অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
অতিদরিদ্রদের মাত্র ৪% মাধ্যমিক পেরোতে পারছে
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষার হারে এগিয়ে রয়েছে শ্রীলংকা। দেশটির দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রমকে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদানসহ শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ফান্ড বা তহবিল ব্যবস্থা। শিক্ষার হারের উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম। প্রাথমিকে সব শিক্ষার্থী এ কার্যক্রমের আওতায় থাকলেও মাধ্যমিকসহ উপরের স্তরে ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে এ সুবিধা কম। তাই প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ভর্তির হার প্রায় শতভাগে পৌঁছালেও মাধ্যমিকে গিয়ে এ হার কমছে। ইউনেস্কোর গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং (জিইএম) রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশে অতিদরিদ্রদের মাত্র ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে পারছে। এসব পরিবারের ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থীই মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনোর আগে ঝরে পড়ছে। তথ্যটি সর্বজনীন শিক্ষা কার্যক্রমে সরকারকে নতুন করে মনোযোগের নির্দেশ দেয়।
এদিকে এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষায় শতভাগ নিবন্ধন করার যে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয়া হয়েছিল, তাতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ছেলে মেয়ের নিবন্ধনের অনুপাতের সমতার হারেও সফলতা আসে। বাংলাদেশের সামনে রয়েছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এসডিজি। সেখানে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য আজীবন শিক্ষার সুযোগ তৈরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে শিক্ষার ওই সূচকগুলোয় উন্নতি করতে হবে। তাই প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনোর ক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ঝরে পড়া রোধে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা জরুরি। না হলে আগামীতে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমরা কতটা সফল হব, তা ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। যদিও শিক্ষা ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বে রীতিমতো উদাহরণে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। এবার তাই সর্বজনীন শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। মেয়ে শিক্ষার্থীদের যেমন উপবৃত্তি প্রদান করা হয়, দরিদ্র পরিবারের ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি এবং ছেলে শিক্ষার্থীদের বেতন মওকুফের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বেশির ভাগই বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত। এসব প্রতিষ্ঠানে বেতনাদি থেকে অন্যান্য খরচ বেশি হওয়ায় দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারগুলো তা মেটাতে অপারগ। ফলে প্রাথমিকের পর তারা বাধ্য হয়েই স্কুলবিমুখ হয়। আর্থিক অসচ্ছলতা ঘোচাতে রোজগারে নামতে বাধ্য হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি উদ্যোগে মাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।












