

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে ২০ বছর পর আবার পরিবর্তন? প্রশ্নটা দেশের ব্যাংকিং জগতে আলোচনায় মুখেমুখে স্বরব প্রতিধ্বণি হচ্ছে, খাত সংশ্লিষ্ট অনেকে এটাকে হীন স্বার্থের বহিঃপ্রকাশসহ শতস্ফুর্তভাবে মেনে নিতে পারেন নাই। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ছাড়া দেশের আর্থীক খাতের বোধ্যারা এটাকে সাউথইস্ট ব্যাংকে ২০ বছর আবার সেই পুরুনো শকুনের আবির্ভাব বলে মন্তব্য করেন, যা একটানা অভিস্মরনিয় উন্নয়নমুখি একটি ব্যাংকের জন্য অশনি সঙ্কেত বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেন।
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রবিবার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এম এ কাশেম। তিনি বেসরকারি এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। বেসরকারি এ ব্যাংকটি ১৯৯৫সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অদুরদর্শী পরিকল্পনার কারনে লক্ষ অর্জনে বার বার ব্যার্থ হয়। সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড দ্বিতীয় প্রজন্মের একটি বেসরকারি ব্যাংক, ১৯৯৫ সালে এ ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১৯৯৯ সালে ব্যাংকটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত হয়। ২০০০ সাল থেকে প্রথম চার বছর চেয়ারম্যান হিসেবে যথাক্রমে আব্দুল্লাহ ইউসুফ হারুন, এমএ কাসেম, আজিম উদ্দিন আহমেদ ও রাগীবআলী দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখ্য যে ২০২২ সালে পরিচালক পদ থেকে বাদ পড়েছিলেন এমএ কাসেসহ তিনজন। বাদপড়া প্রত্যেকের নামেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম এবং বেপরোয়া আধিপত্ত ও কেলেঙ্কারির কারনে গ্রেফার পর্যন্ত হন। পলাতক সরকারের লেজুড়বিত্তি ও চামচামি করার কারনে তাদের অনেকে এখন পদপদবি ত্যাগ করে গ্রেফতার আতঙ্কে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। এর ভিতর থেকে কেহ কেহ এখন রাতারাতি বোল পাল্টিয়ে ভিন্ন প্রভাব খাটাচ্ছেন বলে লাইম লাইটে আসছেন। তার প্রকৃত প্রমান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। যিনি গত ৫ অক্টোবরের খুনি স্বৈরাচারি পলাতক সরকারের নিকটতম ঘনিষ্টজন ছিলেন। প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরপরই তিনি পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রীয় টি কোম্পানি ন্যাশনাল টি কোম্পানি থেকে পদ পদত্যাগ করে পালিয়েছেন। চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের এসব কেলেঙ্কারি নিয়ে অর্থনীতির ৩০ দিন বিডি.কম অনলাইন এবং অর্থনীতির ৩০ দিন সেপ্টেম্বর ২০২৪ সংখ্যায় ছবিসহ বিস্তারিত ফলাও করে প্রকাশ করে। ঘঠনাক্রমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রভাব খাটিয়ে পরিচালনা পর্যদের অনেককে ভয় ভীতি দেখিয়ে ও সুবিধা দেয়ার প্রলোভনে তাঁরা সবাই ব্যাংকের পরিচালক পদে ফিরে এসেছেন, ব্যাপরটা যেন নতুন বোতলে সেই পুরোনো মদ।

এম এ কাশেম যখন সাউথইস্ট ব্যাংকের পর্ষদ থেকে বাদ পড়েন, তখন পরিচালক হয়েছিলেন আঞ্জুমান আরা শহীদ। তিনি পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের স্ত্রী। আঞ্জুমান আরা শহীদ এর আগে আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের চেয়ারম্যান ছিলেন। চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুব ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।
২০২২ সালে অনেকটা কাছাকাছি সময়ে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে বাদ পড়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির কারনে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি থেকেও বাদ পড়েন এবং গ্রেফতার হন, পরে ভিন্নপথ অবলম্বনে ছাড়া পান এম এ কাশেম, আজিম উদ্দিন আহমেদ ও রেহানা রহমান। এরা সবাই গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বেসরকারি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি পদ ফিরে পান এম এ কাশেম, আজিম উদ্দিন আহমেদ, রেহানা রহমানসহ বোর্ড অব ট্রাস্টির ১২ জন সদস্য। পদ ফিরে পাওয়ার পর আজিম উদ্দিন আহমেদ এরই মধ্যে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়েছেন।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ বুধবার চেয়ারম্যান আলমগীর কবিরের সভাপতিত্বে সাউথইস্ট ব্যাংকের ২৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা(এজিএম) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলমগীর কবির, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান খান ও এশিয়া ইনস্যুরেন্সের প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। আলমগীর কবির আর ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে না থাকারও ঘোষণা দেন। এজিএমে অংশ নেননি আঞ্জুমান আরা শহীদ, যার কারনে তিনিও পরিচালক পদ হারাচ্ছেন। ব্যাংকের পরিচালকদের তালিকা থেকে ইতিমধ্যে তাদের নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সাউথইস্ট ব্যাংকের ২৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)এর পরবর্তী পর্ষদ সভায় এম এ কাশেমকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসাবে এম এ কাশেমকে নির্বচিত করায় অনৈতিক কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এবং যারা ব্যাংকটির উন্নয়নে ঈশ্বান্মিত, তারা ব্যাতিত দেশের আর্থীক খাতের বোধ্যারা এটাকে সাউথইস্ট ব্যাংকে ২০ বছর পর আবার সেই পুরুনো শকুনের আবির্ভাব বলে মন্তব্য করেন, যা প্রথম প্রজন্মের ব্যাংকের মত অভিস্মরনিয় উন্নয়নমুখি একটি ব্যাংকের জন্য অশনি সঙ্কেত বলেও মন্তব্য করেছেন। তিনি ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি। তিনি রোজ কর্নার (প্রাইভেট) লিমিটেডেরও চেয়ারম্যান। এম এ কাশেম নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে অতীতে চারবার দায়িত্ব পালন করেছেন।
পদ ফিরে পাওয়ার পর এম এ কাশেম বলেন, ‘আমি যে অবস্থায় ব্যাংকটিকে রেখে গিয়েছিলাম, সেই অবস্থায় এটিকে ফিরিয়ে আনা এখন লক্ষ্য। শেয়ারধারী ও আমানতকারীদের স্বার্থ যাতে কোনোভাবে ক্ষুন্য না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। আমার অনুপস্থিতিতে ব্যাংকে কী হয়েছে, তা নিরীক্ষার মাধ্যমে বের করা যায় কি না, তা নিয়েও তিনি পর্ষদে মন্তব্য করেন।

সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড দ্বিতীয় প্রজন্মের একটি বেসরকারি ব্যাংক, ১৯৯৫ সালে এ ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়, ১৯৯৯ সালে ব্যাংকটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত হয়। ২০০০ সাল থেকে প্রথম চার বছর চেয়ারম্যান ছিলেন এবং যথাক্রমে আব্দুল্লাহ ইউসুফ হারুন, এমএ কাসেম, আজিম উদ্দিন আহমেদ ও রাগীবআলী দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে সেপ্টেম্বর মাস থেকে যখন ব্যাংটির সংকটাপন্ন অবস্থায় দেউলিয়া হওয়ার পথে উপনিত হয়, ঠিক তখনই দৃড় প্রত্যয় এবং সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে আলমগীর কবির, এফসিএ দ্বিতীয় প্রজন্মের এই সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে আজো পর্যন্ত প্রায় ২০ বছর সুশৃংখল ও শতভাগ কমিটমেন্টের মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালনা করে আসছেন। ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা এবং গ্রাহক প্রষ্টপোষকদের আস্থা অর্জন করতে গিয়ে দুএকজন অপরিনত সাংবাদিক ও সুনিদৃষ্ঠ কিছু লোকের বিরাগ ভাজন হলেও একটি ব্যাংকে দুর্বল এবং প্রায় দেউলিয়া অবস্থা থেকে বিগত ২০ বছরে পারিবারিক গন্ডি থেকে বের করে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কৃতিত্ব ব্যাংকিং জগতে সূ-কৌশুলি ও সফল ব্যাংকার হিসাবে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান আলমগীর কবির এফসিএ’র নাম দেশের ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে, এটা একটা মহা অর্জন। এতকিছুর অধিকারি হয়েও কোন লোভ-লালসা, লুটপাট বা অবৈধ অর্থপাচারের মত কোন কালিমা এই মহান দেশপ্রেমিক মানুষটিকে স্পর্শ করতে পারেনাই কখনো। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল নিজে শিল্পপতি না হয়ে অসংখ্য শিল্পপতি তৈরিতে সহায়তা করা, যাতে দেশের শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়,” আমার সেই স্বপ্ন সফল হয়েছে। তিনি আরো বলেন এই ব্যাংকে কোন বেনামি ঋণ নেই, আমরা খুব স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার সাথে ব্যাংক পরিচালনা করি। ব্যাংকটি সম্প্রতি নিজস্ব এমপ্লইদের জন্য বেশ কিছু প্রণোদনা প্যাকেজ প্রচলন করেছে, এখানে নিম্ন স্তরে যারা চাকরি করেন তাদের বেতন সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা, তা ছাড়া ঢাকায় ব্যাংকের নিজস্ব বিলাসবহুল বাসে অফিসে আসা যাওয়ার যে ব্যবস্থা আছে তা সিলেট ও চট্টগ্রামেও সম্প্রসারণ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি জানান গত ২০ বছর আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে ব্যাংককের উন্নয়ন করা ছাড়া আমার পরিবারকে আর কিছুই দিতে পারিনি।











