“আইডিআরএ’র ফারইষ্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রতি দুর্বল ভুমিকা কেন?”- (৪র্থ পর্ব)

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
একটা দেশের আর্থিক মেরুদন্ড বা চালিকা শক্তি সেদেশের ব্যাংক বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকগুলির অভিভাবক হিসাবে কাজ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিক একইভাবে বীমা কোম্পানীগুলির অভিভাবক হিসাবে কাজ করে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ)। আর এই বীমা খাতের অভিভাবক হিসাবে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ)’র ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ব?
দেশের টেকসই অর্থনীতির জন্য দেশের বীমা খাতের অবদান অনস্বীকার্য। অর্থনীতির মূল মেরুদন্ড ধরা হয় এই খাতটিকে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের বড় একটি অংশই নির্ভর করে যে কোন দেশের বীমাখাতের স্থিতিশীল পরিস্থিতির উপর। এলসি খোলা, ব্যাংকিং লেনদেন, আমদানী রপ্তানী, শেয়ারবাজার বা শিল্প বিকাশের পাশাপাশি বিনিয়োগ পুনঃ বিনিয়োগের আর্থিক সার্কেলটি মূলত বীমা নির্ভর। আর এ সব কাজের জন্য বীমা প্রতিষ্ঠানের উপর মানুষের আস্থা ও সূচকের স্থিতিশীলতাকে বিবেচনায় আনা হয়।
বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন অগ্রযাত্রার এই মুহুর্তে বীমা খাতটি একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়ে গেছে। বলা যায় দেশের বীমাখাতটি বর্তমানে অদক্ষ, অযোগ্য আর দূর্নীতিবাজদের দখলে। এখানে দুর্নীতির এক মহা উৎসব চলছে। বীমা খাতের চরম অব্যবস্থাপনা, নৈরাজ্য ও দূর্নীতির পেছনে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ)’র আইনী দূর্বলতা, স্বজনপ্রীতি, অনিয়মকে দূষছেন এই খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্তা ব্যক্তির অতিলোভ ও আইন ভাঙার প্রবণতার পাশাপাশি দূর্নীতির সুযোগে অধীনস্থ কোম্পানীগুলো নির্লজ প্রতারণায় নেমে পড়েছে, যার কারনে সকল প্রকার নিয়ম ভেঙ্গে চলছে জীবন বীমার প্রতিষ্ঠানগুলো, যার জ্বলন্ত উদাহরন ফারইস্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী। ফারইস্ট ইসলামী লাইফের হাজার হাজার বীমা গ্রাহককে খাদের কিনারায় রেখে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এখন প্রায় দেউলিয়া হওয়ার পথে, সেই সাথে ফারইস্ট লাইফের নজরুল-খালেক গংদের দুর্নীতির দ্বায় বহন করতে গিয়ে কোম্পানিটির বহুলোককে চাকুরি হারাতে হয়েছে, আর এর দ্বায় হিসাবে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ)কে কোন কারনেই বাদ দেওয়া যায়না।
ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লি. এর অনিয়ম, দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ইতোমধ্যে পরিচালনা বোর্ড ভেঙ্গে দিয়ে নতুন বোর্ড গঠন করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আর এখানে দুর্নীতির প্রমাণিত সত্য হিসেবে পরিচালকগণ কোম্পানী থেকে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার প্রচারিত তথ্যমতে, গত দশ বছরে ফারইস্ট লাইফে কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন(বিএসইসি) এর স্পেশাল অডিট রিপের্টের সুত্র ধরে বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে। এই আত্মসাৎ প্রক্রিয়ার সাথে বোর্ডের শীর্ষ ব্যক্তিরা জড়িত। তথ্যানুসন্ধ্যানে বেরিয়ে আসে ফারইস্ট লাইফের বড় লুটপাট এবং অর্থ আত্মসাতের সাথে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে অন্যতম কোম্পানীর সাবেক চেয়ারম্যানদ্বয় নজরুল-খালেক গং এবং সেই সময়ের কোম্পানীর অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ড. মোশাররফ হোসেন এফসিএ, যিনি বর্তমানে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ)’র চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত।
ডকুমেন্ট অনুযায়ী ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ড. মোশাররফ হোসেন এফসিএ, ফারইস্ট লাইফের অডিট কমিটির চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়েই মোটা দাগের দূর্নীতির ঘটনা গুলো ঘটেছে। আর্শ্চযের ব্যাপার হল এ সমস্ত দূর্নীতির অধিকাংশ দায় অন্যদের ঘাড়ে চাপিয়ে নিজেকে দুধে ধোয়া তুলসি পাতা সাজার চেষ্টা করে চলেছেন আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ড. মোশাররফ হোসেন এফসিএ।
নিজের দূর্নীতি যাতে আলোর মুখ না দেখে সেই কারণে তিনি নানাভাবে কোম্পানীটিকেই ধ্বংস করে দেয়ার শেষ প্রান্তে নিয়ে গেছেন মর্মে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সেই সাথে আত্মসাৎকৃত অর্থের কে কতভাগ শেয়ার নিয়েছেন, কি প্রক্রিয়ায় নিয়েছেন আর সে অর্থ কে কোথায় বিনিয়োগ করে কি কি সম্পদ নিজেদের বা নিজেদের পরিবারের নামে গড়ে তুলেছেন তার বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে এসেছে একাদিক অনলাইনসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং বেশকিছু তদন্তকারী সংস্থার অনুসন্ধানে।
আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের এসব অনিয়ম এবং একাদিক দূর্নীতি শুধু ফারইস্ট লাইফের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আইন ভেঙ্গে একদিকে যেমন তিনি আইডিআরএ’র ভিতরে নিজস্ব বলয়ে আরেক অদৃশ্য আইডিআরএ তৈরীকরে এধরণের দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা করে চলেছেন, আর এর বিনিময়ে তিনি ব্যাপক পরিমাণ অনৈতিক সুযোগ সুবিদা গ্রহণ করে চলেছেন, অপরদিকে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ)’কে চরমভাবে বিতর্কিত করে তুলেছেন, যা গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে সমোযোতা করে প্রশাসনিকভাবে ফারইষ্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রতি দুর্বল ভুমিকা পালন করার ভিতর দিয়ে প্রমানিত হয়। ধারাবাহিক ভাবে চলবে…..