প্রণয়ন হচ্ছে নতুন বাণিজ্য সংগঠন আইন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশে পরিচালনাধীন বাণিজ্য সংগঠনগুলোর জন্য নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এত দিন পর্যন্ত ১৯৬১ সালের এক অধ্যাদেশের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল সংগঠনগুলো। ৫৬ বছরের পুরনো অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে নতুন আইনটি। এরই মধ্যে আইনের প্রাথমিক খসড়া প্রণয়নের কাজও শেষ। বর্তমানে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে বাণিজ্য সংগঠন আছে চার শতাধিক। ‘ট্রেড অর্গানাইজেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬১’ অনুসরণ করেই এত দিন পর্যন্ত সংগঠনগুলোর কার্যক্রম চলেছে। আশির দশকে এতে কিছু সংশোধনী আনা হলেও পরবর্তীতে বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে ৫৬ বছরের পুরনো অধ্যাদেশটি বাতিল করে নতুন বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০১৮ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নতুন আইনের খসড়ায় এটি লঙ্ঘনের জন্য ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, ১৯৬১ সালের বাণিজ্য সংগঠন অধ্যাদেশে এখন পর্যন্ত একবারই সংশোধনী আনা হয়েছে ১৯৮৪ সালে। অন্যদিকে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৮২-১৯৮৬ সালের মধ্যে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় কার্যকারিতা হারায় ট্রেড অর্গানাইজেশন অর্ডিন্যান্স (সংশোধিত) ১৯৮৪। পরবর্তীতে বাতিল হওয়া এসব অধ্যাদেশের মধ্যে কয়েকটির আবশ্যিকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে খাতসংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে বাণিজ্য সংগঠন অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করে নতুন আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সিদ্ধান্তেরই ভিত্তিতে বর্তমানে নতুন বাণিজ্য সংগঠন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সূত্রমতে, ট্রেড অর্গানাইজেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬১ রহিত বা বাতিল করে বাণিজ্য সংগঠন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০১৮-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে এ খসড়ার ওপর খাতসংশ্লিষ্ট সবার মতামত গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। মতামত গ্রহণের পর অচিরেই নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে দীর্ঘদিন হলো। এখন একটা খসড়া তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বাণিজ্য সংগঠন উইংয়ের পরিচালকের তত্ত্বাবধানে দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এ উইং থেকে বাণিজ্য সংগঠনগুলোকে লাইসেন্স দেয়া, লাইসেন্স পাওয়া সংগঠনগুলোর সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালনা নিশ্চিত করা, সংগঠনের ব্যবস্থাপনা যথাযথ না হলে নির্বাহী কমিটি বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগের মতো কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে। এছাড়া যুক্তিসঙ্গত কারণে কোনো সংগঠন নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হলে কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধিসহ সংগঠনগুলোর অডিট রিপোর্ট, বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী মন্ত্রণালয়ে পাঠানোসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় থেকে সংগঠনগুলোর নির্বাচন পদ্ধতিসহ যাবতীয় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়। নতুন আইন অনুযায়ী, সরকার নিযুক্ত কমপক্ষে একজন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা মহাপরিচালক হিসেবে বাণিজ্য সংগঠন সম্পর্কিত কাজগুলো সম্পাদন করবেন।
নতুন আইনের খসড়ায় দেখা যায়, আইনের কোনো বিধান বা আদেশ লঙ্ঘন করলে বা আইনের কোনো বিধান বা আদেশ বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনকে সরকার অনূর্ধ্ব ১ লাখ টাকা এবং ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবে। এবং এ আইনের অধীনে দেয়া কোনো আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে না।