আট মাসে ১৪ কোম্পানির আইপিও অনুমোদন

অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
পুঁজিবাজারে শেয়ারের জোগান বাড়াতে আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে জোর দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে আইপিও অনুমোদন পেয়েছে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন শুরু হয়েছে। বাকি কোম্পানিগুলোর লেনদেন প্রক্রিয়াধীন। শেয়ার ছেড়ে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৭০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। বিএসইসি সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।
তথ্যমতে, এ বছর পুঁজিবাজারে আসার অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিগুলো হচ্ছেÑঅ্যাডভেন্ট ফার্মা, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, ইন্টাকো রিফুয়েলিং স্টেশন, বসুন্ধরা পেপার, এসকে ট্রিমস, আমান কটন, ভিএফএস থ্রেড। ইতোমধ্যে এসব কোম্পানির লেনদেন শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল, এমএল ডায়িং ও সিলভা ফার্মা। অন্যদিকে আইপিও আবেদন শেষ হয়েছে কাট্টলি টেক্সটাইলের। আর এখনও আইপিও আবেদনের তারিখ জানায়নি এসএস স্টিল। জানা গেছে, শিগগির এ প্রতিষ্ঠানের চাঁদা গ্রহণের তারিখ জানানো হবে।
এদিকে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি জরুরি বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। এই ক্ষেত্রে তারা এগিয়ে রেখেছে বহুজাতিক, সরকারি এবং ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি।
এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের পুঁজিবাজারে এখনও ভালো মানের কোম্পানির যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাই কোম্পানির অনুমোদন দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির মৌলভিত্তি বিচার করা দরকার।
তথ্যমতে, এ বছর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজার থেকে মোট ৬৭৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে অ্যাডভেন্ট ফার্মা লিমিটেড ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। কোম্পানিটিকে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে দুই কোটি শেয়ার ইস্যু করেছে। আর কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে এক কোটি ৫০ লাখ শেয়ার বাজারে ছেড়েছে। একইভাবে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে তিন কোটি শেয়ার ইস্যু করেছে কোম্পানিটি।
অন্যদিকে ভিএফএস থ্রেড ডায়িং লিমিটেড ২২ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে দুই কোটি ২০ লাখ শেয়ার ইস্যু করেছে। আর এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে তিন কোটি শেয়ার ইস্যু করেছে। একইভাবে সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস তিন কোটি শেয়ার ছেড়ে ৩০ কোটি টাকা, এমএল ডায়িং দুই কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ২০ কোটি টাকা, ইন্দো-বাংলা ফার্মা দুই কোটি শেয়ার ছেড়ে ২০ কোটি এবং কাট্টালি টেক্সটাইল তিন কোটি ৪০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ৩৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। এছাড়া এসএস স্টিল আইপিওর মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন পেয়েছে। ১০ টাকা ফেসভ্যালুতে দুই কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যু করবে এই প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি অনুসরণ করে বসুন্ধরা পেপার পুঁজিবাজারে দুই কোটি ৬০ লাখ ৪১ হাজার ৬৬৭টি শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। আর আমান কটন মিলস পুঁজিবাজার থেকে ৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।
বর্তমানে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির মাধ্যমে বাজারে আসার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এস্কয়ার নিট ও রানার অটোমোবাইল লিমিটেড। কোম্পানি দুটির বিডিং প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়েছে। এস্কয়ার নিটের কাট অব প্রাইস নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ টাকা। কোম্পানিটি বাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। অন্যদিকে রানার অটোমোবাইলসের কাট অফ প্রাইস নির্ধারণ হয়েছে ৭৫ টাকায়। কোম্পানিটি বাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। এ কোম্পানিগুলো ছাড়াও চলতি সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড নামে একটি ফান্ডের অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি।