শেখ হাসিনা কাকে বিশ্বাস করবেন?

খোন্দকার জিল্লুর রহমান
ধুলো বালির কোর্মা পোলাউ আর সে কাদার পিঠে,
মিছা মিছি খেয়ে সবাই বলে বেজায় মিঠে।
এমন সময় হঠাৎ আমি যে ই পড়েছি এসে,
পালিয়ে গেল দুষ্টরা সব খিলখিলিয়ে হেসে…

Zillur Rahaman
Zillur Rahaman

দীর্ঘ ৩৯ বছর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং টানা ১১ বছর ধরে স’রকার প্রধান হিসেবে আছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি একটা মাইলফলক হিসাবে স্মরনিয় হয়ে থাকার কোন বিকল্প নাই বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু রাজনীতির মাঠে বা সরকার পরিচালনায় তিনি কি বিশ্বস্ত সহকর্মী পাচ্ছেন?
রাজনীতিতে ৩৯ বছর আওয়ামী লীগ প্রধান হিসেবে এবং ১৬ বছর সরকার প্রধান হিসেবে আমরা যদি তার রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখবো যে, যখন তিনি যাকে বিশ্বাস করেছেন, তারাই বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। আর সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যখন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ৩৯ বছর আর সরকার প্রধান হিসেবে টানা ১১ বছরের বেশি সময় পার করছেন, এই সময়টিকেই তার রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে সবচেয়ে কঠিন সময় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রথমত শেখ হাসিনা কাজ করেন মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে। শেখ হাসিনার যে বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ, সেই মন্ত্রিপরিষদের অধিকাংশই নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। তারা সত্য কথা বলেন না।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অকপটে কথা বলার মতো সাহস এই মন্ত্রিসভার অল্প কয়েকজনেরই আছে। সাম্প্রতিক সময় মন্ত্রীরাও সংকট মোকাবেলার ক্ষেত্রে বা সরকার পরিচালনার রূপপরিকল্পনা নিয়ে খুব একটা কিছু জানেন না। এজন্য মন্ত্রীরা এখন বিশ্বস্ততার যে গণ্ডি, তার মধ্যে নেই। এলাকার খবর রাখেন না এমপিরা
মন্ত্রীদের পরেই আছেন এমপিরা। এমপিদের সাথে শেখ হাসিনার দূরত্ব তৈরি হয়েছে অনেক আগেই। অধিকাংশ এমপিরা এলাকায় যান না। এলাকার খবর জানেন না। তারা সেই খবর আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিতেও পারেন না। যার ফলে এমপিদের ওপর বিশ্বাস রেখে সংকট মোকাবেলা করার মতো বোকামী শেখ হাসিনা কখনো করবেন না বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
লেখক ঃ সম্পাদক প্রকাশক, অর্থনীতির ৩০ দিন।