রধান শর্ত হল নিয়মিতভাবে প্রিমিয়াম পরিশোধ করা।

পলিসি তামাদি হওয়ার কারনগুলি কি, এবং তামাদি পলিসি নিয়ে আপনাদের ও গ্রাহকদের কি কি সমষ্যায় পড়তে হয় এবং পরিত্রানের উপায় কি ? তামাদি পলিসির ফান্ড কোম্পানিগুলি কি কাজে ব্যবহার করে বা কি অবস্থায় আছে?

যখন একটি বীমা পলিসির প্রিমিয়াম সময়মতো পরিশোধ করা হয় না এবং বীমা কোম্পানি কর্তৃক নির্ধারিত গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যায়, তখন পলিসিটি তামাদি বলে বিবেচিত হয়। পলিসি তামাদি হওয়ার পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গ্রাহকের আর্থিক সামর্থ্যের বাইরে বীমা পলিসি নেওয়া, বীমা এজেন্টদের অপর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান, কোম্পানি কর্তৃক গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ না করা এবং সঠিকভাবে প্রিমিয়াম প্রদান পদ্ধতি এবং সময়সীমা সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতনতার অভাব। তামাদি পলিসি থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রয়োজন সঠিক তথ্য দিয়ে গ্রাহককে তার প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত বীমা পলিসি গ্রহণে সহায়তা করা, গ্রাহককে ডিজিটাল পদ্ধতি এর মাধ্যমে বীমা প্রিমিয়াম জমা প্রদানে উৎসাহিত করা, কোম্পানি কর্তৃক বীমা এজেন্টদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদান এবং গ্রাহকগণেরও সময়মত প্রিমিয়াম পরিশোধের বিষয়ে সচেতন থাকা। এছাড়া যে সেকল কোম্পানির তামাদি পলিসির সংখ্যা অত্যন্ত বেশী তাদের উচিত তাদের ব্যবসা সংগ্রহের পদ্ধতি পর্যালোচনা করার মাধ্যমে তামাদি পলিসি থেকে পরিত্রাণের উপায় নির্ণয় করতে পারবেন। বীমা কোম্পানির জন্য প্রথম বছরের প্রিমিয়ামের অধিকাংশই ব্যবসা সংগ্রহের জন্য বরাদ্দ করা হয়, এবং পরবর্তী বছরের প্রিমিয়ামগুলি বীমা কোম্পানির লাইফ ফান্ড তৈরিতে অবদান রাখে। পলিসি তামাদি হয়ে গেলেও অনেক বেশি সংখ্যক তামাদি পলিসি একটি জীবন বীমা কোম্পানির অস্থিত্বকে ঝুকির মধ্যে ফেলতে পারে।

সাধারন মাঠকর্মী থেকে লম্বা সময়, কঠোর পরিশ্রম এবং অনেকগুলি স্তর পেরিয়ে একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়া পর্যন্ত আপনার সফলতাগুলি কি কি এবং ব্যর্থতা থাকলেও বলুন ।

বীমা শিল্পে কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার সাথে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল। আমি জানতাম যে সাফল্যের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা এবং শেখার প্রয়োজন হবে। আমি আমার কাজে ধারাবাহিক সাফল্যের উপর দৃষ্টি দিয়েছি, যা আমাকে আমার সহকর্মী এবং উর্ধ্বতনদের কাছ থেকে স্বীকৃতি এবং সম্মান অর্জনে সহায়তা করেছে। আমার স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মাঝে বীমা সুবিধা পৌঁছে দেয়া। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জন্য জীবন বীমা এবং দেশের সাধারণ জনগনের জন্য পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যবীমাসহ অনেক উদ্ভাবনী জীবন ঘনিষ্ঠ বীমা পরিকল্প চালু করেছি। তাছাড়া কর্মজীবনে আমি যতগুলো বীমা প্রতিষ্ঠানে মুখ্য নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, তার প্রতিটিতে আন্তরিকতার সাথে বীমা শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার জন্য চেষ্টা করেছি। তেমন কোন ব্যার্থতা নেই, তবে বীমা শিল্পের নেতিবাচক সংবাদগুলো আমাকে আহত করে।

অর্থনীতির ৩০ দিন সম্পর্কে কিছু বলুন ।

অর্থনীতির ৩০ দিন পত্রিকাটি দেশের ব্যাংক, বীমা, শিল্প বিষয়কসহ তথ্যবহুল অর্থনীতি, দেশ ও সমাজ উন্নয়নের জন্য ভুমিকা রাখছে এবং ভবিষ্যতে এই ধারা বজায় থাকবে বলে আমি আশা করি।

আপনাকে ধন্যবাদ ।
আপনাকেও ধন্যবাদ











