প্রসঙ্গ বৈদেশিক পুনঃবীমায় ”B +” ক্রেডিট রেটিংয়ের বাধ্যবাধকতা!!!

মোঃ মানসুর আলম সিকদার, (এম.বি.এ, এল.এল.বি)

ক্রেডিট রেটিং কি?
ক্রেডিট রেটিং হল কোন ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির দ্বারা একটি কোম্পানীর আর্থিক দায়বদ্ধতা পরিশোধ করার একটি স্বাধীন মূল্যায়ন, যে এজেন্সি কর্তৃক এ জাতীয় মূল্যায়ন করা হয় তাকে ক্রেডিট রেটিং বলা হয়। কটি রেটিং এজেন্সি দ্বারা জারি করা একটি ক্রেডিট রেটিং হল কর্পোরেশন, সরকার এবং অন্যান্য সংস্থার দ্বারা জারি করা সিকিউরিটিজের ঋণযোগ্যতার মূল্যায়ন। এই ধরনের সিকিউরিটিজ প্রদত্ত রেটিং বেশিরভাগ হিসাবে প্রতিনিধিত্ব করা হয় AAA, AAB, Ba3, CCC ইত্যাদি। এটি একটি মার্কিং সিস্টেমের মতোই যেখানে সর্বোচ্চ রেটিং AAA একটি ঋণগ্রহীতাকে দেওয়া হয় যার ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা সর্বোচ্চ। এইভাবে, AAA কেনার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ঋণ সিকিউরিটিগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়।
পুন:র্বীমা কি?
পুনঃবীমা হল একটি বীমা কোম্পানির কাছ থেকে অন্য একটি বীমা কোম্পানির আংশিক বা পূর্ন বীমাদাবির দায় সহ বীমা কিনে নেওয়া। একটি বীমা কোম্পানি তার সকল গ্রাহকের বীমাদাবি পরিশোধের সক্ষম নাও হতে পারে কিংবা বীমাদাবির সময় নগদ বা তরল অর্থ হাতে নাও থাকতে পারে। আমরা দেখেছি কতটা স্বাভাবিকবীমা কোম্পানি কাজ তারা একটি সাধারণ ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়ার মতো বিপুল সংখ্যক লোককে পুল করে। ঝুঁকি পুলিং. কিন্তু এটা জানতে আকর্ষণীয় যে এমনকিবীমা যে কোম্পানিগুলি আপনাকে বীমা বিক্রি করে একটি
বীমা কিনে। এই বীমা কোম্পানিগুলি গ্রাহকদের প্রতি তাদের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে সক্ষম তা নিশ্চিত করার জন্য বীমা ক্রয় করে। একটি বীমা কোম্পানি তাদের ঝুঁকি অন্য বীমা কোম্পানিতে স্থানান্তর করার এই প্রক্রিয়াটিকে পুন:র্বীমা বলা হয়।
যে কোম্পানি ঝুঁকি স্থানান্তর করে তাকে বলা হয় সিডিং কোম্পানি এবং গ্রহণকারী কোম্পানিকে বলা হয় পুন:র্বীমাকারী। পুন:র্বীমাকারী সম্পূর্ণ বা ক্ষতির একটি অংশের বিপরীতে সিডেন্ট ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হন যা প্রাথমিক বীমা কোম্পানি কিছু নির্দিষ্ট বীমা পলিসির অধীনে বহন করতে পারে যা এটি বিক্রি করেছে। বিনিময়ে, সিডেন্ট পুন:র্বীমাকারীকে প্রিমিয়াম প্রদান করে। এছাড়াও, সিডিং কোম্পানি পুনর্বীমাকারীর দ্বারা মূল্যায়ন, মূল্য নির্ধারণ এবং পুনর্বীমা চুক্তির আওতায় থাকা ঝুঁকিগুলি পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য প্রকাশ করে।
পুনঃবীমা:  পুনঃবীমা হল একাধিক পুনর্বীমাকারীদের কাছে ঝুঁকি স্থানান্তর করার একটি পদ্ধতি যা লিখিত ব্যবসা / ঝুঁকি থেকে কোন ক্ষতির ক্ষেত্রে লস-এক্সপোজারকে হ্রাস করতে পারে। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে ঝুঁকির ক্ষতির অভিজ্ঞতা যতভাল, পুনঃবীমাকারীর সাথে পুনর্বীমার ব্যবস্থা করা তত সহজ। উপরোক্ত পরিস্থিতিতে, পুনর্বীমাকারীদের সঠিক হার এবং গ্রেড নির্ধারণের জন্য আমাদের অবশ্যই দেশের ঝুঁকির মোট গুণমান এবং এর ক্ষতির ইতিহাস বিবেচনা করতে হবে। সম্প্রতি আইডিআরএ একটি সার্কুলার-নন-লাইফ-৯০ প্রকাশ করেছে। স্বীকৃত রেটিং এজেন্সিগুলি কেবলমাত্র এ.এম.বেস্ট,(AM Best), এস.এন্ড.পি. (S&P), ফিচ (Fitch) এবং মুডিজকে Moodys) উল্লেখ করেছে যার মাধ্যমে সকল বেসরকারী সাধারণ বীমা কোম্পানিকে যাদের ক্রেডিট রেটিং বি+ এর নিচে রয়েছে এমন পুনঃবীমাকারীর সাথে ব্যবসা করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পুনঃবীমা বাজারে আমাদের অবস্থান পর্যালোচনা করতে হবেঃ    প্রথম এবং সর্বাগ্রে, আমাদের বিদেশী পুন:র্বীমা বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে হবে। তারপর আমাদের আন্তর্জাতিক পুনঃবীমা বাজারে আমাদের অবস্থান পর্যালোচনা করতে হবে। আমরা যদি এমন একটি অবস্থানে থাকি যেখান থেকে আমরা আন্তর্জাতিক পুনঃবীমাবাজার পরিচালনা করতে পারি বা আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি করতে পারি, তাহলে আমরা অনেক নিয়ম কানুন আরোপ করতে পারি যা আমাদের সর্বোত্তম স্বার্থে কাজ করে।
রেটেড পুনঃবীমাবাজার বাংলাদেশের বীমা বাজারের সাথে ব্যবসা করার আগ্রহ হারাচ্ছেঃ দুর্ভাগ্যবশত, প্রকৃত বাস্তবতা হল, খারাপ দামের সীমার উপরে খারাপ লোকসানের অভিজ্ঞতার কারণে, বেশিরভাগ রেটেড পুনঃবীমাবাজার বাংলাদেশের বীমা বাজারের সাথে ব্যবসা করার আগ্রহ হারাচ্ছে। তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য সর্বশেষ ক্রেডিট রেটিং:   বাংলাদেশের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর-এর (Fitch) ক্রেডিট রেটিং স্থিতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি সহ BB- তে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের জন্য মুডিস (Moodys) ক্রেডিট রেটিং সর্বশেষ পর্যালোচনা আউটলুক সহ Ba3 এ সেট করা হয়েছিল। বাংলাদেশের জন্য ফিচের (SP) ক্রেডিট রেটিং সর্বশেষ BB-তে স্থিতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির সাথে রিপোর্ট করা হয়েছিল। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে, বাংলাদেশের সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের (SBC) ক্রেডিট রেটিং কত? দেশ হিসাবে বাংলাদেশের সর্বশেষ ক্রেডিট রেটিং কত? আন্তর্জাতিক ভাবে কি সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের (SBC) ক্রেডিট রেটিং আদৌ আছে? থাকলেই বা কত? এ ধরনের প্রশ্ন উটতেই পারে। বাংলাদেশের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পিওর-এর ক্রেডিটরেটিং স্থিতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিসহ (BB-)তে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের জন্য মুডিস ক্রেডিটরেটিং সর্বশেষ পর্যালোচনা আউটলুক সহ Ba3 এসেট করা হয়েছিল। বাংলাদেশের জন্য ফিচের ক্রেডিটরেটিং সর্বশেষ BB- তে স্থিতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির সাথে রিপোর্ট করা হয়েছিল।
সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের (SBC) ক্রেডিট রেটিং “AAA” অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে কোন ক্রেডিট রেটিং নাইঃ অভ্যন্তরিনভাবে “AAA” ক্রেডিট রেটিং অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে কোন ক্রেডিট রেটিং নাই। রাষ্ট্রীয়খাতে একমাত্র নন-লাইফ বীমা ও পুন:বীমাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন বীমা, পুনঃবীমা ও দাবী পরিশোধসহ সকল ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ অর্থনৈতিক ভিত্তির আলোকে পূর্বে ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালেও সর্বোচ্চ ত্রেডিট রেটিং “AAA” অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে, যা বাংলাদেশের বীমা শিল্পে এক অন্যন্য রেকর্ড। যে সংস্থা এই রেটিংদিয়েছে, আলফা ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড সাধারন বীমাভবন-২ (৮মতলা) ১৩৯ মতিঝিলসি/ এ ঢাকা-১০০০।
যে দেশে কাজ করে তার ক্রেডিটরেটিং এর চেয়ে বেশি রেটিং থাকতে পারেনাঃ সাধারণত, সংস্থাগুলি যে দেশে কাজ করে তার ক্রেডিটরেটিং এর চেয়ে বেশি রেটিং থাকতে পারেনা – এমনকি যদি সংস্থাটি তার নিজের দেশের চেয়ে ভাল ক্রেডিট ঝুঁকি থাকে। কর্পোরেশন গুলিকে সাধারণত “দেশের সীমা অতিক্রম” করার অনুমতি দেওয়া হয় না। ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলি খুব কমই স্থানীয় সরকার স্তর এবং বেসরকারী সংস্থাগুলিকে রেটিং দেয় যা দেশের সার্বভৌম রেটিং এর চেয়ে বেশি কারণ ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলি বুঝতে পারে যে একটি নির্দিষ্ট সার্বভৌমত্বের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মক্ষমতা মূলত দেশের অর্থনৈতিক পারফরম্যান্সের উপর নির্ভরশীল। একে বলা হয় 'সার্বভৌম সীমা' নীতি। এই নীতিটি সার্বভৌম সংকট এবং কর্পোরেট ডিফল্ট গুলির মধ্যে সরাসরি পারস্পরিক সম্পর্কের বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এএমবেস্ট বীমা সংস্থাগুলির জন্য আর্থিক শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যারোমিটার হিসাবে বিবেচিত হয়ঃ “এএমবেস্ট 1899 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং বীমা শিল্পের জন্য নিবেদিত প্রাচীনতম এবং সর্বাধিক স্বীকৃত রেটিং এজেন্সি। এএমবেস্ট বীমা সংস্থাগুলির জন্য আর্থিক শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যারোমিটার হিসাবে বিবেচিত হয় এবং ব্যবসায়ের সমস্ত লাইন পর্যবেক্ষণ করে। গার্হস্থ্য বীমা বাজার ট্র্যাক করার পাশাপাশি, এএমবেস্ট অনেক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করে। যদিও এএমবেস্ট সাধারণত একটি বীমাসংস্থার আর্থিক স্বাস্থ্যের একটি শক্তিশালী সূচক হিসাবে বিবেচিত হয়, বীমা ক্যারিয়ার গুলির মূল্যায়ন করার সময় এটি একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত নয়। স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুয়ার্স, মুডিজ এবং ফিচ রেটিংস সহ অন্যান্য রেটিং এজেন্সিগুলি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। ক্যারিয়ার স্থিতিশীলতার পরিমাপ হিসাবে বীমাশিল্পের মধ্যে এ.এম .বেস্টকে প্রায়শই উল্লেখ করা হয়। উপরন্তু, আমরা দৃঢ়ভাবে আপনার ব্রোকারকে প্রক্রিয়া করণের সময় এবং দাবি পরিচালনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জিজ্ঞাসা করার পরামর্শ দিই। এ.এম.বেস্টের রেটিং গুলির পাশাপাশি, এই তথ্যটি আপনাকে সংস্থার সামগ্রিক শক্তির একটি ইঙ্গিত দিতে সহায়তা করবে।
সু-সানস্টেড, ভাইস প্রেসিডেন্ট, অ্যাকাউন্ট এক্সিকিউটিভ, প্রজেক্ট রিস্ক সার্ভিসেস ডিরেক্টর, রিয়েল এস্টেট প্র্যাকটিস গ্রুপ লিডার,”Parker, Smith & Feek”, সর্ব-জনাব, পার্কার, স্মিথ এবং ফিক দ্বারা 1937 সালে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 50 বৃহত্তম বীমা ব্রোকারেজ ফার্মগুলির মধ্যে একটি।
মিজ-সুসানস্টেড এর প্রবন্ধের মূল উপপাদ্য বিষয় হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানের সাথে সাথে যে দেশে প্রতিষ্ঠান অবস্থিত তার আর্থিক যোগ্যতাও নির্ভরযোগ্যতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সুতরাং এখন প্রশ্ন আসে যেখানে বাংলাদেশে একই স্তরের পুনঃবীমাকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, সেখানে B+ বা তার উপরে পুনঃবীমাকারীরাও করবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। একজন শিক্ষকের ন্যূনতম আগে শিক্ষাক্রম পূর্ণকরার পর সুনির্দিষ্ট বিষয় বিশদ জ্ঞান লাভও দীর্ঘ দিনের কর্মের মাধ্যমে সেইলব্ধ জ্ঞানের চর্চার মাধ্যমে অভিজ্ঞতার আলোকে একজন ভালো শিক্ষক যেমন হতে পারেন, ঠিক তেমনি একজন বিজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তি একজন সাধারণ কর্মচারী / কর্মকর্তা এর চেয়ে নিয়ন্ত্রক হিসেবে উপযুক্ত ও যুগোপযুগী সিদ্বান্ত নিতে বেশি পারদর্শী হবেন বলে আশা করা যায়।
দেশের টাকা দেশে রাখি, বাস্তবে কি তাই?: পুনঃবীমা সম্বন্ধে যাদের ন্যূনতম ধারণা আছে, তারা জানেন এবং ভালো করে জানেন যে পুনঃবীমার মাধ্যমে ঝুঁকি বিন্যাস করলে ঝুঁকির সাথে সাথে প্রিমিয়ামেরও বিন্যাস ঘটে। এমন তো নয় যে পুনঃবীমাকারী শুধু ঝুঁকি নিবে আর ক্ষতিপূরণ দিবে। নিরেট এই বিষয়ে জ্ঞানহীন ব্যক্তিই এরূপ দিবাস্বপ্ন বা অলীক বস্তুর / প্রক্রিয়ার কথা বলতে পারেনকিনা সন্দেহ। তবে এটা বলা যায়, সারাদেশের প্রাইভেট কোম্পানি যে বাধ্যতামূলক ৫০% আর বাকি যাদের বৈদেশিক পুনঃবীমা চুক্তি নাই তারা ১০০% সাধারণ বীমা কে যে সেশন দেন বোর্ডও এর মাধ্যমে, সাধারণ বীমাও সেগুলো তার বৈদেশিক পুনঃবীমা চুক্তি অনুযায়ী বিদেশে রেট্রোসেশনের মাধ্যমে পুনঃবীমা করার জন্য বিদেশেপ্রিমিয়ামের ভাগ প্রেরণ করে। তো দেশের টাকা দেশে কিভাবে থাকলো?

শুধু খেয়াল রাখতে হবে ক্ষতিও কিন্ত পুরোটাই আপনার পূরণ করতে হবেঃ Facultative এর ক্ষেত্রে বৈদেশিক পুনঃ বীমা এর ব্রোকার গনদের এই টাকা পেতে বীমাকারীদের গুনতে হয় ১০% কর এবং VAT. যদিও মার্কেটে শোনা যায়, কিছু ব্রকেরদের facultative এর প্রিমিয়াম সাধারণ বীমার দেনা পাওনার সাথে সমন্বয় করার মাধ্যম এই ভ্যাট-ট্যাক্স থেকে অদৃশ্য রেয়াত দেয়া হয় তবে এই গুজবের বেপারে শুধুমাত্র এক দুইটি সাধারণ বীমার সাথে চুক্তিভুক্ত ব্রোকারক্ষেত্রে শোনা গেলেও সত্যতা যাচাই এর কোনো উপায়নির্ণয় সর্বসাধারণের সম্ভব নয়। প্রসঙ্গক্রমে বলা যেতে পারে ”প্যান্টের বাম পকেট থেকে ১০ বের করে ডান পকেটে রাখলে যদি আপনার ১০ টাকা আয় হয়, তবে দেশের টাকা দেশে রাখাই উত্তম। শুধু খেয়াল রাখতে হবে ক্ষতিও কিন্ত পুরোটাই আপনার পূরণ করতে হবে”।
কমিশণের পাগলা ঘোড়া: যদিও IDRA কর্তৃক নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে ১৪.২৫% বেশি কমিশন দেওয়া বেআইনি, বাজারে বর্তমানে কত কমিশন চলে তা এক উপর ওয়ালা জানেন আর যারা লেনদেন করেন তারা জানেন। গুজবে কান না দিতে চাইলেও ৪০% এর কম কেউ বীমা-ব্যবসা পান কিনা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। IDRA কর্তৃক নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে ১৪.২৫% বেশি কমিশন একজন এজেন্ট পাবে না। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে সেই কমিশন একজন এজেন্ট পায় কি না? যদি না পায় তবে সেটা ফৈজদারি অপরাধ এবং সরাসরি (মানি লন্ডারিং)অপরাধ। এই অপরাধতো দুরের কথা বাংলাদেশে কি আর্থিক লেনদেনের ব্যপারে কেউ আইন মানে? যেই আইন মানা হয় না, সে আইন করা হয় কেন? আইন মানে গরিব, অসহায়, নিরীহ এবং সাধারন ব্যক্তিরা। বাংলাদেশের অসাধরনেরা কি আইন মানে? হা শুধু কাগজ কলমে আইন মানা হয় বলে অনেকেই মত প্রকাশ করছেন। অথচ (মানি লন্ডারিং) অপরাধ কিন্তু আন্তর্জাতিক ভাবে এটা গুরুতর অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
Own retention কোন রিটেনশন??! No Tension!!!: পুনঃবীমাযোগ্য ঝুঁকি পুনঃবীমা না করে অবাস্তব দর হাঁকিয়ে ব্যবসা আদায় করা এখন বড়দের খেলা, যেখানে ছোট ছোট বীমা কোম্পানিগুলো নেহায়েৎ ”সুধী দর্শকমন্ডলী” হালে কেউ যদি বলে যে সে বৈদেশিক পুনঃবীমাকারীর সাথে সরাসরি facultative সহ পুরাটাই তথা রিটেনশন বাদ দিয়ে পুনঃবীমা চুক্তিকে পাশকাটিয়ে পুরো ঝুঁকিটি বিশেষ দরে বন্দোবস্ত করেছেন, অবাক হবো না। কারণ অনেকেই ইদানিং দুবাই যাতায়াত বাড়িয়ে দিয়েছেন। শুনেছে প্রিমিয়াম পেইমেন্ট ঐখানে হয়!!!

অনেকেই মনে করছে যে, পুনঃবীমাযোগ্য ঝুঁকি পুনঃবীমা ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (SBC)কে পাশ কাটিয়ে পুরাটাই তথা রিটেনশন বাদ দিয়ে পুনঃবীমা চুক্তিকে পাশকাটিয়ে পুরো ঝুঁকিটি বিশেষ দরে বন্দোবস্ত করেছেন তাদের পছন্দের বৈদেশিক পুনঃবীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে। এগুলো তদারকি করার মত এক্সপার্ট টিম বাংলাদেশে নাই বলে অনেকেই মনে করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বীমা-ব্যক্তিত্ব বলেছেন ”যারা পুনঃবীমা ব্যবস্যা বুঝে তারা কোথাও পাত্তা পাচ্ছেন না অথবা তাদের পরামর্শও কেউ নিচ্ছে না এবং যারা বীমা সম্পর্কে কিছুই জানে না তারাই আজ বীমার নিতিনির্ধারক”।
বড় বড় বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈদেশিক পুনঃবীমার থেকে রেট এনে মনোপলি ব্যবসার সুযোগ করে দিলঃ বৈদেশিক পুনঃবীমা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া কোন সন্দেহ নাই। বাংলাদেশে এই বৈদেশিক পুনঃবীমার প্রক্রিয়া বোজার মত ব্যক্তি বীমা বাজারে খুব কম ব্যক্তি আছে। এখন প্রশ্ন হল যে, উপরের নিয়ম কানুনগুলো কেন করা হল? সকল বেসরকারী কোম্পানি সাধারণ বীমা কোম্পানিকে যাদের ক্রেডিট রেটিং বি+ এর নিচে রয়েছে এমন পুনঃবীমাকারীর সাথে ব্যবসা করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কেন? এগুলোতে বীমা সেক্টরের কি লাভ হল? এতে করে ধনী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরক্ষভাবে অনেক সুবিধা করে দিল, কর্তৃপক্ষ। ছোট ছোট বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো বৈদেশিক পুনঃবীমার থেকে রেট এনে বড় বড় ব্যবস্যা করতে পারবে না অর্থাৎ বড় বড় বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৌশলগতভাবে বৈদেশিক পুনঃবীমার থেকে রেট এনে মনোপলি ব্যবসার সুযোগ করে দিল। দিনশেষে মনে রাখতে হবে যে, দেশটা আপনার, আমার এবং সকলের, আমরা আমাদের দেশটিকে বড় ভালোবাসি। এর ভালো মন্দ যদি আমরা না দেখি, তো কে দেখবে?
লেখকঃ  “বীমাবিদ ও সাধারণ বীমার মুলতত্ত্ব”