শুদ্ধাচার পুরস্কার পাবেন ব্যাংকাররাও

অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
সরকারি কর্মকর্তাদের মত ব্যাংকারদেরও শুদ্ধাচার পুরস্কার দিতে একটি নীতিমালা করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারি-বেসরকারি-বিদেশি সব ব্যাংকে এই পুরস্কার চালুর জন্য বৃহস্পতিবার ‘শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান’ শীর্ষক এই নীতিমালা সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা ও সততার নিদর্শনসহ ২০টি সূচকের ওপর ভিত্তি করে প্রত্যেক ব্যাংক প্রতি বছর এই পুরস্কার দেবে। কোনো কর্মকর্তা ওই সব সূচকে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮০ পেলে তবেই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হবেন। পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের একটি সার্টিফিকেট এবং এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে। ২০১৮ সাল থেকেই এ পুরস্কার চালু করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করে, যার মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। এর ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নেতৃত্বে সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্ম-পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরিবীক্ষণ কাঠামো প্রণয়ন করছে। ২০১৭ সালে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান নীতিমালা প্রণয়ন করার পর এবারই প্রথম সিনিয়র সচিব ও সচিব পর্যায়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে শুদ্ধাচার পুরস্কার দেওয়া হয়।
ব্যাংকের জন্য করা পুরস্কারের নীতিমালায় বলা হয়েছে, শুদ্ধাচারের ২০টি সূচকের ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ পুরস্কারের জন্য বাছাই করা হবে। প্রতিটি সূচকের নম্বর থাকবে ৫। এগুলো হল- পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা, সততার নিদর্শন, নির্ভরযোগ্যতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা, শৃঙ্খলাবোধ, সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ, সেবা গ্রহীতার সঙ্গে আচরণ, প্রতিষ্ঠানের বিধি-বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা, সমন্বয় ও নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শিতা, পেশাগত, স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক নিরাপত্তা সচেতনতা, প্রতিষ্ঠানের প্রতি অঙ্গীকার, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা চর্চা, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে তৎপরতা, সোশাল মিডিয়া ব্যবহার, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, উপস্থাপন দক্ষতা, প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে আগ্রহ, অভিযোগ প্রতিকারে সহযোগিতা, সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধানবলি সম্পর্কে আগ্রহ ও পরিপালনে দক্ষতা এবং কর্তৃপক্ষ থেকে ধার্যকৃত অন্যান্য কার্যক্রম।
এসব সূচকের বিপরীতে একজন কর্মীর প্রাপ্ত মোট নম্বরের ভিত্তিতে সেরা কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচন করা হবে। কমপক্ষে ৮০ নম্বর না পেলে কেউ শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না। পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতে হলে একজন কর্মীকে অন্তত তিন বছর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চাকরি করতে হবে। এছাড়া কেউ এক বছর শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলে পরের তিন বছর আর তিনি পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না।