প্রথমার্ধে ব্র্যাক ব্যাংকের নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ১৩%

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০১৮ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি থেকে জুন) আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ নিট মুনাফা বেড়েছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির রেভিনিউ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ শতাংশ। মূলত সুদ আয় বাড়ার পাশাপাশি অন্যান্য খাতে আয় বাড়ার সুবাদে চলতি বছরের প্রথমার্ধে রেভিনিউ ও নিট মুনাফা প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে ব্যাংকটি। সম্প্রতি প্রথমার্ধের আর্থিক ফলাফল তুলে ধরতে আর্নিং ডিসক্লোজার আয়োজন করে ব্র্যাক ব্যাংক।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আরএফ হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে ব্যাংকের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। এ বছরের প্রথমার্ধ শেষে আগের বছরের ধারবাহিকতা বজায় রেখে আমরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি। প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে একসময় ব্র্যাক ব্যাংক দেশের সেরা ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃত হবে বলেও জানান তিনি।
চলতি ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ সময়ে ব্র্যাক ব্যাংকের মোট রেভিনিউ ১ হাজার ২৫৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্রথমার্ধ শেষে ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ বেড়ে ২৩ হাজার ১৯২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে ব্যাংকটির ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ২০ শতাংশ। শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির বিপরীতে আয় (আরওই) আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমে ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সম্পদের বিপরীতে আয়ও (আরওএ) কমে ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ হয়েছে। পাশাপাশি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথমার্ধে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার কমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ২৭২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৪২ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ সময়ে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৩৬ পয়সা, যা আগে ছিল ২ টাকা ৯ পয়সা। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ২৯ টাকা ৩ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২২ টাকা ২৭ পয়সা।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮ সালের প্রথমার্ধে ব্যাংকটির সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা দেখিয়েছে তিনটি এবং লোকসানে ছিল একটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল মানি এক্সচেঞ্জ সাবসিডিয়ারি ব্র্যাক স্বজন। কোম্পানিটির মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০১৮ সালের প্রথমার্ধে ১৭৬ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস সাবসিডিয়ারি বিকাশের নিট মুনাফা ২২ শতাংশ বেড়ে ৩১ কোটি ৬০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে ব্রোকারেজ কোম্পানি ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৫২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিপরীতে লোকসান ৬১ শতাংশ কমে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকায় ঠেকেছে ব্যাংকটির মার্চেন্ট ব্যাংকিং সাবসিডিয়ারি ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের।
প্রসঙ্গত, ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ২৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। গেল বছরে ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৭ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩১ টাকা ১০ পয়সায়। এর আগে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশের পাশাপাশি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পান ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডাররা।
ডিএসইতে সর্বশেষ ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার ৬৯ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর ছিল ৬৩ টাকা ৩০ পয়সা ও সর্বোচ্চ ১১৪ টাকা ৪০ পয়সা। ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্র্যাক ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ২০০ কোটি। বর্তমানে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ২১৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ব্যাংকের মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৮ দশমিক ৮৫, বিদেশী ৩৯ দশমিক ৬৩ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে বাকি ৭ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার।