*দফায় দফায় তদন্তে দোষি সাব্যস্থ হলেও হঠাৎ করে নির্দোষ
*মন্ত্রনালয়ের স্ব-পদে পুর্নবহালের আদেশ ছাড়াই দায়িত্ব গ্রহন
*অবৈধ লেনদেনে শীর্ষ কর্মকর্তার যোগসাজশে হচ্ছে অনিয়ম
অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
কাজে দুর্নীতি ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও রহস্যজনকভাবে তাকে স্ব-পদে ফিরিয়ে এবার পদোন্নতি দেয়ার জন্য প্রক্রিয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে একটি চক্র। যদিও তাকে স্ব-পদে পুর্নবহালে এখনো আদেশ দেয়নি মন্ত্রনালয়। তবুও তিনি সকল নিয়ম কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে করেছেন স্ব-পদে যোগদান। আবার এরইমধ্যে তাকে পদোন্নতি দিতেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে প্রস্তাব। আর পর্যায়ক্রমে এসব অনিয়ম হচ্ছে শীর্ষ কর্মকর্তার যোগসাজশ ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে। এ যেন এক মগের মুল্লুক। ফলে এ নিয়ে খোদ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের মাঝেই চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের কতিপয় অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রকৌশলী জামানুরকে নির্দোষ প্রমাণ করে স্বপদে ফিরিয়ে পদোন্নতি দেয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করেছে একটি অসাধু চক্র। প্রকৌশলী জামানুর রহমানের অভিযোগের ব্যাপারে দফায় দফায় তদন্তে দোষি প্রমানীত হলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মুহুর্তে মোক্ষম সময় বুঝে তড়িঘড়ি করে অধিকতর তদন্ত করিয়ে দায়সারা গোছের এক রিপোর্ট দিয়ে ইং ৯/১১/২০২৩ তারিখে রহস্যজনকভাবে তার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করানো হয়। গুঞ্জন রয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের শীর্ষ এক কর্মকর্তার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন করে প্রকৌশলী জামানুর রহমানের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং এরপরই পদোন্নতির প্রস্তাব দেয়া হয়। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে ভিন্ন ভিন্ন কর্মকর্তাদের দিয়ে দফায় দফায় তদন্তে প্রকৌশলী জামানুর রহমান দোষি প্রমানীত হলেও কিসের আলোকে হঠাৎ করে তিনি নির্দোষ প্রমানীত হলেন। তাহলে যারা তদন্ত করেছেন তারা সকলেই কি ভূয়া রিপোর্ট দিয়েছেন? আর কেনইবা তাদের রিপোর্ট কিংবা তদন্ত কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিয়ে দায়মুক্তি দেয়া রিপোর্টে কোনো মন্তব্য করা হয়নি? অপরদিকে প্রকৌশলী জামানুর রহমানের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হলেও আজ পর্যন্ত তাকে স্বপদে পুর্নবহালের কোনো চিঠি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি। অথচ অদৃশ্য ইশারায় তিনি নিজে নিজেই স্বপদের দায়িত্বভার গ্রহন করেছেন। এখানেই শেষ নয় এতো অনিয়মের পরও ইতোমধ্যেই প্রকৌশলী জামানুর রহমানের বি,সি,এস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল) ক্যাডারে নির্বাহী প্রকৌশলী (গ্রেড-৫) পদে পদোন্নতির প্রস্তাব পাঠিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেন। বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির ৩০/০৮/২০২২ তারিখের সভার সিদ্ধন্ত মোতাবেক এই প্রস্তাব দেয়া হয়। যার স্মরক নম্বর: ৪৪৮৭, তারিখ-০৫/১২/২০২৩ইং। এরফলে সংস্থার অনেকেই এখন বলছেন ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়।’ নইলে এতো অনিয়ম কিসের স্বার্থে করছেন প্রধান প্রকৌশলী?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী একজন ছদ্মবেশি মানুষ। তিনি শুধুমাত্র প্রকৌশলী জামানুর রহমানের অনৈতিক কাজের পৃষ্ঠপোষক ও সহায়তাকারীই নয়, অফিসের সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানী হতে হচ্ছে। তাছাড়া কর্মকর্তা কর্মচারীদের বদলী করা যেন তার কাছে এক ধরনের বানিজ্য হয়ে দাড়িয়েছে। অনৈতিক লেনদেন সরাসরি নিজেই করেন বলে সূত্রের দাবি। তাদের দাবি প্রকৌশলী জামানুর রহমানকে পরবর্তি প্রধান প্রকৌশলী করতে পরিকল্পিতভাবে অবৈধ অর্থ ব্যায়ে তার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার ও পরবর্তিতে পদোন্নতির প্রস্তাব দিয়েছেন বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী।এসব বিষয় জানতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি আংশিক প্রশ্ন শুনেই বলেন, আমি মিটিংয়ে আছি, অফিসে আসেন। এরপরই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
যে কারনে প্রকৌশলী জামানুরকে বরখাস্ত করা হয়:
অভিযোগে প্রকাশ, চাকরির প্রলোভনে তরুণী ফাঁসানো, দোর্দন্ড প্রভাবশালী, কথিত রাজাকার সন্তান ও অনিয়ম-দুর্নীতির বরপুত্র খ্যাত প্রকৌশলী জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানীত হওয়ায় ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর তাকে বরখাস্তের আদেশ দিয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পানি সরবরাহ-১ শাখা থেকে তৎকালীন সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। যার স্মারক নম্বর-৪৬.০০.০০০০.০৮৩.২৭.০০৫.২২-৬৪৪, তারিখ-১৭/১০/২০২২ ইং।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. জামানুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খুলনা সার্কেল, খুলনা (সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী, পাবনা জেলা, পাবনা) এর বিরুদ্ধে পাবনা জেলার সুজানগর পৌরসভায় আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও পানি নিস্কাশনের জন্য ‘পাইপড ওয়াটার এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন’ প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত না করে সমস্ত টাকা উত্তোলন সহ ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়। আর এসব অভিযোগসমুহ স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে প্রমানীত হওয়ায় সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ১২(১) অনুসারে তাকে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্ত থাকাকালে তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরো জানানো হয়, উল্লেখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অসদাচরনের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবরে গত ৮ সেপ্টেম্বর দাখিলকৃত তিন পৃষ্ঠার অভিযোগে ২০ নম্বর দফায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, খুলনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জামানুর রহমানের নারীলিপ্সুতার কথাও উল্লেখ করা হয়।

যেসব অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়:
অভিযোগ রয়েছে, পাবনা জেলার সুজানগর সহ তিনটি পৌরসভার আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ২০১০-১১ অর্থবছরে পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ১৪ কোটি টাকা। প্রকল্পে পাবনার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বর্তমানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, খুলনা সার্কেল খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জামানুর রহমান এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন। তিনি স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে যেনতেনভাবে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত ঘোষনা দিয়ে বরাদ্দকৃত সকল অর্থ তুলে নেন। কাজ সমাপ্তের পর গত ৬ বছরে সুজানগর ও অন্য দুই পৌরবাসী এই প্রকল্পে কোনো সুফল পায়নি। বরং দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের কারণে উপকারেই আসছে না। যার ফলে এ বিষয়ে সুজানগর পৌরসভার পক্ষ থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসের ৫ তারিখে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে প্রকল্পটিতে ব্যবহার করা সব পাইপ লাইনে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করার কারণে নলকূপ ও পাম্প হাউস অকেজো হয়ে পড়ে আছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগের সত্যতা মেলায় ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সহকারী সচিব আবু নাছের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সুজানগর পৌরসভায় আসেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করতে লিখিতভাবে নির্দেশনা দেন। তবে প্রায় পাঁচ বছর পার হতে চললেও সেই নির্দেশনা আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এছাড়াও খুলনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জামানুর রহমান চাকরির প্রলোভনে নিজের জালে ফাঁসাতেন বিভিন্ন তরুণীদের। ফাঁদে পা দিয়ে আবার কেউ রাজি না হলে তাকে দেয়া হয় নানা অপবাদ। এরই ধারাবাহিকতায় এক তরুণী সীমাকে (ছদ্ম নাম) পাগল অপবাদে ভর্তি করিয়েছেন পাবনা মানসিক হাসপাতালে। এমনটাই অভিযোগ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে। মানসিক হাসপাতাল থেকে মুক্তি মিললেও ওই তরুণীর দিন কাটছে অজানা আতঙ্কে আর রয়েছেন আত্মগোপনে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত জামানুর ছিলেন ধর্ষিতা তরুণীর বাবার বস। এই সুবাদে প্রকৌশলী জামানুর তাদের বাসায় আসা যাওয়া করতেন। ২০১৫ সালে ওই তরুণী মহিলা পলিটেকনিক হতে ডিপ্লোমা পাস করার পর একদিন হঠাৎ ফোন দিয়ে ডুয়েটে ভর্তির কথা বলে রেজাল্ট কার্ড নিয়ে মোহাম্মদপুরের রাজধানী হোটেলের রুমে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক নির্যাতন করে। পরে চাকুরী পাইয়ে দেয়ার কথা বলে তার বাবা-মাকে ম্যানেজ করে ২০১৫ সাল হতে ২০২২ সাল পর্যন্ত ধর্ষণ ও মানসিক নির্যাতন করে বলেও জামানুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে ভুক্তভোগী পরিবার। এসব বিষয়ে মুখ না খুলতে প্রাণনাশের হুমকিসহ নানান ভাবে প্রকৌশলী জামানুর ভয়ভীতি দেখান বলেও অভিযোগ।
ফলে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার গত ৩ মার্চ রাজশাহী প্রেসক্লাব সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট চত্বরে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী। এসময় জামানুরের বিচার দাবি করেন ওই ভুক্তভোগী তরুণী। সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয় যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ সহ নির্যাতনের আদ্যোপান্ত।
সংবাদ সম্মেলনে তরুণী সীমার দেয়া জবানবন্দীতে দেখা যায়, দীর্ঘদিন কীভাবে জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রকৌশলী জামানুর রহমান সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাকরি বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন। পাশাপাশি চাকরী দেয়ার নামে কিভাবে তরুণীদের ফাঁসাতেন নিজের জালে।
চাকরী প্রার্থী তরুণী সীমার জীবন সংগ্রামের গল্পটা যে কোনো সিনেমার চেয়ে কম নয়। এক প্রকৌশলীর অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় শেকলে বন্দী জীবনের পর, দীর্ঘ সময় থাকতে হয়েছে মানষিক হাসপাতালে। অজ্ঞাত ফোন কল পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন স্বামী। এরপর পাবনা মানষিক হাসপাতাল থেকে মুক্তি মেলে তরুণীর।
প্রকৌশলী জামানুর রহমানের এসব অভিযোগে দফায় দফায় তদন্ত কমিটি গঠন ও তদন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ১৯ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগের তৎকালীন যুগ্ম সচিব (পানি সরবরাহ অধিশাখা) মো. জসিম উদ্দিনকে আহবায়ক করে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি এরপর দ্বিতীয় দফায় ২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের তৎকালীন উপসচিব-৩ (পানি সরবরাহ) মোহাম্মদ ফজলে আজিমের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল অনিয়ম দুর্নীতি তদন্ত করে। প্রায় সকল তদন্তেই প্রকৌশলী জামানুর রহমান দোষি সাব্যস্ত হয়। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা গ্রহন করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ণ ও সমবায় মন্ত্রনালয়।
জানতে চাইলে প্রথম দফা তদন্ত কমিটির প্রধান স্থানীয় সরকার বিভাগের তৎকালীন যুগ্মসচিব (পানি সরবরাহ অধিশাখা) মো. জসিম উদ্দিন জানান, তারা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে সম্পূর্ন বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে দ্বিতীয় দফা তদন্ত কমিটির প্রধান স্থানীয় সরকার বিভাগের তৎকালীন উপসচিব-৩ (পানি সরবরাহ) মোহাম্মদ ফজলে আজিম বলেন, ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে আমি তদন্তে যা পেয়েছি তা প্রতিবেদন করে জমা দিয়েছি। এখন সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিবেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তদন্ত কমিটির একজন সদস্য জানান, অভিযোগে অনিয়মের যতটুকু বর্ননা রয়েছে প্রকৃত ঘটনা আরো ভয়াবহ।
এদিকে নথি-পত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, তদন্তে প্রকৌশলী জামানুর রহমান দোষি প্রমানীত হওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগ পরিদর্শন শাখার অফিস স্বারক – ১৭৪ এবং তারিখ – ১৫/৪/২০১৯ মাধ্যমে প্রধান প্রকৌশলীকে বর্ণিত প্রকল্পের দুর্নীতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী (তৎকালীন) জামানুর রহমান এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে সুপারিশ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ভবনের কতিপয় সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ‘স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ণ ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের একজন সচিব এবং সংস্থার শীর্ষ একজন কর্মকর্তা প্রকৌশলী জামানুর রহমানের অনিয়ম-দুর্নীতি ধামাচাপা দিয়ে অনিয়মতান্ত্রীকভাবে তার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার ও পদোন্নতী দিয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এ ব্যাপারে ডিপিএইচই’র শীর্ষ কর্মকর্তার সাথে বিশাল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। আর এই অর্থ সংস্থাটির ১০তলায় ঐ শীর্ষ কর্মকর্তার নির্দেশে তার বিশ্বস্ত এক কর্মচারীর কাছে পৌছে দেয়া হয় বলে সূত্রে জানা যায়। পাশাপাশি ঐ শীর্ষ কর্মকর্তার সবাইকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়েই তারা তাদের বিতর্কিত কর্মকান্ড অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন।’
সূত্র আরো জানায়, ‘প্রকৌশলী জামানুর রহমানের বাবা ছিলেন প্রয়াত মতি মিয়া। মতিমিয়ার বাড়ি তৎকালীন মজমপুর ইউনিয়নে বর্তমানে কুষ্টিয়া পৌরসভার ‘মতমিয়া রেলগেট সংলগ্ন’। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ওই স্থানের নাম দেন মতি মিয়া রেলগেট। প্রকৌশলী জামানুর রহমানের বাবা ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তানীদের নির্ধারিত ঐ এলাকার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান অর্থাৎ রাজাকারদের কমান্ডার।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি সরবরাহ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, এটা একটা সাধারণ প্রক্রিয়া। অ্যাডমিনিস্ট্রিভ প্রক্রিয়া। অ্যাডমিনিস্ট্রিভ প্রক্রিয়ায় যেভাবে প্রক্রিয়াকরণ করা হয় তদন্ত রিপোর্টে আসে, তার মতামত চাওয়া হয়, তার মতামতের ভিত্তিত অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বরখাস্ত প্রঞ্জাপন জারি করা হয়েছিলে কিন্তু বরখাস্তটাতো শাস্তি না। সাময়িক বরখাস্তর পর তদন্ত হয়। তদন্ত রিপোর্টে যেমনটা আসবে অথবা কর্তৃপক্ষ যেমনটা মনে করবে সেটার উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেবে।
অভিযুক্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালে তারও কোনো জবাব দেননি।












