বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন
অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন-এর সভাপতিত্বে বীমা শিল্পের সমস্যা নিয়ে ২১ মে এসোসিয়েশনের সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআই-এর প্রথম ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রফেসর রুবিনা হামিদ এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট একেএম মনিরুল হক, বিআইএ-এর নির্বাহী কমিটির সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, নূরুল আলম চৌধুরী, মনজুরুর রহমান, এনামুল হক, আবুল হাসেম, নাসির উদ্দিন আহমেদ, ইমাম শাহীন, বেষ্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোং লিঃ চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আব্দুল হাফিজ মল্লিক,পিএসসি(অবঃ) এবং সেক্রেটারী জেনারেল নিশীথ কুমার সরকার। উক্ত সম্মেলনে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর আলোকপাত করা হয়।
বীমা এজেন্ট কমিশনের বিপরীতে উৎসে মূল্য সংযোজন কর আদায় ঃ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বীমা এজেন্ট কমিশনের বিপরীতে ১৫% উৎসে কর কর্তন করতঃ ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে জমা করে সংশ্লিষ্ট মূল্য সংযোজন কর কার্যালয়ে জমা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এই বিধানের ফলে ইন্স্যুরেন্স এজেন্টগন এবং দেশের বীমা শিল্প ভীষন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং বীমা শিল্প বিকাশে বাধাগ্রস্ত হবে।
মূল্য সংযোজন কর পণ্য সরবরাহ বা সেবা প্রদানের মূল্যের উপর ধার্য্য করা হয়ে থাকে। অত্র ক্ষেত্রে বীমা এজেন্ট সরাসরি কোন পণ্য বা সেবা প্রদান করে না। এই সেবা প্রদান করে বীমা কোম্পানী এবং তার জন্য পলিসি প্রিমিয়ামের উপর ১৫% হারে কমিশন প্রদান করে থাকে। বীমা এজেন্ট বীমা গ্রাহকের পক্ষে কাজ করে এবং কোম্পানীর বীমা পলিসি গ্রাহকের পক্ষে ধৎৎধহমব করে। এ ক্ষেত্রে কোম্পানীর কাছ থেকে যে কমিশন পায়, যা তার আয় এবং এই আয়ের উপর ৫% হারে আয়কর দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে তাঁর এই আয়ের উপর যদি আবার ১৫% মূসক দিতে হয় তাহলে দ্বৈত কর ধার্য্য করা হবে যা কাম্য নয়। এমতাবস্থায় এনবিআর যে পত্র প্রদান করেছে তা যুক্তিসংগত নয়। উক্ত কর আদায় বা কর্তন সম্পর্কিত আইন সংগত বিভিন্ন তথ্যাবলী নি¤েœ প্রদর্শন করা হলো
(১) বীমা আইন ২০১০ এবং বীমা বিধিমালা, ১৯৫৮ এর অধীনে বীমা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১ এর ৬ ধারা এবং মূল্য সংযোজন কর বিধিমালা এর বিধি-১৮(ক), বিধি-১৮ (খ) সহ প্রচলিত অন্যান্য সকল আইনের বিধান অনুযায়ী উৎসের উপর কর্তন যোগ্য সকল প্রকার মূসক কর্তন করে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে মূসক প্রদান করা হয়।
(২) মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২২নং আইন) এর ধারা-৩ উপ-ধারা (৫) এর দফা (খ)-তে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন ঝ.জ.ঙ. নং ১৬৮-আইন/২০১৩/৬৭২-মূসক, তারিখ ১৩/০৬/২০১৩ খ্রিঃ কর্তৃক প্রদত্ত সেবা কোড ঝ০২৭.০০ এর অধীন সেবা তালিকাভুক্ত (করযোগ্য) নিয়ম মাফিক কর প্রদানকারী একটি আইনগত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা।
(৩) প্রজ্ঞাপন ঝ.জ.ঙ. (যার নং ১৬৮-আইন/২০১৩/৬৭২-মূসক) এর ব্যাখ্যা অনুসারে বীমা কোম্পানী বলতে, “অগ্নি, নৌ, বিমান, মটর, স্বাস্থগত দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য যে কোন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বীমা পলিসি (জীবন বীমা পলিসি ব্যতীত) এর মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা সংক্রান্ত ব্যবসা পরিচালনায় নিয়োজিত কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা”। ফলে স্বাভাবিকভাবে উক্ত আইনগত প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা পরিচালনার কাজে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা (যারা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্থায়ীভাবে বা চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির এক ও অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং একই সেবা কোড নং ঝ০২৭.০০ এর আওতাভূক্ত।
(৪) আরো উল্লেখ্য যে, বীমা আইন ২০১০ এর ধারা-২ এর উপ-ধারা (২৫) অনুযায়ী “বীমাকারী” বলতে “বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের বাহিরে বাংলাদেশের আইন বা অন্য কোন রাষ্ট্রের আইনে নিয়মিত বা নিবন্ধিত এইরুপ কোন কোম্পানী, সমিতি বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, যাহা (১) বাংলাদেশে বীমা ব্যবসা পরিচালনা করে, বা (২) বীমা ব্যবসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে কোন প্রতিনিধি নিয়োগ করে কিংবা বাংলাদেশের অভ্যান্তরে ব্যবসায়িক কার্যালয় স্থাপন করে। অর্থাৎ বীমা সেবা কোন নং ঝ০২৭.০০ এর আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত সকল কার্যক্রমকে সুনির্দিষ্ট ভাবে অন্য সেবা কোড হিসেবে চিহ্নিত না করা কিংবা পৃথক সেবা হিসেবে সজ্ঞায়িত না করা পর্যন্ত তা একই সেবা কোড নং ঝ০২৭.০০ এর আওতাভুক্ত থাকবে।
(৫) উক্ত সেবা কোড নং ঝ০২৭.০০ এর অধীনে পরিচালিত সকল কার্যক্রমের জন্য উৎসের উপর বিধান কর্তৃক ধার্যকৃত ১৫% মূসক যথাযথ প্রক্রিয়ায় ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা প্রদান করা হয়।
(৬) বীমা আইন ২০১০ এর ধারা-১২৪(১) অনুযায়ী, “একজন বীমাকারী বা ব্রোকার একজন ব্যক্তি বীমা এজেন্ট নিয়োগ ও তাহার নিবন্ধীকরণ করিবে এবং প্রত্যেক বীমাকারী বা ব্রোকার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বীমা এজেন্ট হিসাবে অনুরূপ সকল নিয়োগ নিবন্ধনের একটি রেজিষ্ট্রার সংরক্ষণ করিবে”। সংশ্লিষ্ট ১২৪(১) ধারাটি ভাল ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বীমা এজেন্টগণ মূলত কোম্পানী কর্তৃক নিয়োজিত ও নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বীমা ব্যবসা পরিচালনায় সেবা কোন নং ঝ০২৭.০০ এর আওতায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
(৭) উক্ত ধারা (ধারা নং-১২৪) অনুযায়ী বীমা এজেন্টগণ মুলত বীমা কোম্পানীর পৃথক কোন সেবা প্রদান করে না বরং কোম্পানীর একজন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নির্ধারিত হিসেবে নির্ধারিত পারিশ্রমিক/কমিশন এর বিনিময়ে বীমা আইন ২০১০ এর বিধান অনুযায়ী বীমা সেবা সেবা কোড নং ঝ০২৭.০০ এর আওতায়) সহায়তা প্রদান করেন।
(৮) আরও উল্লেখ্য যে, ধারা-১২৪ অনুযায়ী বীমা কোম্পানী বীমা আইনের ২০১০ এর ধারা-৫৯ এর উপধারা (৩) অনুযায়ী বীমা এজেন্টকে বাংলাদেশে ইস্যুকৃত তাহার মাধ্যমে কার্যকর কোন নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি ক্ষেত্রে নির্ধারিত শতকরা হারের অধিক কমিশন বা অন্য কোন প্রকার পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে পারবে না।
(৯) বীমা কোম্পানী আয়কর আইনের ৫৩-জি ধারা অনুযায়ী বীমা এজেন্টকে প্রদত্ত কমিশন বা পারিশ্রমিকের উপর ৫% হারে আয় কর কর্তন এবং সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান করে থাকে।
(১০) উপরোক্ত বিষয়ে সকল কোম্পানীর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিবৃন্দ বিষয়টি নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাগনের সংগে ফলপ্রসু আলোচনার ভিত্তিতে বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য উদ্যোগী ভূমিকা পালনে সচেষ্ট রয়েছেন এবং উক্ত বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনের স্থগিত আদেশ রয়েছে।
(১১) উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে ইহাই প্রমানীত হয় যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বীমা এজেন্ট কর্তৃক প্রদত্ত সেবা এবং পুন:বীমা কমিশনের উপর আরোপিত মূসক কোড নং ঝ০২৭.০০ (অন্যান্য বিবিধ সেবা) এর অন্তর্ভুক্ত হইতে পারে না, কারন বীমা কোম্পানী এজেন্টের মাধ্যমে তাদের সেবা প্রদান করে থাকে এবং বীমা এজেন্টগন বীমা আইনের ধারা ১২৪ এর উপধারা (১) অনুযায়ী ঐ কোম্পানীর কর্মকর্তা। তাদের আয়ের উপর ৫% হারে আয় কর কর্তন করা হয় এবং সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান করা হয়।
তাই বীমা এজেন্ট কমিশনের বিপরীতে ১৫% উৎসে কর কর্তন করার বিধান প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
২) পুন:বীমা কমিশনের বিপরিতে উৎসে মূল্য সংযোজন কর
পুন:বীমা প্রিমিয়ামের উপর মূসক প্রযোজ্য নয়। বীমা কোম্পানী প্রিমিয়াম গ্রহণ করলেই গ্রাহকের নিকট থেকে ১৫% হারে মূসক গ্রহন করে তা সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান করে। বীমা কোম্পানী ঝুকি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এই প্রিমিয়ামের একটি অংশ পুন:বীমাকারীকে প্রদান করে পুন:বীমা গ্রহন করে থাকে। যেহেতু প্রিমিয়াম গ্রহন কালে সম্পূর্ণ প্রিমিয়ামের উপর আইন অনুযায়ী মূসক গ্রহন করে সরকারী কোষাগারে জমা করা হয় এবং এই প্রিমিয়ামেরই একটি অংশ পুন:বীমাকারীকে প্রদান করা হয়, যেহেতু পুন:বীমা প্রিমিয়ামের উপর ভ্যাট আরোপের কোন সুযোগ নেই। এ ধরনের ভ্যাট ধার্য্য করা হলে বিষয়টিকে দ্বৈতকর বলে বিবেচিত হবে।
তাই পুন:বীমা কমিশনের বিপরীতে ১৫% উৎসে কর কর্তন করার বিধান প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
৩) ব্যবস্থাপনা ব্যয় ঃ
২০০৫-২০০৬ সালের অর্থ বিলের (ঋরহধহপব অপঃ) মাধ্যমে সংশোধনকৃত বীমা কোম্পানীর আয় নিরুপন সংক্রান্ত অধ্যাদেশের চতুৃর্থ তফসিলের অনুচ্ছেদ ৬ এর অনুচ্ছেদ (১) এর বিধান বাতিল করার জোর সুপারিশ করা হচ্ছে। এই সংশোধনীর ফলে বীমা কোম্পানীকে বীমা আইন, ২০১০ এর শর্ত মোতাবেক হিসাব বিবরনী তৈরী করে আয়কর বিভাগে দাখিল করতে হবে এবং বীমা আইনে অনুমোদনযোগ্য খরচের অতিরিক্ত দাবীকৃত খরচ আয়কর নির্ধারনের ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য হবে না। বিধানটি ২০০৫-২০০৬ কর বছর থেকে প্রযোজ্য হয়েছে।
বীমা কোম্পানীর ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য ব্যবস্থাপনা খরচ নির্ধারিত হয় ২০১০ সালের বীমা আইনের ৬৩ ধারা এবং ১৯৫৮ সালের বীমা বিধির ৪০ ধারা অনুযায়ী। ১৯৫৮ সালের বীমা বিধির ৪০ ধারাটি ১৯৯৪ সালে সংশোধন করা হয়েছিল। তারপর এ ধারার কোন সংশোধন হয়নি। উপরোক্ত বিধি অনুযায়ী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলো প্রিমিয়াম আয়ের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট অংক ব্যবস্থাপনা ব্যয় হিসেবে খরচ করতে পারে, যদি এর বেশী হয় তবে বীমা আইন ২০১০ এর ১৩০ ধারা অনুসারে বীমা কোম্পানীকে জরিমানা করতে পারে অথবা অতিরিক্ত খরচ যদি হয় বীমা আইনের ৬৩ ধারা অনুযায়ী তা মওকুফ করতে পারবেন। বিষয়টি নিতান্তই বীমা নিয়ন্ত্রকের বিষয়, আয়করের বিষয় নয়। আয়কর বিধান অনুযায়ী আয় থেকে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাদ দিয়ে যে আয় নিরুপিত হয় তার উপর নির্ধারিত হারে আয়কর দিতে হয়। সুতরাং বীমা আইনের বিধানকে আয়কর নিরুপণের বিধান আইনের চোখে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই উল্লিখিত বিধান বাতিল করার জন্য সুপারিশ করা হলে বীমা শিল্প রেহাই পাবে। সকল খাতে, ব্যবস্থাপনা ব্যয় ১০০% এর বেশী বেড়েছে। তাই বর্তমান বীমা আইন এবং বিধি অনুযায়ী অনুমোদনযোগ্য খরচের অতিরিক্ত খরচের উপর ৪০% হারে আয়কর নির্ধারন করার কারণে দুর্বল কোম্পানীগুলোর পক্ষে অস্তিত্ত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
অতএব ২০০৫-২০০৬ সালের অর্থ বিলের মাধ্যমে সংশোধনকৃত বীমা কোম্পানীর আয় নিরুপন সংক্রান্ত অধ্যাদেশের চতুৃর্থ তফসিলের অনুচ্ছেদ ৬ এর অনুচ্ছেদ (১) এর বিধান বাতিল করার জোর সুপারিশ করছি।
৪) লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি হোল্ডারদের পলিসি বোনাসের উপর ৫% গেইন ট্যাক্স কর্তন বন্ধ করা ঃ
২০১৪ সালে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৫২-টি ধারা সন্নিবেশ করে দেশের সকল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর পলিসি গ্রহীতাদের জমাকৃত প্রিমিয়ামের অতিরিক্ত প্রদেয় বোনাসের উপর ৫% গেইন ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছে। নি¤েœ পলিসিহোল্ডারদের পলিসি বোনাসের উপর গেইন ট্যাক্স প্রত্যাহারের যৌক্তিকতা নি¤েœ প্রদর্শন করা হলো।
ক্স প্রতিবেশী দেশসমূহের তুলনায় বাংলাদেশে আমরা খুব কম সংখ্যক মানুষের কাছেই লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা পৌছে দিতে পেরেছি। বীমা সুবিধার উপর প্রস্তাবিত আয়কর আরোপ করা হলে বীমা সুবিধার আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যা আরও কমে যাবে।
ক্স প্রায় সব দেশই ইন্স্যুরেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং পরিশোধিত প্রিমিয়ামের অতিরিক্ত বীমা সুবিধাকে আয়করের আওতামুক্ত রাখে। প্রস্তাবিত আয়কর আরোপ হলে বীমা শিল্পের অগ্রগতির জন্য সরকারের চলমান উদ্যোগ ব্যহত হবে।
ক্স যেহেতু লাইফ ইন্স্যুরেন্স করার ক্ষেত্রে কোন মুনাফা হাসিলের চিন্তা কাজ করে না, যেহেতু লাইফ ইন্স্যুরেন্স থেকে প্রাপ্ত সুবিধার উপর আয়কর আরোপ করা সমিচিন নয় বলে আমরা মনে করি।
ক্স একজন ব্যক্তির সঞ্চয় এবং অবসরকালীন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি করা হয়। সচরাচর যে সময়ে একজন পলিসিগ্রাহক পলিসির মেয়াদপূর্তি সুবিধা পান, তখন তিনি কর্মক্ষম প্রায় হারিয়ে ফেলেন। এই সুবিধার উপর আয়কর আরোপ এমন একজন অবসর যাপনকারী ব্যক্তির জন্য বোঝা স্বরূপ এবং তার আর্থিক কষ্টের কারণ হবে।
ক্স কোম্পানীগুলো বিভিন্ন জীবন বীমা সুবিধা প্রদান করে, যেমন-মেডিক্যাল খরচ, অক্ষমতার ক্ষতিপূরণ, অক্ষমতার ফলে আয় ক্ষগ্রিস্থ হওয়ার ক্ষতিপূরণ, বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রদত্ত সুবিধা যেমন-ক্যানসার, হার্ট এ্যাটাক, অঙ্গহানি ইত্যাদি)। এই পরিস্থিতিতে ইন্স্যুরেন্সের এই অর্থ একজন ব্যক্তি ও তার বিপর্যন্ত পরিবারের জন্য খুবই মূল্যবান এবং তাদের অত্যাবশ্যকীয় চাহিদা মেটানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে এই অর্থের উপর আয়কর আরোপ করা সমচিত নয়।
ক্স জীবন বীমা পলিসি সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘ মেয়াদী হয়। মুদ্রাস্ফিতির জন্য একজন পলিসি গ্রাহক যে প্রিমিয়াম দেয় তার চেয়ে অনেক কমটাকা মেয়াদপুর্তি সময় পেয়ে থাকে। এই ট্যাক্স আরোপ হলে, বীমা গ্রহীতা, জীবন বীমা গ্রহনের চেয়ে অন্য ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে। এতে বীমা ব্যবসা ভীষন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং জীবন বীমার প্রতি সাধারণ মানুষ আগ্রহ হারাবে।
তাই ৫% গেইন ট্যাক্স প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
৫) বর্তমানে সাধারণ বীমা ও জীবন বীমা কোম্পানির জন্য কর্পোরেট ট্যাক্স রেইট ৪০%ঃ
বর্তমানে সকল লিষ্টেড পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ২৫% হারে কর্পোরেট কর দিচ্ছে। বীমা কোম্পানির পক্ষে ৪০% হারে কর্পোরেট ট্যাক্স পরিশোধ করা দুরহ। তাই বীমা কোম্পানিসমূহের কর্পোরেট করের হার হ্রাস করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন দৃঢ়ভাবে আশা করে যে সদাশয় সরকার বাজেট পাশ হওয়ার পূর্বে বিআইএ-এর উল্লিখিত প্রস্তাবসমূহ বীমা শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে জাতীয় বাজেটে অর্ন্তভূক্তির বিষয়ে বিবেচনা করবেন।












