“দাম কমবে / দাম বাড়বে “

২০২১-২০২২ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু পণ্যের কর হার কমানো হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে।

অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :-

যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে তার মধ্যে রয়েছে, মাইক্রোবাস : সিসিভেদে মাইক্রোবাস আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। তাই মাইক্রোবাসের দাম কমতে পারে।

হাইব্রিড গাড়ি : হাইব্রিড গাড়ির সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে। তাই জ্বালানিবান্ধব গাড়ির দাম কমতে পারে।
ইস্পাত : ইস্পাতের ওপর সুনির্দিষ্ট শুল্ক টনপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।

ক্যান্সারের ওষুধ : ক্যান্সারের ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালে আবার শুল্ক ছাড় দিয়েছে সরকার। এতে ক্যান্সারের ওষুধ উৎপাদনে ব্যয় কমবে। এ ছাড়া ওষুধশিল্পের আরও কিছু কাঁচামালে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে।

মেডিকেল ডিভাইস : বেশ কিছু মেডিকেল যন্ত্রাংশ উৎপাদনে উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

দেশি এলপিজি সিলিন্ডার : দেশে এলপিজি সিলিন্ডার উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

স্যানিটারি ন্যাপকিন : দাম কমতে পারে। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশে উৎপাদিত ন্যাপকিনের সমুদয় মূল্যসংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দুই বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে।

করোনার কিট : সুরক্ষা সামগ্রীতে শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা আগেই ছিল। এবার করোনা শনাক্তের আরটি-পিসিআর কিট তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে।

শৌচাগারের প্যান : গ্রামের মানুষের স্যানিটেশন সুবিধা বাড়াতে দেশে উৎপাদিত লং প্যানের সম্পূরক শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ছিল।

অটিজম সেবা : এ সেবার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মেডিটেশন সেবার ওপর।

ডায়ালাইসিসের টিউব : ডায়ালাইসিস সেবায় ব্যবহার করা ব্লাড টিউবিং সেটের কর কমানো হয়েছে।

মুড়ি : উৎপাদন পর্যায়ে মুড়ির ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাই প্যাকেটজাত মুড়ির দাম কমতে পারে।

তাজা ফল : ব্যবসায়ী পর্যায়ে ফলের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাই ফলের দাম কমতে পারে।

কৃষি যন্ত্রপাতি : বাজেটে ইউডার (নিড়ানি) ও উইনোয়ারের (ঝাড়াইকল) উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে থ্রেসার মেশিন, পাওয়ার রিপার, পাওয়ার টিলার, অপারেটেড সিডার, কম্বাইন হারভেস্টর, রোটারি টিলার, নিড়ানি ও ঝাড়াইকল আমদানির অগ্রিম কর অব্যাহতি হয়েছে। এসব পণ্যের দাম কমবে। ভ্যাট অব্যাহতি এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে।

মুরগি/মাছের খাবার : উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে মুরগি, মাছ ও গবাদিপশুর খাবারের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

দেশি খেলনা : দেশে খেলনা উৎপাদনে উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দিয়েছে সরকার।

 

২০২১-২০২২ অর্থ বছরের বাজেটে কিছু পণ্যের শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি কার্যকর হলে এসব পণ্যের দাম বাড়বে।

মুঠোফোন : বাজেটে মুঠোফোন (সেলুলার ফোন) আমদানিতে আমদানি শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে বিদেশি মুঠোফোনের দাম আরও বাড়তে পারে।
মদ-বিয়ার : এ জাতীয় পণ্য আমদানিতে বাজেটে ২০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে। এতে মদ-বিয়ারের দাম বাড়তে পারে।

বিদেশি রড ও সমজাতীয় পণ্য : আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এতে দাম বাড়তে পারে। অবশ্য রডের বাজার মূলত দেশীয় কোম্পানির দখলে।

সিগারেট : প্রতিবছর সিগারেটের মূল্যস্তর ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়। এবার সম্পূরক শুল্ক না বাড়ালেও প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সিগারেটের মূল্যস্তর বাড়ানো হয়েছে। তাই এ ধরনের সিগারেটের দাম বাড়তে পারে।

টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার : এসব পণ্যের পরিবেশক ও ডিলারদের নিট কমিশনের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। তাই টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যারের দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

থিম পার্কের রাইড : এমিউজমেন্ট পার্ক স্থাপনের রাইডসামগ্রীর ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তাই শিশুদের বিনোদনকেন্দ্র স্থাপনের খরচ বাড়তে পারে।

বিদেশি মাংস : মাংস আমদানিতে শুল্কহার বাড়ানো হয়েছে। বসানো হয়েছে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট। আবার ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্যের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিদেশি মাংসের দাম বাড়বে। এই উদ্যোগে দেশীয় খামারিরা সুরক্ষা পাবেন।

মাশরুম : বিদেশি মাশরুমের দাম অনেকটাই বাড়তে পারে। এই মাশরুম আমদানিতে আমদানি শুল্ক ৫ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাশরুম আমদানিতে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য আরোপের কথা বলা হয়েছে।

বিদেশি গাজর-টমেটো : চাষিদের সুরক্ষা দিতে গাজর, ক্যাপসিকাম, কাঁচামরিচ, টমেটো ও কমলা আমদানিতে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য আরোপের কথা বলা হয়েছে। এতে এসব পণ্য আমদানিতে কম দাম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া যাবে না। দাম বাড়তে পারে। গাজরের ওপর ভ্যাটও আরোপ করা হয়েছে।

শিল্প লবণ : শিল্প লবণের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে। এত দিন শিল্প লবণের নামে ভোজ্য লবণ আমদানি হতো। এখন দুই লবণের কর হারের সমন্বয় করা হয়েছে।

বিদেশি সাবান : সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে দাম বাড়তে পারে।

চুইং গাম : এর ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে দাম বাড়বে।

বিদেশি বিস্কুট : বিস্কুট ও সমজাতীয় সুগার কনফেকশনারির ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে দাম অনেকটাই বাড়তে পারে।