এনবিআর চেয়ারম্যান
৩০ দিন ডেস্ক :
আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট হবে সর্ববৃহৎ জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট। ব্যবসা খাতে শুল্ক নির্ধারণে সমতা আনা হবে। এজন্য ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। গতকাল বেনাপোল কাস্টম হাউজ ক্লাবে আমদানি-রফতানিকারক ও বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। বেনাপোল কাস্টম হাউজ কর্তৃপক্ষ এ সভার আয়োজন করে।
সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ব্যক্তিপর্যায়ে করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকার পরিবর্তে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ ও বিদেশ ভ্রমণে কর প্রত্যাহারের বিষয় এনবিআরের বিবেচনাধীন আছে। তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরকে আরো গতিশীল করা ও কাস্টম হাউজকে আরো সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, এবারের বাজেটেও ভ্যাটের ফ্ল্যাট রেট ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে না। বরং বিদ্যমান ভিন্ন ভিন্ন হারই রাখা হবে। আমদানি-রফতানিকারকরা ঠিকভাবে রাজস্ব প্রদান করলে রাজস্ব ঘাটতি হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বেনাপোল কাস্টমসের কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআর সদস্য (শুল্কনীতি ও আইসিটি) মো. ফিরোজ শাহ আলম, সদস্য (করনীতি) কানন কুমার রায় ও সদস্য (মূসকনীতি) মো. রেজাউল হাসান। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন যশোর চেম্বারের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান, যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা, ভারত-বাংলাদেশ চেম্বারের বন্দর সাব-কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান প্রমুখ।
এদিকে বৈধপথে আমদানিকৃত ও রফতানিমুখী পণ্যের পরীক্ষণ এবং অবৈধপথে পণ্য পাচার প্রতিরোধের লক্ষ্যে বেনাপোল স্থলবন্দরে একটি মোবাইল স্ক্যানার স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল ফিতা কেটে স্ক্যানারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। এ সময় ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যবোঝাই একটি ট্রাক পরীক্ষামূলকভাবে স্ক্যান করা হয়।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ৯৬ কোটি টাকা মূল্যের চারটি মোবাইল স্ক্যানার অনুদান দিয়েছে চীন সরকার। এ চারটি স্ক্যানারের মধ্যে একটি বেনাপোল স্থলবন্দরে স্থাপন করা হয়েছে। বাকি তিনটি স্ক্যানার চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোয় (আইসিডি) স্থাপন করা হয়েছে।
এর আগে চীন থেকে তিনটি স্ক্যানার কেনা হয়েছিল। এ তিনটি স্ক্যানারই চট্টগ্রাম বন্দরে স্থাপন করা হয়। বাণিজ্য প্রসারের প্রেক্ষাপটে চলতি বছরে আরো কয়েকটি স্ক্যানার আমদানি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আগামী ছয় মাস বেনাপোল স্থলবন্দরে স্থাপিত মোবাইল স্ক্যানারটির তত্ত্বাবধায়নে থাকবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফাইবার ন্যুকটেক। বন্দর সূত্র জানিয়েছে, এ মোবাইল স্ক্যানারের মাধ্যমে বন্দর দিয়ে অবৈধ পণ্যের চালান প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে রোধ করা সম্ভব হবে। পণ্যবাহী ট্রাকে ঘোষণাবহির্ভূত কোনো পণ্য থাকলে তাও শনাক্ত করা যাবে। মোবাইল স্ক্যানারটি বহনযোগ্য হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে সন্দেহভাজন পণ্যবাহী ট্রাক স্ক্যান করা সম্ভব হবে।
মোবাইল স্ক্যানারটির কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে এনবিআর চেয়ারম্যান বন্দরের ৯ নম্বর গেট উদ্বোধন করেন। পরে বন্দর, কাস্টমস, ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট ও ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।










