চট্টগ্রামে ইন্টারন্যাশনাল স্টিল কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা
চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রতিবেদক
ইস্পাত শিল্পে বিনিয়োগের উত্কৃষ্ট গন্তব্য বাংলাদেশ। এ শিল্প বিকাশের পাশাপাশি এর গুণগত মান বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ এখানে রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশে অতিদ্রুত ইস্পাত শিল্পের বিকাশ ঘটবে। বিশ্বের জায়ান্ট ইস্পাত কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে এ খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা করলে এ দেশ হবে ইস্পাত শিল্পের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক বাজার।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের পাঁচতারকা হোটেল র্যাডিসন ব্লু চিটাগং বে ভিউতে ইন্টারন্যাশনাল স্টিল কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী এ কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইতালিসহ বিশ্বের ১৯টি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমানে মোট বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদনের ৪৬ শতাংশের বেশি আসছে চীন থেকে। এছাড়া জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নাফটা ও অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলো পণ্যটির বৈশ্বিক বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে বাংলাদেশও এ বাজারে জায়গা করে নিচ্ছে।
কনফারেন্সের মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলের (বিএসআরএম) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলীহোসেইন বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪৭ শতাংশের বয়সই ২৬ বছরের কম। তরুণ এ জনগোষ্ঠী আমাদের জন্য একটি সম্ভাবনার জায়গা। এ দেশে শিক্ষিতের হার ৭৩ শতাংশ ও জিডিপি প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। ২০০০ সালে আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল ৪০৫ ডলার। এখন তা ১ হাজার ৬৭৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৩তম অর্থনৈতিক শক্তি।
তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ খাতে আমরা বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছি। এটি ইস্পাত খাত বিকাশের জন্য খুবই সহায়ক। দেশে জনপ্রতি ইস্পাত ব্যবহারের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশের ইস্পাত ব্যবসা আমদানিনির্ভর হলেও এ খাত দেশে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইস্পাত শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ছে। দেশে ইকোনমিক জোন নির্মাণের কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এ শিল্প দেশের অন্যতম বড় খাতে পরিণত হবে।
কনফারেন্সের উদ্বোধন করেন পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফি মুহম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ইস্পাত আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি। এ শিল্পের কোয়ালিটি, ভ্যালু ক্রিয়েশন, বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এ কনফারেন্স ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ইস্পাত শিল্প বিকাশের পাশাপাশি এর গুণগত মান বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ বাংলাদেশে রয়েছে। শিগগিরই এ দেশে ইস্পাত শিল্পের চরম বিকাশ ঘটবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর্থিক উন্নয়নের চেয়েও আমাদের জন্য বেশি প্রয়োজন মূল্যবোধের বিকাশ। তাই এ শিল্পের উন্নয়নে কাজ করার ক্ষেত্রেও মূল্যবোধকে ধারণ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. মো. সেলিম উদ্দিন জানান, ২০১৭ সালে সারা বিশ্বে মোট ইস্পাত উৎপাদন হয় ১৬৮ কোটি ৯০ লাখ ইউনিট। এর সাড়ে ৪৬ শতাংশই করেছে চীন। এছাড়া জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৭০ লাখ ইউনিট। জাপানে ইস্পাত শিল্পের কোনো কাঁচামাল ছিল না। কিন্তু নানা প্রকল্প গ্রহণের কারণে এ প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তারা বিশ্বের প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ বাজার ধরে রেখেছে। কাঁচামাল না থাকার পরও জাপান যদি এ অবস্থানে আসতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ কেন পারবে না? এ শিল্প প্রসারে এখনই মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নইলে আমরা অন্যান্য দেশ থেকে পিছিয়ে পড়ব। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এ বাজার ধরার চেষ্টা করছে। আশা করছি, আমরাও এ বাজার ধরার জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করব।
ভারতের স্টিল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অজয় থাম্বের সভাপতিত্বে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসআরএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলী হোসেইন। অন্যান্যের মধ্যে কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন ভারতের ইস্পাত কোম্পানি রাঘব প্রডাক্টিভিটি এনহ্যান্সার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজেশ খাবড়া, পিএইচপি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির হোসেন সোহেল, জার্মানির এসএমএস গ্রুপের বাণিজ্যিক বিপণন বিভাগের প্রধান এম বোলম্যান, আবুল খায়ের গ্রুপের স্টিল অ্যান্ড পাওয়ার বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভিআর শর্মা ও জিটিজেড (ইন্ডিয়া) প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ সাওয়ালকা।










