অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
অবাধ বাণিজ্য ও একীভূতকরণের লক্ষ্য সামনে রেখে সপ্তাহব্যাপী সম্মেলন শুরু করেছে লাতিন আমেরিকার বাণিজ্য জোট দ্য প্যাসিফিক অ্যালায়েন্স। যুক্তরাষ্ট্রের সংরক্ষণবাদিতার ফলে সৃষ্ট উদ্বেগের মুখে সোমবার শুরু হওয়া সম্মেলনটি অনেক তাত্পর্যের দাবি রাখছে। খবর এএফপি।
লাতিন আমেরিকার চারটি শীর্ষ অর্থনীতি চিলি, কলম্বিয়া, মেক্সিকো ও পেরু এ জোটের সদস্য। এছাড়া ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের নেতারাও অতিথি হিসেবে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন।
মেক্সিকোর অর্থমন্ত্রী ইলদেফনসো ওয়াহার্দো বলেন, সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা তিক্ততায় রূপ নিয়েছে। তিনি মনে করেন, বাণিজ্য ‘উদারীকরণ ও সমন্বয়ের’ ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিশ্রুতি ধরে রাখতে জোটটিকে ‘অটল’ থাকতে হবে।
২০১২ সালে চালু হওয়া প্যাসিফিক অ্যালায়েন্সের অধীনে রয়েছে লাতিন আমেরিকার ৩৮ শতাংশ জিডিপি। বিশ্বের প্রায় ২২ কোটি ৩০ লাখ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী এ জোটটি বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অর্থনীতি।
সম্মিলিতভাবে এ জোটের সদস্যভুক্ত দেশগুলো অ্যাভোকাডো, তামা ও পারদের সর্বোচ্চ রফতানিকারক দেশ। এছাড়া সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) পাওয়া পঞ্চম শীর্ষ জোট এ প্যাসিফিক অ্যালায়েন্স।
জোটের সম্মেলনটি নজরে রাখছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোও। জানা গেছে, জোটটির সহযোগী সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এ দেশগুলো।
তবে সম্মেলনটি একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়াই শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছিল, মেক্সিকোর সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস মানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোর এ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু প্রথাবিরোধী এ বামপন্থী ও অবাধ বাণিজ্যের সমালোচক ওব্রাদোরের অনুপস্থিতি সম্মেলনের ঝাঁজ কিছুটা কমিয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের আগে এ সম্মেলনটিকে আন্তর্জাতিক মহলে শুভাগমন হিসেবে ভাবা হচ্ছিল।
কিন্তু ‘আমলো’ হিসেবে পরিচিত মেক্সিকোর এ রাজনীতিবিদ গত শুক্রবার জানান, নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ যেহেতু এখনো তাকে ‘প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত’ ঘোষণা করেনি, তাই আলোচ্য সম্মেলনটিতে অংশগ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত হবে না।
গত ১ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল জানানোর জন্য ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ।
লোপেজ ওব্রাদোরের বিজয় নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি প্রায় ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে যা প্রায় ৩০ পয়েন্টেরও বেশি।
মেক্সিকোর বিদায়ী প্রেসিডেন্ট এনরিকে পেনা নিয়েতো চাচ্ছেন তার উত্তরসূরি সম্মেলনটির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের সঙ্গে ভালো করে বোঝাপড়া শুরু করুক। ওব্রাদোরকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিকে ‘নিয়েতো সরকারের শুভেচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে অভিহিত করেন মেক্সিকোর মানিটারি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কর্মসূচির প্রধান মানুয়েল ভ্যালেন্সিয়া। নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর মেক্সিকোর পররাষ্ট্রনীতি কোনদিকে যাবে, এ বিষয়ে যখন অনিশ্চয়তা চলছিল, ঠিক এ সময়টাতে ওব্রাদোরকে আমন্ত্রণ একটি ইতিবাচক আচরণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
সম্মেলনটিতে অংশগ্রহণকারী আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে রয়েছেন চিলির সেবাস্তিয়ান পাইনেরা, কলম্বিয়ার হুয়ান মানুয়েল সান্তোস, পেরুর মার্টিন ভিজকারা। এছাড়া সম্মেলনে অতিথি হিসেবে রয়েছেন ব্রাজিলের মাইকেল তেমের, আর্জেন্টিনার মরিসিও মাকরি ও উরুগুয়ের তাবারে ভাজকুয়েজ।
উরুগুয়ের ভাজকুয়েজকে বাদ দিয়ে লাতিন আমেরিকার উল্লেখিত সব নেতাই মধ্য ডানপন্থী ও বাজারের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন নেতা হিসেবে পরিচিত।
ডানপন্থা ও উদার বাজারমুখো লাতিন আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে প্রথাবিরোধী বামপন্থী ওব্রাদোরের বিজয় জোটের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তিনি জাতীয়তাবাদী স্লোগান ধরে রেখে রক্ষণশীল অর্থনীতি চালু করবেন নাকি আরো বাস্তবসম্মত, ব্যবসায়মুখী উদ্যোগ নেবেন এ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।










