
খোন্দকার জিল্লুর রহমান
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দ বলেন ঃ ১৯৪৭ খৃষ্টাব্দে ভারত বিভক্তির পর হতে দিল্লীর শাসন বিরোধী উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলো স্বাধীনতার দাবীতে সোচ্চার হয়ে পর্যায়ক্রমে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। তাদের সংগ্রামের প্রতি সহায়তাকারী তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের জনগণের উপর রাজনৈতিক এবং সামরিক আধিপত্য ও কর্তৃত্ব স্থাপন করে বিক্ষুব্দ সাত রাজ্যকে দখলে রাখতে কংগ্রেস নেতা ও প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহুরলাল নেহেরু সুদুর প্রসারী যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন তা নেহেরু ডকট্রিন নামে অভিহিত। তদীয় কন্যা প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ খৃষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে কলিকাতা প্রবাসী আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ৭ দফা গোলামী চুক্তি করেন নেহেরু ডকট্রিনকে কার্যকর করতে।
নেতৃবৃন্দ বলেন ঃ ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয়ার পরও ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারী’র মধ্যে দখলদার ভারতীয় সেনাবাহিনী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ থেকে যে পরিমান অর্থ সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে তা ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দের পলাশী যুদ্ধের পর মুসলিম বাংলা থেকে বিজয়ী বৃটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর লুন্ঠনের সঙ্গে তুলনীয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পর হতে নতজানু মানসিকতার কারনে দিল্লীর সকল দলের সরকার বাংলাদেশর সঙ্গে একটি আশ্রিত রাজ্য রুপেই আচরন করেছে।
মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন ঃ আমৃত্যু প্রধানমন্ত্রী থাকার বিনিময়ে পতিত শেখ হাসিনা দিল্লীর স্বার্থ রক্ষা করতে বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে ভারতীয়দের নিরাপদ অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন। ফলে ১৫ বছরের স্বৈর শাসনের সময় আওয়ামী লীগ সরকার ও এদেশীয় তাবেদারদের সহযোগিতায় দিল্লী তাদের অপ্রতিরোধ্য আধিপত্য ও কর্তৃত্ব বাংলাদেশের উপর কায়েম করেছিলো। ছাত্র জনতার অবিস্মরনীয় গণ অভ্যুত্থানের ফলে ৫ আগষ্ট দেশ ত্যাগ করে শেখ হাসিনা তাঁর বন্ধু রাষ্ট্র ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। ভারত অনুগত শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দিল্লী নতুন ভাবে ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। এমতাবস্থায় সাত রাজ্যের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সহযোগিতা করা এবং রক্তের বিনিময়ে গড়ে উঠা ছাত্র জনতার অবিনাশী ঐক্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষার একমাত্র রক্ষাকবচ বলে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ অভিমত ব্যক্ত করেন।
আজ বাদ যোহর পার্টির পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের নির্বাহী সভাপতি আবদুল আজীজ হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম ও মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন আবুড়ী, সহ-সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম ও এ্যডভোকেট আফতাব হোসেন মোল্লা, অতিঃ মহসচিব আকবর হোসেন পাঠান, সাংগঠনিক সম্পাদক খান আসাদ, দপ্তর সম্পাদক খোন্দকার জিল্লুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার উসমান গণি, আব্দুল আলীম প্রমুখ।












