
২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ও বৈদ্যুতিক গাড়ির সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণরুপে প্রত্যাহারের দাবি বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)’র ।
খোন্দকার জিল্লুর রহমান
বারভিডা জালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব হাইব্রিড গাড়ির শুল্ক-কর হার পুনর্বিন্যাসের আহবান জানিয়েছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা প্রেসিডেন্ট মোঃ হাবিব উল্লাহ ডন এসব আহবান জানান। ৬ জুন২০২৩ দুপুরে ঢাকা ক্লাবে বারভিডা সেক্রেটারি জেনারেল, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও উপদেষ্টাবৃন্দ উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত।
সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা প্রেসিডেন্ট দেশের কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
প্রস্তাব অনুযায়ী হাইব্রিড কার ও জিপ (১৮০১ সিসি থেকে ৪০০০ সিসি পর্যন্ত) আমদানিতে শুল্ক হ্রাস না করায়
রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি খাতের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বারভিডার বাজেট প্রস্তাবনায় গণপরিবহন হিসেবে বহুল ব্যবহৃত মাইক্রোবাস এবং পরিবেশ বান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ির সম্পূরক শুল্ক সম্পুর্র্ণ প্রত্যাহারের জন্য যে আবেদন করা
হয়েছিল তা পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি আহবান জানান। একাধিক মোটরগাড়ি থাকলে প্রত্যেকটি গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট হারে পরিবেশ সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে তা সঠিক নয় বলে মনে করে সংগঠনটি। বারভিডা মূলত জাপানের মানসম্পন্ন গাড়ি আমদানি করে তা সর্বাধিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ও পরিবেশ বান্ধব, তাই এসব গাড়ির ব্যবহারকারীদের পরিবেশ সারচার্জ প্রদানের বিষয়টি মোটেই যৌক্তিক নয়। এবিষয়ে প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে বলেন,
বারভিডা দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠন, দেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ও বিপণন খাতে কয়েক হাজার কোটি টাকার স্থানীয় বিনিয়োগ রয়েছে। বর্তমানে বারভিডার সদস্য এক হাজারেরও বেশি, যেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশে লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান রয়েছে।
বারভিডা সরকারকে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব প্রদান করে আয়কর, ভ্যাট এবং রোড ট্যাক্স প্রদানের মাধ্যমে দেশের কর অবকাঠামো তৈরিতে অবদান রেখে আসছে একইসাথে রিকন্ডিশন্ড মোটরযান ব্যবসা নির্ভর করে বিভিন্ন ব্যাংক, লিজিং কোম্পানি ও বীমা কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে।
২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে
২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট জাতীয় সংসদে পেশে করার সময় আমাদেরকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ডলার সংকটে আমদানি সংকোচনের চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময় অতিবাহিত করছে। এপরিস্থিতিতে সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জন,বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আমরা তাকে স্বাগত জানাচ্ছি। একই সাথে মূল্যস্ফীতির ভোগান্তি থেকে সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দিতে ব্যক্তি শ্রেণীর আয়করের সীমা বৃদ্ধি করাকে বারভিডা স্বাগত জানায়।
২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বারভিডার প্রস্তাবনা
সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর খাত হিসেবে প্রতি অর্থবছরের বাজেট পেশের আগে-পরে আমাদের পুরো খাত জুড়ে বিরাজ করে অস্থিরতা, খানিকটা অনিশ্চয়তা। ক্রেতা সাধারণের মাঝেও এই সময়টাতে আসন্ন বাজেটের মারাত্মক প্রভাব পড়ে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কর কাঠামো এবং শুল্ক-করের হার নির্ধারণ করে দেয় তাহলে এসেক্টর হতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পুরণ, বিনিয়োগকারীদের সস্থির পরিকল্পনা, গ্রাহকদের অনিশ্চয়তা দূর হওয়া, সরবরাহকারীদের আস্থা এবং নীতি প্রনয়নকারীদের দূরদর্শিতার স্বাক্ষর স্পষ্ট হয়ে থাকবে।

পরিবেশ বান্ধব আধুনিক প্রযুক্তির হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির উপর প্রযোজ্য শুল্ক-কর হ্রাস করে রাজস্ব বৃদ্ধি ও রিকন্ডিশন্ড মোটরগাড়িকে দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডে অধিকতর অর্ন্তভুক্ত করার পথ সুগম করা।
এনবিআর এর সাথে প্রাক-বাজেট আলোচনায় ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে বিভিন্ন ক্যাটাগরির গাড়ির শুল্ক-কর পূনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাবনা এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়। প্রার্থিত শুল্ক-করের হার সমন্বয় কিংবা হ্রাস করা না হলেও দীর্ঘমেয়াদী কর কাঠামো এবং শুল্ক-করের হার অপরিবর্তিত রেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড স্থিতিশীল শুল্ক নীতি এবং স্থির বাজার ব্যবস্থার পথে অগ্রসর হচ্ছে বলে বারভিডা মনে করে। দেশের অন্যতম রাজস্ব প্রদানকারী খাত হিসেবে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায় নিয়োজিত পেশাজীবিদের পক্ষ থেকে বারভিডা রাজস্ব বোর্ডের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়।
পরিবেশ সারচার্জ / কার্বন করের ব্যপারে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট প্রস্তাবনায় কোন করদাতার নামে একাধিক মোটরগাড়ি থাকলে একের অধিক প্রত্যেকটি গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট হারে পরিবেশ সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব করেছেন। বারভিডা থেকে মূলত জাপান থেকে যেসব মানসম্পন্ন গাড়ি আমদানি করে থাকি তা সর্বাধিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং পরিবেশ বান্ধব। এর অধিকাংশ গাড়ি থেকেই যেহেতু কোন কার্বন নিঃসরনের সুযোগ নেই, তাই এসব গাড়ির ব্যবহারকারীদের পরিবেশ সারচার্জ প্রদানের বিষয়টি মোটেই যৌক্তিক নয়। এ বিষয়টিতে সুষ্পষ্ট দিক নির্দেশনা এবং পরিষ্কার ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।
গত প্রায় দুই বছর বিশ্বজুড়ে মার্কিন ডলারের সংকটের ফলে বাংলাদেশে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে গাড়ির দাম যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বারভিডার প্রস্তাব অনুযায়ী হাইব্রিড গাড়ির শুল্ক হ্রাস এবং মাইক্রোবাস ও বৈদ্যুতিক গাড়ির সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে গাড়ির মূল্য মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। এর ফলে বাজার সম্প্রসারণের সাথে সাথে সরকারের রাজস্ব আয়ও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আবদুল হক, প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট আনিসুজ্জামান পিনু উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ১ মোঃ আসলাম সেরনিয়াবাত, ভাইস প্রেসিডেন্ট ২ রিয়াজ রহমান, কালচারাল সেক্রেটারি জোবায়ের রহমান এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মোহা. সাইফুল ইসলাম (সম্রাট), এ. বি. সিদ্দিক (আবু), আবু হোসেন ভূইয়া রানু, মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর, মোঃ গোলাম রব্বানি (শান্ত), মোঃ লাবু মিয়া হাজী রুবেল এবং পুনম শারমিন ঝিলমিল।










