
অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
দেশে বর্তমানে ব্যাংকের সংখ্যা ৫৯। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরো তিনটি বেসরকারি ব্যাংক। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় নতুন তিনটি ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্যাংক তিনটি হলো- বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, পিপলস ব্যাংক এবং সিটিজেন ব্যাংক।
তবে এলওআই পাওয়া তিনটি ব্যাংককে পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ৫০০ কোটি টাকার কম মূলধন থাকা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের মূলধন ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্ষদে।
এলওআই পাওয়া তিনটি ব্যাংককে এখন ব্যবসায়িক পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে পরিশোধ করতে হবে মূলধনের ৫০০ কোটি টাকা। সব কাগজপত্র জমা দেয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ থেকে ব্যাংক স্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদনপত্র দেয়া হবে।
পর্ষদ সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু ফরাহ মো. নাছের বলেন, নতুন তিনটি ব্যাংকের আবেদনপত্র বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সভায় আবেদনপত্রগুলো উত্থাপন করা হয়েছিল। পর্ষদের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন ধরনের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। সব প্রক্রিয়া শেষে পরিচালনা পর্ষদ তিনটি নতুন ব্যাংককে এলওআই দেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তবে পর্ষদ ব্যাংকগুলোর পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করে দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের যেসব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকার কম আছে, সেসব ব্যাংকের মূলধন ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে বলেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এলওআই পাওয়া ‘বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের’ জন্য আবেদন করেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। পিপলস ব্যাংক লিমিটেডের জন্য আবেদন করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এমএ কাশেম। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা কাশেম যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের জন্য ব্যাংকটির আবেদন করা হয়। এছাড়া সিটিজেন ব্যাংকের আবেদনটি এসেছে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পরিবার থেকে। আনিসুল হকের মা জাহানারা হককে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আবেদনপত্রে।
বর্তমানে দেশে তফসিলি ব্যাংক রয়েছে ৫৯টি। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ছয়টি ও বিশেষায়িত ব্যাংক তিনটি। এছাড়া বিদেশী ব্যাংক রয়েছে নয়টি। বিদায়ী বছরের শেষদিকে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। ওই ব্যাংকসহ দেশে বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা ৪১-এ দাঁড়ায়। নতুন তিনটি ব্যাংক চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে দেশে বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৪। তখন সব মিলিয়ে দেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা হবে ৬২।
এলওআই দেয়া তিনটি ব্যাংকের বিষয়ে গত ৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। ওই সভা থেকেই ব্যাংক তিনটির এলওআই পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোরাম সংকটের কারণে শেষ মুহূর্তে ওই সভাটি স্থগিত করা হয়। এরপর ২৭ জানুয়ারি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি অনুমোদন দেয়ার জন্য বিশেষ পর্ষদ সভার আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সভা থেকে মুদ্রানীতির পাশাপাশি রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলার বিষয়টি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এরপর এ তিনটি ব্যাংকের এলওআই দেয়াসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৈনন্দিন কিছু কাজের অনুমোদন দেয়ার জন্য গতকালের পর্ষদ সভাটির আয়োজন করা হয়। বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হওয়া সভা শেষ হয় রাত ৯টায়। দীর্ঘ এ সভায় নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এর আগে ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। ওই সভা থেকেই নতুন আরো তিনটি ব্যাংক অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসে। এরপর ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভা হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। কয়েকজন পরিচালক পর্ষদের সভায় অনুপস্থিত থাকার কথা জানালে সভাটি আর হয়নি। মূলত নতুন তিন ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার উদ্দেশ্যে ওইদিন পর্ষদের সভা হওয়ার কথা ছিল। পরে ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংককে এলওআই দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তবে এলওআই ইস্যু করার বিষয়টি পরবর্তী পর্ষদ সভার জন্য রেখে দেয়া হয়। এছাড়া পর্ষদের ওই সভা থেকে পিপলস ব্যাংক এবং সিটিজেন ব্যাংককে অনুমোদন দেয়ার বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়।











