
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক :-
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল বৃহস্পতিবার বড় পতন হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। এ দিন সূচক লেনদেন দুটোই কমেছে। একই সাথে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দরও কমেছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় লেনদেন বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক পতনে পড়ে বাজার। গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮১.৭১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৩৪.৬৯ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১৩.৯৭ পয়েন্ট, ডিএসই-৩০ সূচক ৩৭.৯৭ পয়েন্ট এবং সিডিএসইটি সূচক ১৯.৩৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১২৪৭.৬৭ পয়েন্টে, ২ হাজার ৭৩.৮৮ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৫৭.২৫ পয়েন্টে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় দরপতনের মধ্য দিয়ে। প্রথম ঘণ্টার লেনদেনেই ডিএসইর প্রধান সূচক ৫০ পয়েন্টের উপরে পড়ে যায়। একপর্যায়ে বেলা ১১টা ১৪ মিনিটে হঠাৎ করে ডিএসইর ওয়েবসাইটে লাইভ আপডেট দেখানো বন্ধ হয়ে যায়। ৪৬ মিনিট বন্ধ থাকার পর দুপুর ১২টা থেকে আবার লাইভ আপডেট দেখাতে থাকে ডিএসই। এর মধ্যেই বাজারে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়ায় শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে আতঙ্কিত হয়ে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ দাম কমিয়ে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ান। ফলে দেখতে দেখতে বড় পতন দেখা দেয় বাজারে।
গতকাল বাজারের এমন অবস্থায় তাৎক্ষণিক খোঁজখবর নেয়া শুরু করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পরে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দেয়ায় আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি গুঞ্জন ছড়িয়েছেÑ করোনার প্রকোপ বাড়ায় শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা কমিশনের নেই। ব্যাংক যদি খোলা থাকে করোনার প্রকোপ যতই বাড়ুক শেয়াবাজার খোলা থাকবে।’
গতকাল ডিএসই ৬৮৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন থেকে ১৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৯৮ কোটি টাকার। ডিএসইতে গতকাল ৩৬০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ২৯টির বা ৮.০৫ শতাংশের, শেয়ার দর কমেছে ২৩৯টির বা ৬৬,৩৯ শতাংশের এবং ৯২টির বা ২৫.৫৬ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার কারণে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ছয় হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল চার লাখ ৭৮ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা, যা বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৭২ হাজার ৯৭ কোটি টাকা। বাজার মূলধন বৃদ্ধি বা কমার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে বা কমেছে।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২১৭.৬৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭৫০.১২ পয়েন্টে। সিএসইতে গতকাল ২৩২টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৮টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৬০টির আর ৪৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৪ কোটি ২৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
ব্লক মার্কেট : গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে ১৮টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির সাড়ে ৬৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কোম্পানিগুলোর ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭৪৬টি শেয়ার ৩২ বার হাত বদল হয়েছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর ৬৪ কোটি ৬৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে ইউনিলিভারের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬ কোটি ৬২ লাখ ৮৪ হাজার টাকার ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ চার কোটি ৯৪ লাখ ৭১ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের।
এ ছাড়া আমান কটনের পাঁচ লাখ ৪৪ হাজার টাকার, বিকন ফার্মার ছয় লাখ পাঁচ হাজার টাকার, বেক্সিমকোর ৪৭ লাখ ১৮ হাজার টাকার, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের ২৭ লাখ সাত হাজার টাকার, ডিবিএইচের পাঁচ লাখ টাকার, জিবিবি পাওয়ারের এক কোটি ৩৭ লাখ ১৬ হাজার টাকার, জেনেক্সের সাত লাখ ৪৪ হাজার টাকার, গ্রামীণফোনের ৬৮ লাখ ৮০ হাজার টাকার, কোহিনূর কেমিক্যালের ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকার, খুলনা পাওয়ারের পাঁচ লাখ টাকার, পিপলস ইন্স্যুরেন্সের ১৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকার, রবি আজিয়াটার পাঁচ লাখ তিন হাজার টাকার, সমতা লেদারের পাঁচ লাখ এক হাজার টাকার, সিমটেক্সের ১০ লাখ ৬৬ হাজার টাকার এবং ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের পাঁচ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।
ন বন্ধের গুজবে শেয়ার সূচকের বড় পতন”












