রম্যগল্পঃ “প্রথম বিয়ে”

লেখাঃ আজাহার খান

আমার মেজোখালা ছেলে বিয়ে দেওয়ার পায়তারা করছেন অনেক আগে থেকেই, তবে খালু বলতেন, তোমার বেকার ছেলে বিয়ে করে বউকে খাওয়াবে কী? তাছাড়া বেকার ছেলেকে মেয়ে দেবে কে? তুমি কি দিবে তোমার মেয়েকে কোনো বেকার ছেলের কাছে? আগে কিছু একটা করুক তারপর বিয়ে। খালা কোনো জুতসই জবাব দিতে না পেরে দমে যেত।
ছেলে রাকিবুল ইসলাম রকি দেখতে সুদর্শন হ্যান্ডসাম, এমবিএ করে মাস তিনেক হলো একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে জয়েন করেছে, তাই এখন আর বিয়েতে কোনো বাঁধা নেই।
একদিন মেজোখালা খালুকে বলেন, দেখো এবার আমি আর দেরি করবো না, আমি ছেলের বিয়ে দিবো।
খালু বলেন, করো যেটা তোমার ভালো মনে হয়।
মেজোখালা চারিদিকে খোঁজখবর নিতে লাগলেন। যাকে তাকে তো আর বউ করে ঘরে আনা যায় না! একমাত্র ছেলে বলে কথা। মেজোখালা মনে মনে রিনিকে ঠিক করে রেখেছেন, যদিও রিনির মাকে এখনো কিছু বলেননি।
রিনি মজুমদার সাহেবের মেয়ে , লম্বা ফরসা নজরকাড়া ফিগার, অনার্স থার্ড ইয়ার, ওরা দুই বোন এক ভাই, বোনটা ইন্টার ফাস্ট ইয়ার, ছোটো ভাইটা এবার নবম শ্রেণিতে।
একসময় ওনারা এক বিল্ডিংয়ে পাশাপাশি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন, রিনির মায়ের সাথে মেজোখালার খুব ভাব জমে গিয়েছিল, তাও পনেরো ষোলো বছর আগের কথা। রিনি তখন তিন চার বছরের হবে, দেখতে পরির মতো ফুটফুটে মেয়েটি টেনেটেনে গুছিয়ে কথা বলত।
মেজোখালার পিছে পিছে ঘুরঘুর করত, ওর মা ডাকলেও যেতে চাইত না, বলত আর একটু থাকি, তখন থেকেই মনের মধ্যে একটা সুপ্ত বাসনা, ওকে রকির বউ করে ঘরে আনবেন। মজুমদার সাহেবের প্রিন্টিং এর ব্যাবসা আছে, এখন একই এলাকায় ফ্ল্যাট কিনে উঠে গেছেন।
প্রথম দিকে দুই পরিবারের মধ্যে ঘনঘন যাতায়াত থাকলেও এখন আর তেমন একটা যাওয়া-আসা হয় না।
চলতি পথে মাঝেমধ্যে মজুমদার সাহেবের সাথে খালুর দেখাসাক্ষাত হয়।
মেজোখালা এদিক-সেদিক অনেক মেয়ে দেখলেন কিন্তু কোনো মেয়েই তাঁর পছন্দ হয় না।
এখানে একটা সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার আছে, আপনি যদি কোনো কিছু আগে থেকে পছন্দ করে রাখেন তারপর ওটা বাদে যতটাই দেখবেন মনে মনে পূর্বেরটার সাথে কম্পেয়ার করবেন, তখন আগেরটাই ভালো মনে হবে, এই ক্ষেত্রে হয়তো তাই হয়েছে, মেজোখালা যতগুলো মেয়ে দেখেছেন তাতে রিনিকেই ভালো মনে হয়েছে, তাছাড়া জানাশোনা ফ্যামিলি।
যাক সেকথা, মেজখালা শেষমেশ রিনির মায়ের সাথে কথা বলেন।
রিনির মা মনে মনে খুশি হয়, উনি যে এমন কিছু ভাবেন নাই তা নয়। ঘরে বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে থাকলে সব মা-ই টেনশনে থাকেন, উপযুক্ত হ্যান্ডসাম ছেলে দেখলেই মনে মনে মেয়ে জামাইয়ের আসনে বসিয়ে ভাবতে থাকেন। রিনির মা বলেন আপা, রিনির বাবার সাথে কথা বলে আপনাকে জানাবো, তাছাড়া ওরা এ যুগের ছেলেমেয়ে ওদের তো একটা পছন্দ অপছন্দ আছে।
সেদিন ছিল শুক্রবার, মেজোখালা-খালু রকিসহ রিনিদের বাসায় যায়, মেয়ে মুনাও বাদ যায় না। রিনির বাবা-মায়ের সাথে খালা-খালুর আড্ডা বেশ জমে ওঠে। রকিকে রিনির সাথে ছাদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ওদের মাঝে বোঝাপড়ার জন্য। ওরা এ যুগের ছেলেমেয়ে , তাছাড়া জানাশোনা পরিবার, ইজি হতে সময় লাগে না, ফেসবুক, মোবাইল নম্বোর আদান-প্রদানের মাধ্যমে গল্প শুরু হয়।
সাবেক দুই প্রতিবেশীর গল্প শেষ হয়ে যায় কিন্তু রকি-রিনির গল্প আর শেষ হয় না। সেই থেকে শুরু, মনে হচ্ছে এটা রকির আর একটা চাকরি। সারাদিন মোবাইলে ফুসুরফাসুর চলতেই থাকে।
লম্বা সময় দিয়ে বিয়ের ডেট দেওয়া হয়েছে ৫ ফাল্গুন, ১৪২৮ রোজ শুক্রবার , জোগাড় পাতির একটা ব্যাপার আছে, অনেক টাকা পয়সার দরকার। দুই পরিবার থেকেই চাপ আছে বড়ো করে অনুষ্ঠান করতে হবে। কমিউনিটি সেন্টারে গায়েহলুদের অনুষ্ঠান, বিয়ে, বউভাত তিনদিন পর্যন্ত চলবে, ডিজে, ব্যান্ড পার্টি সব থাকবে। খালুর কপালে চিন্তার ভাজ। ওদিকে মজুমদার সাহেবের একই অবস্থা, গত দুই বছর করোনার প্রভাবে ব্যাবসা মন্দা, টিকে আছেন কোনো মতে। দুজনেই চাচ্ছিলেন সংক্ষিপ্ত আকারে বিয়েটা সেরে ফেলতে, যেহেতু করোনার তৃতীয় ঢেউ চলছে। দুই পরিবারের সদস্যরাই বেঁকে বসেছে বড়ো করে অনুষ্ঠান করতেই হবে, কেননা এটা তাদের উভয় পরিবারের প্রথম বিয়ে বলে কথা। অতএব কী আর করা।
এদিকে রকি আর রিনিকে প্রায়ই রিনিদের ছাদে দেখা যায়, তাছাড়াও ফাস্টফুড, শপিংমল, রিকশায় এদিক-ওদিক ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায় প্রায়ই, তবে রিনির সাফ কথা হাতের পাঞ্জা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে, উপরে ওঠার চেষ্টা করবে না, ওসব বিয়ের পরে হবে , যদিও রকির আর তর সইছিল না।
আজ পয়লা ফাগুন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, বিয়ের আর চার দিন বাকি, দুপুরের দিকে রকির ফোন,
-রিনি বিকেলে একটু বের হবে?
-কিযে বলোনা? আর কয়দিন বাকি? এই সময় বের হওয়া যায়?
-আরে! আজকের দিনটি দেখবে না? জানো এই দিনটা আবার কবে আসবে?
-আচ্ছা দেখি মাকে ম্যানেজ করতে পারি নাকি!
বিকেল পাঁচটায় রিনি টিএসসিতে পৌঁছে। রকি আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল।
রিনি বাসন্তী রঙের শাড়ি পরেছে, খোঁপায় গাঁদা ফুল, কপালে লাল টিপ। রিনিকে অপরূপ লাগছে। রকি অপলক দৃষ্টিতে রিনির দিকে তাকিয়ে থাকে।
– কী দেখছ অমন করে?
– তোমাকে দেখছি, শুধু আজকের দিনে নয়, এভাবেই তোমাকে নয়ন ভরে দেখে যাব হাজার বছর ধরে।
ওরা দুজন হাঁটতে হাঁটতে চারুলতার বকুল তলায় এসে বসে।
রকি বলে, তোমার জন্য একটা কবিতা লিখেছি, শুনবে?
শুনাও, দেখি কি কবিতা লিখছো!
রকি শুরু করে –
আজ বসন্ত, পয়লা ফাগুন।
তুমি পরবে বাসন্তী রঙের শাড়ি, খোঁপায় গাঁদা ফুলের মালা, কপালে থাকবে লাল টিপ।
আমি পরবো হলুদ রঙের পাঞ্জাবি, পায়ে চটি স্যান্ডেল।
গাছে গাছে নতুন পত্রপল্লব হাতছানি দিয়ে ডাকবে তোমায় আমায়।
শুকনো ঝরা পাতায় মরমর ধ্বনি দিয়ে হাঁটবো দুজন, ধরাধরি করে হাত।
ছোট পাখিরা কিচিরমিচির করে আমাদের জানাবে অভিবাধন।
গাছের শাখায় কোকিলের উন্মাতাল কুহুতান,
উদাস করে দিবে তোমার আমার মন।
দখিনা হাওয়ায় উড়ে যাবে তোমার শাড়ির আঁচল, তুমি লাজুক চোখে বাতাসকে দুষবে, আমি দিব সাধুবাদ।
চারুলতার বকুল তলায় বসবো দুজন হাতে রেখে হাত।
তুমি তাকাবে আমার দিকে মোহনীয় মায়ায়
আমি নিজেকে হারাব তোমার চোখের তারায়।

-ইয়ার্কি করো আমার সাথে! এই কবিতা তুমি লিখেছো? তুমি এত ভাবুক ছিলা কবে থেকে?
একই মহল্লায় ছিলাম কোনো দিন একটা ফ্রেন্ডরিকয়েস্টও পাঠাওনি।
-তাইতো , গ্রেট মিসটেক হয়ে গেছে, তবে যাই বলো, একদম আমার মনের কথাই লিখেছে।
-আমি কিন্তু সন্তুষ্ট হতে পারি নাই।
কেন?
-যদি আর একটা লাইন থাকতো
“আর আমি বলবো ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি, শুধুই তোমায়” তাহলে ঠিক ছিল।
-ও এই কথা তাহলে আমি বলছি, ” ভালোবাসি ভালোবাসি শুধুই তোমায়” বলে রিনিকে জড়িয়ে ধরতে চায়, রিনি সরে যায়, এই খবরদার, শর্তের কথা মনে নেই, কবজি পর্যন্ত।
বিয়ের তারিখ ঘনিয়ে আসছে, বিয়ের কার্ড বিলি হয়ে গেছে আর মাত্র তিন-চার দিন বাকি।
বিয়ের কার্ড হাতে পেয়ে স্থানীয় থানার পুলিশ অফিসার মুসফিকুর রহমান মেজোখালাকে ফোন দিলেন, তিনি মেজোখালার দূরসম্পর্কের কাজিন, বলেন, আপা ঐ মেয়ের তো ঘাপলা আছে।
খালা অবাক হন, বলো কি?
হাঁ আপা, ঐ মেয়ে কার সাথে নাকি ভেগে গিয়েছিল, ওর বাবা জিডি করতে থানায় এসেছিল, বিশ্বাস না হয় আপনি ওর বাবাকে ফোন দিয়ে দেখেন। সারাদিন খালার মাথা ভনভন করছে, খালু বাসায় আসতেই খালুর উপর চড়াও হয়।
-তুমি কোনো খবর রাখো? জানো কিছু? জানো ঐ মেয়ে কী করেছে?
-না বললে জানবো কী করে? কী করেছে বলবেতো?
-আরে ঐ মেয়ে নাকি কার সাথে ভেগে গিয়েছিল।
খালু আবাক হয়ে খালার দিকে তাকিয়ে বলেন, বলো কী? তুমি জানলে কি করে?
-আরে ঐযে পুলিশ অফিসার মুসফিক, আমার চাচাতো ফুপুর ছেলে, ওইতো ফোন করে আমাকে জানাল। বিয়ের কার্ড পড়েই চিনতে পেরেছে আর তখনই আমাকে ফোন দিলো। তুমি এখনি মজুমদার সাহেবকে ফোন দাও।
খালু বলেন, তুমি দাও না! দেখো কী বলেন।
খালা ফোন দিলেন, মজুমদার সাহেব সালাম দিয়ে ফোন ধরেন, শোনেন ভাই আপনার মেয়ে নাকি কার সাথে ভেগে গিয়েছিল?
-কে বলেছে আপনাকে এসব?
-সে যেই বলুক, কেন আপনি জিডি করতে থানায় যাননি?
মজুমদার সাহেব আমতা আমতা করেন, না! মানে ইয়ে। ভাবি হয়েছিল কী!
-এখন ইয়ে ইয়ে করছেন কেন?
-ভাবি, বাসায় আসেন বসে কথা বলি।
-তা আর আসতে হবে না, আমাদের যা বুঝার বুঝা হয়ে গেছে বলে ফোন রেখে দেন।
এ-ই নিয়ে রিনির মায়ের সাথেও মেজোখালার একচোট হয়ে যায়। রিনির মাও খালাকে বুঝাতে চেষ্টা করেন, আপা আমার কথা শোনেন, আপনারা যা ভাবছেন, আসলে তা নয়, বাসায় আসেন বসে কথা বলি। মেজোখালা কোনো কথাই শুনতে চান না, সাফ জানিয়ে দেন, আপনাদের কথা আর কি শুনবো, এই বিয়ে হবে না, বিয়ে ক্যানসেল।
দুই পরিবারে সুনসান নীরবতা, থেমে গেছে সব আয়োজন, অবশ্য এ নিয়ে খালু এমনকি মজুমদার সাহেবও নির্বিকার, মনে হয় তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
রিনি আর রকির দেখা দেখি বন্ধ হয়ে গেলেও মোবাইল চলতে থাকে অবিরাম। এর মধ্যে খালু আমাকে ডেকে বললেন, নিলয় তুমি একটু রকির দিকে নজর রেখো, এরকম একটা ঘটনা ঘটে গেল, কখন কী করে বসে বলা যায় না, তুমি সবসময় ওর পাশে থাকবে, সাহস দিবে আর কী করে কোথায় যায় সব টাইম টু টাইম আমাকে জানাবে।
আজ শুক্রবার, মেজোখালার বাসা নিস্তব্ধ, খালার মনটা বিষন্ন্য, ছেলেটার মুখের দিকে তাকাতে পারছেন না। অথচ আজকে বিয়ের তারিখ ছিল, আজকে বাসায় কত আনন্দ, হই হুল্লোর, জাঁকজমক থাকত।
বাসার সবাই মন খারাপ করে বসে আছে, মনে হয় মরার বাড়ি, রকি দুপুরে খেয়ে বের হয়েছে কখন ফিরবে ঠিক নেই। সন্ধ্যার পরে খালা লাইট বন্ধ করে শুয়ে আছেন, খালু টিভিরুমে বসে খবর শুনছেন, মুনা পড়ার রুমে হোমওয়ার্ক করছে।
রাত নয়টার দিকে কলিং বেল বেজে ওঠে। মেজোখালা বিরক্তির সাথে মেয়ে মুনাকে বলেন, দেখ আবার কে এলো। মুনা দরজা খুলে চিৎকার দিয়ে বলে, মা দেখে যাও ভাইয়া এসেছে।
-ভাইয়া এসেছে তা আবার দেখার কী আছে?
-আহা আসোই না! তুমি না আসলে ভিতরে ঢুকবে না।
গজগজ করতে করতে খালা এগিয়ে আসেন, তোদের আদিখ্যেতা দেখে আর বাঁচি না। এসে দেখেন রকি আর রিনি, দেখেই বুঝা যাচ্ছে কাজি অফিস থেকে বিয়ে করে আসছে, সাথে ভাগনে নিলয় পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। রিনি আসসালামু আলাইকুম আন্টি বলে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে, খালা বলেন, আন্টি কিরে? আন্টি কী? আম্মা বল।
রিনি জি আম্মা বলে খালার বুকে ঝাপিয়ে পড়েন, খালা রিনিকে আদর করতে করতে রকিকে বলেন, তুই দাঁড়িয়ে আছিস কেন? আয় শয়তান এদিকে আয় বলে, দুইজনকে একসাথে জড়িয়ে ধরেন। খালু এগিয়ে আসে ওরা খালুকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে, খালু ওদেরকে দোয়া করেন। এরই মধ্যে রিনির মা-বাবা এসে হাজির, খালু এগিয়ে গিয়ে মজুমদারের সাথে কোলাকুলি করে বলেন, কী বিয়াই সাহেব কেমন দেখলেন?
মজুমদার সাহেব বলেন, জবাব নেই বেয়াই সাহেব জবাব নেই । মেজোখালা রিনির মাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ব্যপার কী? ওনারা এত খুশি কেন?
রিনির মা বলেন, আপা, আপনি তো আমার কোনো কথাই শুনলেন না! আসলে হয়েছিল কি রিনি একদিন রাগ করে আমাদের কিছু না বলে ওর মামার বাসায় চলে যায়। মামা-মামীকে বলে, আমি এখানে আসছি একদম স্বীকার করবে না, তাহলে কিন্তু জীবনেও তোমাদের বাসায় আসব না। সারাদিন শুধু শুধু বকাঝকা, মেয়ে হারানোর মজাটা বুঝুক! বুঝেনইতো এদিক সেদিক কোনো হদিস পাওয়া গেল না, তখন রিনির বাবার মাথায় কিছুই আসছিল না, এদিকে রাত হয়ে যাচ্ছে তাই থানায় গিয়েছিল জিডি করতে একথা শুনেই ওর মামা ফোন দিয়ে জানায়। আপনি আপনার পুলিশ ভাইকে জিগ্যেস করে দেখেন যে জিডি না করে ফিরে এসেছিল কি না?
আমি রিনির বাবাকে বলেছিলাম, আপা হয়তো ভুল বুঝেছে চলো আমরা যাই, আপার সাথে কথা বলি। রিনির বাবা বলেন, চেপে যাও, দেখো কি হয়। তবে আমার মনে হয় ভাইয়ের সাথে রিনির বাবার কথা হয়েছে। আসলে ওনারা এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছেন, দেখলেন না বিনা খরচে বিয়েটা হয়ে গেল, ওরাতো এটাই চেয়েছিল।
মেজোখালা বলেন, ও আচ্ছা! ওদের বিচার পরে হবে, তা আপনি এখনো আপা বলবেন? রিনির মা আসেন বিয়ান সাহেবা বলে মেজোখালাকে জড়িয়ে ধরেন।
বিষাদময় বাসা মুহূর্তেই উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

লেখকঃ সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড