যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ (২য় পর্ব)

খোন্দকার জিল্লুর রহমান
তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৪
“আমি চিৎকার করে বলিতে চাহিয়া গগন বিদারী চিৎকার,
সত্য-ন্যায়ের অধিকার আদায়ে পাইনি আদায়ের অধিকার…।”

”Justice Delay to Justice Denied.” কোন অন্যায় অত্যাচার বা কোন অপশাসন যেমন মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ ধরে চলতে পারে না, ঠিক তেমনি মানুষের মনের ভিতরের চাপা ক্ষোভও মানুষ বেশি দিন ধরে রাখতে পারে না, নিয়ম অনুযায়ী এক সময় না এক সময় যে কোন ইস্যু ধরেই এর বিরুদ্ধ বিষ্ফরন ঘটবেই। ইতিহাস কখনো মিথ্যা হতে পারে না, হয় না এবং ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না, যারা ইতিহাসকে ভুলে যায় তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয় এবং একটা ইতিহাস আরেকটা ইতহাসের জন্ম দেয়। আমরা জানি “বিচারহীনতার সংস্কৃতি সবসময় আপরাধকে উস্কে দেয়” যার প্রতিফল হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে এবং মনের ভিতর জমিয়ে রাখা জিঘাংসার প্রতিশোধ চরিতার্থ করতে যেভাবে একটা দখলদার সরকার স্বাধীন সার্ভভৌম রাষ্ট্রের শান্তিপ্রিয় সাধারন জনগনের জীবনকে নরক বানিয়ে দিয়েছে, একের পর এক ক্রমান্ময়/ধারাবাহীক প্রতিক্রিয়ার প্রতিফল হিসেবে আজকের এই কোটা আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন যেভাবে সরকার পদত্যাগের একদফার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
সদ্য বিদায়ী আওয়ামী পেশিবাদি সরকার ভোটার বিহীনভাবে ক্ষমতা দখল করে দীর্ঘ সময় চেয়ার আঁকড়ে থাকার অপকৌশলে মিথ্যা-সত্যের অপালাপে জনমনে যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে সেইসাথে সরকারের চারিপার্শে থাকা অতি উৎসাহি আওয়ামী সুবিধাভোগি বেরসিক লেলোয়া বাহীনি উত্যপ্ত ভাষায় আগুনে ঘি ঢেলে দিয়ে নিজের পায়ে কুড়াল মারার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে একটুও দ্বিধাবোধ করে নাই। সরকার গত ১৫/১৬ বছরে গণতন্ত্র হরন করা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় আইন-শৃক্সক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসকারী ছাত্রলীগ দিয়ে ঘুম, খুন, দমন-পীড়ন মানবাধিকার হরন কোনটাই বাদ রাখে নাই। সাধারন মানুষের ন্যায্য অধিকার হরন করে ক্ষমতায় থাকার আয়ুষ্কাল দীর্ঘায়ীত করতে পারলেও বর্তমান কোটা আন্দোলনকেও একই পেটোয়া বাহিনী ও ছা-পোষা পুলিশ বাহিনী দিয়ে গনহত্যার মাধ্যমে দমন করতে গিয়ে সবকিছু একেবারে লেজেগোবরে করে ফেলেছে।
নাইলে এমন বাদল দিনে বাহিরে কি কেউ যায়…? হ্যাঁ যায়, আমাদের কোমলমতি সোনার ছেলেরা! রোদ ঝড় বৃষ্টি সব বাধাকে অতিক্রম করে আজ তারা রাস্তায় নেমে এসেছে স্ব-উদ্বেগে, আসলে এটাই বাস্তবতা। কেন রোদ-বৃষ্টি, পুলিশের হুমকি, গুলি, লাঠি উপেক্ষা করে আমাদের কিশোর-তরুণরা রাস্তায়। কারও উসকানিতে নয়, কারও নেতৃত্বে নয়। কোনো রাজনৈতিক সরকারের বিরুদ্ধে নয়। ওরা দাঁড়িয়েছে নিয়মের পক্ষে, অনিয়মের ও অচলায়তনের বিরুদ্ধে।
আগে থেকেই (২০১৮সালে উদ্বুদ্ধ) কোঠা আন্দোলন যদি ন্যায় সঙ্গত হয়, তবে সারাদেশে ছাত্রদের আবার লাঠিপেটা কেন? পুলিশের সঙ্গে হেলমেট ও সাধারন পোশাকে যোগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারছিল কারা? সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখলাম, পুলিশের হাতে মার খাওয়া এক ক্ষুদে শিক্ষার্থী বলতেছে, তোমার ছেলে যখন এইদৃশ্য দেখে তোমাকে জিজ্ঞাসা করবে তখন তুমি কি উত্তর দিবে? যখন দেখি আবুসাইদের মত মেধাবীরা দুহাত মেলে দিয়ে অধিকার আদায়ের জন্য নিরস্ত্র দাড়িয়ে থাকে, ক্ষমতালিপ্সু স্বৈরাচার সরকার প্রকাশ্যে গুলিকরে আমার সন্তানতুল্য ছাত্র এবং নিরিহ জনতাকে গনহত্যার মাধ্যমে তাদের লাশের উপর নৃত্য করে ক্ষমতায় বসে থাকে তখন তুমি কি উত্তর দিবে? যানবাহনে যখন কোন দুর্র্ঘটনা হয়, কিছু লোক মারা যায়, আমরা তখন যানবাহনের ফিটনেস থাকা না থাকা নিয়ে আলাপ আলোচনা করি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনকে দায়ী করি। তাইলে কি ফিটনেস যানবাহনই কি দুর্ঘটনা ঘটাতে পারবে আর ফিটনেসবিহীন যানবাহন দুর্ঘটনা ঘটাতে পারবেনা? সমাজ স্বচেতন অনেকের মতে, “যানবাহনের ফিটনেস থাকা না থাকার সাথে দুর্ঘটনার কি সম্পর্ক, নাকি এটা সরকারের দায়ীত্তশীল লোকদের নিজেদের দায়ীত্ত এড়ানোর একটা কৈাশল। তাহলে সরকারের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন বা অরাজকতা সৃষ্টি হলে আমরা সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারিনা? এসব লোকেরা নিজের বিবেককে একবারও কি প্রশ্ন করেছেন? সরকারের প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আস্থা রাখতে পারছে না কেন? এটা কি ছল ছাতুরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটা আন্দোলনকে স্থগিত করার আড়ালে কোটা আন্দোলনের নেতাদেরকে গ্রেপ্তার ঘুম খুন করা, নাকি সব দায় বিএনপি-জামায়াতকে দিয়ে নিজেরা ধোয়া তুলশী পাতা সাজা?”
বসবাসের অযোগ্য দেশ হিসাবে আমাদের বাংলাদেশকে বা আমাদের প্রিয় শহর ঢাকাকে প্রতি বছর লজ্জারমাথা হেটকরে প্রথম সারিতে জায়গা করে দেয়, আর আমরাও স্বরবে-নিরবে এটা মেনে নেই। এটা প্রতিহত করার মতো তথ্য রিপোর্ট কেউ বানাতে পেরেছেন কি, নাকি এটাও বিএনপি-জামায়াতের চাল? আয়সূচক বাড়লেই কি আমাদের দেশটি বসবাসের যোগ্য হয়ে ওঠে? আয় বেড়েছে শুধু নিদৃষ্ট একটা দল এবং নিদৃষ্ট কিছু লোকের, এটা আসলে অর্থনীতির জটিল মারপ্যাঁচে হাতে গোনা কজনার। ১৮কোটি মানুষ কি পেয়েছে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার? হ্যাঁ প্রশ্ন অবশ্যই ওঠে, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের গনবসতিপুর্ণ দেশে কর্মসংস্থানের জায়গা কম, সেখানে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান করাটা কিছুটা কষ্টকর হলেও সেখানে কোটা অধিকার নিয়ে স্বার্থ হাসিল করা ধাম্ভিকতারই একটা অংশ, এটা রাজনীতির বিতর্কের পর্যায়ে যাবার কাজ নয়। কিন্তু দায়ীত্তশীলদের নিকট একটাই প্রশ্ন? কেন এই আন্দোলনকে সরকারবিরোধী ভাবা হচ্ছে আর কেনইবা দায়ীত্তশীলরা নিজের দায়ীত্ত অন্যের ঘাড়ে ছাপাচ্ছেন? ভুল স্বিকার করে ক্ষমা চাওয়াটাতো অনেক কৃতিত্তের কাজ, এতে সন্মান বাড়ে বইকি কমেনা। দেশকে নিরাপদ, সুন্দর এবং মেধাবিদের কর্মসংস্থান করার জন্য ওরা দাবি তুলেছে। ওদের দাবি পূরণ হলে তো সরকারেরই লাভ। জনসমর্থন যখন সরকারের পক্ষে তখন এটাও সরকারের পক্ষেই যেত। আমাদের রাজনীতিবিদরা কেন বোঝেন না যে সরকারের সমালোচনা করা মানেই সরকারের বিরোধিতা নয়, সরকারকে গঠনমূলক করা, সরকারকে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়া। আমরা সারাক্ষণ সমালোচনা করি নতুন প্রজন্মের আবেগ নেই, দেশকে ভালোবাসে না, শুধু ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, বন্ধুবান্ধবের জগতে স্বার্থপর হয়ে জীবন কাটায়। কিন্তু এ প্রজন্মই প্রমাণ করেছে আমরা কতটা ভুল করেছি বা ভুল করতেছি, চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আমরা আসলে কতটা স্বার্থপর, লোভী, দুর্নীতিবাজ। অনিয়মকে আমরা কিভাবে নিয়মে পরিণত করি।
আমাদের বুদ্ধিমান, অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ প্রধানমন্ত্রী(সাবেক) কথায় কথায় কেঁদে ফেলেন, তিনি কি বুঝতে পারেন না, কখন হাসতে হয়, কখন কাঁদতে হয়? তাও কি আমাদের রাজনীতিবিদদের বোঝার ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে? নাকি নিজেদের অযোগ্যতার প্রমান দিলেন? একজন রাষ্ট্রপ্রধানের বোঝার ক্ষমতা ছিল না যে এই দৃশ্য কান্নার দৃশ্য, হাসির নয়। একজন প্রধানমন্ত্রী সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে গিয়ে সব সময় বলেন, ‘আমি আমার বাবা-মা এবং পরিবারের সবাইকে হারিয়েছি, এখন আর আমার হারাবার কিছু নেই,এখন আমি দেশকে দেব ,আপনাদেরকে উন্নয়ন দেব, তিনি দিয়েছেনও তবে কাদেরকে দিয়েছেন? উন্নয়নের আড়ালে নিজের অপদার্থ ছেলেকে বানিয়েছেন সেরা লুটপাট ও অর্থপাচারকারী, সেইসাথে আজীবন ক্ষমতায় থাকার লোভে পরিকল্পনা নিয়ে অযোগ্য, দুর্নীতিবাজ, জ্ঞানপাপী, লোভি, অশিক্ষীত, সন্ত্রাসী লাঠিয়াল বাহিনী এবং দুর্নীতিবাজ প্রশাসন দিয়ে জবাবদিহীতাবিহীনভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে…, আপনার চারপাশেও ছিল এমনসব মন্ত্রী-আমলা, যারা আপনাকে তাদের নিজেদের ভাষা ব্যাতিত জনগনের ভাষা বুঝাতে পারে নাই বা হয়তো আপনিও পিতৃহত্যার জিঘাংসার ত্রতিশোধে বুঝতে চান নাই। আমি মনেকরি, প্রশাসন বা বিচার ব্যবস্থা সুবিচার ব্যতিত ইমোশানে চলে না। আসলে জবাবদিহীতাবিহীন ক্ষমতায় থাকতে থাকতে নিজের জ্ঞানবুদ্ধি সবই হারিয়ে পেলেছেন। শিক্ষার্থীদের ভাষা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলাধোনা করা হয়েছে, আপনার দায়িত্বশীল কজন মন্ত্রী-এমপি এবং লাঠিয়াল বাহিনীখ্যাত ছাত্রলীগ দিয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করার ঘোষনা দিয়ে। কিন্তু চিন্তা করুন তো, তারা কেন নোংরা ভাষা নোংরা ব্যবহার করবে ছাত্র-ছাত্রিদের উপর? সর্বদা বিএনপি-জামায়াতের যে জুজুর ভয় পান, তার সন্ধান এখানেও করেছেন। দয়া করে খুঁজে বের করুন আপনি নিজ বাসায় নিজ সন্তানদের সঙ্গে কোন ভাষা ব্যবহার করছেন? আপনার থেকেই তো আপনার সন্তান শিখছে, তাই নয় কি? ওরা ছোট, ভুলভ্রান্তি হবেই। কিন্তু ওরা আমাদের ভুল ধরিয়ে দিচ্ছে। গুলি না চালিয়ে, না পিটিয়ে, পাশে দাঁড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে ভুল সংশোধন করতে পারি না ? তা না করে আপনার রাষ্ট্র কার আদেশে (আমি মনে করব আপনারই আদেশে, যেহেতু আপনি…) এসব মেধাবি ছাত্র জনতার উপর নির্বিচারে গনহত্যা চালিয়েছে???
এখন আমার দেখা অবস্থানের কথাটা বলি, গত ১৬জুলাই ২০২৪ মঙ্গলবার নিজের কাজে গুলশান বনানি এবং মোহাখালি যাব, কিন্তু বের হয়ে মালিবাগ চৌধুরিপাড়ায় জ্যামে আটকাপড়ে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে প্রগতি স্বরণী শাহাজাদপুর দিয়ে তেজগাঁও হয়ে মগবাজার মোড় পর্যন্ত আসি, এরি মাজে ইষ্ট-ওয়েষ্ট, ব্রাক, কানাডিয়ান, সাউথইষ্ট, এশিয়া প্যাসিপিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ তেজগাঁয়ের পলিটেকনিক, সিরামিক ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্রদের আন্দোলন দেখে তাদের রাস্থা বন্ধকরে কোটাদাবি আদায়ের শ্লোগান ব্যতিত কোন সন্ত্রাসী বা ভাংচুরের প্রমান পাই নাই। এছাড়া শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ আরো অনেক স্থানে ঘুরে ঘুরেও একই পরিবেশ অভজার্ভ করি। এ কোটা আন্দোলনেতো কোন জাতি-গোষ্ঠি, কোন ধর্মের বৈষম্য এমনকি কোন রাজনৈতিক বৈষম্য তুলেধরা হয় নাই একমাত্র মেধা ব্যতিত। এখানে আমার প্রশ্ন? তাইলে এত ভাংচুর এবং জ্বালাও পোড়াও করল কারা? কেন মেধাকোটা আন্দোলকারী নিরপরাধ ছাত্র-ছাত্রিদের প্রতিহত করার জন্য নামধারি ছাত্রলীগসহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগের সন্ত্রসী বাহিনীকে লেলিয়ে দেয়ার ঘোষনা ধেয়া হল ? এতে কি প্রমানিত হয় না যে, সকল ভাংচুর, জ্বালাও পোড়াও আওয়ামী সুবিধাভোগি সকল আওয়ামী লীগাররাই করেছে!!! কোটা আন্দোলনকারীরা যদি উদ্দেশ্যমুলকভাবে জ্বালাও পোড়াও করত তাইলে মালিবাগ থেকে কুড়িল পর্যন্ত কানায় কানায় পুর্ণরাস্তার দুই পার্শে গাড়িতে আগুন দিলে হাজার হাজার গাড়ি পুড়ে যেত এবং আশেপাশের বহু স্থাপনাও ধ্বংস হয়ে যেত, তার তা করে নাই এমনকি তারা একটা রিক্সাওয়ালাকেও রিক্সা থেকে নামিয়ে দেয় নাই, এটাই তার প্রমান। মেট্রোরেলের আগুন নিয়ে আপনি মায়াকান্না (Crocodile Tears) দেখিয়ে দিয়েছিলেন, এর দুদিন আগে নির্বিচার গুলি চালিয়ে গনহত্যার মাধ্যমে শতশত মায়ের বুক খালি করার জন্য আপনি চোখে টিস্যু ব্যবহার করেন নাই। যে মা-বাবা ২৪/২৫ বছর ক্ষেতে খামারে কাজ করে, রিক্সা চালিয়ে, বাসা বাড়িতে কাজ করে, নিম্ন থেকে মধ্যম পর্যায়ের চাকুরি করে, খেয়ে না খেয়ে একএকটা সন্তানকে মানুষ করার জন্য পাঠিয়েছে, আপনি এবং আপনার রাষ্ট্র গনহারে তাদের বাঁচার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আপনিতো সন্তানহারা হন নাই।
মেট্রোরেলে আগুন দিয়েছে কারা ??? গত ১৫ বছরে আপনার আশেপাশে থেকে আপনাকে রক্ষার নামে লুটপাট করে বিভিন্ন চুতা ধরে ভাড়া বাড়িয়ে সাধারন মানুষের পকেট খালি করে পরিবহনের মালিক হয়েছেন, মেট্রোরেলের কারনে তাদের পরিবহন ব্যবসায় ভাটা পড়াতে সেই পরিবহন সিন্ডিকেটই মেট্রোরেলে আগুন দিয়েছে। আপনার গোয়েন্দা সংস্থা তা বের করতে পারেনাই, আর পারবেইবা কিভাবে, আমারসহ জনগনের টেক্সের টাকায় বেতন নেয়া এসব সংস্থার কর্মকর্তাগন ২৪ঘন্টা আপনার এজেন্ডা বাস্তবায়নেই ব্যাস্ত ছিল এবং রেখেছেন। কোন ঘঠনা বা কোন দুর্ঘঠনা হলেই এখাতের মন্ত্রী এমপিরা আগাম বলে দিতেন, এটা বিএনপি এবং জমাত শিবিরের কাজ, তিনারা যখন জানতেনই তাইলে দেশে গোয়েন্দাদের কি দরকার ছিল ??? দেশে একটা প্রচলিত প্রবাদ আছে, “যত দোষ নন্দ ঘোষ” নিজের ক্ষমতা আমৃত্যু স্থায়ী করার লক্ষে গত ১৫/১৬ বছরে জুজুর ভয় দেখিয়ে বিএনপি জমাত নিধন পলিসি ছাড়া কোন পলিসিই কার্যকর করতে পারেন নাই বরং রাষ্ট্রীয় সকল অবকাঠামোতে দলীয় পোষ্য অযোগ্য লোকেদের স্থান করে দিয়ে পুরো রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোকে ধ্বংস করার প্রতিফল হিসেবে কোটা আন্দোলন ও অন্যান্য সকল আন্দোলন সরকার পদত্যাগের একদফা আন্দোলনে পরিনত হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ৫ অগাষ্ট ২০২৪ সারা বিশ্ব মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় দেড় হাজার কােটি লোকের দৃষ্টি তাক করে লজ্জাহীন ভাবে রাষ্ট্রীয় প্রধানমন্ত্রীর পদ পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে। আর এই ৫ অগাষ্টকে দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ (যারা ৭১এর ১৬ডিসেম্বর দেখেনি) আরেকটা বিজয় আনন্দ উপভোগ করে। আসলে মেধাবীরা কখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা চায় না, চায় না কোন দলীয় প্রতিহিংসা, তারা চায় কোটাবিহীন মেধা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে এসে প্রজাতন্ত্রের সেবা করতে।
প্রতিবারের মতো এবারও আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিএনপি জমাতের মত মেধাবি শিক্ষর্থিীদের প্রতিপক্ষ হয়ে গেল ? কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্যকে দেখলাম কী চমৎকারভাবে শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করতে। আবার ব্যাটন দিয়ে পেটাতে থাকা পুলিশকেও আমরা দেখেছি। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো পুলিশ, মন্ত্রীদেরও দেখা গেছে অনেক। কিন্তু দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো দেশের মানুষের প্রতিপক্ষ নয় আবার আইনও তাদের জন্য ভিন্ন নয়। আমরাও ভুলে যাই না যে, দিন-রাতকে এক করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের জন্যই কাজ করে থাকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেকেই নিজেদের ভাল কাজের জন্য পুরস্কারও পেয়েছেন। যেমন, কদিন আগে জাহাক্সিগর গেটের সামনের রাস্তায় হুন্ডা এক্সিডেন্ডকারি লোকের সেবাদানকারি একজন মহিলা পুলিশ কর্মকর্তা এবং ঢাকা চট্টগ্রাম রোডে বাস দুর্ঘটনায় জীবন বাজি রেখে উদ্বারকারি এক পুলিশ সদস্যের ভাল কাজের ফল। আর ওদের মধ্যে যারা অন্যায় করছে চলুন তাদের ভুল ধরিয়ে দিই, জনসম্মুখে তাদেরকে তিরস্কার জানাই। কিন্তু সামান্য কজনের জন্য সমগ্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়ী করা বুদ্ধিমান এবং সাহসীদের সাজে না, খারাপ কিছু লোক সবখানেই আছে, আমরা আইন চাই, বাস্তবায়ন চাই কিন্তু আইন লঙ্ঘন করে নয়, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র ও সমাজের দায়ীত্ত্বরত সকলের নৈতিক শিক্ষা নেওয়া উচিত। আমাদের শুধু একটাই ভয় এখন, এই আন্দোলন বিরামহীনভাবে চলতে না থেকে যদি সরকার পতনের আন্দোলনে রূপান্তরিত না হয়, বাস্তবে ঠিক সেটাই হলো এবং ৫ অগাষ্ট ২০২৪ সরকারের পতনের মাধ্যমে। বেশী সময় ধরে এ আন্দোলন চলতে দেয়া উচিত ছিল না, আমরা দেশের উন্নয়ন চাই, নিরাপত্তা চাই এবং চাই প্রত্যেকটা নাগরিকের জীবনের নীরাপত্তা ও শীর উচু করে কথা বলার অধীকার। এই ঘুণেধরা ভীতিকর সুশীল সমাজের অবক্ষয় চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের তরুণ প্রজন্মই দেখিয়ে দিতে পেরেছে।
এ দেশের একজন সাধারন নাগরিক হিসেবে আমার একটাই অনুরোধ, আন্দোলন সফল হয়েছে, ওরা যা শর্ত দিয়েছে, কিছু কার্যকর হওয়াও শুরু হয়েছে। কিন্তু ওরা তো ছোট। আবেগের তীব্রতা বেশি, প্রকাশও বেশি। পারবেন কি একটু আদর দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে দুটো কথা বলতে? পারবেন কি নিজের সন্তানের মতো ওদের বুকে টেনে নিতে? এই দেশটা ওদের। ওরাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ। ওরা শুধু ভালোবাসা চায়, সুন্দর জীবন চায়, রাজনীতির পরিশীলিত বুদ্ধিদীপ্ত আশ্বাস নয়। তারা চায় এমন একটা দেশ, এমন একটা পরিবেশ, যেখানে থাকবেনা ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতিহিংশা বিরোধ বা হানাহানি, যেখানে ছাগল নেকড়েবাঘ একসাথে পানি পান করবে, কিন্তু কেউ কারো ক্ষতি করবেনা, এটাই হবে প্রত্যাশা।

লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, অর্থনীতির ৩০ দিন।

E-mail : arthoniter30din@gmail.com

Web : https \\www. arthoniter30dinbd.com