
বিশেষ প্রতিনিধি :
কলঙ্কিত এবংবিতর্কিত কর্মজীবন নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা করপোরেশন এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী পদত্যাগ করেছেন। ২ মার্চ ২০২৬ সোমবার তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বললেও ব্যাপারটা প্রশ্নবিদ্ধ!
তবে তাঁর পদত্যাগকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বীমা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, এটি কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয় বরং দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও অসন্তোষের প্রেক্ষাপটেই এই পদক্ষেপ এসেছে। এর আগে তিনি ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ–এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তীব্র আন্দোলন ও সমালোচনার মুখে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট মহলে প্রচলিত ক্ষোভ এবং দুর্নীতির এবং কলঙ্কের তীর্যক দৃষ্টি তার উপর রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, আইসিবিতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বীমা ও বিনিয়োগ খাতের কাক্সিক্ষত উন্নয়নে কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারেননি। বরং প্রশাসনিক অনিয়ম, অস্বচ্ছতা এবং নীতিনির্ধারণে দুর্বলতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। একই ধরনের অভিযোগ সাধারণ বীমা করপোরেশনেও শোনা যায়। বীমা শিল্পের আধুনিকায়ন, গ্রাহক আস্থা বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর আগেও কলঙ্কের কালিমা নিয়ে বহু সংগ্রাম ক্ষোভ বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে বিতর্কিত এই ব্যাক্তি আইডিআরএ এর চেয়ারম্যানের চেয়ারকে কলঙ্কিত করে আইডিআরএ থেকে তাকে লজ্জাহীন পদত্যাগ করতে হয়েছিল।
দেশের বীমা খাত সংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করেন, দেশের বীমা শিল্প বর্তমানে সংস্কার, স্বচ্ছতা ও পেশাদার নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা ও যোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বই পারে রাষ্ট্রায়ত্ত বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করতে।
মোহাম্মদ জয়নুল বারীর পদত্যাগের মাধ্যমে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে—রাষ্ট্রায়ত্ত বীমা খাতকে কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা। এখন সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সাধারণ বীমা করপোরেশন ও সামগ্রিক বীমা শিল্পে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হবে।












