বন্ডের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনীতি

আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশির উদ্দিন

ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি পণ্যের বাংলাদেশে মোট চাহিদা ৭০-৮০ হাজার টনের ওপরে। এ খাতে আকিজ বায়াক্সের বিনিয়োগ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা, যার শুরুটা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সম্প্রতি এ শিল্পের বিকাশ, সক্ষমতা, প্রতিবন্ধকতাসহ সার্বিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে আলাপচারিতায় ছিলেন আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশির উদ্দিন।
অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
বাংলাদেশের ভোগ্যপণ্য র্যাপিং ম্যাটেরিয়ালে বিবর্তন খেয়াল করলে দেখবেন এটা শুরু হয়েছে আশির দশকে। এর আগে পণ্যসামগ্রী সেলোফিন বা কাগজে মোড়কীকরণ হতো। দেশে আশির দশকের শেষ দিকে ফ্লেক্সিবল ইন্ডাস্ট্রিটা তৈরি হয়। নব্বইয়ের দশকে এটা দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে দুধের প্যাকেজিং বা বিভিন্ন ফুড ম্যাটেরিয়াল প্যাকেজিং শুরু হয়। এর পরই এর ব্যবহার বাড়ে ব্যাপক হারে। কৃষিবীজ থেকে শুরু করে স্ন্যাকস ফুড প্যাকেজিং, কনজিউমার প্যাকেজিংসহ অনেক এরিয়ায় এর ব্যবহার শুরু হয়। তখনই এ শিল্পের আকার বাড়তে থাকে। ২০১০ সালের দিকে আমরা চিন্তা করি, এটা একটা বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প। এখানে অভ্যন্তরীণ পণ্যদ্রব্যের চাহিদা রয়েছে। সেটার ওপর ভিত্তি করেই আমরা প্রথমে প্রকল্পটা করি। চাহিদা থাকলেও এ খাতে তখন পর্যন্ত কেউ বিনিয়োগ করেনি। কারণ এটা একটু বেশি উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন প্রডাক্ট এবং বিনিয়োগের পরিমাণও বড়। প্রযুক্তিগতভাবেও এটা বেশ আধুনিক ও কমপ্লিকেটেড। তাই আমরা একটু সময়ও নিই প্রকল্প বিশ্লেষণের জন্য। তারপর যখন কনভিন্সড হলাম, এটা আমাদের করা উচিত, পর্যায়ক্রমে তখন বিনিয়োগ করলাম। বায়াক্সে আমাদের প্রাথমিক বিনিয়োগ সম্ভবত ২০১৫ সালের দিকে। আর ২০১৯ সালে হয় ইউনিট সম্প্রসারণ। আমাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য গ্লোবাল এক্সপার্টদের যুক্ত করি। তবে চিন্তার একটা বিষয় ছিল, দক্ষ অপারেটর কোথায় পাব। এখানে সৌভাগ্যের কথা হলো সৌদি আরবের একটি ফ্যাক্টরি পেয়ে যাই, যেখানে সুপারভাইজার থেকে ওয়ার্কার লেভেলে কাজ করেন বাংলাদেশীরা। পুরো টিমটাকেই বললাম, আপনারা একই স্যালারিতে কাজ করবেন, কিন্তু থাকবেন বাংলাদেশে। সবাই অফারটা পছন্দও করলেন। ওই বিশেষজ্ঞদের আমরা দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এলাম। বিদেশ থেকে সুপারভাইজারের ওপরের লেভেলের লোকদের এনে প্রকল্পটা শুরু করি। মূলধনি বিনিয়োগ ও মার্কেট ইনভেস্টমেন্ট—সব মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এখানে আমাদের। সরসারি প্রায় ৫০০ মানুষের চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে। আমরা এখানে বেস্ট প্রডাক্টটাই উৎপাদন করছি, যেটা বিশ্বের যেকোনো বেস্ট প্রডাক্টের সঙ্গে প্রতিযোগিতার যোগ্য। এ কথা বলতে পারছি কারণ আমাদের পণ্য বর্তমানে ইতালি, পোল্যান্ড, ফ্রান্স, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, ভারতসহ ২০টিরও অধিক দেশে রফতানি করছি। তার মানে আমাদের পণ্য সত্যিকারভাবেই বিশ্বমানের।
স্থানীয় বাজারে অভিজ্ঞতা
স্থানীয় বাজারে এ পণ্যের আকারটা এতই বড় যে রফতানির খুব একটা প্রয়োজন নেই। কিন্তু স্থানীয় বাজারে আমরা প্রতিযোগিতা করতে পারছি না। কারণ আমাদের কাঁচামালের ওপর আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ট্যাক্স আছে। আর যে ফিনিশ প্রডাক্টটা আমরা বিক্রি করি ওইটা যদি ইমপোর্টেড হয় সেখানে মাত্র ১০ শতাংশ ট্যাক্স, সঙ্গে আছে আরডি (রেগুলেটরি ডিউটি)। ইফেক্টিভ ট্যাক্স ডিফারেন্স মাত্র ১০ শতাংশ। একটা স্থানীয় উৎপাদনে ১০ শতাংশ ট্যাক্স পার্থক্যটা আসলে কোনোভাবেই জাস্টিফাইয়েবল নয়। যদিও এ ট্যাক্সের সঙ্গে ভ্যাট আছে ১৫ শতাংশ। এছাড়া এআইটি (অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স) আছে। সব মিলিয়ে দেখা যায় ২৫-৩০ শতাংশ পড়ে। মূল ট্যাক্সটা অ্যাডজাস্টেবল নয়, কিন্তু বাকিটা অ্যাডজাস্টেবল। এর চেয়েও যে বড় সমস্যা আমরা ফেস করছি সেটা হচ্ছে বন্ডের ইমপোর্ট। রফতানির কথা বলে আমদানি করে এর প্রায় পুরোটাই স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দেয়া হয়। বন্ডের প্রডাক্ট যারা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন তারা আসলে শুধু প্রয়োজনীয় ট্যাক্স-ভ্যাট দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা করছেন।
আমাদের প্রকল্পের ৫০ শতাংশ খুব কষ্ট করে কাজে লাগাচ্ছি। সেখান থেকে ৩০ শতাংশ রফতানি করতে পারছি এবং ৭০ শতাংশ বিক্রি করছি স্থানীয় বাজারে। পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে যেটা হচ্ছে, বন্ডের প্রাইসও ফলো করতে হচ্ছে। কারণ বিওপিপির (দ্বিমুখী পলিপ্রোপিলিন) বাণিজ্যিক আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশের অধিক হয় বন্ডের আওতায়। তাই ওরা যেহেতু ট্যাক্স ফ্রি ইমপোর্ট পায়, আমরা কোনোভাবেই দাম বিবেচনায় প্রতিযোগিতা করতে পারছি না। মার্কেটের বড় অংশই তাদের দখলে। আমরা এক বছরেই মাত্র ২৫ শতাংশ বাজার অংশীদারি সত্ত্বেও ১০০ কোটি টাকার ওপর ট্যাক্স অ্যান্ড ভ্যাট দিয়েছি। তাই এটা সহজেই বোঝা যায় যে সরকার যদি বন্ডকে রেগুলেট করতে পারে তাহলে এটা ৫০০ কোটি টাকার ওপরে উঠে যেতে পারে।
আরো মজার বিষয় হচ্ছে, ৫০০ কোটি টাকা আসলে বিশাল বরফখণ্ডের ছোট একটা অংশ কেবল। আসল তথ্য হচ্ছে, এটা সাধারণত একটা পণ্যের র্যাপিং ম্যাটেরিয়াল। আর দাম মূল পণ্যের ২-৪ শতাংশের বেশি হবে না। যখন এ ২-৪ শতাংশ মূল্যের র্যাপিং পণ্যে সে ভ্যাট দিচ্ছে না, তখন আসলে ৯৫ শতাংশ মূল্যমানের মূল প্রডাক্টেও ভ্যাট দিচ্ছে না। তাই ওইটাকে যদি আমলে নেন তাহলে কয়েক হাজার কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি হচ্ছে শুধু বন্ড থেকে।
এছাড়া পরিষ্কারভাবে এ সেক্টরের অনেক বৈষম্য দেখা যায়। আমরা এ খাতে তিন ধরনের পণ্য করছি। বাংলাদেশে যার মোট চাহিদা ৭০-৮০ হাজার টনের ওপরে, সেখানে আমরা বর্তমানে ২৫ টনেরও কম পণ্য বিক্রি করছি। এখানে যদি ফেয়ার রেগুলেশন হয়, তাহলে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা শুল্ক বাড়বে। স্থানীয় এ বিনিয়োগ সুরক্ষিত হবে এবং অন্যান্য বিনিয়োগকারীও আগ্রহী হবেন খাতটিতে লগ্নির জন্য, যার মাধ্যমে লোকাল ইন্ডাস্ট্রি ও ইকোনমি আরো শক্তিশালী হবে।
আরেকটা কথা আমি বলতে চাই, কভিডের সময় আমরা দেখেছি সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়া খুব মারাত্মক ফল আনতে পারে। আপনার যদি একটাও লোকাল ইন্ডাস্ট্রি না থাকে, তাহলে যে ভোগ্যপণ্য, খাদ্যপণ্য সেগুলোয় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। এটি দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যেটি দেশের খাদ্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্য মোড়কীকরণের চাহিদার জোগান দেয়। তাই দেশের স্বার্থেই এটাকে টিকিয়ে রাখা জরুরি।
বন্ড সুবিধার কার্যকারিতা সম্পর্কে আপনার মতামত
বন্ড সুবিধার আওতায় যে ম্যাটেরিয়ালগুলো হয়, চাইলে যে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এর একটি বড় উদাহরণ হচ্ছে কাগজ। বাংলাদেশে কাগজ শিল্পে ভালোই অগ্রগতি হয়েছে এবং হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে, এ খাতে বন্ডের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। না হলে বাংলাদেশের কাগজ শিল্প ধ্বংস হয়ে যেত। মূলত কাগজের ব্যবসা যারা করেন তারা বন্ড কর্তৃপক্ষের সাহায্য ও সহযোগিতা পেয়েছেন এবং এটাকে মেটানো গেছে।
তাই খাদ্যপণ্য প্যাকেজিংয়ের এ ইন্ডাস্ট্রিতেও চাইলেই সমস্যাটি সমাধান করা যায়। একটা বিষয় হচ্ছে রফতানি বাণিজ্যে মূল উপাদান দক্ষতা। বন্ড অবশ্যই রফতানি শিল্পে দক্ষতা বাড়াবে। সেজন্য এটাও দরকারি। কিন্তু এটা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করাও দরকার। যারা বন্ডের এ ম্যাটেরিয়াল কেনে, তারা কিন্তু কখনই আমাদের কাছ থেকে কেনেনি। অনেক চেষ্টা করেছি, আমরা তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে অনেক বেশি আগ্রহী। যখন দেখলাম যে এ ইন্ডাস্ট্রিতে পণ্য বিক্রি করতে পারছি না, তখন আমরা চিন্তা করলাম যে বিওপিপি দিয়ে টেপ বানাই। সঙ্গে সঙ্গে একটু ভলিউম পেতে আমরা টেপের ফ্যাক্টরি করে ফেললাম। কারণ কোনো রকমে চলতে পারছিলাম না। টেপ বানাতে গিয়ে চিন্তা করলাম আমাদের ফিল্ম আছে, একটা টেপের কোটিং লাইন কিনে ফেলি। খরচ কমানোর জন্য একটা গ্লু ফ্যাক্টরিও করি। তাই আমাদের নিজেদের ফিল্ম, গ্লু, ফ্যাক্টরি, কোটিং লাইন, সিটিং অ্যান্ড কোটিং মেশিন—সবকিছু করে অনেক টাকা খরচ করে ফেললাম। আমাদের মাসিক ক্যাপাসিটি ওই লাইনে ৬০০ টন। অথচ আজকে দুই বছর হয়েছে টোটাল ৫০ টন ম্যাটেরিয়াল বিক্রি করতে পারিনি, যেখানে আমাদের বছরে ছয়-সাত হাজার টন ম্যাটেরিয়াল বিক্রি করার কথা। এর কারণ শুধু কস্ট ডিফারেন্স। এটা অনেক বিশাল। এটার কারণ এই নয় যে আমরা দক্ষ নই; আমরা অনেক বেশি দক্ষ। বাংলাদেশের ৪০০ বিলিয়ন ডলারের ইকোনমি, সেখানে একটা টেপের ফ্যাক্টরি চলবে না। এটা খুবই লজ্জার বিষয়। মূলত টেপ শিল্পটা পুরোপুরি বন্ডের সাপ্লাইয়ের ওপর নির্ভরশীল। এটা এতই আনরেগুলেটেড যে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমরা নিজেরা নৈতিকভাবে নিজেদের কাছে ছোট হয়ে যাচ্ছি। আমরা ব্যর্থ হচ্ছি আমাদের পণ্য বিক্রির দাম অনেক বেশি বলে।
বন্ড সুবিধার অপব্যবহার নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনায় তাদের সহযোগিতা কেমন পাচ্ছেন
আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন রেগুলেটরি স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে দেখা করেছি, ওনাদের বিষয়টা বুঝিয়ে বলেছি। তারা আমাদের সাহায্যও করেছেন। ওনারা চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ওনাদের অনেক ধরনের অগ্রাধিকার থাকে। ওনারা যখন সাহায্য করেছেন তখন ক্ষণিকের জন্য মার্কেটে আমাদের চাহিদাও দেখতে পেয়েছি। কিন্তু যখনই আবার একটু শিথিলতা চলে আসে তখনই আবার যে তিমিরে ছিলাম সেই তিমিরেই চলে যাই। ফিসকল পলিসিতে বন্ডের রেগুলেশনসে আমরা দিতে পারছি না বা আমাদের মূল্য বেশি—এ রকম দুটো সার্টিফিকেট নিয়ে ওনারা যদি বন্ডের মাধ্যমে আমদানি করেন তাহলেও আমরা খুশি হব। এমন নয় যে আমাদের মূল্য অনেক বেশি বা আমরা সরবরাহ করতে সক্ষম নই। আমাদের প্রত্যাশা হলো একটি লেভেল ও ফেয়ার প্লেয়িং ফিল্ড। এটা আমরা আমাদের রেগুলেটরদের কাছ থেকেও চাই।
বন্ডের অপব্যবহার প্রেক্ষাপটে ফ্লেক্সিবল ইন্ডাস্ট্রির সম্ভাবনা সম্পর্কে আপনার মতামত
আমি মনে করি দুটো জিনিস—একটি দেশের ন্যাশনাল ক্যাপের একটা ক্যাপাসিটি যেকোনোভাবেই থাকা উচিত। কভিড সেটা প্রমাণ করেছে। দ্বিতীয় হচ্ছে এটা খুব টেকনিক্যাল প্রডাক্ট এবং বিশ্বে যে পরিবেশগত এজেন্ডাগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে এখানে স্থানীয় রিসোর্স থাকা উচিত।
আপনি যদি নম্বর নিয়ে কাজ করেন তাহলে দেখবেন, আমরা ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার কোটি টাকারা মতো ফিল্ম প্রতি বছর আমদানি করি। যদি বন্ডকে কন্ট্রোল করা যায় তাহলে বিপুল পরিমাণ এ টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা আছে। এখানে পুরোটা নয়, কারণ ম্যাটেরিয়াল আমদানির বিষয়টা বাদ দিতে হবে। তাহলে আপনি ৭০০ থেকে হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন। এটা দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান। আমি যখন বলছি, পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোয় রফতানি করছি তাদের ফুড রেগুলেশনসহ নানাবিধ বিষয় মেনে নিয়ে। তাই সেটা বাংলাদেশে চলতে না পারার তো কারণ নেই। তাই এ জিনিস আমদানি করার কোনো প্রয়োজন নেই।
ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশগত ও পুনরায় ব্যবহারযোগ্যতা কীভাবে নিশ্চিত করছেন
এটা খুব ভালো প্রশ্ন। বিশ্বের এখন একটা এজেন্ডা রয়েছে রিসাইকেল। অনেক মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যায় রিসাইকেল করার কথা বললে। কিন্তু পৃথিবী এখন বুঝতে পেরেছে, আপনি এ পলিমার থেকে সম্পূর্ণরূপে বাইরে যেতে পারবেন না। এটা ইকোসিস্টেমের একটি অংশ, যা প্রতিনিয়ত পুনরায় ব্যবহার হবে। রিসাইকেলেবিলিটিতে পারদর্শী করতে বিশ্ব মনোলেয়ার ফিল্মের দিকে ঝুঁকছে। ফিল্মের ম্যাটেরিয়ালের ভিন্ন ভিন্ন ঘনত্ব আছে। বিভিন্ন প্রকার পণ্যের নিরাপত্তার জন্য ফুড প্যাকেজিংয়ে মাল্টি লেয়ার ও কমপ্লেক্স লেয়ার ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে ভ্যাপর, অক্সিজেন, সানলাইট প্রটেকশন ইত্যাদির মাধ্যমে খাদ্য ও অন্যান্য সবকিছু যথোপযুক্ত রাখা হয়। মনোলেয়ার করার ফলে এটিকে রিসাইকেলও করা যায় সহজে। যেটা হচ্ছে সেটা হলো সার্কুলার। আমাদের কারখানা ও ল্যাবে সে ধরনের সক্ষমতা আছে। যেসব কোম্পানি সার্কুলার ইনিশিয়েটিভ নিয়ে কাজ করে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই এবং তাদের যথোপযুক্ত সমাধান দিতে চাই। আমাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠান অলরেডি সার্কুলার। আমাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যত ধরনের ওয়েস্ট হয় এটা আমরা পুরোপুরিভাবে কনজিউম করি। আমরাও খুশি হব যদি কোনো ফুড কোম্পানি আসে এবং তারা সার্কুলার হতে চায়। তাদের জন্য আমাদের কাছে প্রযুক্তিগত সমাধান আছে। আমরা যে প্রতিষ্ঠানটা গড়ে তুলেছি এটা প্রযুক্তির বিবেচনায় আধুনিকতম।
সুত্র : বনিকবার্তা