
খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
বীমা কোম্পানির মালিক সিন্ডিকেটের হয়রানির বেড়াজালে ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র চেয়ারম্যান ড. মোশাররফ হোসেন পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। অর্থমন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তিনি গতকাল অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে তার পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী আজ ১৫ জুন ২০২২ অর্থমন্ত্রণালয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেনের পদত্যাগপত্র আমলে নিয়ে এবং আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান পদ শুন্য ঘোষনা করে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও অনলাইনে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেনের দুনীতি ও অনিয়মের কিছু খবর প্রচারতি হয়। এর প্রতিকার হিসাবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ড. এম মোশাররফ হোসেনের সম্পদের হিসাব চেয়ে চিঠি দিয়েছিল । সংস্থাটি ১জুন ২০২২ আইডিআরএ চেয়ারম্যান কে ২১ কর্ম দিবসের মধ্যে তার স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পদের হিসাব দেওয়ারও নির্দেশ দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিএফআইইউ ডঃ এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকার বেশি দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদন জমা পর ১৬ জুন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. এজারুল হক আকন্দের দ্বৈত বেঞ্চ শুনানির তারিখ নির্ধরন করে দেয়।
আদালতে দাখিল করা বিএফআইইউ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড. মোশাররফ এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে ৫টি ব্যাংক একাউন্টে মোট ৩০টি হিসাব পরিচালনার তথ্য পেয়েছে বিএফআইইউ। এর মধ্যে ১৮টি হিসাবে ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়ে জমা হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
প্রতিবেদনে বিএফআইইউ ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনে উক্ত বিষয়ে একটি গোযয়েন্দা রিপোর্ট পাঠিয়েছিল। দুদকে পাঠানো ওই প্রতিবেদনে ড. মোশারফ হোসেনের পেশা, আয়ের উৎস ও হিসাব খোলার উদ্দেশ্যের সাথে লেনদেনের ব্যাপক অসামঞ্জস্যতা রয়েছে এবং এ সকল লেনদেনের সাথে ঘুষ ও দুর্নীতির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু সালেহ মোহাম্মদ আমিন মেহেদী নামে এক বিনিয়োগকারী ড,এম মোশাররফ হোসেন চেয়ারম্যান পদে থেকে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন-২০১০ এর ৭(৩)(খ) ধারার লঙ্ঘন করে ও তথ্য গোপন করে দু’টি কোম্পানির পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন বলে হাইকোর্টে রিট করেন।
ড,এম মোশাররফ হোসেন ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল বীমা উনয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। সাধারন সুত্র থেকে জানা যায় তিনি চেয়াম্যান পদে নিযুক্ত হওয়ার পুর্বেই অন্যান্ন সকল কার্যক্রম থেকে অভ্যাহতি নেন।
গত বছরের ৯ নভেম্বর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আইডিআরএ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের আবেদন নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন। পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে দুদক ও বিএফআইইউ’কে জানাতে বলেন আদালত।
একইসঙ্গে আইডিআরএ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান/তদন্তে বিবাদীদের ব্যর্থতা আইনগত কর্তৃত্ব-বর্হিভূত কেন হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, দুদক, এনবিআর’র চেয়ারম্যান, বিএফআইইউ’র নির্বাহী পরিচালক ও শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলে আদালত।













