শেলটেক এর ৩০ বছর পূর্তিতে ১৯ দিনব্যাপী আবাসন মেলা

৩০ দিন প্রতিবেদক

শীর্ষ স্থানীয় আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শেলটেকের সোমবার ৩০ বছর পূর্তি হচ্ছে। এ উপলক্ষে ১৯ দিনব্যাপী বর্ষপূর্তি মেলার আয়োজন করেছে কোম্পানিটি। মেলায় বুকিং বা কেনার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দুই লাখ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা ছাড় পাওয়া যাবে।
রাজধানীর পান্থপথে শেলটেক লাউঞ্জে মঙ্গলবার থেকে এ আবাসন মেলা শুরু হচ্ছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন মেলা চলবে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শেলটেকের ২৩৬টি ফ্ল্যাট বিক্রি করা হবে।
গত ৩০ বছরে শেলটেক ১৬০ প্রকল্পে ৬৫ লাখ বর্গফুট আবাসন উন্নয়ন করে সাড়ে তিন হাজার ফ্ল্যাট বিক্রি করেছে। এতে ১৭ হাজার ৫০০ লোকের আরামদায়ক আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে। রাজধানীর পান্থপথে শেলটেক লাউঞ্জে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
শেলটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌফিক এম সেরাজ বলেন, রাজধানীতে আবাসনের ব্যবস্থা করতে শুরু থেকেই ফ্ল্যাটের সংস্কৃতি তৈরি করে শেলটেক। ৩০ বছর আগে রাজধানীর মালিবাগে চারতলা ভবনে ১৬টি ফ্ল্যাট তৈরির মাধ্যমে শেলটেক ‘কনক্লেভ’ প্রকল্প দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রতিটি ফ্ল্যাট ৬ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। এখন ওই ফ্ল্যাটের মালিকরা নতুন প্রযুক্তিতে আধুনিক ফ্ল্যাট তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। সেখানে নতুন করে ৩৩ কাঠায় ছয়টি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্পে ২০ তলা ভবনে ১৩৫টি ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, শেলটেক শুরু থেকেই ভালো এলাকায় আগেভাগে ফ্ল্যাট তৈরি করে কম দামে দিয়েছে। এতে ক্রেতারা বেশি লাভবান হয়েছেন। ক্রেতাদের আস্থায় দুঃসময়েও তাদের প্রতিষ্ঠান ভালো করেছে। এখন যে কোনো আকারের ভবন করার ক্ষমতা আছে তাদের।
চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, ৩০ বছরে অনেক অর্জন করেছে শেলটেক। তবে আবাসন খাতে মন্দার সময়ে কিছু বছর আর্থিকভাবে খারাপ সময় পার করেছে। এর প্রভাব জমি মালিক ও ক্রেতাদের ওপর পড়েনি। এ সময়ে শেলটেকের বহুমুখীকরণ হয়েছে। আবাসনের পাশাপাশি শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করেছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি নির্মাণ করছে। শেলটেক ব্রোকারেজ হাউস এখন শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন করে সিরামিক কারখানা চালু করেছি। শুরুতে এ কারখানায় টাইলস তৈরি করা হবে। পরে অন্যান্য উপকরণ তৈরির পরিকল্পনা আছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে টাইলস বাজারে আসবে।
৩০ বছরে আবাসন খাতের উত্তরণে শেলটেকের ভূমিকা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. সামিয়া সেরাজ। তিনি বলেন, শেলটেক প্রথম ১০ বছরে পরিকল্পিত আবাসন ও ফ্ল্যাটের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। পরের ১০ বছর উঁচু ও নানা বৈচিত্র্যের ভবন তৈরির পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে।
শেলটেকের পরিচালক তানভীর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে ৩০ বছর সফলভাবে ব্যবসা করা একটি বড় অর্জন। শেলটেক শুধু আবাসন খাতের ফ্ল্যাট বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, আরও নতুন কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে।