সাবমেরিন কেবলের অর্ধবার্ষিক মুনাফায় ২৩২৬% প্রবৃদ্ধি

অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
ব্যান্ডউইডথ বিক্রি বাড়ার সুবাদে সরকারের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) রেভিনিউ ও মুনাফায় উল্লম্ফন হয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির রেভিনিউ প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ। আর কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩২৬ শতাংশ।
জানতে চাইলে বিএসসিসিএলের কোম্পানি সচিব মো. আবদুস সালাম খান বলেন, আগের হিসাব বছরের প্রথমার্ধে আমাদের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল চালু হলেও ব্যান্ডউইডথ বিক্রির হার আশানুরূপ ছিল না। তবে চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে আগের বছরের তুলনায় আমাদের ব্যান্ডউইডথ বিক্রি বেড়েছে। দ্রুতগতির ফোরজি চালুর কারণে ব্যান্ডউইডথের ব্যবহার বড়েছে। অন্যদিকে এর বিপরীতে পরিচালন ব্যয় সেভাবে বাড়েনি। এ কারণেই কোম্পানির নিট মুনাফায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বিএসসিসিএলের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির রেভিনিউ হয়েছে ৯১ কোটি টাকা, যা এর আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৭ কোটি ১১ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির পরিচালন খাতে ব্যয় হয়েছে ৫৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা এর আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫১ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে বিএসসিসিএলের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৩৪ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা এর আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির অপরিচালন খাতে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যা এর আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
আগের বছরে কর বাবদ ১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা সঞ্চিতি রাখলেও চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে এ খাতে সঞ্চিতির পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা এর আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৯৭ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে (ইপিএস) ১ টাকা ৪৩ পয়সা, যা এর আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৬ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ৬১ পয়সা।
৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ায় কোম্পানিটিকে ‘এ’ থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় বিএসসিসিএল।
এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারদর দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে অবস্থান করছে। এর মধ্যে গত দুই মাসেই শেয়ারটির দর বেড়েছে ৮০ শতাংশ। বৃহস্পতিবার এর দর দাঁড়ায় ১৫৪ টাকা ১০ পয়সায়।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার তৃতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম ও দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের মতো তৃতীয়টির দায়িত্ব বিএসসিসিএলের কাছেই যাবে। তাছাড়া চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির রেভিনিউ ও মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সব মিলিয়েই কোম্পানিটির শেয়ারদরে প্রভাবিত হয়েছে।
সরকারের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো কোম্পানিটি ২০১২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে তাদের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৬৪ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কোম্পানির রিজার্ভ আছে ৩৫১ কোটি ২০ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ৭৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ, প্রতিষ্ঠান ১৪ দশমিক ৯৬, বিদেশী ৩ দশমিক শূন্য ৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৮ দশমিক শূন্য ১৬ শতাংশ শেয়ার।
সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ৩৫০ দশমিক ২৩। অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ৫৩ দশমিক ৮৮।
সূত্র : বণিক বার্তা