
অর্থনীতির ৩০ দিন সংবাদ :
চতুর্থ প্রজন্মের লাইফ বীমা কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড থেকে চাকুরি হারিয়ে হতাশায় বিপর্যস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ! জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রায় ২০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সোনালী লাইফ থেকে চাকরি ছেড়েছেন/উপরের নির্দেশে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
সর্বশেষ গত ৯ সেপ্টেম্বর একযোগে ৭ (সাত) জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর নিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয় হয় সুত্র থেকে জানা য়ায়। এর আগে কোম্পানির একমাত্র বীমা বিশেষজ্ঞ মহাব্যবস্থাপক চাকরী ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। সোনালী লাইফ পরিত্যাগ করলেও কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠালগ্নের কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ কেউই আজ পর্যন্ত গ্র্যাচুয়িটির (পারিতোষিক) অর্থ বুঝে পায়নি। গ্র্যাচুয়িটির টাকা না পাওয়ায় প্রত্যেকটা পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। জানা গেছে, চাকরি হারানো কর্মকর্তাদের গ্র্যাচুয়িটি পরিশোধের জন্য সোনালী লাইফের কর্তৃপক্ষের কোন মাথাব্যথা নেই।
দেশের চতুর্থ প্রজন্মের লাইফ বীমা কোম্পানী সোনালী লাইফ শ্বশুর-জামাইদন্ধ এখন লেজে গোবরে অবস্থা! প্রায় ১ বছর দুই মাসাধিক যাবত শ্বশুর-জামাইয়ের দ্বিমুখী এই লড়াইয়ে শ্বশুর মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস এর পক্ষে। যার কারনে জামাতা মীর রাশেদ বিন আমানের ঘনিষ্টজনদের খুঁজে খুঁজে চাকরিছাড়া করছেন। সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী গত ৯ সেপ্টেম্বর কোম্পানির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহায়তায় এক সঙ্গে প্রধান কার্যালয়ের ৭ জন পদস্থ কর্মকর্তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য করিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। সাত কর্মকর্তা হলেন মানব সম্পদ বিভাগের এজিএম ও প্রাক্তন কোম্পানি সচিব রাফে-উজ-জামান, আইটি বিভাগের এজিএম ও সকল পক্ষ থেকে সুবিধাভোগী গোলাম মোস্তফা জুয়েল, প্রশিক্ষণ বিভাগের এজিএম আজমল রুশাদ, জনসংযোগ ব্যবস্থাপক ও হলুদ সাংবাদিকদের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত গালিব হাসান, উন্নয়ন বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার কানিজ ফাতেমা রিনা ও পরিবহন ব্যবস্থাপক ফয়সাল মাহমুদ।
গ্র্যাচ্যুয়িটি বঞ্চিত একজন কর্মকর্তা জানান, প্রধান কার্যালয়ে এ ব্যাপারে ধর্ণা দিয়েও কাজ হয়নি। এ খাতে পারিশ্রমিক না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে বেশ কষ্টে আছেন বলে জানান। অথচ কোম্পানিটি দেশের পুঁজি বাজারে গণ প্রস্তাব (আইপিও) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য গ্র্যাচ্যুয়িটির সুবিধা প্রদানের শর্তে গত ২০২১ সালের মে মাসে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিটির দুই শেয়ার বাজারে তালিকাভূক্ত হয়। সে শর্ত অনুযায়ী ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে কোম্পানির পর্ষদ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সোনালী লাইফ ইন্স্যরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর কোম্পানির স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গ্র্যাচ্যুয়িটি সুবিধা অনুমোদন করে। কিন্তু বিএসইসি ও এনবিআরের সে অনুমোদন উপেক্ষা করে সোনালী লাইফ কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য গ্র্যাচ্যুয়িটি থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করছে।
সোনালী লাইফের সিএফও এসব পাওনার বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন কিংবা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করছেন কি না সে ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কোন সদুত্তর পাওয়া যায় নাই। সোনালী লাইফের সুবিধা বঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ জানান, সোনালী সুদিন’ বাসোনালী পরিবার সুখী পরিবার’ শ্লোগানটি এখন আমাদের কষ্টের দিনে পরিনত হয়েছে! তবু সুবিধা বঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারিগণের আশা, এসব স্লোগানকে সামনে নিয়ে সোনালী লাইফ এগিয়ে যাবে এবং সকল নিয়ম কানুন মেনেই সোনালী লাইফ কর্তৃপক্ষ তাদের গ্র্যাচ্যুয়িটি দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আশা করে ।












