
খোন্দকার জিল্লুর রহমান
কর্তৃত্ত করতে কার ভালো না লাগে, কিন্তু সে কর্তৃত্ত যদি সমপোযোগী বা রাষ্ট্রীয় কল্যানে না এসে জনস্বার্থের বিরোধিতা সৃষ্টি করে ব্যক্তি, গোষ্টি, জাতি বা অন্যান্য কারো বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় সেইসাথে কোন জাতি বা দেশের উন্নয়নের অন্তরায় হয়, তখন সেই কর্তৃত্ত করপোরেট লাইফ লিড করা বা জাতীয় এবং রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাথা ব্যথার কারন হয়ে দাঁড়ায় তাহলে এর জন্য দ্বায়ী কে একবারো কি ইন্স্যুরেন্স সেক্টরের দায়িত্তশীল বা কোম্পানিগুলির কোন বিশেষ ব্যক্তিগণ এই কথাটি ভেবেছেন?
এখানে যেটা বলতে হয় ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথরিটির (আইডিআরএ) ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলির উন্নয়নের জন্য কি কোন ভুমিকা পালন করেছেন নাকি বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিশেন (বিআইএ) কর্তৃপক্ষ হিসাবে কাজ করেন তা প্রশ্নবিদ্ধ? আইডিআরএ‘এ কর্তৃপক্ষ/ হিসেবে কাজ করেন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলির এবং ব্যাংকগুলির কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করেন বাংলাদেশ ব্যাংক। এখানে একটা বিষয় পরিলক্ষিত হয় যে, দেশের ব্যাংকগুলির অ্যাসোসিশেন থাকা স্বত্তেও কেহই বাংলাদেশ ব্যাংকের উপর কোন কর্তৃত্ত খাটানোর সাহস করতে পারেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশক্রমেই দেশের সবকটি ব্যাংক খুব সুন্দর ভাবেই চলছে, কিন্তু ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলির অভিভাবক হিসেবে আইডিআরএ কাজ করতে কর্তৃপক্ষ হিসাবে যুক্তিযুক্ত কাজ করেন কিনা, না কি তারা কারো কাছে নতি সিকার করে বা মাথা নিচু হইয়ে কারো স্বার্থ উদ্ধারে কোন ব্যক্তিবিশেষ বা কারো তাবেদারির কাজ হিসেবে আইডিআরএ কাজ করে যান, এটাই দেখার বিষয়।

একটি দেশের উন্নয়নে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সবসময় দেশের আর্থিক ভূমিকা পালন করে আসছে, সে দেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলি কারো দায় বা কারো তাবেদার হিসেবে কাজ করতে গিয়ে যদি কোন ঝামেলা শিকার হয় তার জন্য দ্বায়ী কে? যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন ইন্স্যুরেন্স বান্ধব লোক ছিলেন এবং তিনি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলির উন্নয়নে একজন সহযোগী হিসেবে নিজেকেও ইন্স্যুরেন্স জগতে সংযুক্ত করেছিলেন। বর্তমানে ইন্স্যুরেন্সের মালিক পক্ষের বেশকিছু লোক জাতির পিতার এবং শেখ পরিবারের নামপরিচয়ে নিজেদের ভিতরে কর্তৃত্ব খাটানোর জন্য দেশে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলির থেকে চাঁদাবাজি এবং নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থা করে যাচ্ছেন, যার কারনে জাতির পিতার স্বপ্নের বীমাখাত দেশের অর্থনীতিতে সুন্দর ভূমিকা রাখার পরিবর্তে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি হিসেবে আইডিআরএ’র বিআইএর প্রতি নির্ভরতা দেখে আমার একটা গল্পের কথা মনে পড়ে যায়, গল্পটা আমরা ক্লাস টেনে পড়েছিলাম ‘মিসেস প্যাকল টাইটস্ টাইগারস’। মিসেস প্যাকল টাইটস্ চেয়েছিলেন একটা বাঘ শিকার করে তিনি সারাদেশে একটা নামকরা খ্যাতি অর্জন করবেন। যেই কথা সেই কাজ, শিকারি হিসেবে এক্সপার্ট না হলেও তিনি বাঘ শিকার করবেন, সেঅনুযায়ী তার সহযোগী মিস মেবিনকে ঠিক করেন। মিস মেবিনও এলাকাতে শিকার করার জন্য একটা বৃদ্ধ বাঘ ঠিক করলেন। মিস মেবিন দেখলেন কিছুদিন যাবৎ বন থেকে নিজের সহযোগিদের তাড়া খাওয়া শিকারের শক্তি হারিয়ে ফেলা একটি বয়োবৃদ্ধ বাঘ এলাকাতে আনাগোনা করতেছে সহজলব্য খাবারের জন্য, মিস মেবিন ঠিক করলেন, সুযোগতো হাতছাড়া করা উচিত নয়। এলাকায় প্রায় আসতে থাকা সেইবাঘকে শিকার করার জন্য ঠিক করে মিসেস প্যাকল টাইটসকে বললেন একটা ছাগল বেঁদে দিয়েছি, ওখানে ক্ষুদার্ত বাঘ আসবে এবং স্বীকার করবেন, বেঁধে রাখা ছাগলের চিৎকার শুনে বাঘটা আস্তে আস্তে ছাগলের দিকে আসতে দেখে মিসেস প্যাকল টাইটস্ একটু ভড়কে যান এবং বাঘ শিকার করতে গিয়ে গুলিটা গিয়ে ছাগলের গায়ে লেগে ছাগলটা স্বীকার হয়, কিন্তু বৃদ্ধ বাঘটা গুলির শব্দে মারা যায়, বাঘের পরিবর্তে ছাগল শিকারের ব্যাপারটা যাতে ফাঁস না হয়ে যায় সে দুর্বলতার সুযোগ হিসেবে মিস নেবেন মিসেস প্যাকল টাইটস্ থেকে শহরের বিলাসবহুন স্থানে একটা বাড়ি আদায় করে নিয়েছিলেন, পরবর্তিতে মিসেস প্যাকল টাইট কে আবার বাঘ শিকারে জন্য বললে তিনি বলতেন “বাঘ শিকারে খরছ বেশি” ঠিক আইডিয়ারের অবস্থা তেমন একটা অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে কিনা চিন্তার বিষয়।
একজন সরকারি কর্মকর্তা সাধারনত নিদৃষ্ট বয়স এবং তার কোন কর্ম যোগ্যতা হারান বলেই নিয়মানুযায়ী তখনই তাকে অবসরে পাঠানো হয় বা সরকারি চাকরি থেকে তিনি অবসর গ্রহন অর্থাৎ সেই ক্ষেত্রে তিনি কাজের অযোগ্য, উল্লেখ্য যে তিনি যদি যোগ্য থাকতেন তাহলে সরকার তাকে স্বস্বক্ষেত্রে মেয়াদ না বাড়িয়ে দুই বছর অবসর থাকার পর আবার অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে ডেপুটি হিসাবে নিয়োগ দেন, এ অবসর কি ঐ ব্যক্তির পুনরায় কর্মযোগ্যতার মাপকাঠি কি না দেখার বিষয়, যেহেতু এসব পদের যোগ্য অনেক লোকই দেশে আছেন।
কোন যৌক্তিক কারন নাথাকা সত্ত্বেও বিআইএ নিকট পরাজিত হয়ে নিজস্ব কোনো ভূমিকা গ্রহণ করতে পারেননা বা কোন পাওয়ার না খাটিয়ে দীর্ঘ অবস্থায় কোম্পানিগুলোকে তাদের উপরে তুলে দিয়েছেন এতে কিছু কোম্পানি তার নিজস্ব ব্যবসার স্বার্থে সুযোগ সুবিধা আদায় করতে গিয়ে অ্যাসোসিয়েশন নিজস্বভাবে সফটওয়্যার তৈরি করে সকলের নিকট ব্যবসা করা এবং কোম্পানিগুলির তথ্য আদান প্রদানের নামে কোন মাফিয়া চক্রের হাতে তুলে দেওয়ার আশঙ্কাও যেমন উড়িয়ে দেওয়া যায় না ঠিক তেমনি কোম্পানিগুলি থেকে দুর্বলতার সুযোগ আদায় করার কথাও বাদ দেয়া যায় না বলেও লাইফ এবং নন-লাইফ বীমা কোম্পানির বেশিরভাগ ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতামত দেন। এখানে উল্লেখ করা যায়, ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথরিটির (আইডিআরএ) এর সাথে বীমা কোম্পানিগুলির (লাইফ, নন-লাইফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কার্যনির্বাহী সভায় দুএকজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক/সিইও কোম্পানিগুলির স¦ার্থে কোন কথা বললে সবাই নিরব সম্মতি দেন এবং মৃদুহেসে মজা নেন, পরবর্তিতে আবার কাউকে পাওয়া যায়না সহযোগী হিসাবে। বিশেষত আইডিআরএ’র চাপের মুখে চিহ্নিত হয়ে যাওয়াসহ চাকুরি হারানোর ভয়ে,যেহেতু ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চাকুরি চুক্তি ভিত্বিক, পার্মানেন্ট বা স্থায়ী নয়।

বিশেষকরে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলি বর্তমানে যে অসম কমিশন প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ঝামেলার ভেতরে পড়ে থাকা সত্ত্বেও আইডিআরএ’র কোন উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোন উদ্বোগ পরিলক্ষিত হয়নাই এর জন্য দায়ী কে? কোম্পানিগুলোর একক অবস্থা এবং বাংলাদেশের ইন্স্যুরেন্স খাতকে বেহাল অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের ভিতর বিভিন্ন পরিস্থিতিতে জাতির পিতার স্বপ্নের বাস্তবায়ন করা দেশের বীমাখাতকে একটা পেশি শক্তির নিকট পরাজয় স্বীকার করে কেন তাদের কাছে তথ্য দিতে হবে? আইডিআরএ’র কোন রুলস আছে কিনা বীমা উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ব্যতীত অন্য কারো নিকট বা কোন অ্যাসোসিয়েশনের নিকট প্রতি মাসে নিজেদের তথ্য সরবরাহ করার, যদি না থেকে থাকে তাহলে একশ্রেণীর ক্ষমতার লোভী লোক বা তাদের নিজস্ব স্বার্থে কোম্পানিগুলিকে চাঁদা আদায়ের উৎস হিসাবে ব্যবহার করে নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের কাজকে আইডিআরএ এর উপর চাপিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই এতে দ্বিমত পোষণ করলেও ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথরেটি (আইডিআরএ) এখনো নিশ্চুপ রয়েছেন। বাংলাদেশের ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) কার নির্দেশে বা কার মতামতের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তোয়াক্কা না করে প্রতি মাসে নিজস্বভাবে তথ্য চেয়ে কোন একটা নিদৃষ্ঠ গোষ্ঠীকে তুলে দিয়ে নিজ স্বার্থ আদায় করার লক্ষ্যে উঠে পড়ে লেগেছে, এর জন্য অনেকেই আইডিআরএ কর্তৃপক্ষকে কাগুজে সর্দার হিসেবে উল্যেখ করেছেন।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিশেন(বিআইএ) এর সেক্রেটারী জেনারেল নিশীথ কুমার সরকার এর সাক্ষরিত এবং ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলিতে পাঠানো একটি নির্দেশনা চিঠির (কপি সংযোযিত) পরিপ্রেক্ষিতে বিআইএ’র এ তথ্য চাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে এবং অর্থনীতির ৩০ দিন পত্রিকার অনুসন্ধানী টিমের অনুসন্ধানে প্রায় শতভাগ ব্যবস্থাপনা পরিচালকরাই বিআইএকে নির্দেশনা মোতাবেক তথ্য প্রদানে দ্বীমত পোষন করেন।
আমরা আশা করব কোন অ্যাসোসিশেন অনৈতিক বা অসমর্থিত কোন তাবেদার গোষ্টির প্রভাবের নিকট মাথানত না করে দেশের ইন্স্যুরেন্স খাতকে শক্তিশালী করার জন্য আইডিআরএ’র বর্তমান চেয়ারম্যান জয়নুল বারী একটা শক্ত নিয়ন্ত্রন সংস্থা হিসাবে চেয়ারকে অলঙ্কিত করে যাবেন। যেখানে বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম, অদক্ষতা এবং সরকারি পদে থেকে অবৈধভাবে ব্যবসা করার দ্বায়ে সাবেক চেয়ারম্যান ডক্টর মোশারফ হোসেনকে ছেড়ে যেতে হল।

অনেকেই বলেন আমরা মোশারফকে তাড়ানোর পরে আমরা শিয়ালের থেকে বিভিন্ন কোম্পানিগুলোকে বাঘের মুখে ঠেলে দিয়েছি আসলে কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে দেখবেন দেশের বীমা কোম্পানির স্বার্থ এবং উন্নয়নের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বীমা বান্ধব লোক হিসেবে বীমা খাতকে সঠিক নিয়মে চালানোর জন্য কঠোর হাতে এই এসব দুর্নীতিবাজদেরকে দমন করবেন, যারা নিজেদেরকে প্রধানমন্ত্রী বা তাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে স্বার্থ আদায়ের জন্য দেশের প্রশাসনের ভিতর আরেকটা অদৃশ্য প্রশাসন তৈরি করে সুযোগ আদায় চিন্তা করতেছেন, এসব দুষ্ট চক্রকে দমন করে দেশের জিডিপির অংশীদার হিসেবে সফল ভূমিকা রাখবেন বলে সকলের প্রত্যাশা।












