দক্ষ প্রকৌশলী তৈরিতে সহায়ক হোক

আইডিইবি জাতীয় সম্মেলন
অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) তিন দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়েছে। আলোচ্য সম্মেলনের প্রতিপাদ্য— বিশ্বমানের ‘টেকনিক্যাল, ভোকেশনাল এডুকেশন ট্রেনিং’। চলতি আইডিইবি সম্মেলন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, বাংলাদেশে যখন অর্থনৈতিক রূপান্তরকাল চলছে। স্বাভাবিকভাবে অর্থনীতির গতিসঞ্চারে সঙ্গতিপূর্ণভাবে এগিয়ে চলছে অবকাঠামোর কাজ। নির্মাণ করা হচ্ছে সড়ক-মহাসড়ক, ফ্লাইওভার, স্থলবন্দর, নৌবন্দর, সেতু, কালভার্টসহ বড় বড় ভৌত অবকাঠামো। এসব অবকাঠামোর নীতি পরিকল্পনায় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা প্রকৌশলী ও বিদেশী কনসালট্যান্টরা নেতৃত্ব দিলেও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের কাজ করছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এসব প্রকৌশলীর বেশির ভাগই মানসম্পন্ন নন। ফলে তারা পেশাগতভাবে প্রত্যাশা অনুযায়ী নৈপুণ্য দেখাতে পারছেন না। প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে অবকাঠামোর মাঠ পর্যায়ের কাজও হচ্ছে অস্থায়িত্বশীল এবং সুনির্দিষ্ট আয়ুষ্কালের আগেই সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে ভেঙে পড়ছে। এর কিছু দৃষ্টান্তও আমরা গণমাধ্যম সূত্রে নিয়মিত দেখতে পাচ্ছি। সন্দেহ নেই, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই আমাদের মানসম্পন্ন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী তৈরি করতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহযোগী স্থায়িত্বশীল ভৌত ভিত্তির পূর্বশর্তও এটি। চলতি আইডিইবি সম্মেলন এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বৈকি।
লক্ষণীয়, সংখ্যার দিক থেকে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরাই বেশি। বিভিন্ন পলিটেকনিক কলেজ, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা এসব প্রকৌশলী দেশের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। কিন্তু দেশে বর্তমানে অবকাঠামো নির্মাণের যে কর্মযজ্ঞ চলছে এবং সামনে চলবে, তার চাহিদার নিরিখে প্রকৌশলীদের বিদ্যমান সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। তার ওপর রয়েছে মানের ঘাটতি। দেখা যাচ্ছে, ডিপ্লোমা প্রকৌশল শিক্ষায় কেবল সংখ্যাগত উল্লম্ফন ঘটছে, সমানুপাতিক হারে মান বাড়ছে না। বলা যায়, এ খাতে অদক্ষতার ইস্যুটি প্রকট। নিশ্চয় দক্ষ করে তোলা হলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অবদান আরো বাড়ানো যেত। সেক্ষেত্রে অবকাঠামোগত কাজের গুণগত মানও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেত। কাজেই এক্ষেত্রে শৈথিল্যের সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট জাতীয় সম্মেলনে বিশ্বমানের কারিগরি শিক্ষা প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। এটি সঠিক নির্দেশনারই প্রতিফলন। আলোচ্য সম্মেলনের সূত্র ধরে কারিগরি শিক্ষার মান বিষয়ে ইতিবাচক আলাপ-সংলাপের সূচনা ঘটবে নিশ্চয়ই। এটিও কম প্রাপ্তি নয়।
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। আর সেটি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ হিসেবে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবেলার বিষয়টি। এক্ষেত্রে উত্তরণ ঘটাতে হলে আমাদের প্রয়োজন বিপুল বিশ্বমানের প্রকৌশলী। অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রয়োজনে কারিগরি ও অবকাঠামোর দিক থেকে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্যই এটি দরকার। যথার্থভাবে আইডিইবি জাতীয় সম্মেলনে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য ও সার্কভুক্ত দেশগুলোর আমন্ত্রিত কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ছাড়াও ডিপ্লোমা প্রকৌশলী প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় দেশে বিশ্বমানের প্রকৌশলী গড়ে উঠবে— এটিই প্রত্যাশা।