সিআইপি (রফতানি) স্বীকৃতি পেলেন ১৭৮ জন

অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
রফতানি বাণিজ্যে বিশেষ অবদান রাখায় ২০১৫ সালের জন্য ১৭৮ জন ব্যবসায়ীকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি- রফতানি) নির্বাচিত করেছে সরকার। এর মধ্যে পণ্য রফতানি ক্যাটাগরিতে ১৩৬ জন ও ট্রেড ক্যাটাগরিতে ৪২ জন সিআইপি হয়েছেন।
গতকাল রাজধানীর হোটেল র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ নির্বাচিত ব্যবসায়ীদের হাতে সিআইপি কার্ড তুলে দেন। বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক হাসিনা নেওয়াজ ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির।
নির্বাচিত সিআইপিরা এক বছর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। সিআইপি কার্ডের মেয়াদকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য প্রবেশ পাস ও গাড়ির স্টিকার পাবেন। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাবেন। ব্যবসা-সংক্রান্ত ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান, রেল, সড়ক ও জলযানে আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন তারা।
সিআইপিদের জন্য ব্যবসা-সংক্রান্ত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসাপ্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে উদ্দেশ করে ‘লেটার অব ইনট্রোডাকশন’ ইস্যু করবে। তারা বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। সিআইপি ব্যক্তিরা তাদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও নিজের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে কেবিন সুবিধাপ্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন।
সিআইপি (রফতানি) কার্ডের মেয়াদ হবে এক বছর। তবে এ সময় অতিক্রান্ত হলেও পরবর্তী বছরের সিআইপি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কার্ডের মেয়াদ কার্যকর থাকবে। তবে ট্রেড ক্যাটাগরির সিআইপিদের মেয়াদ তাদের সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের পদে বহাল থাকা অথবা পরবর্তী সিআইপি ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত (যেটি আগে হয়) কার্যকর থাকবে।
পণ্য রফতানি ক্যাটাগরিতে সিআইপি নির্বাচিতরা হলেন— পাটপণ্য খাতে পপুলার জুট এক্সচেঞ্জের হাসান আহমেদ, বাবুল জুট ট্রেডিংয়ের নুরুল ইসলাম, রেজা জুট ট্রেডিংয়ের সেলিম রেজা, ওহাব জুট ট্রেডিংয়ের শায়লা ফারুক, আকুনজী ব্রাদার্সের আকুনজি মোহাম্মদ হারুনার রশীদ। পাটজাত দ্রব্য খাতে আকিজ জুট মিলসের শেখ নাসির উদ্দিন, জনতা জুটের নাজমুল হক, সাদাত জুটের মাহমুদুল হক, রাজ্জাক জুটের আবুল বাসার খান, নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজের মো. হুমায়ূন কবির, ওহাব জুটের শেখ ফারুক হোসেন ও আলতু খান জুট মিলসের লোকমান হোসেন। চামড়াজাত দ্রব্য খাতে এপেক্স ট্যানারির আবদুল মাজেদ, এসএএফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেখ মোমিন উদ্দিন, পিকার্ড বাংলাদেশের সাইফুল ইসলাম, বে ফুটওয়্যারের জিয়াউর রহমান, এবিসি ফুটওয়্যারের জয়নাল আবেদিন মজুমদার ও লেদারেক্স ফুটওয়্যারের নাজমুল হাসান।
হিমায়িত খাদ্য রফতানিতে সিআইপি হয়েছেন কুলিয়ারচর সি ফুডসের মুছা মিয়া, ফ্রেশ ফুডসের তৌহিদুর রহমান, সি ফ্রেশের মাসুদুর রহমান, আর্ক সি ফুডসের মো. আমিন উল্লাহ, ইন্টারন্যাশনাল শ্রিম্পস এক্সপোর্টের মিয়া মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান রাসেল, সালাম সি ফুডসের মিয়া মোহাম্মদ আবদুস সালাম, জালালাবাদ গ্রুপের আব্দুল জব্বার মোল্লা, মীনহার গ্রুপের হাবিব উল্ল্যাহ খান ও সি ফিশার্স গ্রুপের আবদুর রউফ চৌধুরী।
ওভেন গার্মেন্টস খাতে সিআইপি হয়েছেন কসমোপলিটন ইন্ডাস্ট্রিজের তানভীর আহমেদ, অনন্ত অ্যাপারেলসের শরীফ জহীর, ইন্টারফ্যাব শার্টের আহসান কবির খান, সাইনেস্ট অ্যাপারেলসের আলী আজিম খান, স্মার্ট জিন্সের মুজিবুর রহমান, তুসুকা ট্রাউজারের আরশাদ জামাল, ক্যাসিওপিয়া ফ্যাশনের তানভীর আহমেদ, এনভয় ফ্যাশনের আব্দুস সালাম মুর্শেদী, স্প্যারো অ্যাপারেলসের মোস্তাজিরুল শোভন ইসলাম, আলিফ গার্মেন্টসের আজিজুল ইসলাম, রাসেল গার্মেন্টসের আক্কাস উদ্দিন মোল্লা, সাদ সান অ্যাপারেলসের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, এমবিএম গার্মেন্টসের ওয়াসিম রহমান, ব্যান্ডে ফ্যাশনসের ফেরদৌস পারভেজ বিভন, রিও ফ্যাশনওয়্যারের আবু বকর সিদ্দিক খান, ডার্ড গার্মেন্টসের ইতেমাদ উদ দৌলাহ্, তারাশিমা গ্রুপের মিরান আলী ও ওয়েল গ্রুপের সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
নিট পোশাক খাতে সিআইপি কার্ড পেয়েছেন জিএমএম কম্পোজিট নিটিংয়ের মো. গোলাম মোস্তফা, ফোর এইচ ফ্যাশনসের গাওহার সিরাজ জামিল, ভিয়েলাটেক্সের কানিজ ফাতেমা জেরিন, ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলসের নাজীম উদ্দিন আহমেদ, মাল্টিফ্যাবসের মহিউদ্দিন ফারুকী, মডেল ডি ক্যাপিট্যালের মাসুদুজ্জামান, মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডায়িংয়ের অমল পোদ্দার, অবন্তী কালার টেক্সের এএইচ আসলাম সানী, ডার্ড কম্পোজিটের নাবিল উদ দৌলাহ, দিগন্ত সুয়েটার্সের মো. কামাল উদ্দিন, গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজের একেএম বদিউল আলম, ফখরুদ্দিন টেক্সটাইলসের আসিফ আশরাফ, পলো কম্পোজিটের এমএ জলিল অনন্ত, সেনটেক্স টেক্সটাইল অ্যাপারেলসের জসিম উদ্দিন আহমেদ, আদুরী অ্যাপারেলসের আব্দুল কাদির মোল্লা, লোগজ অ্যাপারেলসের আমির হামজা সরকার, ডিঅ্যান্ডএস প্রিটি ফ্যাশনসের মোহাম্মদ আলী তালুকদার, আহসান কম্পোজিটের এএসএম কামরুল আহসান, বী-কন নিটের প্রীতি পোদ্দার, ফর্টিস গার্মেন্টসের শাহাদাত হোসেন, নেটওয়ার্ক ক্লদিংয়ের বোরহান উদ্দিন, ইব্রাহিম নিটের কানিজ ফাতিমা, লাক্সমা সোয়েটার্সের সাফিনা রহমান, সনেট টেক্সাইলের হুমায়ন কবির চৌধুরী, ড্রেস আপের গোলাম মোস্তফা, প্যাপিলন নিটের নুরুল আলম চৌধুরী, দিইউ বাংলাদেশের রানা শফিউল্লাহ, আরএসআই অ্যাপারেলসের অঞ্জন শেখর দাশ, সিম ফ্যাব্রিকসের মোজাফফর হোসেন, মেঘনা নিট কম্পোজিটের মোখলেছুর রহমান, ডিবিএল গ্রুপের আবদুল কাদের, পলমল গ্রুপের নাফিস সিকদার, ইসলাম গ্রুপের সাকের আহমেদ, ক্লিফটন গ্রুপের মহিউদ্দিন চৌধুরী, কেডিএস গ্রুপের খলিলুর রহমান, স্টার লাইট গ্রুপের সুলতানা জাহান, লিবার্টি গ্রুপের শামসুজ্জামান, মাসকো গ্রুপের আহমেদ আরিফ বিল্লাহ, হান্নান গ্রুপের এবিএম সামছুদ্দিন, এপিএস গ্রুপের শামীম রেজা ও জে. কে. গ্রুপের জাহাঙ্গীর আলম খান। এছাড়া সিরামিক, প্লাস্টিক, ওষুধ, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতসহ বিভিন্ন খাতের রফতানিকারকরা সিআইপি কার্ড পেয়েছেন।